প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আতকাপাড়া গ্রামের ৫ নং ওয়ার্ডে ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ৫০০ মিটার সড়কের ইটের সোলিং কাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের অভিযোগ, সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের ইট ব্যবহারসহ বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে।
অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ইটের মান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ রয়েছে। এ সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) ফুল মিয়া এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) উপস্থিত ছিলেন।
তবে ঠিকাদারদের পক্ষ হয়ে কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি, স্বপন আহমেদ দূর্জয় সাংবাদিকদের বাধা প্রদান করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ফজলুল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, “রাস্তার কাজে অত্যন্ত নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হয়েছে। এসব ইট দিয়ে টেকসই সড়ক নির্মাণ সম্ভব নয়।”
আরেক বাসিন্দা জামাল মিয়া বলেন, “তিন নম্বার ইট দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এছাড়া রাস্তার মাটি ভালো ভাবে চাপানোর জন্য পানিও ব্যবহার করা হয়নি।”
স্থানীয় বিএনপি নেতা আসাদ মিয়া বলেন, “কাজে ব্যাপক অনিয়ম চলছে। নিম্নমানের ইট ব্যবহার এবং মাটি ভেজানো ছাড়াই কাজ করা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের উচিত দ্রুত হস্তক্ষেপ করে মানসম্মতভাবে কাজ নিশ্চিত করা।”
ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের সদস্য ফুল মিয়া বলেন, “কাজে অনিয়ম হচ্ছে। আমি চাই সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।”
কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লিটন মিয়া বলেন, “আমি ঠিকাদারকে শুরু থেকেই নিম্নমানের কাজ না করার নির্দেশ দিয়েছি। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোমেনুর রহমান বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে দেখি ব্যবহৃত ইটের মান সন্তোষজনক নয়। তাই কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে এম মামুনুর রশিদ বলেন, “কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের ইটের সোলিং কাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পিআইও ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে এসেছেন। তবে পুনরায় কাজ শুরুর অভিযোগও পেয়েছি। আমি স্পষ্ট ভাবে বলতে চাই যদি কোনো কাজে নিম্নমানের কাজের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের বিল স্থগিতসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে দ্রুত তদন্ত করে মানসম্মত নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করা হোক।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন