মুরাদ মিয়া,তাহিরপুর,সুনামগঞ্জ
১২:০৫ এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কিডনির জটিল সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন নোয়াখালী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও বৈশাখী টেলিভিশনের নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি লিয়াকত আলী খান। ইতোমধ্যে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইল শহরে ৭ বছর বয়সী এক শিশুকে চিপস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে বিপ্লব নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত শিশুটি বর্তমানে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩০ অক্টোবর শুক্রবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে টাঙ্গাইল শহরের ঐতিহ্যবাহী বড় কালীবাড়ি মার্কেটের একটি পরিত্যক্ত স্থানে এ ঘটনা ঘটে।
পরিবারের অভিযোগ, ৭০ টাকার চিপস কিনে দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে ডেকে নিয়ে বড় কালীবাড়ি মার্কেটের ওপরের ৩ তলায় নিয়ে যান অভিযুক্ত বিপ্লব। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণ করে ও হত্যাচেষ্টার পাশাপাশি মারধর করে মুখে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।
এরপর আহত শিশুটি ধীরে ধীরে নিচে নেমে এসে এক রিকশাচালকের কাছে সাহায্য চায়। শিশুটি তাকে বাঁচানোর আকুতি জানিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করে। এ সময় শিশুটি জানায়, বিপ্লব নামের এক ব্যক্তি তাকে ডেকে নিয়ে গিয়ে মারধর করেছে।
পরে ওই রিকশাচালক শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে যান। শিশুটির পরিচয় জানতে পেরে তার মায়ের কর্মস্থল ঐশ্বর্য বিউটি পার্লারে গিয়ে ছবি দেখিয়ে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে শিশুটির মা রাত্রি টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যান।
শিশুটির মা রাত্রি জানান, বিপ্লব নামের ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের পার্লারে যাতায়াত করতেন। তিনি তাঁর মেয়েকে অনেক আদর করতেন বলেও জানান তিনি।
এ ঘটনায় শিশুটির পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তবে এ ঘটনায় থানায় মামলা বা লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে কি না, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না এবং এ বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য কী—তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্র মারাত্মক অভিযোগ উত্থাপন করে জানিয়েছেন যে, পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া মোট ভোটারের ৭১ শতাংশ মুসলিম এবং ৫১ শতাংশ নারী। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) নয়াদিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলোর ‘ইন্ডিয়া’ জোট আয়োজিত প্রতীকী ‘জনসমক্ষে অভিশংসন’ অনুষ্ঠানে মহুয়া মৈত্র এই বিস্ফোরক অভিযোগগুলো করেন।
ভোটার সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়াকে কাজে লাগিয়ে গণতন্ত্রকে দুর্বল করার জন্য ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) অভিযুক্ত করেন মহুয়া। তিনি এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে একটি "ম্যাকিয়াভেলিয়ান চক্রান্ত" (কুটিল ষড়যন্ত্র) হিসেবে অভিহিত করেন এবং সিইসি জ্ঞানেশ কুমার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশে কাজ করছেন বলে দাবি করেন।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে একটি 'পুতুল' আখ্যা দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন যে, জ্ঞানেশ কুমার দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্রমশ দুর্বল করে দিচ্ছেন। তবে বিরোধী দলগুলোর অনুষ্ঠানে মহুয়া মৈত্রের দেওয়া এই পরিসংখ্যানগুলো তাঁর নিজস্ব অভিযোগ এবং তাৎক্ষণিকভাবে উপলব্ধ তথ্য থেকে তা স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইন্ডিয়া জোটের প্রতীকী অভিশংসন কর্মসূচি
ভোটার তালিকা থেকে ঢালাওভাবে নাম মুছে ফেলা এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিরোধী দলগুলো এই প্রতীকী ‘জনসমক্ষে অভিশংসন’ কর্মসূচির আয়োজন করে। রাজ্যসভার বিরোধীদলীয় নেতা ও কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব পেশ করেন এবং লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী আলোচনার সমাপ্তি টানেন।
এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের সদস্যরা অংশ নেন। ভোটার সংশোধন প্রক্রিয়ায় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষেরাও এখানে এসে তাঁদের ক্ষোভের কথা তুলে ধরেন। বিরোধী নেতাদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা থেকে বৃহৎ পরিসরে নাম বাতিল করতে সাহায্য করছে, যা সাধারণ মানুষের ভোটাধিকারকে ব্যাপকভাবে ক্ষুণ্ন করছে।
খাড়গে প্রতীকী প্রস্তাবে সিইসি-র বিরুদ্ধে ৬টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ গঠন করেন, যার মধ্যে রয়েছে ভোট চুরিতে সহায়তা করা, ভোটারদের নাম মুছে ফেলা, ৬ নম্বর ফর্মে বেআইনি পরিবর্তন এবং ক্ষমতাসীন বিজেপির পক্ষে কাজ করার মতো মারাত্মক বিষয়। উল্লেখ্য, এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি ছিল একটি প্রতীকী প্রতিবাদ এবং এটি সংসদের কোনো আনুষ্ঠানিক বা সাংবিধানিক অভিশংসন প্রক্রিয়া নয়।
রাহুল গান্ধী ও বিজেপির পাল্টা বক্তব্য
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন যে, ভোটারদের নাম এভাবে মুছে ফেলার ঘটনা ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের বৈধতা নিয়েই বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ এক বার্তায় তিনি দাবি করেন, ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩.৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যা গোটা নির্বাচনের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই বাদ পড়া ভোটের সংখ্যাটি নির্বাচনে বিরোধী দল এবং বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোটের জয়ের ব্যবধানের চেয়েও অনেক বেশি।
অভিযোগ এনে রাহুল গান্ধী সিইসি জ্ঞানেশ কুমার ও অন্যদের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ তোলেন এবং ভবিষ্যতে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। অন্যদিকে বিজেপি বিরোধী দলগুলোর এই পদক্ষেপ কে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে। বিজেপির প্রবীণ সংসদ সদস্য রবিশঙ্কর প্রসাদ এই প্রতীকী অভিশংসন সভার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, কংগ্রেস দেশীয় সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে ঠাট্টা-তামাশা করছে। তিনি নির্বাচনী কারচুপির দাবির বিষয়ে রাহুল গান্ধীকে উন্মুক্ত চ্যালেঞ্জ জানান।
এদিকে, কংগ্রেস এমপি শশী থারুর এই কর্মসূচির আলোচনাকে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও ইতিবাচক বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ১ নভেম্বর দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে ইন্ডিয়া জোটের নির্ধারিত মহাসমাবেশেও একই ঐক্যের আমেজ বজায় থাকবে। মহাসমাবেশে যোগ দিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই জাতীয় রাজধানীতে পৌঁছেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস মন্তব্য করেছেন যে, বিএনপির কিছু সদস্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের টাকার বিনিময়ে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকালে রাজধানীর শাহজানপুরে ঢাকা-৮ সংসদীয় এলাকার পাঁচ থানা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি বক্তব্য রাখেন।
মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমরা শুনছি, আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা ভারত থেকে এসে বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করছেন। আর আমাদের দলের ভেতরকার কিছু লোভী মানুষ টাকার লোভে তাদের আশ্রয় দিচ্ছে। সাফ কথা—বিএনপির যে শত্রু, সে আমারও শত্রু। দলের ভেতরের কেউ যদি এদের সহযোগিতা করেন, আমাদের জানাবেন, সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বিএনপির এই নেতা আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাতকারীদের হুঁশিয়ার করে বলেন, রাজনৈতিক শক্তি না পেয়ে একটি শ্রেণি আওয়ামী লীগের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিভিন্ন জায়গায় মিছিল-মিটিং করার চেষ্টা করছে। দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির এমন অপচেষ্টা বরদাশত করা হবে না।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রাম করার অধিকার সবার রয়েছে। তারা রাজনীতি করুক, এতে কোনো বাধা নেই। কিন্তু কেউ অপকর্ম করলে বিএনপির নেতাকর্মীরা হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না; শক্ত হাতে তা প্রতিহত করবে।
দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘অনেকেই অনেক কিছু ভাবছেন। কিন্তু বিএনপি এখনো মাঠে নামে নাই। আজকে ছোট্ট পরিসরে এবং বৃষ্টির মধ্যে এই সভায় মানুষের যে বাঁধভাঙা সাড়া ও আবেগ দেখা গেছে, তা থেকে বুঝে রাখুন—ঢাকা শহরে বিএনপি মাঠে নামলে কী হবে।’
তিনি আরও বলেন, শত্রুপক্ষের মিত্ররা কখনো বিএনপির বন্ধু হতে পারে না। বিএনপির নাম ভাঙিয়ে কেউ নিজের অবস্থান বা পরিচয় বদলানোর চেষ্টা করলে দল তাদের ছাড় দেবে না।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন।
এ সময় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার এনামুল হক এনাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব সাদ মোর্শেদ পাপ্পা সিকদার, ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের সোহাগ ভূঁইয়াসহ বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ