প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ৬ আগস্ট, ২০২৬ : মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে, সরকারের সমর্থনে গড়ে ওঠা এবং রুশ আধাসামরিক বাহিনীর প্রশিক্ষণ পাওয়া একটি মিলিশিয়া, এখন তাদের সাবেক মিত্রদের বিরুদ্ধেই অস্ত্র ধরেছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের বাঙ্গুই থেকে এই খবর এসেছে। ২০২৩ সালে, দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের হাউত-মবোমু অঞ্চলে আজান্দে আনি কপি গবে (এএকেজি) নামের এই মিলিশিয়া গড়ে ওঠে।
সুদান ও গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে জনবসতি তুলনামূলকভাবে কম। দীর্ঘদিন ধরেই, এই এলাকায় নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বাইরে কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী সেখানে সক্রিয় রয়েছে। সরকারের কৌশলের অংশ হিসেবে, এএকেজি শুরুর দিকে এই সমস্যা মোকাবিলায় গড়ে তোলা হয়েছিল।
দেশের সবচেয়ে বিচ্ছিন্ন অঞ্চলগুলোর মধ্যে একটিতে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার হাতিয়ার হিসেবে এই মিলিশিয়া গড়ে তোলা হয়েছিল। প্রথমদিকে, এ কৌশল সফল বলে মনে হচ্ছিল। দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সহায়তা এবং রাশিয়ার ওয়াগনার গ্রুপের যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণে, এএকেজির সদস্যরা প্রতিদ্বন্দ্বী বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে হটিয়ে দেয়। বহু বছর ধরে সরকারের কার্যকর নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা বিভিন্ন এলাকা পুনর্দখল করতেও তারা ভূমিকা রেখেছিল।
তবে সেই জোট এখন ভেঙে গেছে। এএকেজি বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অন্যতম প্রধান অস্থিতিশীলতার উৎসে পরিণত হয়েছে। যারা একসময় সরকারি বাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়েছিল, তারাই এখন তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছে। তাদের বিরুদ্ধে চারজন সরকারি কর্মকর্তাকে জিম্মি করে রাখারও অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে।
অন্যদিকে, উগান্ডার বিদ্রোহী গোষ্ঠী লর্ডস রেজিস্ট্যান্স আর্মি (এলআরএ) এবং ২০১৩ সালে প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া বোজিজেকে ক্ষমতাচ্যুত করা মুসলিম-প্রধান বিদ্রোহী জোট সেলেকা থেকে গড়ে ওঠা বিভিন্ন গোষ্ঠীর সহিংসতার কারণে বহু বছর ধরে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় জনগণের বেশিরভাগই জান্দে জাতিগোষ্ঠীর। তারা বারবার অভিযোগ করেছে যে, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো লুটপাট, অপহরণ, এবং বেসামরিক মানুষের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার এই ধরনের জনগণের সদস্যদের নিয়ে একটি স্থানীয় আত্মরক্ষামূলক বাহিনী গঠনে উৎসাহিত করেছে।
সরকার-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো অনুযায়ী, এএকেজির প্রাথমিক সদস্যরা রাষ্ট্রের সহায়তা পেয়েছিলেন। পরে তারা রুশ প্রশিক্ষকদের কাছে প্রশিক্ষণ নেন। প্রেসিডেন্ট ফস্টিন-আর্ষঁজ তুয়াদেরার এক উপদেষ্টা এএফপিতে বলেন, ‘আমরা তাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছি। তারা এ দেশেরই সন্তান। নিজেদের এলাকা রক্ষা করতে চেয়েছিল। সেটাই ছিল স্বাভাবিক।’
স্থানীয় ও সরকার-সংযুক্ত সূত্রের দাবি, বেতন না পাওয়া এবং পরবর্তীতে জাতীয় সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ার ফলে মিলিশিয়া সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরও, নিজেদের পরিত্যক্ত অনুভব করতে শুরু করেছেন এএকেজির অনেক সদস্য।
২০২৪ সালের শেষ নাগাদ দুই পক্ষের সম্পর্ক প্রকাশ্য সংঘাতে রূপ নেয়। বর্তমানে, বাঙ্গুই সরকার মিলিশিয়াটির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করার অভিযোগ তুলছে। অন্যদিকে, এএকেজির সদস্যদের দাবি, অভিযানের সময় প্রদান করা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি সরকার।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন