প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্বকাপের রোমাঞ্চ এখন তুঙ্গে, চলছে নকআউট পর্বের শেষ ১৬ দলের লড়াই। এই মাঠের তুমুল উত্তেজনার মধ্যে ফুটবলপ্রেমীদের মনে অনেক প্রশ্ন উঠে আসতে পারে। বিশেষ করে—এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী ও দ্রুতগতির শটের গোল কোনটি। ফুটবল নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ফিফা हालের দিনগুলোতে প্রযুক্তির সাহায্যে প্রকাশ করেছে এই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে গতিময় ১০ গোলের একটি তালিকা। ফিফার তথ্য অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বে ইরাকের বিপক্ষে সেনেগালের মিডফিল্ডার পাপে গেয়ের করা গোলটি এখন পর্যন্ত চলতি বিশ্বকাপের সবচেয়ে দ্রুতগতির গোল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এই শটটিতে বলের সর্বোচ্চ গতি ছিল ঘণ্টায় ১৩১.৯৪ কিলোমিটার। যদিও সেনেগালের বিশ্বকাপ যাত্রা ৩২-এর রাউন্ডেই শেষ হয়ে গিয়েছে, তবে পাপে গেয়ের এই বুলেট গতির গোলটি ফুটবল ইতিহাসে একটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। গতিময় গোলের এই তালিকায় পাপে গেয়ের পিছনে ফেলেছেন সুইজারল্যান্ডের মিডফিল্ডার ইয়োহান মানজাম্বিকে। গ্রুপ পর্বে কানাডার বিপক্ষে যিনি গোলটি করেছিলেন, তাতে বলের গতি ছিল ঘণ্টায় ১২৮.৭৩ কিলোমিটার, যা গেয়ের গোলের থেকে ঘণ্টায় প্রায় তিন কিলোমিটার কম। তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে নরওয়ের থেলো আসগার্ডের দুর্দান্ত একটি গোল। ফ্রান্সের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে তার নেওয়া শটটির গতি ছিল ঘণ্টায় ১২৫.৯৫ কিলোমিটার। সবচেয়ে শক্তিশালী ১০ শটের মধ্যে বিশেষভাবে নজর কেড়েছেন কেপ ভার্ডের কেভিন পিনা। তিনি উরুগুয়ের বিপক্ষে এক ঘণ্টায় ১২৫.২২ কিলোমিটার গতির শটে যে গোলটি করেছেন, তা বিশ্বকাপে তার দেশের ইতিহাসে প্রথম গোল হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এটি শুধু গতিই নয়, গোলটি ৩১ গজেরও বেশি দূর থেকে করা হয়েছিল, যা শীর্ষ ১০ গোলের মধ্যে সবচেয়ে দূরপাল্লার শট হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়েছে। শেষ ষোলোর খেলা শুরু হওয়ার আগে, ফিফার তালিকার শীর্ষ ১০ গতিময় গোলের ৯টি এসেছে গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো থেকে। নকআউট পর্ব থেকে তালিকায় একমাত্র গোলটি মিসরের মোহামেদ সাবেরের। তিনি ডালাসে শেষ ৩২ দলের রাউন্ডে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি শুটআউটে অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় ও তীব্র গতিতে গোলটি করেন। ফুটবলের গতি ও খেলোয়াড়দের মুভমেন্টের এত নিখুঁত হিসাব পাওয়া যাচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে। এবারের বিশ্বকাপের অফিসিয়াল বল ‘ট্রিওন্ডা’র ভেতর ব্যবহৃত হয়েছে অত্যন্ত হালকা ‘ইনারশিয়াল মেজরমেন্ট ইউনিট’ (আইএমইউ) সেন্সর, যা বলের ভারসাম্য নষ্ট করে না। স্টেডিয়ামের ভেতরে বসানো ১৬টি বিশেষ ক্যামেরা প্রতি সেকেন্ডে বল ও খেলোয়াড়দের প্রায় ৫০ বার ট্র্যাকিং করে ২৯টি ভিন্ন ভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে। ফিফা ও স্পোর্টস ব্র্যান্ড অ্যাডিডাস অবশ্য এবারই প্রথম নয়, এর আগে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ এবং ২০২৩ নারী বিশ্বকাপেও এ প্রযুক্তির সফল ব্যবহার দেখা গিয়েছিল। বিশ্বকাপ যত সামনে এগোবে, প্রযুক্তির এই ট্র্যাকিং ডেটায় নতুন গতির কোনো রেকর্ড যুক্ত হয় কি না—এখন সেটাই দেখার বিষয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন