প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দীর্ঘ ৩৬ বছরের শিক্ষকতা জীবনের ইতি টানলেন দীঘিনালা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী হাচিনসনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. আবু শামা। কর্মজীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা আয়োজন করেন ব্যতিক্রমধর্মী বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে বিদ্যালয়ের হলরুমে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেব প্রিয় বড়ুয়া। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও খাগড়াছড়ি জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আরিফুল ইসলাম জাহিদ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা শিক্ষক আবু শামার দীর্ঘ কর্মজীবনের নানা স্মৃতিচারণ করেন এবং শিক্ষা বিস্তারে তার অবদানের কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, একজন আদর্শ শিক্ষক হিসেবে তিনি শুধু পাঠদানই করেননি, বরং অসংখ্য শিক্ষার্থীর জীবন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
আলোচনা সভা শেষে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা তাদের প্রিয় শিক্ষককে বিশেষ সম্মান প্রদর্শনের অংশ হিসেবে ছাদখোলা একটি গাড়িতে বসিয়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে বিদায় জানান। পরে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রাসহ উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে তাকে তার নিজ বাসভবনে পৌঁছে দেওয়া হয়। এ সময় রাস্তাজুড়ে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় এবং অনেক সাবেক শিক্ষার্থী তাদের শিক্ষকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে খাগড়াছড়ি জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম জাহিদ বলেন,
একজন শিক্ষক কখনো অবসরে যান না। তিনি তার জ্ঞান, আদর্শ ও মূল্যবোধের মাধ্যমে প্রজন্মের পর প্রজন্মের মাঝে বেঁচে থাকেন। আবু শামা স্যার আমাদের শুধু পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দেননি, তিনি আমাদের মানবিকতা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধও শিখিয়েছেন। আজকের এই সম্মাননা মূলত একজন আদর্শ শিক্ষকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ক্ষুদ্র প্রয়াস।
তিনি আরও বলেন,
আমাদের জীবনের সফলতার পেছনে শিক্ষকদের অবদান সবচেয়ে বেশি। তাই তাদের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা প্রদর্শন করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আবু শামা স্যারের কর্মময় জীবন আগামী প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
এদিকে শিক্ষক আবু শামার ছেলে রানা তুহিন তার বাবার দীর্ঘ কর্মজীবনের স্মৃতিচারণ করে বলেন,
৩৬ বছরের কর্মজীবনে বাবা সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে তার দায়িত্ব পালন করেছেন। পরিবার ও কর্মক্ষেত্রের জন্য তার ত্যাগ আমাদের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস। আজ তিনি অবসরে গেলেও তার আদর্শ ও কর্মের স্মৃতি কখনো মুছে যাবে না।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা জানান, শিক্ষক আবু শামার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থেকেই তারা এ আয়োজন করেছেন। তাদের মতে, একজন শিক্ষকের অবদানকে সম্মান জানানোর এমন উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ইতিবাচক বার্তা বহন করবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন