বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৪:২২ পি.এম
রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের নতুন চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে এবং এই আলোচনা আরও জোরদার হয়েছে। যদিও ব্রাজিলিয়ান এই উইঙ্গারের বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত রয়েছে, কিন্তু স্প্যানিশ জায়ান্টরা সেটি ২০৩১ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি করতে কাজ করছে। তবে দীর্ঘসূত্রতা এড়ানোর জন্য ক্লাবটি ভিনিসিয়ুসকে দ্রুত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে বলেছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) ভ্যালদেবেবাসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ভিনিসিয়ুসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে রিয়ালের পক্ষ থেকেও উপস্থিত ছিলেন হোসে অ্যাঞ্জেল সানচেজ ও জুনি কালাফাত। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর মতে, আলোচনা ইতিবাচক অগ্রগতি হলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।
কাদেনা সার এর তথ্য অনুযায়ী, রিয়াল মাদ্রিদ তাদের আগের প্রস্তাব বৃদ্ধি করে মৌসুম প্রতি ২ কোটি ৪০ লাখ ইউরো (নিট) বেতনের অফার দিয়েছে, যা ২০৩১ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। তবে ভিনিসিয়ুসের প্রাথমিক দাবি ছিল মৌসুমপ্রতি ৩ কোটি ইউরো নেট বেতন।
এদিকে, 'এএস' জানাচ্ছে যে, পারফরম্যান্সভিত্তিক বোনাস যুক্ত হলে নিজের বেতনের দাবিতে কিছুটা ছাড় দিতে প্রস্তুত হয়ে উঠেছেন ২৫ বছর বয়সী এই ব্রাজিলিয়ান। রিয়াল মাদ্রিদও এই কাঠামোয় ইতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছে।
চুক্তি আলোচনা চলাকালীন ইমেজ রাইটস ও সম্ভাব্য সাইনিং বোনাসও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। বর্তমানে ইমেজ রাইটস থেকে অর্জিত আয়ের সমান ভাগ পান ক্লাব ও ভিনিসিয়ুস। তবে নতুন চুক্তিতে নিজের অংশ বাড়ানোর আগ্রহ দেখিয়েছেন এই ফরোয়ার্ড।
সাম্প্রতিক সময়ে দুই পক্ষের অবস্থান পূর্বের তুলনায় অনেকটাই নমনীয় হওয়ায় সমঝোতার সম্ভাবনা বেড়েছে। তবে রিয়াল মাদ্রিদ আর অপেক্ষা করতে রাজি নয়। ক্লাবটি দ্রুত সিদ্ধান্ত চাইলেও সবকিছু এখন ভিনিসিয়ুসের চূড়ান্ত সম্মতির ওপর নির্ভর করছে।
অন্যদিকে, ইংলিশ ক্লাব আর্সেনাল ভিনিসিয়ুসের ভবিষ্যৎ নিয়ে নজর রাখছে। দলবদলের গুঞ্জনের মধ্যে ব্রাজিলিয়ান তারকা তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের আগের সব পোস্ট মুছে ফেলেছেন, যা নতুন করে জল্পনা আরো উসকে দিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৬ আগস্ট, ২০২৬ : ফিলিপাইনের উত্তরাঞ্চলের বেঙ্গুয়েত ও রিজাল প্রদেশে পৃথক দুটি ভূমিধসে অন্তত চারজনের মৃত্যু ঘটেছে। দেশের কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে।
এদিকে, একটি ক্রান্তীয় নিম্নচাপের কারণ হিসেবে টানা ভারী বৃষ্টির ফলে উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়েছে। এর ফলে স্কুলগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
ম্যানিলা থেকে সড়কপথে প্রায় ছয় ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত বেঙ্গুয়েত প্রদেশে বৃহস্পতিবার একটি পাহাড়ের ঢাল ধসে ছোট একটি রেস্তোরাঁর ওপর পড়ে যায়। এই ঘটনায় রান্নাঘরে থাকা তিন কর্মী মাটির নিচে চাপা পড়েন।
ম্যানিলা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবরটি জানাচ্ছে।
বেঙ্গুয়েত প্রাদেশিক পুলিশের কর্নেল ডিওনিসিও বনয় সাংবাদিকদের কাছে বলেন, ‘একজন জীবিত আছেন। দুজন ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন।’ তিনি জানিয়েছেন, ‘স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে জীবিত ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে। এটিই ছিল আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার। ঈশ্বরের কৃপায় আমরা আশা করছি, তিনি বেঁচে থাকবেন।’
এদিকে, দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা পৃথকভাবে জানিয়েছে, এর আগের দিন পাশের রিজাল প্রদেশে আরেকটি ভূমিধসে আরও দুইজন প্রাণ হারিয়েছেন।
দ্বীপদেশটির প্রধান দ্বীপ লুজনে গত চার দিন ধরে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। এই বৃষ্টির কারণে রাজধানী ম্যানিলাসহ উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ কয়েকটি প্রদেশে সরকারি অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রাখার নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার সরকারি আবহাওয়াবিদ জন মানালো জানিয়েছেন, আগে ক্রান্তীয় ঝড় ‘কুজিরা’ নামে পরিচিত নিম্নচাপটি ফিলিপাইন সাগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং এর স্থায়ী বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৫৫ কিলোমিটার।
তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন, ‘তীব্র বাতাস এখনও দেশের বেশির ভাগ এলাকায় আঘাত হানতে পারে।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘টানা বৃষ্টির কারণে মাটি ইতোমধ্যে পুরোপুরি সিক্ত হয়ে গেছে। ফলে বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি আরও বেড়েছে।’
প্রশান্ত মহাসাগরীয় ঘূর্ণিঝড় বলয়ের মুখোমুখি হওয়া প্রথম বড় স্থলভাগ হলো ফিলিপাইন, যেখানে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ২০টি ঝড় ও টাইফুন আঘাত হানে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৬ আগস্ট, ২০২৬ : মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে, সরকারের সমর্থনে গড়ে ওঠা এবং রুশ আধাসামরিক বাহিনীর প্রশিক্ষণ পাওয়া একটি মিলিশিয়া, এখন তাদের সাবেক মিত্রদের বিরুদ্ধেই অস্ত্র ধরেছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের বাঙ্গুই থেকে এই খবর এসেছে। ২০২৩ সালে, দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের হাউত-মবোমু অঞ্চলে আজান্দে আনি কপি গবে (এএকেজি) নামের এই মিলিশিয়া গড়ে ওঠে।
সুদান ও গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে জনবসতি তুলনামূলকভাবে কম। দীর্ঘদিন ধরেই, এই এলাকায় নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বাইরে কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী সেখানে সক্রিয় রয়েছে। সরকারের কৌশলের অংশ হিসেবে, এএকেজি শুরুর দিকে এই সমস্যা মোকাবিলায় গড়ে তোলা হয়েছিল।
দেশের সবচেয়ে বিচ্ছিন্ন অঞ্চলগুলোর মধ্যে একটিতে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার হাতিয়ার হিসেবে এই মিলিশিয়া গড়ে তোলা হয়েছিল। প্রথমদিকে, এ কৌশল সফল বলে মনে হচ্ছিল। দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সহায়তা এবং রাশিয়ার ওয়াগনার গ্রুপের যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণে, এএকেজির সদস্যরা প্রতিদ্বন্দ্বী বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে হটিয়ে দেয়। বহু বছর ধরে সরকারের কার্যকর নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা বিভিন্ন এলাকা পুনর্দখল করতেও তারা ভূমিকা রেখেছিল।
তবে সেই জোট এখন ভেঙে গেছে। এএকেজি বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অন্যতম প্রধান অস্থিতিশীলতার উৎসে পরিণত হয়েছে। যারা একসময় সরকারি বাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়েছিল, তারাই এখন তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছে। তাদের বিরুদ্ধে চারজন সরকারি কর্মকর্তাকে জিম্মি করে রাখারও অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে।
অন্যদিকে, উগান্ডার বিদ্রোহী গোষ্ঠী লর্ডস রেজিস্ট্যান্স আর্মি (এলআরএ) এবং ২০১৩ সালে প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া বোজিজেকে ক্ষমতাচ্যুত করা মুসলিম-প্রধান বিদ্রোহী জোট সেলেকা থেকে গড়ে ওঠা বিভিন্ন গোষ্ঠীর সহিংসতার কারণে বহু বছর ধরে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় জনগণের বেশিরভাগই জান্দে জাতিগোষ্ঠীর। তারা বারবার অভিযোগ করেছে যে, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো লুটপাট, অপহরণ, এবং বেসামরিক মানুষের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার এই ধরনের জনগণের সদস্যদের নিয়ে একটি স্থানীয় আত্মরক্ষামূলক বাহিনী গঠনে উৎসাহিত করেছে।
সরকার-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো অনুযায়ী, এএকেজির প্রাথমিক সদস্যরা রাষ্ট্রের সহায়তা পেয়েছিলেন। পরে তারা রুশ প্রশিক্ষকদের কাছে প্রশিক্ষণ নেন। প্রেসিডেন্ট ফস্টিন-আর্ষঁজ তুয়াদেরার এক উপদেষ্টা এএফপিতে বলেন, ‘আমরা তাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছি। তারা এ দেশেরই সন্তান। নিজেদের এলাকা রক্ষা করতে চেয়েছিল। সেটাই ছিল স্বাভাবিক।’
স্থানীয় ও সরকার-সংযুক্ত সূত্রের দাবি, বেতন না পাওয়া এবং পরবর্তীতে জাতীয় সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ার ফলে মিলিশিয়া সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরও, নিজেদের পরিত্যক্ত অনুভব করতে শুরু করেছেন এএকেজির অনেক সদস্য।
২০২৪ সালের শেষ নাগাদ দুই পক্ষের সম্পর্ক প্রকাশ্য সংঘাতে রূপ নেয়। বর্তমানে, বাঙ্গুই সরকার মিলিশিয়াটির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করার অভিযোগ তুলছে। অন্যদিকে, এএকেজির সদস্যদের দাবি, অভিযানের সময় প্রদান করা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি সরকার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বধীন ১১ দলীয় ঐক্য আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লংমার্চ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে দেশের জনগণের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে।
এই ঘোষণা বৃহস্পতিবার (০৬ আগস্ট) রাজধানীর মুক্তাঙ্গণে ১১ দলের অবস্থান কর্মসূচিতে জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান প্রদান করেন।
অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিরসনে ১০ দফা জনদাবি তুলে ধরে ১১ দলীয় ঐক্য।
এই অবস্থান কর্মসূচিতে বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন, এর মধ্যে রয়েছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীর বিক্রম), এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ, এবং জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৬ আগস্ট, ২০২৬ : দেশে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের বিকাশে তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতের মতো বিভিন্ন প্রণোদনা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। সরকার রপ্তানিমুখী সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধার আদলে শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেছে।
একই সময়, দক্ষ জনবল তৈরি, গবেষণা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে দেশে একটি পূর্ণাঙ্গ সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের (বিএইচটিপিএ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুর রহমান বাসসকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, সরকার সেমিকন্ডাক্টরকে একটি কৌশলগত খাত হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং এর বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা ও বিনিয়োগ আকর্ষণের দায়িত্ব বিএইচটিপিএকে দেওয়া হয়েছে।
ফজলুর রহমান জানান, সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন মূলধন ও প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প। এই খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ ও দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সরকার কাজ করছে।
তিনি জানান, সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে বিনিয়োগ বাড়াতে হাই-টেক পার্কগুলোকে আরও আকর্ষণীয় করতে অতিরিক্ত কিছু প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়টিও ভাবা হচ্ছে। দক্ষ জনবলের ঘাটতি দূর করতে শিল্পসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইনের ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া আইটি কেন্দ্রগুলোতে স্টার্টআপ ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বিনামূল্যে কর্মপরিসর ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি সেমিকন্ডাক্টর বিশেষজ্ঞদেরও দেশের এ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিএইচটিপিএ’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, সরকারের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো চিপ ডিজাইন, টেস্টিং, প্যাকেজিং এবং উন্নত চিপ উৎপাদনকে কেন্দ্র করে একটি পূর্ণাঙ্গ সেমিকন্ডাক্টর শিল্পভিত্তি গড়ে তোলা। এ জন্য কর-সুবিধা, গবেষণা ও উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং বিনিয়োগ প্রচারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন, ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (আইসি) ডিজাইন, ইলেকট্রনিক ডিজাইন অটোমেশন (ইডিএ), আউটসোর্সড সেমিকন্ডাক্টর অ্যাসেম্বলি অ্যান্ড টেস্টিং (ওস্যাট), প্যাকেজিং ও ফ্রেব্রিকেশনের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধনী যন্ত্রপাতি, সফটওয়্যার ও কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ও মূল্য সংযোজন কর (মূসক) অব্যাহতির ঘোষণা দিয়েছে সরকার।
অন্যদিকে আইটেস্ট বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআইএ) পরিচালক মুনির আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ শুরুতে চিপ ডিজাইন ও সেমিকন্ডাক্টর টেস্টিংয়ে গুরুত্ব দিয়ে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করতে পারে। পরে ধাপে ধাপে ওস্যাট কার্যক্রমেও সম্প্রসারণ সম্ভব।
তিনি জানায়, সিউল ও যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত সেমিকন্ডাক্টর বিষয়ক রোডশোতে এসকে হাইনিক্স, ইন্টেল, এএমডি, গ্লোবালফাউন্ড্রিজ, সিনপসিস, স্যান্ডিস্ক, আর্ম এবং ক্রেডোসহ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে বাংলাদেশের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে।
মুনির আহমেদ বলেন, বিএসআইএর ‘ব্রেইন গেইন’ উদ্যোগের মাধ্যমে বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো গেলে এ শিল্পের বিকাশ আরও দ্রুত হবে।
তিনি জানান, কোরিয়া অ্যাডভান্সড ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটি এবং পারডু ইউনিভার্সিটির মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান বিএসআইএর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশের একমাত্র সিলিকন টেস্টিং প্রতিষ্ঠান আইটেস্ট বাংলাদেশ ভবিষ্যতে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বৈশ্বিক ওস্যাট শিল্পের বাজারের আকার প্রায় ৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
মুনির আহমেদের মতে, শক্তিশালী সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা, নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা এবং ভারতের সেমিকন্ডাক্টর মিশনের মতো প্রতিযোগিতামূলক প্রণোদনা চালু করতে পারলে বাংলাদেশে বিশ্বের শীর্ষ সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সম্ভব হবে।
তিনি জানান, দেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠী এবং প্রতিবছর বাড়তে থাকা আইসিটি ও প্রকৌশল স্নাতকদের যথাযথ বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ দেওয়া গেলে এই শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল গড়ে তোলা সম্ভব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ