বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং
০৫:৩৭ পি.এম
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে একেবারে ভিন্ন বাস্তবতায় মুখোমুখি হচ্ছে ইকুয়েডর ও জার্মানি। ইকুয়েডরের সামনে অবশ্য নকআউট পর্বে ওঠার আশাটি বাঁচিয়ে রাখতে জয়ের বিকল্প নেই। অন্যদিকে গ্রুপ ই-তে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করার মাধ্যমে কিছুটা স্বস্তিতে মাঠে নামবে জার্মানি।
ইকুয়েডরের ভরসা তাদের তথাকথিত ‘গোল্ডেন জেনারেশন’। দলের পরিকল্পনা হবে মাঝমাঠে ময়েসেস কাইসেদো এবং রক্ষণে পিয়েরো ইনকাপিয়ে ও উইলিয়ান পাচোকে ঘিরে সাজানো। কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাসেসে তার সবচেয়ে শক্তিশালী একাদশ নামানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। লক্ষ্য একটাই—রক্ষণে দৃঢ়তা ধরে রেখে কাঙ্ক্ষিত গোল খুঁজে বের করা।
তবে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ইকুয়েডরের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রথম ম্যাচে তারা আইভরি কোস্টের কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হয়েছে এবং কুরাসাওয়ের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র করেছে। সেই ম্যাচে ২৭টি শট নিয়েও তারা গোল করতে না পারা দলের আক্রমণভাগের দুর্বলতাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় চিন্তা।
অন্যদিকে, দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে জার্মানি। টুর্নামেন্টের শুরুতে তারা কুরাসাওকে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত করার পর আইভরি কোস্টকে ২-১ গোলে পরাজিত করে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে জুলিয়ান নাগেলসম্যানের দল।
তবে এই ম্যাচে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন আনতে যাচ্ছেন জার্মান কোচ। চোটের কারণে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছেন ডিফেন্ডার নিকো শ্লটারবেক। এছাড়া কাই হাভার্টজ, ফ্লোরিয়ান ভির্টজ ও জামাল মুসিয়ালার মতো তারকাদের বিশ্রাম দেয়া হতে পারে। আক্রমণের নেতৃত্বে দেখা যেতে পারে ডেনিজ উন্ডাভকে।
ইকুয়েডরের সম্ভাব্য একাদশ:
গালিন্দেজ; অর্ডোনেজ, পাচো, ইনকাপিয়ে; ইয়েবোয়া, ফ্রাঙ্কো, কাইসেদো, ভিতে, এস্তুপিনিয়ান; প্লাটা, ভ্যালেন্সিয়া।
জার্মানির সম্ভাব্য একাদশ:
নয়ার; আন্তন, তাহ, রুডিগার, রাউম; গোরেৎস্কা, স্টিলার; লেওলিং, আমিরি, বেইয়ার; উন্ডাভ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কার্গো জট নিরসনের লক্ষ্যে স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও কাস্টমস ও সংশ্লিষ্ট সেবা কার্যক্রম চালু রাখার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি একই সঙ্গে বিমানবন্দরের ওপর চাপ কমাতে এর বাইরে আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন পৃথক একটি কার্গো ভিলেজ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) অনুষ্ঠিত বৈঠকে মূল অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ইইউ উত্থাপিত নন-ট্যারিফ বাধাসংক্রান্ত বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা চলছে। বৈঠকে বিমানবন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং সংকট ও তা নিরসনের উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
বর্তমানে শুক্র ও শনিবার বিভিন্ন সেবা কার্যক্রম সীমিত থাকায় বিমানবন্দরে জমে থাকা কার্গোর পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হয়নি। ফলে স্থায়ী অবকাঠামোগত সমাধান কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত ছুটির দিনেও কাস্টমসসহ সংশ্লিষ্ট সব সেবা সচল রাখা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ‘বিমানবন্দর কোনো গুদাম বা দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণাগার নয়; এটি মূলত পণ্য আগমন ও বহির্গমনের একটি ট্রানজিট পয়েন্ট। কিন্তু বিভিন্ন জটিলতার কারণে কার্গো দীর্ঘ সময় বিমানবন্দরে অবস্থান করলে পুরো ব্যবস্থাপনায় চাপ সৃষ্টি হয় এবং সংকট দেখা দেয়।’
কার্গো ব্যবস্থাপনার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে বিমানবন্দরের বাইরে নিরাপদ ও আধুনিক সংরক্ষণ সুবিধাসম্পন্ন একটি পৃথক কার্গো ভিলেজ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আগামী ১০ বছরের চাহিদা মাথায় রেখে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
কার্গোর প্রকৃতি অনুযায়ী হ্যাজার্ডাস, নন-হ্যাজার্ডাস, দ্রুত সরবরাহযোগ্য (ফাস্ট-মুভিং) এবং ধীরগতির (স্লো-মুভিং) পণ্যের জন্য পৃথক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হলে কার্গো পরিচালনা আরো দক্ষ, নিরাপদ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হবে।
সভায় জানানো হয়েছে, বর্তমানে প্রতিদিন বিমানবন্দরে যে পরিমাণ কার্গো আসছে, প্রায় সমপরিমাণ পণ্য খালাসও হচ্ছে। তবে আগে থেকে জমে থাকা বিপুল পরিমাণ কার্গো দ্রুত কমানো সম্ভব হচ্ছে না। সংশ্লিষ্টদের মতে, সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কার্যক্রম সীমিত থাকাও এ অবস্থার অন্যতম কারণ।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে। স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি—উভয় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েই কাজ চলছে। আগামী সপ্তাহে আবারও বৈঠক করে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা এবং পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।
তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশে অবতরণ করা একটি উড়োজাহাজ এবং বিমানবন্দরে পণ্য খালাসের অভিজ্ঞতাই বিদেশি ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের কাছে দেশের প্রথম পরিচয়। সেই অভিজ্ঞতা কোনোভাবেই নেতিবাচক হওয়া উচিত নয়। তাই এ সমস্যা দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন।’
বৈঠকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, বিমানবন্দরের কার্গো জট শুধু ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতিই করছে না, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তিনি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আগামী সাত দিনের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখানোর আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই দ্রুত কার্গো জট কমিয়ে বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে।’
আফরোজা খানম আরো বলেন, আটক ও বাজেয়াপ্ত পণ্যের দ্রুত নিষ্পত্তি এবং বিকল্প সংরক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে কার্গোর ওপর চাপ কমানো সম্ভব। ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সমস্যা থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে; হুমকি বা কর্মবিরতির মতো পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলতে পারে।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা মত দেন, বিমানবন্দরের কার্গো ব্যবস্থাপনার আধুনিকীকরণ, দ্রুত পণ্য খালাস এবং আন্তর্জাতিক মানের লজিস্টিক সেবা নিশ্চিত করা গেলে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা আরো শক্তিশালী হবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব আতাউর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ, কার্গো অপারেটর এবং বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কানাডার ইসমায়েল কোনেকে পায়ে গুরুতর আঘাতের কারণে কাতারের মিডফিল্ডার আসিম মাডিবো পাঁচ ম্যাচ নিষিদ্ধ হয়েছেন। আসিম মাডিবোর এই নিষেধাজ্ঞা একটি গুরুতর ইনজুরির ফলাফল, যার কারণে কোনে ফিফা বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন।
আমাদের জানানো হয়েছে, ২৯ বছর বয়সী আসিম মাডিবো বৃহস্পতিবার গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে গিয়ে ৫৩ মিনিটে কোনেকে বিপদজনক ট্যাকেল করে লাল কার্ড দেখেন। এই আঘাতের কারণে কানাডিয়ান মিডফিল্ডার কোনের পায়ের হাড়ে চিড় ধরা পড়েছে।
ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি পুরো ঘটনা বিশ্লেষণ করার পর গুরুতর ফাউলের জন্য মাডিবোকে পাঁচ ম্যাচ নিষিদ্ধ করেছে। যদিও এই নিষেধাজ্ঞার বিপরীতে মাডিবোর আপিল করার সুযোগ রয়েছে।
কোনের পুরো টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ার কারণে কানাডার বিশ্বকাপ মিশনে একটি বড় ধাক্কা লেগেছে। মেডিকেল পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে ২৪ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডারের বাম পায়ের টিবিয়া ও ফিবুলার হাড় ভেঙ্গে গেছে।
এছাড়া, ইতালিয়ান সিরি-এ ক্লাব সাসৌলোর খেলোয়াড় কোনের পায়ে তাৎক্ষনিকভাবে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, কানাডিয়ান ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে গিয়েছেন মাডিবো, কোনেকে দেখতে এবং এই ঘটনার জন্য তিনি দু:খ প্রকাশ করেছেন।
অন্যদিকে, বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে গ্রুপ-বি’র শেষ ম্যাচে কাতার ৩-১ গোলে পরাজিত হয়ে বিদায় নিয়েছে। সুইজারল্যান্ডের পর গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে নক আউট পর্ব নিশ্চিত করেছে কানাডা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্কুলের টিফিন বিরতিতে খাবার কিনতে বের হয়েছিল ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইথান আহমেদ। কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যেই তার জীবনে নেমে আসে ভয়াবহ বিপর্যয়। কুমিল্লা নগরীর কাটাবিল এলাকায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণের মধ্যে পড়ে পিঠে গুলিবিদ্ধ হয় সে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে কুমিল্লা নগরীর কাটাবিল রফিক উদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ ইথান ওই বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদক ব্যবসা ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধে জড়িয়ে রয়েছে দুটি পক্ষ। বুধবার রাত থেকে উত্তেজনা শুরু হয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় এলাকায় একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
রাতের ঘটনার প্রতিবাদে এবং এলাকায় মাদক ব্যবসা বন্ধের দাবিতে বৃহস্পতিবার সকালে কাটাবিল রফিক উদ্দিন মেমোরিয়াল স্কুলের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ রয়েছে, মানববন্ধনের পর দুপুরে একদল অস্ত্রধারী ব্যক্তি মানববন্ধনের আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তেই পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় লোকজন নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি শুরু করেন।
এ সময় স্কুলের টিফিন বিরতিতে বাইরে বের হওয়া ইথান আহমেদ গুলিবিদ্ধ হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
ইথানের মা সোনিয়া আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ছেলে স্কুলের বিরতির সময় টিফিন খেতে বের হয়েছিল। তখন তার পিঠে গুলি লাগে। তাকে কুমিল্লা মেডিকেলে নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু পরে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আমার ছেলে কোনো দোষ করেনি, সে শুধু স্কুলে পড়তে গিয়েছিল।’
ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ ও র্যাব যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করছে বলে জানা গেছে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ‘মাদক ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে অপু গ্রুপ ও সাব্বির গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। গুলিবিদ্ধ শিক্ষার্থী স্কুল থেকে বের হয়ে বাড়ি যাওয়ার পথে আহত হয়েছে বলে আমরা জেনেছি। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দীর্ঘ ৩৬ বছরের শিক্ষকতা জীবনের ইতি টানলেন দীঘিনালা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী হাচিনসনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. আবু শামা। কর্মজীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা আয়োজন করেন ব্যতিক্রমধর্মী বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে বিদ্যালয়ের হলরুমে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেব প্রিয় বড়ুয়া। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও খাগড়াছড়ি জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আরিফুল ইসলাম জাহিদ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা শিক্ষক আবু শামার দীর্ঘ কর্মজীবনের নানা স্মৃতিচারণ করেন এবং শিক্ষা বিস্তারে তার অবদানের কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, একজন আদর্শ শিক্ষক হিসেবে তিনি শুধু পাঠদানই করেননি, বরং অসংখ্য শিক্ষার্থীর জীবন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
আলোচনা সভা শেষে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা তাদের প্রিয় শিক্ষককে বিশেষ সম্মান প্রদর্শনের অংশ হিসেবে ছাদখোলা একটি গাড়িতে বসিয়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে বিদায় জানান। পরে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রাসহ উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে তাকে তার নিজ বাসভবনে পৌঁছে দেওয়া হয়। এ সময় রাস্তাজুড়ে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় এবং অনেক সাবেক শিক্ষার্থী তাদের শিক্ষকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে খাগড়াছড়ি জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম জাহিদ বলেন,
একজন শিক্ষক কখনো অবসরে যান না। তিনি তার জ্ঞান, আদর্শ ও মূল্যবোধের মাধ্যমে প্রজন্মের পর প্রজন্মের মাঝে বেঁচে থাকেন। আবু শামা স্যার আমাদের শুধু পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দেননি, তিনি আমাদের মানবিকতা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধও শিখিয়েছেন। আজকের এই সম্মাননা মূলত একজন আদর্শ শিক্ষকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ক্ষুদ্র প্রয়াস।
তিনি আরও বলেন,
আমাদের জীবনের সফলতার পেছনে শিক্ষকদের অবদান সবচেয়ে বেশি। তাই তাদের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা প্রদর্শন করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আবু শামা স্যারের কর্মময় জীবন আগামী প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
এদিকে শিক্ষক আবু শামার ছেলে রানা তুহিন তার বাবার দীর্ঘ কর্মজীবনের স্মৃতিচারণ করে বলেন,
৩৬ বছরের কর্মজীবনে বাবা সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে তার দায়িত্ব পালন করেছেন। পরিবার ও কর্মক্ষেত্রের জন্য তার ত্যাগ আমাদের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস। আজ তিনি অবসরে গেলেও তার আদর্শ ও কর্মের স্মৃতি কখনো মুছে যাবে না।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা জানান, শিক্ষক আবু শামার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থেকেই তারা এ আয়োজন করেছেন। তাদের মতে, একজন শিক্ষকের অবদানকে সম্মান জানানোর এমন উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ইতিবাচক বার্তা বহন করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ