ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ডলারনির্ভরতা কমিয়ে উৎপাদন বাড়ানোর আহ্বান খামেনির


ডলারনির্ভরতা কমিয়ে উৎপাদন বাড়ানোর আহ্বান খামেনির

দেশের ভেতরে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গুরুত্বপূর্ণ লেনদেনে মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি।

তিনি উল্লেখ করেন, বিদেশি চাপ ও নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে ইরানকে আরও বেশি স্বনির্ভর হতে হবে।

 

আরও পড়ুন: ঢাকায় জরুরি অবতরণে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের দরজা খুলে গেল, রোগীর মৃত্যু

এ উদ্দেশ্যে দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি করে ‘প্রতিরোধ অর্থনীতি’ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা উচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে খামেনি বলেন, অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হওয়া কেবল সরকারের একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত নয়। বিদেশি আর্থিক চাপ মোকাবেলা এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য এটি একটি জাতীয় প্রয়োজন। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।

 

এছাড়া উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ লেনদেন থেকে ধীরে ধীরে মার্কিন ডলারকে সরিয়ে আনতে হবে। দেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে ‘প্রতিরোধ অর্থনীতি’ প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।

খামেনি বলেন, ইরানের অর্থনৈতিক সমস্যাগুলোর সমাধানের প্রধান উপায় হলো দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের ওপর যতটা সম্ভব নির্ভর করা। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভি তার বিস্তারিত বক্তব্য প্রকাশ করেছে।

আরও পড়ুন: রাহুল গান্ধীর পদযাত্রা: ভারতের গণবিক্ষোভে যুবদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত

 

সেখানে বলা হয়েছে, দেশের ভেতরের উৎপাদন বৃদ্ধি করাই অর্থনৈতিক সমস্যা মোকাবেলার মূল চাবিকাঠি। তবে যদি কোনো পণ্য দেশের ভেতরে পর্যাপ্ত পরিমাণে উৎপাদন করা সম্ভব না হয়, তাহলে প্রয়োজন অনুযায়ী আমদানি করতে হবে। খামেনি এ ক্ষেত্রে ‘সঠিকভাবে ও বিচক্ষণতার সঙ্গে’ আমদানি করার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, অর্থনীতির উন্নতির জন্য মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব, পণ্য ও সেবার দাম এবং বাজার ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়গুলোতে ধারাবাহিকভাবে নজর দিতে হবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

 

তবে শুধু বিনিয়োগ বৃদ্ধি করলেই হবে না, সেই অর্থ প্রয়োজনীয় ও উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার করতে হবে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন: গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের আদেশ স্থগিত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা অর্থনীতিতে মার্কিন ডলারের ব্যবহার কমানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক লেনদেনে ধীরে ধীরে ডলারের ভূমিকা কমাতে হবে। পাশাপাশি উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে এবং দেশের প্রয়োজনীয় খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে হবে। খামেনির মতে, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরান এমন একটি অর্থনীতি গড়ে তুলতে সক্ষম হবে, যা বিদেশি চাপের ওপর কম নির্ভরশীল হবে। তিনি অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর হওয়ার উদ্যোগের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপের বিষয়টিও তুলে ধরেন। খামেনি বলেন, ইরানের শত্রুরা দেশটির জনগণকে বোঝাতে চায়, তাদের দাবি মেনে নিলেই অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথ খুলবে। কিন্তু ইসলামী বিপ্লবের আগে ও পরে ইরান এবং দেশটির সম্পদের সঙ্গে ওই দেশগুলো কী আচরণ করেছে, তা দেখলেই এর বিপরীত চিত্র পাওয়া যায়।

খামেনির এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরো বাড়াচ্ছে। ওয়াশিংটন ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে একটি অভিযান শুরু করেছে। এর লক্ষ্য ইরানের আন্তর্জাতিক আর্থিক যোগাযোগ আরো দুর্বল করা এবং দেশটির সরকারের অর্থের উৎস বন্ধ করা। খামেনির বক্তব্য প্রকাশের কিছুক্ষণ আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, এই অভিযান পুরো শক্তিতে চালু রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ব্যাংক মেল্লির দুবাই শাখার ব্যবস্থাপক রেজা মোহাম্মদ তাইয়েদি এবং হংকংভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দাবি, হংকংভিত্তিক ওই প্রতিষ্ঠানটি ইরানের নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশ করতে সহায়তা করেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, ব্যাংক মেল্লি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করেছে। এর মধ্যে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের কুদস ফোর্স এবং ইরানের প্রতিরক্ষা ও সশস্ত্র বাহিনীর রসদ মন্ত্রণালয় রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান আগেই যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, ইরানের হয়ে আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনে সহায়তা করা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক অপরাধ দমন নেটওয়ার্ক নতুন একটি নিয়মের প্রস্তাব করেছে। এর মাধ্যমে ব্যাংক মিসর ইউএইর মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিনিধি ব্যাংকিং সুবিধা বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ব্যাংক মিসর ইউএই ইরান সরকারের মার্কিন ডলার ব্যবহারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেছেন, ইরান সরকার যখন জনগণের প্রয়োজনের চেয়ে নিজেদের কর্মকাণ্ডকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, তখন ওয়াশিংটন তাদের অর্থনৈতিকভাবে টিকে থাকার পথগুলো বন্ধ করবে। তিনি বলেন, ইরান সরকারের হয়ে অবৈধ আর্থিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর মধ্যে বিদেশে ইরানি ব্যাংকের হয়ে কাজ করা ব্যক্তিরাও থাকবেন। এর আগে ২৪ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ শুরুর ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো বিশ্বজুড়ে ইরানের আর্থিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং ইরান সরকারকে সহায়তা করা অর্থের উৎস বন্ধ করে দেওয়া।

আরও পড়ুন: দুর্গোৎসবের মর্মান্তিক ট্র্যাজেডিতে শুভেন্দুর চরম অব্যবস্থাপনা নগ্ন হয়ে পড়ল

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভেনিজুয়েলার সঙ্গে ‘বিশ্ব ইতিহাসের বৃহত্তম তেল চুক্তি’ ঘোষণা ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:২৮ এম


ভেনিজুয়েলার সঙ্গে ‘বিশ্ব ইতিহাসের বৃহত্তম তেল চুক্তি’ ঘোষণা ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনিজুয়েলার সঙ্গে ‘বিশ্ব ইতিহাসের বৃহত্তম তেল চুক্তি’ করার ঘোষণা দিয়েছেন। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম

এক্স হ্যান্ডেলে

-এ একটি পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই চুক্তির বিষয়টি প্রকাশ করেন।

ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এবং ভেনেজুয়েলার মধ্যে একটি ব্যাপক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে দক্ষিণ আমেরিকার দেশটির বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল মজুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার তৈরি হতে পারে। চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে ভেনেজুয়েলার তেল খাতে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

ট্রাম্পের পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ চুক্তিটি নিয়ে আলোচনা ও সমঝোতার কাজ করেছেন।

তিনি লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার সঙ্গে বিশ্বের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল চুক্তিতে প্রবেশ করেছে।’

ভেনেজুয়েলার সরকারের একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, চুক্তির আওতায় দেশটির ১৭টি তেলক্ষেত্রের উন্নয়ন করা হবে। এসব তেলক্ষেত্রে প্রমাণিতভাবে প্রায় ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুত রয়েছে। চুক্তির ফলে ভেনেজুয়েলার তেল খাতে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আসতে পারে এবং দেশটির সরকারের রাজস্ব হিসেবে ২০৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি কর আদায় হতে পারে।

রদ্রিগেজ টেলিগ্রামে একটি পোস্টে আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই চুক্তি ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি এবং দেশের পুনরুদ্ধারে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

চুক্তি সম্পর্কে অবগত এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে নতুন একটি কোম্পানি গঠনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এই কোম্পানি তেলক্ষেত্রগুলোর মজুত উন্নয়নের দায়িত্ব পালন করবে। রদ্রিগেজের সরকার ওই কোম্পানিকে তেলক্ষেত্রগুলো উন্নয়নের জন্য ১০০ বছরের অধিকার দিয়েছে বলেও ওই কর্মকর্তা উল্লেখ করেন।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, নতুন কোম্পানির কার্যকর উৎপাদনের ৫৫ শতাংশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ থাকবে। এর মধ্যে মালিকানার অংশীদারিত্বের পাশাপাশি উৎপাদন খরচে তেল কেনার অধিকারও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তার দাবি, নতুন কোম্পানিটি সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রমাণিত তেল মজুতের করপোরেট মালিক হতে পারে।

এ ঘোষণা এমন একটি সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম কমানোর জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়ছে। একই সঙ্গে ইরান যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। সংঘাতের আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ পেট্রোলিয়াম এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।

শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের গড় দাম ছিল প্রায় ৪ দশমিক ০৯ ডলার, যা এক বছর আগে একই সময়ে ছিল ৩ দশমিক ২১ ডলার।

তবে বিশেষজ্ঞরা নতুন চুক্তির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে তাৎক্ষণিকভাবে জ্বালানির দাম কমবে—এমন প্রত্যাশা করছেন না। তাদের মতে, ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে হলে দেশটির পুরোনো অবকাঠামো সংস্কার ও সম্প্রসারণ করতে হবে। এতে কয়েক বছর সময় এবং বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন হতে পারে।

ভেনেজুয়েলায় বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল মজুত রয়েছে। মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের হিসাব অনুযায়ী, দেশটির ভূগর্ভে আনুমানিক ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রয়েছে, যা বিশ্বের মোট মজুতের প্রায় ১৭ শতাংশ। তবে দুর্বল ও জরাজীর্ণ অবকাঠামোর কারণে বর্তমানে বিশ্ব তেল উৎপাদনে দেশটির অবদান মাত্র প্রায় ১ শতাংশ।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেছেন, এই চুক্তি ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের জন্য বড় ধরনের সাফল্য। ভেনিজুয়েলার জনগণের জন্য, এই চুক্তিটি প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ নিয়ে আসবে, হাজার হাজার উচ্চ বেতনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং ভেনিজুয়েলার অর্থনীতির পুনর্গঠনে চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে। তথ্যসূত্র:

এনডিটিভি

, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চুয়াডাঙ্গায় সব রুটে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস-মিনিবাস চলাচল বন্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৩০ এম


চুয়াডাঙ্গায় সব রুটে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস-মিনিবাস চলাচল বন্ধ

চুয়াডাঙ্গা জেলার সব রুটে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস ও মিনিবাস ধর্মঘট শুরু হয়েছে, যা পরিবহণ শ্রমিকদের ওপর ইজিবাইক চালকদের হামলা ও মারধরের প্রতিবাদে ঘটেছে। শনিবার সকাল থেকে এই ধর্মঘট কার্যকর রয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক হাজী আবুল কালাম আজাদ জানান, গত বৃহস্পতিবার ইজিবাইক চালক-শ্রমিকরা চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলোকদিয়া এলাকায় একত্রিত হয়। এ সময় তারা চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে একটি বাস আটকে দেয়। বাসের চালক ও সুপারভাইজারকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি বাসটিতে হামলা চালানো হয়।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি এবং দোষীদের গ্রেফতারের জন্য শুক্রবার চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা-হাটবোয়ালিয়া রুটে বাস চলাচল বন্ধ ছিল। পরে শনিবার থেকে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা-জীবননগর-হাসাদহ, চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা-কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা-হাটবোয়ালিয়া রুটে একযোগে বাস চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

হাজী আবুল কালাম আজাদ আরও জানান, পরিবহন শ্রমিকদের ওপর হামলার সুষ্ঠু বিচার এবং সড়কে ইজিবাইকের অবৈধ চলাচল বন্ধে প্রশাসন দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা থেকে কোনো রুটে বাস চলাচল করবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যাত্রাবাড়ী থানা থেকে পালিয়ে যাওয়া সেই নারী আসামি গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৩২ এম


যাত্রাবাড়ী থানা থেকে পালিয়ে যাওয়া সেই নারী আসামি গ্রেপ্তার

মিতু আক্তার নামের এক নারী আসামি, যিনি হত্যার মামলায় রিমান্ডে ছিলেন, যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন। তবে, তার পালানোর প্রায় ৪০ ঘণ্টার মধ্যে তাকে আবার গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহমেদ রাজু শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দিবাগত রাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ওসি জানান, মিতু থানার সীমানা অতিক্রম করার পরপরই তাকে ধরার জন্য পুলিশের একাধিক টিম অভিযান শুরু করে। পরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার পার্শ্ববর্তী কেরানীগঞ্জের কদমতলী এলাকায় তার বান্ধবীর বোনের বাসা থেকে মিতুকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বর্তমানে মিতু যাত্রাবাড়ী থানায় পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেপাল ও চীনে বন্যায় নিহত বেড়ে ৫৮৪, নিখোঁজ প্রায় আড়াই হাজার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৩৪ এম


নেপাল ও চীনে বন্যায় নিহত বেড়ে ৫৮৪, নিখোঁজ প্রায় আড়াই হাজার

নেপাল ও চীনের হিমালয় সীমান্ত অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানির সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৮ আগস্ট) পর্যন্ত দুই দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৮৪ জনে পৌঁছেছে। পাশাপাশি, নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় আড়াই হাজার মানুষ।

নেপালের পুলিশ জানায়, দেশটির উত্তরের বাগমতী প্রদেশে বুধবারের (২৬ আগস্ট) ভয়াবহ বন্যায় ৫৭৯ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। একই দুর্যোগের সাথে সম্পর্কিত তিব্বতের শিগাৎসে প্রদেশের গিরং জেলায় ভূমিধসে চীনে আরও পাঁচজনের মৃত্যু ঘটেছে।

এক দিনের ব্যবধানে নিহতের সংখ্যা ৩৬২ থেকে বেড়ে ৫৮৪ জনে পৌঁছেছে। নেপালের বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধারকাজ চলাকালীন একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের ফলে প্রাণহানির সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।

নেপালে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৯৭৭ থেকে বেড়ে ১ হাজার ৯২৪ জনে দাঁড়িয়েছে। তিব্বতে নিখোঁজ ৫৫৮ জনকে যোগ করলে দুই দেশে মোট নিখোঁজের সংখ্যা দাঁড়ায় ২ হাজার ৪৮২ জনে।

নিখোঁজদের মধ্যে প্রায় ৩০টি দেশের ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। এছাড়া, নেপালে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণে নিয়োজিত দক্ষিণ কোরিয়ার নয় নাগরিকেরও এখন পর্যন্ত কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ নেপালকে উদ্ধারকারী দল পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। তবে নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা বিদেশি আর্থিক সহায়তাকে স্বাগত জানালেও আপাতত বিদেশি উদ্ধারকারী দলের সহায়তা নিচ্ছে না।

নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লোক বাহাদুর ছেত্রী জানান, দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী উদ্ধারকাজ পরিচালনা করছে এবং বর্তমানে তাদের এ ধরনের সহায়তার প্রয়োজন নেই। তিনি জানান, প্রয়োজন হলে বিশেষায়িত সহায়তা বা দক্ষতার জন্য বিদেশি সহযোগিতা চাওয়া হবে।

এদিকে, নেপালের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণস্থলে শতাধিক মানুষ আটকা পড়েছেন। প্রকল্পটির একটি বন্যাকবলিত সুড়ঙ্গে তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করছে নেপালের সেনাবাহিনী। কাদার পুরু স্তরে পুরো এলাকা ঢেকে যাওয়ায় সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ খুঁজে পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।

নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানায়, প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও প্রায় ৩৫০ শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাকে সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ভেতরে আটকে থাকা আরও প্রায় ১০০ জনকে বের করে আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

নেপালের উদ্ধারকারী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত বন্যাকবলিত এলাকায় ১৪ হাজার ৮০০-এর বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। তারা ৩ হাজার ৭৪২ জনকে উদ্ধার করেছেন, যাদের মধ্যে ১২১ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছে। এ ছাড়া, হেলিকপ্টারে আরও ৩ হাজার ২৫৩ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

তবে উদ্ধারকাজের মাঝেই নতুন করে বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় ধ্বংসস্তূপ জমে তৈরি হওয়া একটি প্রাকৃতিক বাঁধের পেছনে পানি জমে যে হ্রদ তৈরি হয়েছিল, সেটি উপচে পড়েছে। দ্বিতীয় দফায় বন্যার আশঙ্কায় নেপাল ও চীনের কিছু এলাকায় উদ্ধারকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে।

আন্তর্জাতিক রেডক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট ফেডারেশনের নেপাল প্রতিনিধি দলের প্রধান ডেভিড ফিশার জানিয়েছেন, দুর্যোগে অন্তত ৯৩ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। দ্রুত সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে এবং নতুন করে বন্যার ঝুঁকি নিয়েও গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, হিমালয়ে জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাবে বিশাল হিমবাহ ও পাথরের স্তর ধসে এই বিপর্যয়ের সূত্রপাত হতে পারে। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, লাংটাং লিরুং পর্বতের প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতা থেকে প্রায় ৬০০ মিটার প্রশস্ত একটি হিমবাহ ও পাথরের বিশাল অংশ ভেঙে পড়েছিল। এর আঘাতের শক্তি প্রায় ৫ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পের মতো ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এরপর বরফ, পানি ও ধ্বংসাবশেষের বিশাল স্রোত লেন্দে নদী থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে ত্রিশূলী নদীর দিকে নেমে গিয়ে ভয়াবহ বন্যা সৃষ্টি করে।

কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, হিমবাহ গলে তৈরি হওয়া প্রাকৃতিক বাঁধের পেছনে জমে থাকা হ্রদের পানি হঠাৎ বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনাও এই বিপর্যয়ের সাথে জড়িত হতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে এ ধরনের আকস্মিক বন্যা আরও ঘন ঘন ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র: এনডিটিভি,

দ্য হেরাল্ড বিজনেস

,

দ্য গার্ডিয়ান

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%