প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকার অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে ‘থ্রি-আর’ কৌশল উন্মোচন করেছে। এর লক্ষ্য ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করা এবং মোট বিনিয়োগকে জিডিপির ৪০ শতাংশে উন্নীত করা। যদিও এই উদ্যোগকে ব্যবসায়ীরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রথম ধাপে সংস্কারের উপর বেশি গুরুত্ব দেয়া কিছুটা উচ্চাভিলাষী হতে পারে।
নতুন বাজেটে সরকারের ‘থ্রি-আর’ কৌশল ভঙ্গুর অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা, পুনর্গঠন করা এবং বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে পরিকল্পিত হয়েছে। এর আওতায় রয়েছে রিকভারি অ্যান্ড স্ট্যাবিলাইজেশন, রিস্টোরেশন এবং রিকনস্ট্রাকশন ফর অ্যাক্সিলারেশন।
সরকার তিন ধাপে এই কৌশল বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। প্রথম ধাপে এক বছরের মধ্যে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে এক থেকে তিন বছরের মধ্যে অর্থনীতির উত্তরণ ঘটানো হবে। তৃতীয় ধাপে পাঁচ বছর মেয়াদে সমৃদ্ধ অর্থনীতি গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
এই কৌশল বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের আশাবাদ ব্যক্ত করেছে সরকার। এই সময়ে মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশে নামতে হবে, প্রত্যেক বিদেশি বিনিয়োগকে জিডিপির ২ দশমিক ৭ শতাংশে উন্নীত করা হবে এবং মোট বিনিয়োগকে জিডিপির ৪০ শতাংশে নিয়ে আসার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণে পাঁচ বছরকে তুলনামূলকভাবে কম সময় হিসেবে দেখলেও সরকারের এই কৌশলকে স্বাগত জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আইবিএফবির সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট এম এস সিদ্দিকী বলেন, পাঁচ বছর খুব কম সময় হলেও গত ১৫-২০ বছরে অর্থনীতির যে ক্ষতি হয়েছে, তা পুনর্গঠন করার জন্য একটি পরিকল্পনা প্রয়োজন ছিল। সরকারের পাঁচ বছরের পরিকল্পনাকে তিনি সাধুবাদ জানিয়েছেন। তবে তিনি উল্লেখ করেন, পাঁচ বছরের মধ্যে সব লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা সহজ হবে না।
অন্য দিকে, অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, প্রথম ধাপের মূল গুরুত্ব হওয়া উচিত সংস্কারের ওপর। অর্থনীতিবিদ ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, রিকভারি পর্যায়ে প্রবৃদ্ধি এর বড় বিষয় নয়। এ সময় অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রমে গুরুত্ব দেয়াটা জরুরি। এরপর রিস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন ফর অ্যাক্সিলারেশন পর্যায়ে প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে।
সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান মনে করেন, তিন ধাপের ‘থ্রি-আর’ কৌশল একটি ভালো পরিকল্পনা। তবে এর সফলতা মূলত বাস্তবায়ন সক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল।
অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রথম বছরে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংক খাতের সংস্কার এবং পুঁজিবাজারের উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া প্রয়োজন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন