প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নরওয়ে ০–০ ব্রাজিল সকলের নজরে। সোমবার ৬ জুলাই ২০২৬ পরবর্তী খেলাসমূহের মধ্যে রয়েছে সোমবার ৬ জুলাই ২০২৬[শেষ ১৬] সকাল ৬টা মেক্সিকো – ইংল্যান্ড এস্তাদিও আজতেকা, মেক্সিকো সিটি, মেক্সিকো। মঙ্গলবার ৭ জুলাই ২০২৬[শেষ ১৬] রাত ১টা পর্তুগাল – স্পেন এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়াম, ডালাস, যুক্তরাষ্ট্র।
আরও পড়ুন— এমপি ও ওসির স্বাক্ষর নকল করে চাঁদাবাজি, গ্রেফতার ১। ত্রিশালে ভিক্ষুক শফিকুলের পাশে ইউএনও। আড়াইহাজারে হাসপাতালে ডাক্তারকে মারধরের অভিযোগ বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে। মাদকাসক্ত ছেলেকে পুলিশে দিলেন মা। বগুড়ায় এইচএসসির ফরম পূরণের নামে প্রতারণা, প্রতারক গ্রেফতার।
একটি যন্ত্র আছে, যা স্থানান্তর করা যায় একদিক থেকে আরেক দিক। সূর্য যেদিকে কিরণ দেয়, সেদিকে এটি মুখ করতে পারে। সোলার পাম্পের এই শক্তিতে মাটির গভীর থেকে উঠে আসে পানির ধারা। সেই পানি জমির আল বেয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
অভিনব এ যন্ত্রের পেছনের কারিগর হলেন সোলেমান আলী, যিনি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মোলানী গ্রামে বাস করেন। যখন জ্বালানি তেলের সংকট এবং লোডশেডিংয়ের দুশ্চিন্তা কৃষকদের নিত্যসঙ্গী, তখন সূর্যের আলোকে কাজে লাগিয়ে তিনি একটি ভিন্ন সমাধানে পৌছেছেন। তিনি তৈরি করেছেন স্বল্প খরচে ভ্রাম্যমাণ সৌর সেচযন্ত্র—যা এক খেত থেকে আরেক খেতে নিয়ে সহজেই ব্যবহার করা যায়।
সোলেমানের শুরুটা কিন্তু এমন ছিল না। অভাবের কারণে তার পড়াশোনা প্রথম শ্রেণির পরে থেমে যায়। জীবিকার তাগিদে তিনি সাইকেল মেরামতের কাজ শুরু করেন। এরপর তিনি ইনস্ট্যান্ট পাওয়ার সাপ্লাই (আইপিএস) তৈরির কাজে যুক্ত হন। সেখান থেকেই তার প্রযুক্তির প্রতি গভীর আগ্রহ জন্ম নেয়। ২০১৩ সালে সৌর সেচব্যবস্থা নিয়ে কাজ শুরু করেন তিনি।
বছরের পর বছর ধরে বাজারের বিভিন্ন সৌর প্যানেল, কন্ট্রোলার ও যন্ত্রাংশ জোগাড় করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে যান সোলেমান। একসময় তিনি তৈরি করেন নিজের সৌর সেচযন্ত্রের মডেল। পরে সেটিকে আরও উন্নত করতে পাম্পে যুক্ত করেন গিয়ার বক্স, যাতে দ্রুত পানি ওঠানো যায়। সূর্যের অবস্থান অনুযায়ী প্যানেল ঘোরানোর ব্যবস্থা করেন। পুরো কাঠামোয় চাকা বসিয়ে এটিকে ভ্রাম্যমাণ করে তুলেন। কৃষকের জমিতে সেচ পাম্পের বোরিং করলেই, সোলেমানের সৌর সেচযন্ত্র নিয়ে গিয়ে স্থাপন করলেই পানি তোলার উপযোগী হয়ে যায়।
সোলেমানের তৈরি সৌর সেচযন্ত্রে ১০টি সৌরকোষ রয়েছে, প্রতিটির ক্ষমতা ২৫০ ওয়াট। মোট ২ হাজার ৫০০ ওয়াট ক্ষমতার এই প্যানেল সূর্যের আলো পেলেই বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে, যা দিয়ে তিন হর্সপাওয়ারের পানির পাম্প চালানো হয়। প্রতি মিনিটে ন্যূনতম ৭০০ লিটার পানি তোলা যায় এবং এক দিনে প্রায় ১০ একর জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব।
সোলেমানের সেচযন্ত্রের খরচও তুলনামূলকভাবে কম। ভালো মানের এক ওয়াট সৌরকোষের দাম পড়ে ২৮ টাকা। সেই অনুযায়ী ২ হাজার ৫০০ ওয়াটের সৌর প্যানেলের দাম পড়ে ৭০ হাজার টাকা। পানির পাম্প কেনা ও প্যানেলের অবকাঠামো তৈরিতে খরচ পড়ে আরও ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে একটি ভ্রাম্যমাণ সৌর সেচযন্ত্র তৈরিতে খরচ পড়ে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার টাকা।
প্রতিটি সেচযন্ত্র ভাড়া দিয়ে বছরে ৩৬ হাজার টাকা করে পান সোলেমান। একই সঙ্গে কেউ যদি সেচযন্ত্রটি কিনতে আগ্রহী হন, তাহলে তিনি সেটিও বিক্রি করেন। মানভেদে প্রতিটি সেচযন্ত্রের দাম পড়ে দেড় লাখ থেকে দুই লাখ ১০ হাজার টাকা। পাশাপাশি তারা কারিগরি সেবাও প্রদান করেন। সোলেমান এ পর্যন্ত শতাধিক সৌর সেচযন্ত্র তৈরি করে বিক্রি করেছেন এবং নিজে ছয়টি সেচযন্ত্র ব্যবহার করছেন। ভাড়ায় তিনি ২০টি সেচযন্ত্র ব্যবহার করছেন।
সাধারণ সেচযন্ত্র দিয়ে প্রতি বিঘায় খরচ হয় সাত থেকে আট হাজার টাকা, সেখানে সৌর সেচযন্ত্রে তা নেমে এসেছে তিন হাজার টাকায়।
সদর উপজেলার কৃষক আতাউর রহমান খেতে সৌর সেচযন্ত্র ব্যবহার করে সেচের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, "লোডশেডিংয়ের চিন্তা নেই, পেট্রোল-ডিজেলের ঝামেলাও নেই—সময়মতো পানি দিতে পারছি, ফলনও ভালো হচ্ছে। সেচে টাকাও সাশ্রয় হচ্ছে।"
সলেমান জানান, "আমার বাড়ির সব কাজই এখন সৌরশক্তি নির্ভর। ওয়েল্ডিং মেশিনটাও সৌরশক্তিতে চলছে। মুরগি-গরুর খামার, হ্যাচারির ভারি ইলেকট্রনিকস যন্ত্রপাতিও সম্পূর্ণ সৌরশক্তিতে চলতে শুরু করেছি। মুরগির তিনটি শেডে এগজস্ট ফ্যান ও নয়টা সিলিং ফ্যান এবং মাছের হ্যাচারির পানি তুলতেও এই শক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। বাড়ির ২০টির ওপরে লাইট, আটটি ফ্যান, ফ্রিজ, এসি, বৈদ্যুতিক চুলা, টেলিভিশনসহ সব ইলেকট্রনিকস যন্ত্রপাতিও সৌরশক্তিতে চলে। যেখানে আগে মাসে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল আসত, এখন তা নেমে এসেছে এক হাজার টাকার নিচে।"
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন বলেন, "উত্তরাঞ্চলে বোরো মৌসুমে লোডশেডিং তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। যার কারণে বোরো ধান উৎপাদনে সেচকাজে কৃষকদের নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।"
সলেমানের এই সৌর সেচ প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করা গেলে, জ্বালানি ও বিদ্যুতের ওপর চাপ কমবে। বরেন্দ্র অঞ্চলের জন্য এর প্রয়োজনীয়তা গুরুত্বপূর্ণ। নবায়নযোগ্য এ উৎস ব্যবহার করার ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সেচের সুবিধা বাড়বে। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় এ প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে পারলে, প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকরা লাভবান হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন