০৯:১৮ পি.এম
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে জমি এবং ফ্ল্যাট বেচাকেনায় বিনা প্রশ্নে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেয়াকে স্বাগত জানিয়ে আবাসন নির্মাতাদের সংগঠন (রিহ্যাব) জানিয়েছে, এটি যদি না দেয়া হতো, তাহলে বিদেশে আরও অনেক বেগমপাড়া তৈরি হতো।
সোমবার (১৫ জুন) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বাজেট প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা রিহ্যাবের সভাপতি ড. আলী আফজাল বলেন।
তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত কর পরিশোধের মাধ্যমে অপ্রদর্শিত অর্থকে বৈধ বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার ফলে অর্থনীতির মূলধারায় নতুন অর্থ প্রবাহিত হবে, এবং আবাসন খাতসহ পুরো অর্থনীতি উপকৃত হবে।
আরও পড়ুন: এ বছর পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়নি, ভবিষ্যতেও প্রয়োজন হবে না: কৃষিমন্ত্রী
তবে, দীর্ঘমেয়াদে একটি সহজ, স্বচ্ছ ও বিনিয়োগবান্ধব কর কাঠামো গড়ে তোলার তাগিদ দিয়ে রিহ্যাব জানিয়েছে, এতে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর প্রদান করবে। অপ্রদর্শিত অর্থ তৈরির প্রবণতা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাবে।
তা সত্ত্বেও, রডসহ নির্মাণ সামগ্রীর ওপর নতুন কর ও জমির মালিকের প্রাপ্ত ফ্ল্যাটের উপর নতুন গেইন ট্যাক্স আরোপের প্রস্তাবের বিরোধিতাও করেছে সংগঠনটি।
রিহ্যাবের সভাপতি বলেন, বর্তমানে জমির মালিক সাইনিং মানির উপর ১৫ শতাংশ কর দিতে বাধ্য রয়েছেন। নতুন করে সাইনিং মানির বাইরে ডেভেলপারের তৈরি ফ্ল্যাটের উপরও ১৫ শতাংশ কর দিতে হবে জমির মালিকদের। যা ভয়াবহ সংকট সৃষ্টি করবে ফ্ল্যাটের বাজারে।
উদাহরণ হিসেবে ড. আলী আফজাল বলেন, ২৪টা ফ্ল্যাটের একটি প্রকল্পে যদি ১২টা ফ্ল্যাট জমির মালিক পান, এবং সেই ১২ ফ্ল্যাটের মূল্য যদি ১২ কোটি টাকা হয়, তবে তাকে ট্যাক্স বাবদ দিতে হবে ১ কোটি ৮০ লাখ। অর্থাৎ তাকে প্রায় ২টি ফ্ল্যাটের টাকার সমান ট্যাক্স দিতে হবে। এ সিদ্ধান্ত ফ্ল্যাটের দামকে আকাশ চুম্বী করে তুলবে। কারণ জমির মালিক সেই টাকা ডেভেলপারের কাছ থেকে আদায় করবে। শেষ পণ্যে এই ব্যয় ভোক্তার উপরই পড়বে, যার অর্থ হল ফ্ল্যাটের দাম আরও বাড়বে।
আরও পড়ুন: গণরায় না মানলে জনগণ লালকার্ড দেখিয়ে দেবে: গোলাম পরওয়ার
এছাড়াও, নির্মাণসামগ্রীর ওপর নতুন কর এবং শুল্ক আরোপের ফলে নির্মাণ ব্যয় আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রডের ওপর কর বৃদ্ধি করার ফলে নির্মাণ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। বিদ্যুৎয়ের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে প্রতি টনের মূল্য ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা বৃদ্ধি পেতে পারে।
পিভিসি রেজিন এবং পেট রেজিন এর কর দ্বিগুণ করা হয়েছে। কোল্ড-রোল্ড কয়েল এর উপর ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে। আর কপার তার ও কপার টিউবের উপর ২৫ শতাংশ কর আরোপ করা হয়েছে। অর্থাৎ, বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রীর ওপর অতিরিক্ত কর বসানো হয়েছে। আমরা মনে করি, এর সরাসরি প্রভাব পড়বে ফ্ল্যাটের মূল্যের উপর। বিদ্যুৎ এর মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে এরই মধ্যে অনেক নির্মাণ উপকরণের মূল্য বেড়ে গেছে। প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে জড়িত ২ কোটি মানুষের আয়ের এ খাতটি যে অবস্থায় রয়েছে, সেখান থেকে আরো খারাপের দিকে যাবে। এ অবস্থায় আবাসন খাতে প্রস্তাবিত করহার কমানোর দাবি জানিয়েছেন রিহ্যাব নেতারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন