০৯:৩৪ এম
নেপাল ও চীনের হিমালয় সীমান্ত অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানির সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৮ আগস্ট) পর্যন্ত দুই দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৮৪ জনে পৌঁছেছে। পাশাপাশি, নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় আড়াই হাজার মানুষ।
নেপালের পুলিশ জানায়, দেশটির উত্তরের বাগমতী প্রদেশে বুধবারের (২৬ আগস্ট) ভয়াবহ বন্যায় ৫৭৯ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। একই দুর্যোগের সাথে সম্পর্কিত তিব্বতের শিগাৎসে প্রদেশের গিরং জেলায় ভূমিধসে চীনে আরও পাঁচজনের মৃত্যু ঘটেছে।
এক দিনের ব্যবধানে নিহতের সংখ্যা ৩৬২ থেকে বেড়ে ৫৮৪ জনে পৌঁছেছে। নেপালের বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধারকাজ চলাকালীন একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের ফলে প্রাণহানির সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।
আরও পড়ুন: ভারতের একক বৃহত্তম তেল শোধনাগার পরিদর্শনে রুবিও, কিন্তু কেন?
নেপালে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৯৭৭ থেকে বেড়ে ১ হাজার ৯২৪ জনে দাঁড়িয়েছে। তিব্বতে নিখোঁজ ৫৫৮ জনকে যোগ করলে দুই দেশে মোট নিখোঁজের সংখ্যা দাঁড়ায় ২ হাজার ৪৮২ জনে।
নিখোঁজদের মধ্যে প্রায় ৩০টি দেশের ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। এছাড়া, নেপালে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণে নিয়োজিত দক্ষিণ কোরিয়ার নয় নাগরিকেরও এখন পর্যন্ত কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ নেপালকে উদ্ধারকারী দল পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। তবে নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা বিদেশি আর্থিক সহায়তাকে স্বাগত জানালেও আপাতত বিদেশি উদ্ধারকারী দলের সহায়তা নিচ্ছে না।
নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লোক বাহাদুর ছেত্রী জানান, দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী উদ্ধারকাজ পরিচালনা করছে এবং বর্তমানে তাদের এ ধরনের সহায়তার প্রয়োজন নেই। তিনি জানান, প্রয়োজন হলে বিশেষায়িত সহায়তা বা দক্ষতার জন্য বিদেশি সহযোগিতা চাওয়া হবে।
আরও পড়ুন: থাইল্যান্ডের ই-ভিসার আবেদন ৩ দিন বন্ধ, জানা গেল কারণ
এদিকে, নেপালের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণস্থলে শতাধিক মানুষ আটকা পড়েছেন। প্রকল্পটির একটি বন্যাকবলিত সুড়ঙ্গে তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করছে নেপালের সেনাবাহিনী। কাদার পুরু স্তরে পুরো এলাকা ঢেকে যাওয়ায় সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ খুঁজে পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।
নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানায়, প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও প্রায় ৩৫০ শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাকে সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ভেতরে আটকে থাকা আরও প্রায় ১০০ জনকে বের করে আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
নেপালের উদ্ধারকারী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত বন্যাকবলিত এলাকায় ১৪ হাজার ৮০০-এর বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। তারা ৩ হাজার ৭৪২ জনকে উদ্ধার করেছেন, যাদের মধ্যে ১২১ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছে। এ ছাড়া, হেলিকপ্টারে আরও ৩ হাজার ২৫৩ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তবে উদ্ধারকাজের মাঝেই নতুন করে বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় ধ্বংসস্তূপ জমে তৈরি হওয়া একটি প্রাকৃতিক বাঁধের পেছনে পানি জমে যে হ্রদ তৈরি হয়েছিল, সেটি উপচে পড়েছে। দ্বিতীয় দফায় বন্যার আশঙ্কায় নেপাল ও চীনের কিছু এলাকায় উদ্ধারকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে।
আরও পড়ুন: সাত মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল চীনের তিব্বত
আন্তর্জাতিক রেডক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট ফেডারেশনের নেপাল প্রতিনিধি দলের প্রধান ডেভিড ফিশার জানিয়েছেন, দুর্যোগে অন্তত ৯৩ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। দ্রুত সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে এবং নতুন করে বন্যার ঝুঁকি নিয়েও গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, হিমালয়ে জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাবে বিশাল হিমবাহ ও পাথরের স্তর ধসে এই বিপর্যয়ের সূত্রপাত হতে পারে। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, লাংটাং লিরুং পর্বতের প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতা থেকে প্রায় ৬০০ মিটার প্রশস্ত একটি হিমবাহ ও পাথরের বিশাল অংশ ভেঙে পড়েছিল। এর আঘাতের শক্তি প্রায় ৫ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পের মতো ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এরপর বরফ, পানি ও ধ্বংসাবশেষের বিশাল স্রোত লেন্দে নদী থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে ত্রিশূলী নদীর দিকে নেমে গিয়ে ভয়াবহ বন্যা সৃষ্টি করে।
কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, হিমবাহ গলে তৈরি হওয়া প্রাকৃতিক বাঁধের পেছনে জমে থাকা হ্রদের পানি হঠাৎ বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনাও এই বিপর্যয়ের সাথে জড়িত হতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে এ ধরনের আকস্মিক বন্যা আরও ঘন ঘন ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
আরও পড়ুন: নিছিদ্র নিরাপত্তায় দুর্গাপূজা, ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি পরিদর্শন করলেন শতাধিক মণ্ডপ
সূত্র: এনডিটিভি,
,
আরও পড়ুন: সৌদি কারাগারে ২৪৬১ বাংলাদেশি, ২২ জনের সাজা নিয়ে অস্পষ্টতা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন