ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং
ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন

অভিবাসন নীতি ঘিরে ক্ষমতার রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ


অভিবাসন নীতি ঘিরে ক্ষমতার রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ

 

 

 

আরও পড়ুন: জাতিসংঘে মানবাধিকারভিত্তিক অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের আহ্বান বাংলাদেশ

 

ফ্রান্সে ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক পরিবেশ ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র ফ্রান্সে এই নির্বাচন কেবল নেতৃত্ব পরিবর্তনের বিষয় নয়, বরং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ অভিবাসন নীতি, অর্থনৈতিক দিক নির্দেশনা এবং সামাজিক কাঠামোর ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ টানা দুই মেয়াদ পূর্ণ করায় সংবিধান অনুযায়ী তিনি আর ২০২৭ সালের নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। তাই ক্ষমতার শীর্ষ পদে নতুন নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার জন্য ফ্রান্স এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। এই পরিবর্তনের সম্ভাবনা ঘিরে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো তাদের অবস্থান, কৌশল এবং নীতিগত অগ্রাধিকার পুনর্গঠন করছে।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সাধারণত দুই দফায় অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম দফায় একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, এবং যদি কোনো প্রার্থী সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট না পান, তাহলে শীর্ষ দুই প্রার্থীর মধ্যে দ্বিতীয় দফা ভোট অনুষ্ঠিত হয়। সেই ভোটেই চূড়ান্তভাবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। এই কাঠামো ফ্রান্সের রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাকে আরও জটিল এবং বহুমাত্রিক করে তোলে।

আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল তেলের দাম

বর্তমান সাংবিধানিক সময়সূচি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের প্রথম দফা ভোট ১৮ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফা ভোট ২ মে অনুষ্ঠিত হবার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণ প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হয়নি, তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে জল্পনা-কল্পনা এবং জরিপভিত্তিক বিশ্লেষণ ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।

নির্বাচনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে অভিবাসন ইস্যু। ফ্রান্সে দীর্ঘদিন ধরেই অভিবাসন একটি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল বিষয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপ জুড়ে অভিবাসন প্রবাহ বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক চাপ এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ এই ইস্যুকে আরও জোরালো করেছে।

সরকারি পর্যায়ে ইতোমধ্যে অভিবাসন ব্যবস্থায় কঠোরতা দেখা গেছে। ভিসা প্রক্রিয়া আরও যাচাইভিত্তিক করা, আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়ায় কড়াকড়ি এবং অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে নজরদারি বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউরোপীয় বিশ্লেষকদের মতে, এসব পদক্ষেপ শুধুমাত্র প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয় বরং রাজনৈতিক চাপ এবং জনমতের প্রতিফলনও।

এই প্রেক্ষাপটে ডানপন্থি রাজনৈতিক শক্তি ন্যাশনাল র‍্যালি অভিবাসন ইস্যুকে তাদের প্রধান নির্বাচনি এজেন্ডা হিসেবে সামনে এনেছে। দলটি নতুন অভিবাসন কমানো, পরিবার পুনর্মিলনের শর্ত কঠোর করা, নাগরিকত্ব অর্জনের প্রক্রিয়া আরও জটিল করা এবং অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাদের যুক্তি অনুযায়ী, রাষ্ট্রের সামাজিক ভারসাম্য এবং অর্থনৈতিক চাপ নিয়ন্ত্রণে এসব পদক্ষেপ প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: জামায়াত নেতাদের ভারতীয় গোয়েন্দাদের সঙ্গে বৈঠকের দাবি, রাশেদকে চ্যালেঞ্জ

অন্যদিকে মধ্যপন্থি রাজনৈতিক শিবির তুলনামূলকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখার কথা বলছে। তারা দক্ষ কর্মী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এবং বৈধ অভিবাসীদের জন্য ফ্রান্সের শ্রমবাজার উন্মুক্ত রাখার পক্ষে, তবে একই সঙ্গে অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তাও স্বীকার করছেন। বামপন্থি দলগুলো আবার অভিবাসনকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার পক্ষে অবস্থান নিয়ে সামাজিক সুরক্ষা ও শ্রম অধিকারের ওপর জোর দিচ্ছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে ডানপন্থি শিবিরের নেতৃত্ব নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মেরিন ল্য পেন বর্তমানে একটি আইনি আপিল প্রক্রিয়ার রায়ের অপেক্ষায় আছেন। ওই রায়ের ওপর নির্ভর করছে তিনি ২০২৭ সালের নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না। যদি আদালত তাকে অযোগ্য ঘোষণা করে, তাহলে দলটির সম্ভাব্য নেতৃত্ব হিসেবে জর্দান বারদেলার নাম সামনে আসছে।

এই রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ফ্রান্সের নির্বাচনি সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন প্রার্থী নির্ধারণ এবং দলীয় কৌশল চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র স্পষ্ট হবে না।

ফ্রান্সে বসবাসরত অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যেও এই নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ ও আগ্রহ বাড়ছে। বিশেষ করে রেসিডেন্স পারমিট, নাগরিকত্ব, পরিবার পুনর্মিলন এবং কর্মসংস্থান সংক্রান্ত নীতিতে সম্ভাব্য পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে আলোচনা চলছে।

আরও পড়ুন: ইউরোপের নেতারা রাজনৈতিক আত্মনিপীড়ক: লাভরভ

তবে প্রশাসনিক সূত্রগুলো স্পষ্ট করে বলছে, বর্তমানে কার্যকর অভিবাসন নীতি অব্যাহত রয়েছে এবং কোনো পরিবর্তন হলে তা আইন প্রণয়ন, সংসদীয় অনুমোদন এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ফ্রান্সের ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এখন কেবল রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রতিযোগিতা নয় বরং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নীতি কাঠামো নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। যেখানে অভিবাসন ইস্যু রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি ব্রাজিল-নরওয়ে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:০২ এম


প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি ব্রাজিল-নরওয়ে

 

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে, শুরু থেকেই ব্রাজিল ও নরওয়ের লড়াই জমে উঠেছে। দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছে, তবে একাধিক সুযোগ নষ্ট হওয়ার কারণে প্রথমার্ধ শেষে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি।

ম্যাচের শুরু থেকেই নরওয়ে ব্রাজিলকে চাপের মধ্যে রেখেছে। তৃতীয় মিনিটে প্যাট্রিক বার্গ তার শট জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। এরপর আলেকজান্ডার সোরলোথ ও আর্লিং হালান্ডকে সামনে রেখে তারা একের পর এক আক্রমণ চালাচ্ছিল।

তবে সবচেয়ে বড় সুযোগটি ব্রাজিলের জন্য আসে। ১৫ মিনিটে মাতেউস কুনিয়ার বিরুদ্ধে ফাউল হলে প্রথমে রেফারি খেলা চালিয়ে যেতে বলেন, কিন্তু পরে ভিডিও সহকারী রেফারির সাহায্যে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন। স্পটকিক নিতে আসেন ব্রুনো গিমারাইস। কিন্তু তার শট অসাধারণভাবে ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক অরিয়ান নিল্যান্ড। এভাবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের নিশ্চিত গোলের সুযোগ হাতছাড়া হয়।

পেনাল্টি সেভ করার পর নরওয়ে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে। তারা বলের দখল নিজেদের কাছে রেখে ধীরে ধীরে আক্রমণ গড়ে তুলতে থাকল। প্রথমার্ধে প্রায় ৬০ শতাংশ সময় বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল নরওয়ের কাছে। তবে আক্রমণের শেষ মুহূর্তে বারবার ভুল পাস এবং বল হারানোর কারণে তারা সুযোগ তৈরি করতে পারেনি।

অন্যদিকে ব্রাজিল মূলত পাল্টা আক্রমণের ওপর নির্ভর করেছে। ৩১ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির বিপজ্জনক ক্রস শেষ মুহূর্তে রুখে দেন নিল্যান্ড। ৩৪ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র দারুণ গতিতে এগিয়ে গেলে বল নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারায় সুযোগ নষ্ট হয়। এরপর ৪১ মিনিটে বক্সের ভেতরে ভিনিসিয়ুসের ঘুরে নেওয়া শটও নরওয়ের গোলরক্ষক দক্ষতার সঙ্গে ঠেকিয়ে দেন।

নরওয়ের আর্লিং হালান্ডও কয়েকবার ব্রাজিলের রক্ষণে আতঙ্ক ছড়ান। ৩৮ মিনিটে দূর থেকে আলিসনকে পরাস্ত করতে চাওয়া তার শট অলমিস করে। যোগ করা সময়ে হালান্ডের তৈরি করা সুযোগ থেকে মার্টিন ওদেগার্ডের শট আলিসন অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন।

শেষ মুহূর্তে কাসেমিরোর উঁচু পাসে মার্তিনেল্লি প্রায় বলের নাগাল পেয়ে গিয়েছিলেন, তবে সেই সুযোগও কাজে লাগাতে পারেননি।

প্রথমার্ধে রোমাঞ্চ, আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ, পেনাল্টি ও বাতিল গোল সবকিছু ছিল। যদিও দুই গোলরক্ষক অরিয়ান নিল্যান্ড ও আলিসনের অসাধারণ দৃঢ়তার কারণে বিরতি সময় গোলশূন্য সমতায় মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল ও নরওয়ে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কেন ভিনিসিয়ুস নিজে শট না করে ব্রুনোকে পেনাল্টি দিলেন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:১১ এম


কেন ভিনিসিয়ুস নিজে শট না করে ব্রুনোকে পেনাল্টি দিলেন?

 

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের মোকাবেলায় ব্রাজিল। ম্যাচ শুরুতেই ৫ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা একটি পেনাল্টির সুযোগ পায়। কিন্তু সেটি মিস করেন ব্রুনো গিমারেস।

তবে পেনাল্টির আগে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র বল হাতে নিয়ে স্পটের কাছে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ভিএআর পর্যালোচনার পর পেনাল্টি নিশ্চিত হয়। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ভিনি সেই বলটি তুলে দেন ব্রুনো গিমারায়েসের হাতে।

ব্রুনো শট নিতে দৌড়ে এসে ডান পায়ে ডান দিকে শট নেন। কিন্তু গোলরক্ষক সেই শটটি রুখে দেন। এরপর সবার মধ্যে একটি প্রশ্ন উত্থাপিত হয়, কেন ভিনিসিয়ুস নিজে পেনাল্টি নিলেন না।

এই সিদ্ধান্তটি হয়তো আগে থেকেই পরিকল্পনা করা ছিল, এটি মাঠের মধ্যে হঠাৎ কোন সিদ্ধান্ত বলেই মনে হচ্ছে না। তবে খেলোয়াড়দের মুখ থেকে কিছু না শোনা পর্যন্ত পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে না। এখন পর্যন্ত যা স্পষ্ট, সেটি হলো ব্রুনোই এই সুযোগটি অর্জন করেছিলেন।

নিউক্যাসল ইউনাইটেডে ব্রুনো প্রায়ই ফ্রি কিক নেন। ব্রাজিল দলের হয়েও তিনি ফ্রি কিক নিয়ে থাকেন। তার টেকনিক্যাল দক্ষতার জন্য তিনি ভালো সুনাম অর্জন করেছেন।

ক্যারিয়ারে ব্রুনো এর আগে তিনটি পেনাল্টির মধ্যে তিনটিতেই গোল করেছেন। তবে ব্রাজিলের হয়ে এর আগে তিনি কখনো পেনাল্টি নেননি। অন্যদিকে ভিনির ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যান কিছুটা ভিন্ন। মোট ১৯টি পেনাল্টির মধ্যে তিনি গোল করেছেন ১৩টিতে। তবে ব্রাজিলের জার্সিতে তিনি তিনটি পেনাল্টির মধ্যে মাত্র একটিতে গোল করতে পেরেছেন। তার পেনাল্টি না নেওয়ারও একটি কারণ হতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাপে গেয়ের করা শটে বিশ্বকাপের সর্বাধিক গতিময় গোল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:১৪ এম


পাপে গেয়ের করা শটে বিশ্বকাপের সর্বাধিক গতিময় গোল

বিশ্বকাপের রোমাঞ্চ এখন তুঙ্গে, চলছে নকআউট পর্বের শেষ ১৬ দলের লড়াই। এই মাঠের তুমুল উত্তেজনার মধ্যে ফুটবলপ্রেমীদের মনে অনেক প্রশ্ন উঠে আসতে পারে। বিশেষ করে—এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী ও দ্রুতগতির শটের গোল কোনটি। ফুটবল নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ফিফা हालের দিনগুলোতে প্রযুক্তির সাহায্যে প্রকাশ করেছে এই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে গতিময় ১০ গোলের একটি তালিকা। ফিফার তথ্য অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বে ইরাকের বিপক্ষে সেনেগালের মিডফিল্ডার পাপে গেয়ের করা গোলটি এখন পর্যন্ত চলতি বিশ্বকাপের সবচেয়ে দ্রুতগতির গোল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এই শটটিতে বলের সর্বোচ্চ গতি ছিল ঘণ্টায় ১৩১.৯৪ কিলোমিটার। যদিও সেনেগালের বিশ্বকাপ যাত্রা ৩২-এর রাউন্ডেই শেষ হয়ে গিয়েছে, তবে পাপে গেয়ের এই বুলেট গতির গোলটি ফুটবল ইতিহাসে একটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। গতিময় গোলের এই তালিকায় পাপে গেয়ের পিছনে ফেলেছেন সুইজারল্যান্ডের মিডফিল্ডার ইয়োহান মানজাম্বিকে। গ্রুপ পর্বে কানাডার বিপক্ষে যিনি গোলটি করেছিলেন, তাতে বলের গতি ছিল ঘণ্টায় ১২৮.৭৩ কিলোমিটার, যা গেয়ের গোলের থেকে ঘণ্টায় প্রায় তিন কিলোমিটার কম। তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে নরওয়ের থেলো আসগার্ডের দুর্দান্ত একটি গোল। ফ্রান্সের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে তার নেওয়া শটটির গতি ছিল ঘণ্টায় ১২৫.৯৫ কিলোমিটার। সবচেয়ে শক্তিশালী ১০ শটের মধ্যে বিশেষভাবে নজর কেড়েছেন কেপ ভার্ডের কেভিন পিনা। তিনি উরুগুয়ের বিপক্ষে এক ঘণ্টায় ১২৫.২২ কিলোমিটার গতির শটে যে গোলটি করেছেন, তা বিশ্বকাপে তার দেশের ইতিহাসে প্রথম গোল হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এটি শুধু গতিই নয়, গোলটি ৩১ গজেরও বেশি দূর থেকে করা হয়েছিল, যা শীর্ষ ১০ গোলের মধ্যে সবচেয়ে দূরপাল্লার শট হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়েছে। শেষ ষোলোর খেলা শুরু হওয়ার আগে, ফিফার তালিকার শীর্ষ ১০ গতিময় গোলের ৯টি এসেছে গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো থেকে। নকআউট পর্ব থেকে তালিকায় একমাত্র গোলটি মিসরের মোহামেদ সাবেরের। তিনি ডালাসে শেষ ৩২ দলের রাউন্ডে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি শুটআউটে অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় ও তীব্র গতিতে গোলটি করেন। ফুটবলের গতি ও খেলোয়াড়দের মুভমেন্টের এত নিখুঁত হিসাব পাওয়া যাচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে। এবারের বিশ্বকাপের অফিসিয়াল বল ‘ট্রিওন্ডা’র ভেতর ব্যবহৃত হয়েছে অত্যন্ত হালকা ‘ইনারশিয়াল মেজরমেন্ট ইউনিট’ (আইএমইউ) সেন্সর, যা বলের ভারসাম্য নষ্ট করে না। স্টেডিয়ামের ভেতরে বসানো ১৬টি বিশেষ ক্যামেরা প্রতি সেকেন্ডে বল ও খেলোয়াড়দের প্রায় ৫০ বার ট্র্যাকিং করে ২৯টি ভিন্ন ভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে। ফিফা ও স্পোর্টস ব্র্যান্ড অ্যাডিডাস অবশ্য এবারই প্রথম নয়, এর আগে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ এবং ২০২৩ নারী বিশ্বকাপেও এ প্রযুক্তির সফল ব্যবহার দেখা গিয়েছিল। বিশ্বকাপ যত সামনে এগোবে, প্রযুক্তির এই ট্র্যাকিং ডেটায় নতুন গতির কোনো রেকর্ড যুক্ত হয় কি না—এখন সেটাই দেখার বিষয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সোলেমানের সোলার পাম্পে পরিবর্তন আসবে সেচের চিত্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:২৩ এম


সোলেমানের সোলার পাম্পে পরিবর্তন আসবে সেচের চিত্র

 

নরওয়ে ০–০ ব্রাজিল সকলের নজরে। সোমবার ৬ জুলাই ২০২৬ পরবর্তী খেলাসমূহের মধ্যে রয়েছে সোমবার ৬ জুলাই ২০২৬[শেষ ১৬] সকাল ৬টা মেক্সিকো – ইংল্যান্ড এস্তাদিও আজতেকা, মেক্সিকো সিটি, মেক্সিকো। মঙ্গলবার ৭ জুলাই ২০২৬[শেষ ১৬] রাত ১টা পর্তুগাল – স্পেন এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়াম, ডালাস, যুক্তরাষ্ট্র।

আরও পড়ুন— এমপি ও ওসির স্বাক্ষর নকল করে চাঁদাবাজি, গ্রেফতার ১। ত্রিশালে ভিক্ষুক শফিকুলের পাশে ইউএনও। আড়াইহাজারে হাসপাতালে ডাক্তারকে মারধরের অভিযোগ বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে। মাদকাসক্ত ছেলেকে পুলিশে দিলেন মা। বগুড়ায় এইচএসসির ফরম পূরণের নামে প্রতারণা, প্রতারক গ্রেফতার।

 

একটি যন্ত্র আছে, যা স্থানান্তর করা যায় একদিক থেকে আরেক দিক। সূর্য যেদিকে কিরণ দেয়, সেদিকে এটি মুখ করতে পারে। সোলার পাম্পের এই শক্তিতে মাটির গভীর থেকে উঠে আসে পানির ধারা। সেই পানি জমির আল বেয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

অভিনব এ যন্ত্রের পেছনের কারিগর হলেন সোলেমান আলী, যিনি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মোলানী গ্রামে বাস করেন। যখন জ্বালানি তেলের সংকট এবং লোডশেডিংয়ের দুশ্চিন্তা কৃষকদের নিত্যসঙ্গী, তখন সূর্যের আলোকে কাজে লাগিয়ে তিনি একটি ভিন্ন সমাধানে পৌছেছেন। তিনি তৈরি করেছেন স্বল্প খরচে ভ্রাম্যমাণ সৌর সেচযন্ত্র—যা এক খেত থেকে আরেক খেতে নিয়ে সহজেই ব্যবহার করা যায়।

সোলেমানের শুরুটা কিন্তু এমন ছিল না। অভাবের কারণে তার পড়াশোনা প্রথম শ্রেণির পরে থেমে যায়। জীবিকার তাগিদে তিনি সাইকেল মেরামতের কাজ শুরু করেন। এরপর তিনি ইনস্ট্যান্ট পাওয়ার সাপ্লাই (আইপিএস) তৈরির কাজে যুক্ত হন। সেখান থেকেই তার প্রযুক্তির প্রতি গভীর আগ্রহ জন্ম নেয়। ২০১৩ সালে সৌর সেচব্যবস্থা নিয়ে কাজ শুরু করেন তিনি।

বছরের পর বছর ধরে বাজারের বিভিন্ন সৌর প্যানেল, কন্ট্রোলার ও যন্ত্রাংশ জোগাড় করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে যান সোলেমান। একসময় তিনি তৈরি করেন নিজের সৌর সেচযন্ত্রের মডেল। পরে সেটিকে আরও উন্নত করতে পাম্পে যুক্ত করেন গিয়ার বক্স, যাতে দ্রুত পানি ওঠানো যায়। সূর্যের অবস্থান অনুযায়ী প্যানেল ঘোরানোর ব্যবস্থা করেন। পুরো কাঠামোয় চাকা বসিয়ে এটিকে ভ্রাম্যমাণ করে তুলেন। কৃষকের জমিতে সেচ পাম্পের বোরিং করলেই, সোলেমানের সৌর সেচযন্ত্র নিয়ে গিয়ে স্থাপন করলেই পানি তোলার উপযোগী হয়ে যায়।

সোলেমানের তৈরি সৌর সেচযন্ত্রে ১০টি সৌরকোষ রয়েছে, প্রতিটির ক্ষমতা ২৫০ ওয়াট। মোট ২ হাজার ৫০০ ওয়াট ক্ষমতার এই প্যানেল সূর্যের আলো পেলেই বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে, যা দিয়ে তিন হর্সপাওয়ারের পানির পাম্প চালানো হয়। প্রতি মিনিটে ন্যূনতম ৭০০ লিটার পানি তোলা যায় এবং এক দিনে প্রায় ১০ একর জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব।

সোলেমানের সেচযন্ত্রের খরচও তুলনামূলকভাবে কম। ভালো মানের এক ওয়াট সৌরকোষের দাম পড়ে ২৮ টাকা। সেই অনুযায়ী ২ হাজার ৫০০ ওয়াটের সৌর প্যানেলের দাম পড়ে ৭০ হাজার টাকা। পানির পাম্প কেনা ও প্যানেলের অবকাঠামো তৈরিতে খরচ পড়ে আরও ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে একটি ভ্রাম্যমাণ সৌর সেচযন্ত্র তৈরিতে খরচ পড়ে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার টাকা।

প্রতিটি সেচযন্ত্র ভাড়া দিয়ে বছরে ৩৬ হাজার টাকা করে পান সোলেমান। একই সঙ্গে কেউ যদি সেচযন্ত্রটি কিনতে আগ্রহী হন, তাহলে তিনি সেটিও বিক্রি করেন। মানভেদে প্রতিটি সেচযন্ত্রের দাম পড়ে দেড় লাখ থেকে দুই লাখ ১০ হাজার টাকা। পাশাপাশি তারা কারিগরি সেবাও প্রদান করেন। সোলেমান এ পর্যন্ত শতাধিক সৌর সেচযন্ত্র তৈরি করে বিক্রি করেছেন এবং নিজে ছয়টি সেচযন্ত্র ব্যবহার করছেন। ভাড়ায় তিনি ২০টি সেচযন্ত্র ব্যবহার করছেন।

সাধারণ সেচযন্ত্র দিয়ে প্রতি বিঘায় খরচ হয় সাত থেকে আট হাজার টাকা, সেখানে সৌর সেচযন্ত্রে তা নেমে এসেছে তিন হাজার টাকায়।

সদর উপজেলার কৃষক আতাউর রহমান খেতে সৌর সেচযন্ত্র ব্যবহার করে সেচের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, "লোডশেডিংয়ের চিন্তা নেই, পেট্রোল-ডিজেলের ঝামেলাও নেই—সময়মতো পানি দিতে পারছি, ফলনও ভালো হচ্ছে। সেচে টাকাও সাশ্রয় হচ্ছে।"

সলেমান জানান, "আমার বাড়ির সব কাজই এখন সৌরশক্তি নির্ভর। ওয়েল্ডিং মেশিনটাও সৌরশক্তিতে চলছে। মুরগি-গরুর খামার, হ্যাচারির ভারি ইলেকট্রনিকস যন্ত্রপাতিও সম্পূর্ণ সৌরশক্তিতে চলতে শুরু করেছি। মুরগির তিনটি শেডে এগজস্ট ফ্যান ও নয়টা সিলিং ফ্যান এবং মাছের হ্যাচারির পানি তুলতেও এই শক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। বাড়ির ২০টির ওপরে লাইট, আটটি ফ্যান, ফ্রিজ, এসি, বৈদ্যুতিক চুলা, টেলিভিশনসহ সব ইলেকট্রনিকস যন্ত্রপাতিও সৌরশক্তিতে চলে। যেখানে আগে মাসে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল আসত, এখন তা নেমে এসেছে এক হাজার টাকার নিচে।"

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন বলেন, "উত্তরাঞ্চলে বোরো মৌসুমে লোডশেডিং তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। যার কারণে বোরো ধান উৎপাদনে সেচকাজে কৃষকদের নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।"

সলেমানের এই সৌর সেচ প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করা গেলে, জ্বালানি ও বিদ্যুতের ওপর চাপ কমবে। বরেন্দ্র অঞ্চলের জন্য এর প্রয়োজনীয়তা গুরুত্বপূর্ণ। নবায়নযোগ্য এ উৎস ব্যবহার করার ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সেচের সুবিধা বাড়বে। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় এ প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে পারলে, প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকরা লাভবান হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%