১২:৩০ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুর ৪ নম্বর পিলারের কাছে নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে মাওয়া নৌ পুলিশ নিখোঁজ রাসেলের মরদেহ উদ্ধার করে।
এর আগে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল একজনের মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন শরীফ ল্যান্ডমার্ক লিমিটেডের অফিস সহায়ক মো. মারুফ (৪০) এবং গাড়ি চালক মো. রাসেল (৪০)। মারুফের বাড়ি ঢাকার খিলগাঁওয়ে এবং রাসেলের বাড়ি বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার গুলশাখালী এলাকায়।
মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে শরীফ ল্যান্ডমার্ক লিমিটেডের আটজন কর্মী পদ্মা সেতুর ৪ নম্বর পিলারের কাছে নদীতে গোসল করতে নামেন। তাদের মধ্যে ছয় জন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও মারুফ ও রাসেল নিখোঁজ হয়ে যান। ওই দিন দুপুর ২টা ২০ মিনিটে মুন্সীগঞ্জ ফায়ার স্টেশনে এ বিষয়ে খবর আসে। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। মঙ্গলবার মারুফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর নিখোঁজ রাসেলের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত ছিল।
মাওয়া নৌ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে পদ্মা সেতু থেকে পূর্ব দিকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে লৌহজংয়ের বড় নওপাড়া পুরাতন লৌহজং থানা জামে মসজিদের ১০০ মিটার পূর্বে পদ্মা নদীতে রাসেলের মরদেহ ভাসতে দেখা যায়। পরে মাওয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. মালেক খসরু খানের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা মরদেহ উদ্ধার করেন।
দুই জনের মরদেহ উদ্ধারের মাধ্যমে নিখোঁজদের সন্ধানে পরিচালিত উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে বলেও তিনি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ : আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলে রাস্তার পাশে কাজের জন্য অপেক্ষা করছেন শ্রমিকেরা। তাদের মধ্যে গুলাম সাখি বারাতও রয়েছেন। প্রতিদিনের মতো তিনিও সেখানে এসেছেন কাজের সন্ধানে। তবে ইরান ও পাকিস্তান থেকে লাখ লাখ আফগান দেশে ফিরে আসার ফলে কাজ ও বাসস্থানের সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
গত তিন বছরের কিছু বেশি সময়ে ইরান ও পাকিস্তান থেকে ৬০ লাখেরও বেশি আফগান দেশে ফিরে এসেছেন। কয়েক দশক ধরে সংঘাতের কারণে এসব দেশে আশ্রয় নেওয়া আফগানদের ফিরিয়ে দিতে সম্প্রতি ব্যাপকভাবে বহিষ্কার অভিযান শুরু করেছে প্রতিবেশী দেশ দুটি।
আফগানিস্তানের জওজজান প্রদেশের রাজধানী শেবেরঘানে সাতজন স্বজনের ভরণপোষণের দায়িত্ব ৮৩ বছর বয়সী বারাতের কাঁধে রয়েছে। তার মতে, দেশে ফিরে আসা মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, ‘মানুষ না খেয়ে থাকছে। দেশে ফিরে আসা মানুষদের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাজের সুযোগ কমে গেছে। যারা নতুন করে ফিরেছে, তাদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু যারা আগে থেকেই এখানে বসবাস করছে, তারা কোনো সহায়তা পাচ্ছে না।’
ইরান ও পাকিস্তান সীমান্ত থেকে জওজজান প্রদেশের দূরত্ব কয়েকশ কিলোমিটার হলেও অনেক আফগান সেখানে ফিরে এসেছেন। তাদের মধ্যে কেউ একসময় ওই এলাকায় বসবাস করতেন, আবার কারও পরিবারের সদস্যরা বহু বছর আগে সেখান থেকে চলে গিয়েছিলেন।
৬০ বছর বয়সী আবদুল কাদের হোটাক দুই দশক পাকিস্তানে কাটিয়ে জওজজানে ফিরেছেন। কিন্তু সেখানে তার পরিবারের কোনো জমি বা নিজস্ব বাড়ি নেই।
আট মাস আগে পাকিস্তান থেকে বহিষ্কৃত হয়ে দেশে ফেরার পর তার সন্তানদের জীবনও বদলে গেছে।
হোটাক বলেন, ‘পাকিস্তানে আমার সন্তানরা স্কুলে যেত, পড়াশোনা করত। এখন তাদের সবাইকে কিছু আয় করার জন্য আবর্জনা সংগ্রহ করতে হচ্ছে।’
পানি ও বাসস্থানের সংকট আরও তীব্র
প্রদেশটির আকচা এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষের ফিরে আসার কারণে জনসংখ্যা ২৬ শতাংশের বেশি বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে জাতিসংঘ। খরাপীড়িত এই জেলায় পানির সংকটও গুরুতর হয়ে উঠছে।
৫৪ বছর বয়সী রাজমিস্ত্রি ফকির মোহাম্মদ খুদাবখশ গত দুই দশক ধরে কাজের সন্ধানে ইরানে যাওয়া-আসা করেছেন। কিন্তু বর্তমানে তিনি সপ্তাহে মাত্র তিন দিন কাজ পান।
শেবেরঘানে অন্য শ্রমিকদের সঙ্গে কাজের অপেক্ষায় থাকা খুদাবখশ বলেন, ‘যারা আফগানিস্তানে ফিরে এসেছে, তাদের প্রত্যেকেরই থাকার জন্য একটি জায়গা ও কাজ দরকার। কিন্তু তাদের কোনোটিই নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘খাবার ও পোশাক কেনার পেছনে অর্থ ব্যয় করার পরিবর্তে আমাদের বাড়িভাড়া দিতে হচ্ছে। দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, আমরা অপুষ্টিতে ভুগছি।’
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানে প্রতি তিনজনের প্রায় একজন, অর্থাৎ ১ কোটি ৫৯ লাখ মানুষ খাদ্যসংকটের গুরুতর ঝুঁকিতে রয়েছেন। তাদের খাদ্যনিরাপত্তা পরিস্থিতি সংকটজনক বা তার চেয়েও ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বাসস্থান নিয়েও প্রতিযোগিতা বাড়ছে। এএফপির সঙ্গে কথা বলা স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কোনো কোনো এলাকায় বাড়িভাড়া বেড়েছে সর্বোচ্চ ১৫০ শতাংশ পর্যন্ত।
‘আল্লাহ নিশ্চয়ই ব্যবস্থা করবেন’
জওজজান প্রদেশের তথ্য অধিদপ্তরের পরিচালক সাইফুদ্দিন মুত্তাসেমের দাবি, স্থানীয় বাসিন্দা কিংবা দেশে ফিরে আসা মানুষদের নিয়ে সমাধানহীন কোনো সমস্যা নেই।
আফগানিস্তানে বেকার মানুষ নেই দাবি করে তিনি বলেন, ‘কেউ যদি কাজ না করে, তাহলে বুঝতে হবে সে নিজের আরাম-আয়েশের প্রতি বেশি আসক্ত এবং তিনি কাজ করতে চায় না।’
বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ ও অযৌক্তিক ভাড়া বৃদ্ধি ঠেকাতে সরকার দেশব্যাপী একটি কমিটি গঠন করেছে বলেও জানান তিনি।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ৩০ বছর বয়সী এক সরকারি কর্মকর্তা এএফপিকে বলেছেন, এমন কোনো কমিটির কথা তিনি কখনো শোনেননি। গত ১৮ মাসে তার বাড়িভাড়া দ্বিগুণ হয়েছে।
নিরাপত্তাজনিত কারণে শুধু আহমাদি নামে পরিচয় দেওয়া ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘দেশে ফিরে আসা মানুষের সংখ্যা বাড়ার পর অর্থনৈতিক সমস্যা আরও বেড়েছে।’
গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছিল, দেশে ফিরে আসা মানুষ ও তাদের আশ্রয় দেওয়া স্থানীয় জনগোষ্ঠী— উভয়ের জন্যই দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা অত্যন্ত জরুরি।
আফগানিস্তানে জাতিসংঘের সহায়তা মিশনের উপপ্রধান জর্জেট গ্যানন বলেন, ‘সীমিত সম্পদের জন্য প্রতিযোগিতা মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়াতে পারে, আরও বেশি মানুষকে বাস্তুচ্যুত করতে পারে এবং অস্থিতিশীলতা উসকে দিতে পারে।’
খরা পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে
জওজজান প্রদেশে দীর্ঘস্থায়ী খরার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। চারদিকে ধুলাবালিতে আচ্ছন্ন পরিবেশ, মাটির তৈরি গম্বুজাকৃতির ঘরবাড়ি আর চরে বেড়ানো উট— এমন শুষ্ক পরিবেশের মধ্যেই চলছে মানুষের টিকে থাকার লড়াই।
প্রদেশটির তথ্য অধিদপ্তরের পরিচালক জানান, সেখানকার অধিকাংশ পানি এখন পান করা কিংবা কৃষিকাজে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি বদলাতে একটি খাল নির্মাণ প্রকল্পের ওপর আশা রাখছেন তারা। তবে প্রকল্পটির কাজ শেষ হতে আরও দুই বছর লাগতে পারে।
মুত্তাসেম বলেন, ‘আফগানিস্তানের মানুষ ক্ষুধা কিংবা তৃষ্ণায় মারা যাচ্ছে না— তবে তাদের আশ্রয়ের ভীষণ প্রয়োজন।’
তিনি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে প্রদেশটিতে ফিরে আসা মানুষের জন্য ঘরবাড়ি নির্মাণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সবশেষে তিনি বলেন, ‘বাকি বিষয়গুলোর ব্যবস্থা আল্লাহ নিশ্চয়ই করবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ : জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ২০১৬ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী ৩০ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে, সরকারগুলোর নীতিনির্ধারণে জলবায়ু পরিবর্তনের স্বাস্থ্যগত প্রভাবকে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য একে ‘বৈশ্বিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ হিসেবে ঘোষণা করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে দ্য ল্যানসেট-এর একটি প্রতিবেদন।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
বুধবার প্রকাশিত এই প্রতিবেদনটি আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতিসংঘের ৩১তম জলবায়ু সম্মেলন (কপ৩১) সামনে রেখে প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনের দশম সংস্করণে ৩০টি দেশের ১৪৬ জন গবেষক অংশগ্রহণ করেছেন।
এতে বিশ্বজুড়ে মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৩ সালে তাপপ্রবাহের কারণে রেকর্ড ৭ লাখ ১০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এসব মৃত্যুর ৭০ শতাংশেরও বেশি মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত।
স্বাস্থ্য ও জলবায়ুবিষয়ক গবেষণা উদ্যোগ ‘ল্যানসেট কাউন্টডাউন’-এর নির্বাহী পরিচালক মারিনা রোমানেলো বলেন, ২০১৫ সালে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি গৃহীত হওয়ার পরবর্তী আট বছরে বিশ্বজুড়ে তাপজনিত কারণে ৩০ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটেছে।
তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আট বছরে তাপজনিত কারণে যত মানুষের মৃত্যু হয়েছে, তা প্রায় ওয়েলসের পুরো জনসংখ্যার সমান।’
রোমানেলোর মতে, এসব মৃত্যুর ৬৮ শতাংশের জন্য সরাসরি দায়ী জলবায়ু পরিবর্তন।
২০১৫ সালে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে গৃহীত আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক জলবায়ু চুক্তিতে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি প্রাক-শিল্পায়ন যুগের তুলনায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের অনেক নিচে রাখা এবং তা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমিত রাখার প্রচেষ্টা চালানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।
জলবায়ু পরিবর্তনের স্বাস্থ্যগত প্রভাব
রোমানেলো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বৈশ্বিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন, যাতে একের পর এক জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর শুধু সেগুলোর প্রতিক্রিয়া জানাতে না হয়।
তিনি আরও বলেন, ‘এর পরিবর্তে আমাদের দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে দেশগুলোর দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ে, প্রয়োজনীয় দক্ষতা তৈরি হয় ও ভবিষ্যতে নতুন সংকট এড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হয়।’
মানবসৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে কত মানুষের মৃত্যু হয়েছে, তা নির্ধারণ করতে গবেষকেরা বিভিন্ন দেশের নথিভুক্ত তাপজনিত মৃত্যুর তথ্য সংগ্রহ করেন। এরপর জলবায়ু পরিবর্তন না ঘটলে যত মানুষের মৃত্যু হতো, সেই সংখ্যা বাদ দিয়ে এর প্রকৃত প্রভাব নিরূপণ করেন বলে জানান সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অলি জে।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তীব্র তাপপ্রবাহের মাত্রা ও ঘনত্ব—দুটিই বেড়েছে।
এর উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, গত বছর বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি স্থলভাগ অন্তত এক মাস ধরে তীব্র খরার কবলে ছিল।
অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি
গবেষকদের মতে, বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে শ্রমিকদের কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ায় গত তিন বছরে বিশ্ব অর্থনীতিতে বছরে এক ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি ক্ষতি হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও আফ্রিকা। এসব অঞ্চলে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) যথাক্রমে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ ও ৩ দশমিক ২ শতাংশের সমপরিমাণ ক্ষতি হয়েছে বলে হিসাব করা হয়েছে। ইউরোপে এ ক্ষতির পরিমাণ জিডিপির ০ দশমিক ২ শতাংশ এবং আমেরিকা মহাদেশে ১ দশমিক ৫ শতাংশ।
২০১৬ সাল থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ১৯৪টি সদস্যদেশের মধ্যে ৫৬টি দেশ চরম আবহাওয়াজনিত দুর্যোগের আগাম পূর্বাভাস ও মোকাবিলার জন্য নিজেদের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা উন্নত করেছে।
এদিকে, ২০২৫ সালে পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে বিনিয়োগ বেড়ে ২ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা জীবাশ্ম জ্বালানিতে বিনিয়োগের দ্বিগুণ। জীবাশ্ম জ্বালানি জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান কারণ।
তবে বিশ্বে মোট জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় ৮০ শতাংশ এখনো জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর। এর ফলে সৃষ্ট বায়ুদূষণে বছরে ২৭ লাখ ৩০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ২০১৬ সালের পর অন্তত ৭৭টি দেশে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সৃষ্ট বায়ুদূষণ কমায় প্রায় ৩ লাখ ২৩ হাজার মানুষের মৃত্যু এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তন-সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা গবেষণায় অর্থায়ন ২০২৪ সালে বেড়ে ৩১৬ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের তুলনায় সাত গুণ বেশি। তবে এই অর্থের ৮৪ শতাংশই যাচ্ছে ধনী দেশগুলোর গবেষকদের কাছে। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্বল্পোন্নত দেশগুলো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জোবায়েদ হোসেন হত্যার মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি আগামী ৮ নভেম্বরের জন্য পিছিয়ে দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকার ২০তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মাজহারুল ইসলাম শুনানির পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী মাজেদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ‘আজকের দিন মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির তারিখ ধার্য ছিল। তবে আসামি বার্জিস শাবনাম বর্ষা এবং তার প্রেমিক মো. মাহির রহমানের পক্ষ থেকে সময়ের আবেদন করা হয়। কারণ হিসেবে বলা হয়, অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আইনজীবীদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেই এবং সিনিয়র আইনজীবীরা দেশের বাইরে আছেন। এ কারণে আদালত শেষ বারের মতো সময় দিয়ে আগামী ৮ নভেম্বর অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য করেছেন।’
মামলার তিন আসামি বর্তমানে কারাগারে রয়েছে। এদিন তাদের আদালতে হাজির করা হয়। এর আগে দুই দফা অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছানো হয়েছিল।
গত বছরের ১৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার আরমানিটোলার ছাত্রীকে পড়াতে গিয়ে জোবায়েদ খুন হন। সেদিন বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটের দিকে ওই ছাত্রীর বাসার নিচতলায় জোবায়েদকে ছুরি মারা হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনতলার সিঁড়িতে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
এ ঘটনায় দুই দিন পর নিহত জোবায়েদের বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত বাদী হয়ে ২১ অক্টোবর বংশাল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার প্রায় ৯ মাস পর তদন্ত শেষে গত ৩০ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা বংশাল থানার এসআই মো. আশরাফ হোসেন।
অভিযোগপত্রে জোবায়েদের ছাত্রী বার্জিস শাবনাম বর্ষা, তার প্রেমিক মো. মাহির রহমান, মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তদন্তে ত্রিভুজ প্রেমের কাহিনি উঠে আসে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, মো. জোবায়েদ হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করতেন। প্রতিদিনের মতো গত ১৯ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বংশাল থানার ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে নুর বক্স লেনের ১৫ নম্বর হোল্ডিং রৌশান ভিলায় বর্ষাকে পড়ানোর জন্য যান। সন্ধ্যা ৫টা ৪৮ মিনিটের দিকে ওই ছাত্রী জোবায়েদ হোসেনের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোট ভাই সৈকতকে ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে জানান, জোবায়েদ স্যার খুন হয়ে গেছে, কে বা কারা জোবায়েদ স্যারকে খুন করে ফেলেছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মো. কামরুল হাসান ৭টার দিকে জোবায়েদের ভাই এনায়েত হোসেনকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানান। এনায়েত তার শ্যালক শরীফ মোহাম্মদকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে সাড়ে ৮টার দিকে ঘটনাস্থল রৌশান ভিলায় পৌঁছান। ভবনের নিচতলা থেকে ওপরে ওঠার সময় সিঁড়ি এবং দেয়ালে রক্তের দাগ দেখতে পান। ওই ভবনের তৃতীয় তলার রুমের পূর্ব পার্শ্বে সিঁড়িতে জোবায়েদের রক্তাক্ত মরদেহ উপুড় অবস্থায় দেখতে পান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ