প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনিজুয়েলার সঙ্গে ‘বিশ্ব ইতিহাসের বৃহত্তম তেল চুক্তি’ করার ঘোষণা দিয়েছেন। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম
-এ একটি পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই চুক্তির বিষয়টি প্রকাশ করেন।
ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এবং ভেনেজুয়েলার মধ্যে একটি ব্যাপক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে দক্ষিণ আমেরিকার দেশটির বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল মজুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার তৈরি হতে পারে। চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে ভেনেজুয়েলার তেল খাতে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
ট্রাম্পের পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ চুক্তিটি নিয়ে আলোচনা ও সমঝোতার কাজ করেছেন।
তিনি লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার সঙ্গে বিশ্বের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল চুক্তিতে প্রবেশ করেছে।’
ভেনেজুয়েলার সরকারের একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, চুক্তির আওতায় দেশটির ১৭টি তেলক্ষেত্রের উন্নয়ন করা হবে। এসব তেলক্ষেত্রে প্রমাণিতভাবে প্রায় ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুত রয়েছে। চুক্তির ফলে ভেনেজুয়েলার তেল খাতে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আসতে পারে এবং দেশটির সরকারের রাজস্ব হিসেবে ২০৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি কর আদায় হতে পারে।
রদ্রিগেজ টেলিগ্রামে একটি পোস্টে আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই চুক্তি ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি এবং দেশের পুনরুদ্ধারে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
চুক্তি সম্পর্কে অবগত এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে নতুন একটি কোম্পানি গঠনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এই কোম্পানি তেলক্ষেত্রগুলোর মজুত উন্নয়নের দায়িত্ব পালন করবে। রদ্রিগেজের সরকার ওই কোম্পানিকে তেলক্ষেত্রগুলো উন্নয়নের জন্য ১০০ বছরের অধিকার দিয়েছে বলেও ওই কর্মকর্তা উল্লেখ করেন।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, নতুন কোম্পানির কার্যকর উৎপাদনের ৫৫ শতাংশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ থাকবে। এর মধ্যে মালিকানার অংশীদারিত্বের পাশাপাশি উৎপাদন খরচে তেল কেনার অধিকারও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তার দাবি, নতুন কোম্পানিটি সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রমাণিত তেল মজুতের করপোরেট মালিক হতে পারে।
এ ঘোষণা এমন একটি সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম কমানোর জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়ছে। একই সঙ্গে ইরান যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। সংঘাতের আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ পেট্রোলিয়াম এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের গড় দাম ছিল প্রায় ৪ দশমিক ০৯ ডলার, যা এক বছর আগে একই সময়ে ছিল ৩ দশমিক ২১ ডলার।
তবে বিশেষজ্ঞরা নতুন চুক্তির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে তাৎক্ষণিকভাবে জ্বালানির দাম কমবে—এমন প্রত্যাশা করছেন না। তাদের মতে, ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে হলে দেশটির পুরোনো অবকাঠামো সংস্কার ও সম্প্রসারণ করতে হবে। এতে কয়েক বছর সময় এবং বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন হতে পারে।
ভেনেজুয়েলায় বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল মজুত রয়েছে। মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের হিসাব অনুযায়ী, দেশটির ভূগর্ভে আনুমানিক ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রয়েছে, যা বিশ্বের মোট মজুতের প্রায় ১৭ শতাংশ। তবে দুর্বল ও জরাজীর্ণ অবকাঠামোর কারণে বর্তমানে বিশ্ব তেল উৎপাদনে দেশটির অবদান মাত্র প্রায় ১ শতাংশ।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেছেন, এই চুক্তি ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের জন্য বড় ধরনের সাফল্য। ভেনিজুয়েলার জনগণের জন্য, এই চুক্তিটি প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ নিয়ে আসবে, হাজার হাজার উচ্চ বেতনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং ভেনিজুয়েলার অর্থনীতির পুনর্গঠনে চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে। তথ্যসূত্র:
, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন