ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

২০৩৪ সালের মধ্যে জিডিপি ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়াবে প্রধানমন্ত্রীর আশা


২০৩৪ সালের মধ্যে জিডিপি ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়াবে প্রধানমন্ত্রীর আশা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আশা প্রকাশ করেছেন যে, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করবে। তিনি উল্লেখ করেছেন, সরকার বাংলাদেশকে বৈশ্বিক উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য তিনি জাপানি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) টোকিওর জেট্রো হলে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরাম ডায়ালগ’-এ প্রধান বক্তা হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, “আমি জাপানি কম্পানিগুলোকে পারস্পরিক সুবিধার স্বার্থে পাঁচটি মূল খাতে ভবিষ্যৎ সহযোগিতা ও ব্যবসার সুযোগ অন্বেষণ করার জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।” খাতগুলো হলো—অটোমোটিভ (যানবাহন) উৎপাদন, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণা সহযোগিতা, রেল ও লজিস্টিকস এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ম্যানুফ্যাকচারিং।

আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন মাভাবিপ্রবি উপাচার্য

তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৩৫০টি জাপানি কম্পানি কাজ করছে। তবে, দেশে জাপানের সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ এখনো ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের নিচে রয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, গত অর্থবছরে জাপানে বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল ১.৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং জাপান থেকে আমদানি হয়েছিল ২.১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তিনি জোর দেন যে, এই সম্পর্ককে কেবল উন্নয়ন সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে এগিয়ে নেওয়া উচিত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৮ কোটির বেশি এবং জনসংখ্যার মধ্যম বয়স ২৭ বছর। তরুণ ও প্রশিক্ষণযোগ্য কর্মশক্তি বাংলাদেশের বড় সম্পদ। প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার শিক্ষার্থী প্রকৌশলে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতিতে পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত ও সচ্ছল জনগোষ্ঠীর চাহিদা দেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিকে আরো ত্বরান্বিত করবে।

তিনি আরো জানান, এ বছর বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এটি অন্য কোনো দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের এ ধরনের প্রথম চুক্তি। সম্প্রতি স্বাক্ষরিত অর্থনৈতিক সহযোগিতা কাঠামোর আওতায় বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধায় জাপানের বাজারে প্রবেশ করতে পারবে। একইভাবে, ইস্পাত, গাড়ির যন্ত্রাংশ ও ইলেকট্রনিক উপাদানসহ জাপানি পণ্য বাংলাদেশে অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা পাবে। বিনিয়োগ, সেবা ও শুল্কসংক্রান্ত প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: ক্ষমতা হারালেই কি গ্রেফতার হবেন নেতানিয়াহু?

জাপানি কোম্পানিগুলোর উত্থাপিত কিছু উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, “নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি, দক্ষ অবকাঠামো, সহজ কাস্টমস ও কর ব্যবস্থার বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের চাহিদার কথা সরকার গুরুত্বের সঙ্গে শুনেছে এবং এসব সমাধানে কাজ করছে।”

তিনি আশ্বাস দেন, ব্যবসায়ীদের নিশ্চিন্ততা এবং বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস প্রয়োজন—“আমরা সেটি পুরোপুরি বুঝি। আমাদের কাজ হলো এই দুটির উপযোগী সঠিক পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া।”

জনগণের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক ও দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতি বছর বহু বাংলাদেশি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য জাপানে যান। সরকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জাপানি ভাষা শেখানোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, যাতে লাখ লাখ তরুণ কারিগরি দক্ষতার পাশাপাশি জাপানি ভাষায় পারদর্শী হতে পারে। এই দক্ষ পেশাদাররা জাপান ও বাংলাদেশ উভয় দেশের কর্মসংস্থানের চাহিদা মেটাতে ভূমিকা রাখতে পারবে।

আরও পড়ুন: হাসিনার পতনের আগে ইউনূসকে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান করেন শফিকুল আলম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুইজারল্যান্ডের প্রতি বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের আহ্বান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৫৭ পি.এম


সুইজারল্যান্ডের প্রতি বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের আহ্বান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সুইজারল্যান্ডের প্রতি বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো জিগফ্রিড রেঙ্গলি বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে রাষ্ট্রপতি এই আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি সুইজারল্যান্ডের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তাদের অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি সুইস বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন, বিশেষ করে সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, "বাংলাদেশ এখন আর সাহায্য নয়, বরং ব্যাপক বিনিয়োগ চায়।" তিনি বাংলাদেশের বিপুল সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে বলেন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি হলে দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং বাংলাদেশ দ্রুত উন্নতির পথে এগিয়ে যাবে।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি সুইজারল্যান্ডের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করার জন্য সুইজারল্যান্ডের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ ক্ষেত্রে দেশের সহযোগিতাও কামনা করেন। রাষ্ট্রদূত এ বিষয়ে তার দেশের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সংসদীয় কার্যক্রম শক্তিশালী করতে সুইজারল্যান্ডের সহযোগিতার প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।

সাক্ষাৎকালে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, দক্ষতা উন্নয়ন, সাংস্কৃতিক বিনিময়, কারিগরি শিক্ষা এবং শিক্ষা ও গবেষণায় সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়।

এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক এবং সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের উপ-মিশন প্রধান দিপাক এলমার উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন সেনাবাহিনী মোতায়েন ও ইউএনও প্রত্যাহারসহ চার দফা দাবি ১১-দলীয় জোটের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:০২ পি.এম


ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন সেনাবাহিনী মোতায়েন ও ইউএনও প্রত্যাহারসহ চার দফা দাবি ১১-দলীয় জোটের

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার দাবিতে সেনাবাহিনী মোতায়েন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রত্যাহারসহ চার দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১-দলীয় জোট। একই সঙ্গে নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য না হলে সারাদেশে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে জোটটি।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১-দলীয় জোটের সমন্বয়ক এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।

তিনি বলেন, বর্তমানে ১১-দলীয় জোট দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে কি না, তার ওপর নির্ভর করবে ভবিষ্যতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোটের অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত।

হামিদুর রহমান আযাদ জানান, নির্বাচনী এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে জোটের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে সুনির্দিষ্ট অভিযোগসহ লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল। তবে কমিশন কিছু বিষয়ে পদক্ষেপ নিলেও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগের বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিল জোট। কিন্তু কমিশন তাঁকে প্রত্যাহার না করে শুধু নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব থেকে বিরত রেখেছে। জোটের দাবি অনুযায়ী ব্যবস্থা না নেওয়ায় কমিশনের পদক্ষেপ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

১১-দলীয় জোটের সমন্বয়ক আরও বলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য না হলে এর দায় নির্বাচন কমিশনকে নিতে হবে। নির্বাচনের পরিবেশ ও ভোটগ্রহণের নিরপেক্ষতা পর্যবেক্ষণ করেই আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে সারাদেশে রাজপথে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারত-চীন সম্পর্কের বরফ গলছে, তবে উদ্বেগ রয়ে গেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:০৩ পি.এম


ভারত-চীন সম্পর্কের বরফ গলছে, তবে উদ্বেগ রয়ে গেছে

গত এক বছর ধরে ভারত ও চীনের মধ্যে সম্পর্ক ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার পথে ছিল। তবে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে, দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি যতটা মনে হচ্ছিল, বাস্তবে তা ততটা স্থিতিশীল নয়।

দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ভারত ও চীনের মধ্যে টানাপোড়েন বিদ্যমান। বিশেষ করে হিমালয় অঞ্চলের বিতর্কিত সীমান্ত নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বারবার বিরোধ দেখা দিয়েছে। ২০২০ সালে দুই দেশের সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষের পর সম্পর্কের যে উন্নতি শুরু হয়েছিল, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই উন্নতির পথে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সর্বশেষ উদ্বেগের সূচনা ঘটে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর প্রধানের এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে।

তিনি জানান, চলতি বছরের শুরুতে চীনা সেনারা হিমালয় সীমান্তের বিতর্কিত এলাকায় বিপুলসংখ্যায় অবস্থান নিয়েছে। ভারতের দাবি করা ভূখণ্ডের কয়েক কিলোমিটার ভেতরে তাঁবু গেড়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ভারত-তিব্বত সীমান্ত পুলিশের (আইটিবিপি) মহাপরিচালক শত্রুজিৎ সিং কাপুরের এই মন্তব্য দিল্লিতে রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।

কারণ, দায়িত্বে থাকা কোনো কর্মকর্তার কাছ থেকে এ ধরনের প্রকাশ্য মন্তব্য সচরাচর শোনা যায় না। সীমান্তের মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলো সাধারণত ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার প্রতিরক্ষা বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মোকাবিলা করে।

রাজস্থান রাজ্যে সম্প্রতি কর্মকর্তাদের এক সমাবেশে কাপুর বলেন, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য অরুণাচল প্রদেশের কয়েকটি স্থানে ভারতীয় ও চীনা সেনাদের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

তিনি জানান, এসব ঘটনার সূচনা হয়েছিল জুলাই মাসে। তবে শুরুতে দুই পক্ষের সেনারাই ওই স্থানগুলো থেকে সরে গিয়েছিল। তিনি আরো জানান, কয়েক দিন পর চীনা সেনারা বেশি সংখ্যায় ফিরে আসে এবং ভারতের দাবি অনুযায়ী, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার (এলএসি) প্রায় ৬ থেকে ৭ কিলোমিটার ভেতরে তাঁবু খাটায়।

ভারত ও চীনের মধ্যে বিতর্কিত সীমান্তটি প্রায় ৩ হাজার ৪৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা দুই দেশের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলকে আলাদা করলেও এর সুনির্দিষ্ট অবস্থান নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। চীন অরুণাচল প্রদেশকে দক্ষিণ তিব্বতের অংশ বলে দাবি করে, তবে ভারত এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে রাজ্যটিকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করে।

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই এই সীমান্ত বিরোধ ভারতের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা। ১৯৬২ সালে এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ হয়, যাতে ভারত পরাজিত হয়। ছয় দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সীমান্তের বড় অংশ এখনো চিহ্নিত হয়নি। দুর্গম পাহাড়, তুষারঢাকা চূড়া, হ্রদ ও নদীর পরিবর্তনশীল গতিপথের কারণে সুনির্দিষ্ট সীমান্ত নির্ধারণ কঠিন হয়ে পড়েছে।

এ কারণে সীমান্তে দুই দেশের সেনাদের মুখোমুখি অবস্থান থেকে প্রায়ই উত্তেজনা তৈরি হয়, যা কখনো কখনো সংঘর্ষ ও কূটনৈতিক বিরোধের জন্ম দেয়। ২০২০ সালের জুনে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চীনের সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। এতে অন্তত ২০ জন ভারতীয় ও চারজন চীনা সেনা নিহত হন। ১৯৭৫ সালের পর দুই দেশের মধ্যে এটিই ছিল প্রথম প্রাণঘাতী সংঘর্ষ।

ভারতের বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করে, সরকার চীনের কাছে ভূখণ্ড হারিয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার বারবার এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। ওই সংঘর্ষের পর ভারত ও চীনের সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি ঘটে। এতে দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগ ব্যাহত হয় এবং বাণিজ্য ও ভ্রমণেও প্রভাব পড়ে। কয়েক দফা আলোচনার পর ২০২৪ সালে সীমান্তে উত্তেজনা কমাতে পদক্ষেপ নিতে সম্মত হয় দুই দেশ।

এরপর দুই দেশ সরাসরি ফ্লাইট চালু করা এবং সংঘর্ষের পর আরোপিত ভিসা বিধিনিষেধ শিথিল করার উদ্যোগ নেয়। সেপ্টেম্বরে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং ভারত সফর করেন। সাত বছরের মধ্যে এটিই ছিল তার প্রথম ভারত সফর। এসব পদক্ষেপের ফলে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার আশা তৈরি হয়েছিল। তবে সীমান্তে নতুন করে অচলাবস্থার খবর প্রকাশের পর সম্পর্কের উন্নতি কতটা হয়েছে, তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে।

ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর প্রধান কাপুরের মন্তব্যের পর প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস আবারও মোদির বিরুদ্ধে বেইজিংয়ের কাছে নতি স্বীকারের অভিযোগ তুলেছে।

কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা জয়রাম রমেশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘এই গুরুতর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী এবং তার পুরো প্রশাসন নীরব রয়েছে।’

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল গত সপ্তাহে বলেন, ‘চীনা সেনারা যখন তাদের নির্ধারিত টহল পদ্ধতি থেকে সরে আসে, তখন সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি সময়ে সময়ে বিঘ্নিত হয়।’ তিনি আরো বলেন, অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধানে দুই দেশ সামরিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে কাজ করছে। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

অন্যদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, বেইজিং ভারতের সঙ্গে করা সংশ্লিষ্ট চুক্তিগুলো ধারাবাহিকভাবে ও কঠোরভাবে মেনে চলছে। তিনি আরো বলেন, আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব রক্ষায় চীন সীমান্ত এলাকায় স্বাভাবিক টহল ও ব্যবস্থাপনার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কাপুরের মন্তব্য ভারত-চীন বিতর্কিত সীমান্তে চীনের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসী সামরিক তৎপরতার একটি বিরল চিত্র তুলে ধরেছে। তাদের মতে, এই ঘটনা সীমান্ত পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

২০০০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে চীনের সঙ্গে কয়েক দফা সীমান্ত আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়া ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব শ্যাম শরণ বিবিসিকে বলেন, ‘অরুণাচল প্রদেশ সীমান্তের বিভিন্ন স্থানে চীনের এ ধরনের তৎপরতা বেশ কিছুদিন ধরেই চলছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এ ধরনের পদক্ষেপ তাৎক্ষণিকভাবে যুদ্ধ শুরু হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করে না। তবে এর মাধ্যমে বাস্তবে নতুন পরিস্থিতি তৈরি করা সম্ভব।’

ভারতের বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, চীন লাদাখ ও অরুণাচল প্রদেশে নিজেদের উপস্থিতি বাড়াচ্ছে। চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ কর্নেল ঝো বো বলেন, ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষ থেকে দুই দেশেরই শিক্ষা নেওয়া উচিত।

ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে উভয় পক্ষকে আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। অরুণাচল প্রদেশের সাম্প্রতিক সীমান্ত অচলাবস্থা নিয়ে চীনা গণমাধ্যমে কোনো প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি বলেও জানান তিনি।

সীমান্ত বিরোধ থাকা সত্ত্বেও ভারত ও চীন গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার। গত বছর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৫১ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে চীন থেকে ভারতে রপ্তানি হয়েছে প্রায় ১৩১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। যন্ত্রপাতি, বিরল মৃত্তিকার চুম্বক, বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি ও ওষুধের মতো পণ্যের জন্য ভারত চীনের ওপর নির্ভরশীল।

গত সপ্তাহে চীন মেট্রোরেল ও মহাসড়ক নির্মাণে ব্যবহৃত টানেল খননের যন্ত্র রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে। বেইজিংয়ের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা শুধু ভারতের জন্য না হলেও দেশটির অবকাঠামো উন্নয়নে এর প্রভাব পড়তে পারে।

নিউইয়র্কের আলবানি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ক্রিস্টোফার ক্লারির মতে, ভারতের উত্থান এবং উন্নত প্রযুক্তি ও উৎপাদন খাতে দেশটির সক্ষমতা অর্জনের পথে বাধা সৃষ্টি করাই চীনের নীতির অন্যতম লক্ষ্য। এর আগে চীন বিরল মৃত্তিকার চুম্বক রপ্তানি সীমিত করায় ভারতের বিভিন্ন শিল্পে সাময়িক সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছিল।

বৈদ্যুতিক গাড়ি, স্মার্টফোন, বায়ু বিদ্যুৎকেন্দ্রের টারবাইন ও চিকিৎসার স্ক্যানার তৈরিতে এসব চুম্বক ব্যবহৃত হয়। এখন ভারত নিজস্ব উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। তবে এ জন্য সময় ও বড় অঙ্কের বিনিয়োগ প্রয়োজন।

সীমান্তবর্তী মানুষের জীবনেও বিরোধের প্রভাব পড়ছে। অরুণাচল টাইমসের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক টংগাম রিনা জানান, চীনা সেনাদের অনুপ্রবেশ ও জমি দখলের কারণে কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা চারণভূমিতে যেতে পারছেন না। শিকার ও ইয়াক পালনের জন্য ব্যবহৃত এসব এলাকায় তারা কবে ফিরতে পারবেন, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। এতে স্থানীয় মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণে মনোযোগ দেওয়ায় ভবিষ্যতে চীনের সঙ্গে সংঘাত হলে যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে কতটা সমর্থন করবে, তা নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে। চীন ভারতের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে জড়াতে না চাইলেও সীমান্ত বিরোধ দীর্ঘায়িত করে কৌশলগত সুবিধা নিতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুলাউড়ায় জামায়াতের পল্টন ট্র্যাজেডি দিবস পালিত, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আহমেদ আক্তার রানা কুলাউড়া প্রতিনিধি

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:১০ পি.এম


কুলাউড়ায় জামায়াতের পল্টন ট্র্যাজেডি দিবস পালিত, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ‘২৮ অক্টোবর ঐতিহাসিক পল্টন ট্র্যাজেডি দিবস’ উপলক্ষে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুলাউড়া উপজেলা শাখা।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে কুলাউড়া শহরের উত্তরবাজার জামে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে চৌমুহনী চত্বরে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।

কুলাউড়া উপজেলা জামায়াতের আমীর ও উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল মুনতাজিমের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমীর খন্দকার আব্দুস সোবহান ও আব্দুল হামিদ খান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুলাউড়া পৌর জামায়াতের আমীর মো. জাকির হোসেন, উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মো. আলাউদ্দিন এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কুলাউড়া উপজেলা শাখার সভাপতি আশরাফুল ইসলাম শাহরিয়ারসহ জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

সমাবেশে বক্তারা ২৮ অক্টোবরের পল্টনের ঘটনাবলির নিন্দা জানিয়ে বক্তব্য দেন। একই সঙ্গে তারা দিনটির তাৎপর্য তুলে ধরে ওই দিনের ঘটনায় নিহতদের স্মরণ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%