ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বরিশাল মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু


বরিশাল মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু

বরিশাল মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর ভর্তি কার্যক্রম সীমিত আকারে শুরু হয়েছে। তবে, প্রতিষ্ঠানটি এখনও রাজস্বখাতে স্থানান্তরিত না হওয়ায় শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে নানা জটিলতা এবং সংকট অব্যাহত রয়েছে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর জানিয়েছে, বরিশাল অঞ্চলের একমাত্র মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের নির্মাণ কাজের প্রায় ৯৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে, যা প্রায় ৬০ কোটি টাকার দেশীয় তহবিলে হয়েছে। অবশিষ্ট ওয়ার্কশপ ভবনটি আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারির মধ্যে হস্তান্তর করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে, চলতি শিক্ষাবর্ষে প্রথমবারের মতো আর্কিটেক্ট ও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিষয়ে ৪৮ জন ছাত্রী ভর্তি হয়েছে, তবে বর্তমানে প্রেষণে নিয়োজিত মাত্র ৬ জন শিক্ষক দ্বারা শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বরিশাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ভাইস প্রিন্সিপালকে নবনির্মিত মহিলা পলিটেকনিকের প্রিন্সিপালের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ইতোমধ্যে বরিশাল মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ৬ তলা প্রশাসনিক ভবন, ৬ তলা একাডেমিক ভবন, ৫ তলা শিক্ষক ডরমিটরি, ২শ শয্যার ৪ তলা ছাত্রী নিবাস, ৬ ইউনিটের তিনতলা স্টাফ কোয়ার্টার এবং দোতলা ভিতের ওপর একতলা প্রিন্সিপালের বাসভবনের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে বুঝে নেওয়ার জন্য চিঠিও প্রদান করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ৭নং জগদল ইউনিয়ন বিএনপির কর্মীসভা অনুষ্ঠিত, ত্যাগী ও পরীক্ষিত কর্মীদের মূল্যায়নের দাবি

একটি শহিদ মিনারও সরকারি খরচে নির্মিত হয়েছে। এছাড়া, ৬ তলা ওয়ার্কশপ ভবনের নির্মাণ কাজও ৮৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বরিশাল অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির মধ্যে এই ভবনটিও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হবে।

বরিশাল মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রায় ৩ একর জমির ওপর নির্মিত হয়েছে এবং বিশাল সীমানা প্রাচীর সহ দুটি প্রবেশদ্বারের নির্মাণ কাজও সম্পন্ন করেছে ইইডি। বরিশাল মহিলা পলিটেকনিকের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল এসএম সামচুন নাহার ইনকিলাবকে জানান, "সরকারি নির্দেশনার আলোকে আমরা চলতি শিক্ষাবর্ষে প্রথমবারের মতো শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছি।" তিনি উল্লেখ করেন, বিভিন্ন পলিটেকনিক থেকে প্রেষণে ৬ জন শিক্ষক এখানে নিয়োগ করা হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটি রাজস্বখাতে স্থানান্তরের পর অনুমোদিত জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

তবে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানিয়েছে যে, বরিশাল মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের জনবল মঞ্জুরি এখনও চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি। প্রস্তাবিত জনবল কাঠামো অনুযায়ী, এই প্রতিষ্ঠানের জন্য ৯৫ জন শিক্ষকের পদ সৃজনের পরিকল্পনা রয়েছে, কিন্তু এ পর্যন্ত প্রেষণে মাত্র ৬ জন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কারিগরি বিভিন্ন শাখায় ৫৪টি পদের মধ্যে ৫ জনকে প্রেষণে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত ৪৫ কর্মচারীর মধ্যে ৬ জন এবং ৪র্থ শ্রেণির আউটসোর্সিং স্টাফ নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে।

রাজস্বখাতে স্থানান্তর না হওয়ার কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাচ্ছে না এবং পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। বরিশাল মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের প্রিন্সিপাল এসএম সামচুন নাহার জানান, "কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে অবহিত।" তিনি উল্লেখ করেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাজস্বখাতে স্থানান্তরে কিছু জটিলতা রয়েছে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্রকল্পের মেয়াদ আগামী ৩০ জুনের মধ্যে শেষ হবে।

আরও পড়ুন: কুলাউড়ায় জামায়াতের পল্টন ট্র্যাজেডি দিবস পালিত, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

বরিশালসহ ৩টি বিভাগীয় সদরে এ ধরনের তিনটি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট নির্মাণ প্রকল্প সম্পন্ন হলে স্বাভাবিক নিয়মে সবগুলো প্রতিষ্ঠান রাজস্বখাতে স্থানান্তরিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রিন্সিপাল সামচুন নাহার। উল্লেখ্য, বরিশাল, সিলেট ও ময়মনসিংহে ৩টি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রকল্পটি সম্পূর্ণ দেশীয় তহবিলে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে অনুমোদন লাভ করে, তবে নানা জটিলতার কারণে নির্মাণ কাজ শুরুতে বিলম্ব হয়েছে। ফলে, আগামী ৩০ জুনের মধ্যে প্রকল্পটির কার্যক্রম শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাহুল গান্ধীর পদযাত্রা: ভারতের গণবিক্ষোভে যুবদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৩১ পি.এম


রাহুল গান্ধীর পদযাত্রা: ভারতের গণবিক্ষোভে যুবদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত

ভারতের সবচেয়ে বিখ্যাত রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরাধিকারী ৫৬ বছর বয়সী রাহুল গান্ধী সম্প্রতি দেশের দীর্ঘকালীন রাজনৈতিক প্রথা ভেঙে অপ্রত্যাশিত বিভিন্ন ভূমিকা গ্রহণ করছেন। তিনি ভারতের ‘জেন জি’ বা যুব প্রজন্মের প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে যোগদান করেছেন এবং পুলিশের মুখোমুখি হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কঠোর ও কর্তৃত্ববাদী রাজনীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্দোলনের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করার মাধ্যমে রাহুল গান্ধী বর্তমানে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় অতিক্রম করছেন।

ভারতীয় নাগরিকদের অধিকার খর্ব হওয়ার বিষয়ে তাঁর সতর্কবার্তাগুলো আরও জোরালো হয়ে ওঠে, যখন কলেজ ভর্তির পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় পরীক্ষা বাতিল করতে হয়। এর ফলে ব্যাপক ছাত্র বিক্ষোভ শুরু হয়ে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করে। এর কয়েক সপ্তাহ পর, ভারতের ভোটার তালিকা থেকে ১৩ নাম বাদ পড়ার ঘটনা দেশজুড়ে ক্ষোভের জন্ম দেয় এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের দাবি ওঠে।

লেখক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার নীর্জা চৌধুরী বলেন, “মানুষ এখন তাঁর বার্তার প্রতি অনেক বেশি আগ্রহী, কারণ সরকারের প্রতি অসন্তোষ বাড়ছে। মানুষের মধ্যে এক ধরনের ক্লান্তি তৈরি হয়েছে, নতুন কোনো উদ্দীপনা নেই; তার ওপর মোদির কঠোর শাসনপদ্ধতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এসবের ফলে রাহুল গান্ধীর আত্মবিশ্বাস বেড়েছে।” এক দশকেরও বেশি সময় আগে মোদির হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল ‘ভারতীয় জনতা পার্টি-বিজেপি’-এর কাছে কংগ্রেস একের পর এক নির্বাচনে হারতে শুরু করে। রাহুল গান্ধী তাঁর বাবাÑসাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর নির্বাচনী এলাকাতেই পরাজিত হন। তাঁর দাদি ইন্দিরা গান্ধীও প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং তাঁর প্রপিতামহ জওহরলাল নেহরু ছিলেন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মা সোনিয়া গান্ধী দীর্ঘ বছর কংগ্রেসের নেতৃত্ব দিয়েছেন। এরপর, নিজের এই অভিজাত ভাবমূর্তি পরিবর্তনের লক্ষ্যে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে রাহুল গান্ধী প্রায় ২,৫০০ মাইল দীর্ঘ এবং ১৩৬ দিনব্যাপী ‘ভারত জোড়ো যাত্রা’ শুরু করেন।

২০২৪ সালে এই প্রচেষ্টার সুফল কিছুটা পাওয়া যায়; বিজেপি প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম আসনে জয়লাভ করে, যার ফলে মোদিকে জোট সরকার গঠন করতে হয়। রাহুল গান্ধী বিরোধী দলের নেতা হন। গত বছর মহারাষ্ট্রের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস পরাজিত হওয়ার পর, রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন যে বিজেপির সুবিধার্থে ভোটার তালিকায় কারচুপি করা হয়েছে। বিহারের নির্বাচনের সময়ও তিনি একই অভিযোগ তোলেন।

এছাড়া, এক বছর আগে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর তিনি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে মোদির ইশারায় কাজ করার অভিযোগও আনেন। চেন্নাইয়ের এক জনসভায় গান্ধী তরুণদের তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার আহ্বান জানান। জুনে ‘ছাত্র কন্ঠ’ নামে একটি উদ্যোগ শুরু হয়, ঠিক সেই সময়ে যখন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামের একটি গোষ্ঠী যা মূলত ‘জেন জি’ বা নতুন প্রজন্মের তরুণদের দ্বারা পরিচালিত, রাজনৈতিক জবাবদিহিতার দাবি তুলে সবার নজর কাড়ে। এই আয়োজনে অংশগ্রহণকারীরা এমন সব অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন, যার মধ্যে ছিল মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষার চাপে এক তরুণীর আত্মহত্যা এবং একজন মুসলিম নারীর প্রতি বৈষম্যের ঘটনা। গান্ধী নিজের ভাবমূর্তি নতুন করে গড়ে তুলতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস, ফিটনেস বিষয়ক ভিডিও এবং নিপিড়নের বিরুদ্ধে পুলিশের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থানের চিত্র তুলে ধরেন।

জুলাইতে, মোদির বাসভবনের বাইরে অবস্থান কর্মসূচি থেকে পুলিশ যখন তাঁকে ও তাঁর বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রাকে জোরপূর্বক সরিয়ে দেয়, সেই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। এ মাসেও কিছু ভিডিওতে দেখা গেছে, পুলিশ তাঁকে বল প্রয়োগ করে বাসে তোলার চেষ্টা করলে তিনি বাধা দিচ্ছেন এবং পুলিশের ব্যারিকেড টপকে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। নিজেকে সাংবিধানিক ধর্মনিরপেক্ষতা এবং কংগ্রেসের ঔপনিবেশিকতা-বিরোধী ঐতিহ্যের রক্ষক হিসেবে তুলে ধরে গান্ধী তরুণ ভোটার ও বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তারা সবাই মিলে সেই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়, যাকে তিনি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ‘হত্যা’ বলে অভিহিত করেছেন।

ব্রাউন ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক আশুতোষ ভার্শনি বলেন, “এই ধরনের সংগ্রামের দৃশ্যগুলো গান্ধী ও কংগ্রেসকে মোদি এবং বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সুবিধা অর্জনে সহায়তা করেছে।” গত সোমবার, ভোটার তালিকায় পরিবর্তনের প্রতিবাদে তিনি নয়াদিল্লিতে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত একটি পদযাত্রার নেতৃত্ব দেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রা, ‘ইন্ডিয়া’ জোটের প্রায় দুই ডজন প্রভাবশালী নেতা এবং ছাত্র আন্দোলনের জনপ্রিয় মুখ নেহা বোরা।

এদিন এক সংবাদ সম্মেলনে গান্ধী বলেন, “এই লড়াইটি বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরাসরি লড়া হচ্ছে-জনমতের ক্ষেত্রে, মনস্তাত্ত্বিক স্তরে, আইনি ক্ষেত্রে এবং রাজনৈতিক ময়দানে। আমরা সব ক্ষেত্রেই লড়াই করছি এবং সব সমরেই জয়ী হচ্ছি।”

সূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘নিশি’ নির্বাচিত হয়েছে ভিজিআইকে উৎসবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৩২ পি.এম


বাংলাদেশের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘নিশি’ নির্বাচিত হয়েছে ভিজিআইকে উৎসবে

আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে আবারও বাংলাদেশের জন্য গৌরব বয়ে এনেছে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘নিশি’। বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষার্থী চলচ্চিত্র উৎসব ‘ভিজিআইকে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী চলচ্চিত্র উৎসব’-এর ৪৬তম আসরে ছবিটি নির্বাচিত হয়েছে। এই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের কোনো চলচ্চিত্র এই উৎসবে স্থান পেয়েছে।

প্রযোজনা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি অব ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া জানিয়েছে, বিশ্বের প্রথম চলচ্চিত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত রাশিয়ার ‘গেরাসিমভ ইনস্টিটিউট অব সিনেমাটোগ্রাফি’ আয়োজিত এই উৎসবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে ‘নিশি’। গোলাম রাব্বানী ও জহিরুল ইসলামের যৌথ পরিচালনায় নির্মিত ছবিটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের চলচ্চিত্রের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছে।

নির্মাতা গোলাম রাব্বানী এই অর্জনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন, ‘বাংলা সিনেমার ইতিহাসে নিশি একের পর এক রেকর্ড গড়ছ, সত্যিই এটা আনন্দের খবর। এই অর্জন শুধু আমাকে নয় আমাদের ফিল্ম ইতিহাসকে বিশ্বের দরবারে সমৃদ্ধ করবে।’

জানা গেছে, উৎসবটি আগামী ১৬ থেকে ২০ নভেম্বর রাশিয়ার মস্কোয় অনুষ্ঠিত হবে।

গোলাম রাব্বানীর গল্প ও চিত্রনাট্যে নির্মিত ‘নিশি’র কাহিনি আবর্তিত হয়েছে চা-বাগানের এক শ্রমিকের মেয়েকে ঘিরে। পানির সংকটের কারণে তার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। কাঠ ব্যবসায়ী লালচাঁন বাড়িতে একটি নলকূপ বসিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নাবালিকা নিশিকে বিয়ে করতে চায়। ছবিটিতে একটি শিশুর শিক্ষা, অধিকার ও জীবনের সংকট তুলে ধরা হয়েছে।

চলচ্চিত্রটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন চা-শ্রমিকের মেয়ে নিশি, চা-শ্রমিক বিশ্বজিৎ, গণেশ ও ভারতী। ছবিটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশ, গ্রিন ফিল্ম স্কুল অ্যালায়েন্স ও ইউনেসকো ঢাকার সহযোগিতায় নির্মিত হয়েছে।

‘নিশি’র নির্মাণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ছাপ স্পষ্ট। ছবিটির চূড়ান্ত সম্পাদনা, রঙের বিন্যাস ও শব্দ সংযোজনের কাজ পোল্যান্ডের বিখ্যাত লজ ফিল্ম স্কুলে সম্পন্ন হয়েছে। চিত্রগ্রহণ করেছেন ওই প্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষার্থী নাতালিয়া পুসনিক। সিলেটের একটি চা-বাগান ও আশপাশের এলাকায় ছবিটির শুটিং হয়েছে।

এর আগে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য অর্জন করেছে ‘নিশি’। এটি প্রথম বাংলাদেশি চলচ্চিত্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৫তম এমা অ্যাওয়ার্ড জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করেছে। এছাড়া গ্রিন মন্টেনিগ্রো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ১২তম আসরেও ছবিটি পুরস্কার জিতেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকায় জরুরি অবতরণে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের দরজা খুলে গেল, রোগীর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৩২ পি.এম


ঢাকায় জরুরি অবতরণে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের দরজা খুলে গেল, রোগীর মৃত্যু

ভারতের আগরতলা থেকে কলকাতা যাওয়ার সময় মাঝ আকাশে দরজা খুলে যাওয়ার কারণে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেছে। পরে উড়োজাহাজে থাকা অসুস্থ নারীকে দ্রুত কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই ঘটনা রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে ঘটে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সিনিয়র অফিসার মো. রিয়াজ উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটির যাত্রীতালিকা অনুযায়ী, ওই রোগীর নাম অঞ্জনা ভৌমিক, যিনি ভারতীয় নাগরিক। তার সঙ্গে ছিলেন চিকিৎসক ডা. ফিরোজ খান, প্যারামেডিক আজিম খান এবং দুই সঙ্গী সান্তা ভৌমিক ও দীপ জ্যোতি মিশ্র। তালিকায় তাদের সকলের জাতীয়তা ভারতীয় হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।

যাত্রীতালিকার তথ্য অনুযায়ী, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এসকেবি ইনফ্রাকন প্রাইভেট লিমিটেড। উড়োজাহাজটির মডেল সি৯০এ (C90A) এবং নিবন্ধন নম্বর ভিটি-এইচওয়াইএ (VT-HYA)। এটি আগরতলা থেকে কলকাতায় যাচ্ছিল।

উড়োজাহাজটির পাইলট ইন কমান্ড ছিলেন ক্যাপ্টেন পুণ্য অনুপ এবং সহকারী পাইলট ছিলেন ক্যাপ্টেন তনুজ শর্মা। উড়োজাহাজটিতে দুই পাইলটসহ মোট সাতজন ছিলেন।

জানা গেছে, মাঝ আকাশে দরজা খুলে যাওয়ার পর উড়োজাহাজটি শাহজালাল বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। এরপর রোগীকে দ্রুত নামিয়ে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

তবে উড়োজাহাজটির দরজা খুলে যাওয়ার কারণ এবং ওই নারীর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মধুপুরে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় এসআরবি-১৪-এর প্রেস ব্রিফিং

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আঃ হামিদ মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৩৪ পি.এম


মধুপুরে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় এসআরবি-১৪-এর প্রেস ব্রিফিং

শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপন ও পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টাঙ্গাইলের মধুপুরে প্রেস ব্রিফিং করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১৪। এ সময় ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিভিন্ন জেলা ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় ৩ হাজার ৩৫০টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মধুপুর উপজেলার অরণখোলা ইউনিয়নের জলছত্র হরিসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ প্রাঙ্গণে এ প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দেন এসআরবি-১৪-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মু. মাসুদুর রানা। তিনি জানান, ময়মনসিংহ অঞ্চলের টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ—এই ছয় জেলাসহ কুড়িগ্রাম, রৌমারী ও রাজিবপুর এলাকায় মোট ৩ হাজার ৩৫০টি পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় মধুপুর উপজেলার ৬০টি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে জলছত্র হরিসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করা হয়। এ সময় পূজামণ্ডপের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন তিনি।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন এসআরবি টাঙ্গাইলের কমান্ডার ইফতেখার হোসেন, মধুপুর উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক বিকাশ চন্দ্র ঘোষ প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%