১১:৫৬ এম
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে না পেয়ে এক ইউপি সদস্যকে মারধর ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সিরাজুল ইসলাম তোতা (৫৬) নামে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকালে উপজেলার সোনাখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কক্ষে। ভুক্তভোগী ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সরোয়ার হোসেন আকন্দ এ বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযুক্ত সিরাজুল ইসলাম তোতা রায়গঞ্জ থানা শ্রমিক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং সোনাখাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক। তিনি ওই ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের ওসমান আলীর ছেলে।
আরও পড়ুন: সৌদি আরব থেকে ৯ মাসে ২ হাজার মরদেহ, নারী কর্মীরা সন্তানের বাবার পরিচয় জানেন না
অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, ইউপি সদস্য সরোয়ার হোসেন ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উন্নয়ন সহায়তা প্রকল্পের আওতায় ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা বরাদ্দের একটি কালভার্ট নির্মাণ করেন। বিএনপি নেতা সিরাজুল ইসলাম তোতা ওই প্রকল্পের বিল থেকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় ঘটনার দিন বিকালে চেয়ারম্যানের কক্ষে প্রবেশ করে তোতা ইউপি সদস্যকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতে শুরু করেন। নিষেধ করায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে তাৎক্ষণিক নগদ ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। রাজি না হওয়ায় তোতা আরও উত্তেজিত হয়ে ইউপি সদস্যকে কিল-ঘুসি ও এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন।
স্থানীয়দের সহযোগিতায় ইউপি সদস্য রক্ষা পেলেও পরিষদ থেকে তাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেন তোতা।
ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য সরোয়ার হোসেন আকন্দ বলেন, "নিজের টাকা ব্যয় করে প্রকল্পটির কাজ শেষ করেছি। অথচ বিএনপি নেতাকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা না দেওয়ায় বিল পাচ্ছি না। পরিষদের সচিব চেকটি রেডি করে রেখেছেন, কিন্তু সে তাকে বলে রেখেছে ৫০ হাজার টাকা না দেওয়া পর্যন্ত আমাকে যেন চেকটি না দেওয়া হয়।" তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
এদিকে, চাঁদা দাবির বিষয়টি অস্বীকার করে বিএনপি নেতা সিরাজুল ইসলাম তোতা বলেন, "ওই ইউপি সদস্যের সঙ্গে পরিষদে যা ঘটেছিল, সেটি স্থানীয় বিএনপির নেতারা সমাধান করার দায়িত্ব নিয়েছেন, সমাধান হয়ে যাবে।"
আরও পড়ুন: দুধের উৎপাদন খরচ ৪৪.৮০ টাকা, বিক্রি ১০০-১১০ টাকায়
সোনাখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার বলেন, "ওই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি আমার সামনেই ঘটেছিল। এটি সত্যিই দুঃখজনক।"
রায়গঞ্জ থানার ওসি আহসানুজ্জামান অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "তদন্তে ওই অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা পাওয়া গেলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, "পরিষদের ওই ঘটনা তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
আরও পড়ুন: লিবিয়ার বন্দিশালা থেকে দেশে ফিরছেন ১৭২ বাংলাদেশি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন