ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নেত্রকোণায় মাদরাসায় হামলার ঘটনায় কওমি পরিষদের নিন্দা ও জড়িতদের শাস্তির দাবি


নেত্রকোণায় মাদরাসায় হামলার ঘটনায় কওমি পরিষদের নিন্দা ও জড়িতদের শাস্তির দাবি

নেত্রকোণার চল্লিশা বাজার কেন্দ্রীয় হাফিজিয়া মাদরাসায় ফজরের নামাজের পর উচ্চস্বরে সূরা ইয়াসিন তিলাওয়াতের কারণে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় কওমি পরিষদ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। সংগঠনটির সভাপতি মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী, যিনি রাজধানীর গুলিস্তান পীর ইয়ামেনি জামে মসজিদের খতিব, এই ঘটনার প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করে হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী উল্লেখ করেন যে, একটি দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং দুঃখজনক। তিনি বলেন, "মাদরাসায় কোরআন তিলাওয়াতকে কেন্দ্র করে শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করা এবং শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনা ধর্মীয় শিক্ষা ও মূল্যবোধের ওপরও আঘাত।"

বিবৃতিতে তিনি চল্লিশা বাজার কেন্দ্রীয় হাফিজিয়া মাদরাসার শিক্ষক হাফেজ সাইফুল ইসলামসহ আহত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। একই সঙ্গে তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "কোনো ধরনের প্রভাব বা পক্ষপাত ছাড়াই দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা উচিত।"

আরও পড়ুন: জামায়াত নেতাদের ভারতীয় গোয়েন্দাদের সঙ্গে বৈঠকের দাবি, রাশেদকে চ্যালেঞ্জ

কওমি পরিষদের সভাপতি আরও বলেন, দেশের কোনো মাদরাসা, মসজিদ কিংবা ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া উচিত নয়। তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে গুরুত্বের সঙ্গে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

এছাড়া, আহত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান কওমি পরিষদের সভাপতি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১৮ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদ-দাম্মাম রুটের সব ফ্লাইট স্থগিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:০৩ পি.এম


১৮ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদ-দাম্মাম রুটের সব ফ্লাইট স্থগিত

সৌদি আরবে বিমানবন্দরে চলমান হামলার কারণে যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ঢাকা থেকে সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মামগামী সমস্ত ফ্লাইট আগামী ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিমান কর্তৃপক্ষ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী আগামী ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা থেকে রিয়াদ ও দাম্মাম রুটের সব ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকবে। এই ফ্লাইটগুলোর বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও নতুন সময়সূচি যথাসময়ে জানানো হবে।

এদিকে, সৌদি আরবে যাতায়াতের জন্য বিকল্প হিসেবে জেদ্দা ও মদিনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। যাত্রীদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে মদিনা রুটে বোয়িং ৭৮৭ উড়োজাহাজের পরিবর্তে বোয়িং ৭৭৭ যুক্ত করা হয়েছে, যার ফলে প্রতি ফ্লাইটে আসনসংখ্যা ১৪৮টি বৃদ্ধি পেয়েছে।

এছাড়া, জেদ্দা রুটে অতিরিক্ত তিনটি ফ্লাইট পরিচালনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে, রিয়াদ ও দাম্মাম রুটে ফ্লাইট স্থগিত থাকলেও যাত্রীদের জন্য জেদ্দা ও মদিনা হয়ে সৌদি আরবে যাওয়া এবং বাংলাদেশে ফেরার সুযোগ রয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জানায়, টিকিট ও ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্যের জন্য যাত্রীদের নিকটস্থ বিমানের বিক্রয়কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে। স্থগিত ফ্লাইটের পরবর্তী সময়সূচি ও সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলা গানের ধারা বদলে দেওয়া হাবিব ওয়াহিদের জন্মদিন আজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:০৫ পি.এম


বাংলা গানের ধারা বদলে দেওয়া হাবিব ওয়াহিদের জন্মদিন আজ

বাংলা গানের পরিচিত ধারায় নতুনত্ব এনে শ্রোতাদের মন জয় করেছেন সংগীতশিল্পী হাবিব ওয়াহিদ। আধুনিক সংগীতের সঙ্গে লোকগানের সুরের মেলবন্ধন ঘটিয়ে তিনি একটি স্বতন্ত্র ধারা তৈরি করেছেন। কেবল কণ্ঠশিল্পী হিসেবেই নয়, সুরকার, সংগীত পরিচালক ও প্রযোজক হিসেবে বাংলা সংগীতে তাঁর অবদানও গুরুত্বপূর্ণ। আজ ১৫ অক্টোবর, এই শিল্পীর জন্মদিন।

১৯৭৯ সালের এই দিনে জন্ম নেওয়া হাবিব ওয়াহিদ সংগীতের পরিবেশেই বেড়ে উঠেছেন। তাঁর বাবা ফেরদৌস ওয়াহিদ দেশের জনপ্রিয় পপসংগীতশিল্পীদের মধ্যে একজন। সংগীতের প্রতি আগ্রহ থেকে হাবিব ১৯৯৯ সালে লন্ডনের স্কুল অব অডিও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। সেখানে অর্জিত অভিজ্ঞতা পরবর্তী সময়ে তাঁর সংগীতায়োজন ও প্রযোজনায় বিশেষ প্রভাব ফেলে।

২০০৩ সালে প্রকাশিত ‘কৃষ্ণ’ অ্যালবামের মাধ্যমে বাংলা গানে নতুন পরিচিতি পান হাবিব। লোকসংগীতের চিরচেনা সুরের সঙ্গে আধুনিক বাদ্যযন্ত্র ও ইলেকট্রনিক সংগীতের ব্যবহার শ্রোতাদের কাছে নতুন অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে। হাসন রাজা ও শাহ আবদুল করিমের মতো লোকসংগীতের শিল্পীদের গানও তাঁর সংগীতায়োজনে নতুন প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয়তা পায়। তবে লোকগানের প্রচলিত পরিবেশনায় পরিবর্তন আনার কারণে সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে তাঁকে।

হাবিবের অবদান কেবল নিজের গানেই সীমাবদ্ধ নয়। নতুন কণ্ঠশিল্পীদের পরিচিত করে তোলা এবং বিজ্ঞাপনের জিঙ্গলকে আধুনিক সংগীত প্রযোজনার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতেও ভূমিকা রেখেছেন তিনি। সংগীতশিল্পী ফুয়াদ আল মুক্তাদিরের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতাও দুজনের কাজকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। ফুয়াদের ভাষ্য অনুযায়ী, একে অন্যের গান শুনে তাঁরা নিজেদের সংগীতায়োজন ও শব্দের মান উন্নত করার চেষ্টা করতেন।

চলচ্চিত্রের গানেও নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন হাবিব ওয়াহিদ। ২০১১ সালে ‘প্রজাপতি’ চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। পুরোনো লোকগানকে নতুনভাবে উপস্থাপন, আধুনিক সংগীত প্রযোজনার প্রসার এবং নতুন শিল্পীদের সামনে এগিয়ে নেওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলা সংগীতে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেছেন এই শিল্পী। জন্মদিনে তাই তাঁকে ঘিরে শ্রোতাদের আগ্রহের পাশাপাশি স্মরণ করা হচ্ছে বাংলা গানের আধুনিক ধারায় তাঁর অবদানের কথাও।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৭ দশকের বন্ধ নৌপথ পুনরায় চালু, বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:০৫ পি.এম


৭ দশকের বন্ধ নৌপথ পুনরায় চালু, বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত

দেশভাগের পর দীর্ঘ ৭০ বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে সচল হলো বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক নৌপথ। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের ডিব্রুগড় থেকে নদীপথে সরাসরি বাংলাদেশে পণ্য আসা শুরু হয়েছে। স্বাধীনতার পর এই প্রথম উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যটি থেকে নদীপথে কোনো পণ্যবাহী জাহাজ সরাসরি বাংলাদেশের বন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা দিল। এর ফলে দুই দেশের বাণিজ্য খাতে এক নতুন যুগের সূচনা হলো।

গত ৫ অক্টোবর ব্রহ্মপুত্র নদের বগিবিল টার্মিনাল থেকে ৫৪০ মেট্রিক টন মিথানল নিয়ে একটি কার্গো জাহাজ (বার্জ) বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। আসাম সরকারের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ‘আসাম পেট্রো-কেমিক্যালস লিমিটেড’ (এপিসিএল)-এর নামরুপ কারখানায় এই মিথানল তৈরি করা হয়েছে। ‘ডিএলবি পাটকাই’ নামের এই বড় জাহাজটিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে ‘কুশল কোঁয়র’ নামের একটি শক্তিশালী টাগবোট (টানা-জাহাজ)।

ভারতের বন্দর, নৌপরিবহন ও জলপথ মন্ত্রণালয় এই যাত্রাকে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছে। একই সাথে এই যাত্রার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের একটি বড় পরীক্ষাও হয়ে যাচ্ছে— ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে বিশ্বের অন্যান্য বাজারে পণ্য পাঠানোর জন্য ব্রহ্মপুত্র নদ বাণিজ্যিকভাবে কতটা লাভজনক ও সাশ্রয়ী রুট হতে পারে।

এই প্রথম ডিব্রুগড় থেকে উৎপাদিত কোনো বাণিজ্যিক পণ্য এই নৌ-পথ ব্যবহার করে বাংলাদেশে আসছে। আসল পরীক্ষাটি এখন এখানেই, ‘ভারত-বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ ট্রানজিট ও বাণিজ্য প্রটোকল’-এর আওতায় এই রুটটি ব্যবসায়ীদেরকে নির্দিষ্ট সময়ে পণ্য পৌঁছানোর নিশ্চয়তা এবং সাশ্রয়ী খরচ দিতে পারবে কি না।

পুরোনো নদীপথ আবার চালু

পণ্যবাহী কার্গো জাহাজটি ভারতের ব্রহ্মপুত্র নদীর ২ নম্বর জাতীয় নৌ-পথ ধরে প্রায় ৭৬৮ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে পৌঁছবে। এরপর সেখান থেকে ভারত-বাংলাদেশ প্রোটোকল রুট ধরে জাহাজটি তার যাত্রা অব্যাহত রাখবে। এরপর ভারত-বাংলাদেশ প্রোটোকল রুট ধরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এগিয়ে যাবে। বগিবিল থেকে বাংলাদেশের পানগাঁও পর্যন্ত মোট দূরত্ব প্রায় ১ হাজার ৩শ কিলোমিটার।

উল্লেখ্য, ভারতের অভ্যন্তরীণ নদী-বন্দর কর্তৃপক্ষ (আইডব্লিউএআই) আসামের সাদিয়া থেকে বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদের ৮৯১ কিলোমিটার দীর্ঘ অংশটিকে 'জাতীয় নৌপথ-২' হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

দেশভাগ কীভাবে আসামকে বিচ্ছিন্ন করেছিল।

এই যাত্রার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ডিব্রুগড়ের হারিয়ে যাওয়া নদীবাণিজ্যের ইতিহাসও। একসময় ব্রহ্মপুত্রের ঘাট ঘিরে পণ্য পরিবহণের ব্যস্ততা ছিল। বিশেষ করে চা পরিবহণে নদীপথের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। পরে সেই বাণিজ্য ক্রমে রেলপথের দিকে সরে যায়। শেষ পর্যন্ত ১৯৫৬ সালে ডিব্রুগড়ের পুরনো নদীঘাট বন্ধ হয়ে যায়।

হারানো সংযোগ ফিরে পেল বাংলাদেশ-আসাম নৌপথ।

আসামের জন্য বাংলাদেশ একই সাথে একটি বড় বাজার এবং বিশ্বের অন্যান্য বাণিজ্যিক নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার সহজ ট্রানজিট পথ হতে পারে।

বাংলাদেশের এই নৌপথগুলো ব্রহ্মপুত্র নদকে দক্ষিণের সমুদ্রবন্দরগুলোর সাথে সরাসরি যুক্ত করেছে।

এর ফলে শিলিগুড়ি করিডোর (চিকেনস নেক) দিয়ে সড়ক ও রেলপথে সমস্ত পণ্য পশ্চিমবঙ্গে পাঠানোর ওপর নির্ভরতা কমবে এবং একটি চমৎকার বিকল্প পথ তৈরি হবে। আর ‘ভারত-বাংলাদেশ প্রোটোকল রুট’ দুই দেশের জাহাজগুলোর জন্য এই নির্ধারিত পথ ব্যবহারের একটি আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করে দিয়েছে।

আসামের নতুন দরজা

হিমন্ত বিশ্বশর্মা এই ঘটনাকে অসমের জন্য গর্বের মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রে ছিল নামরূপে উৎপাদিত পণ্য ব্রহ্মপুত্র বেয়ে সরাসরি আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে যাওয়ার বিষয়টি।

উত্তরপূর্ব ভারতকে পূর্বাঞ্চলের দেশগুলির সঙ্গে ভারতের যোগাযোগের প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলার বৃহত্তর সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গেও এই উদ্যোগকে যুক্ত করা হয়েছে।

তবে পরিকল্পনার সাফল্য শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে নিয়মিত বাণিজ্যিক পরিষেবা কতটা কার্যকর হয়, তার উপর।

আগেও নজির

ব্রহ্মপুত্র ও বাংলাদেশের নৌপথ ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের নজির অবশ্য একেবারে নতুন নয়।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের জলপথ হয়ে টাটা স্টিলের পণ্যবাহী বার্জ পান্ডুতে পৌঁছেছিল। ২০২৩ সালে বারাণসী থেকে ডিব্রুগড় যাওয়ার পথে বাংলাদেশ অতিক্রম করেছিল পর্যটকবাহী ‘এমভি গঙ্গা বিলাস’।

তবে ৫ অক্টোবরের যাত্রার বিশেষত্ব হল—অসম থেকে বিদেশি বন্দরের উদ্দেশে সরাসরি বাণিজ্যিক পণ্য পাঠানো।

খরচ কমবে

এই উদ্যোগের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা বিকল্প পরিবহণ পথ তৈরি করা।

নিয়মিত ও নির্ভরযোগ্য নৌপরিষেবা চালু হলে উৎপাদকরা পণ্য পাঠানোর সময়, খরচ এবং পরিমাণ বিবেচনা করে পরিবহণের সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। বাংলাদেশের ক্রেতাদের সঙ্গে অসমের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলির সরাসরি সরবরাহ-সম্পর্কও শক্তিশালী হতে পারে।

ফিরতি পথেও পণ্য পরিবহণের সুযোগ তৈরি হলে নৌপথটি আরও অর্থনৈতিক ভাবে কার্যকর হয়ে উঠতে পারে।

তবে সেই সম্ভাবনা বাস্তবে কতটা কাজে আসে, তা বোঝার জন্য একটি চালান যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন ধারাবাহিক পরিষেবা এবং তার বাস্তব অভিজ্ঞতা।

শুরুটাই আসল

তাহলে সোমবারের যাত্রার ঐতিহাসিক গুরুত্বের পাশাপাশি নজর থাকবে আরও কয়েকটি বিষয়ের দিকে—বিমান নয়, নৌপথে এই পণ্য পৌঁছতে কত সময় লাগে, খালাসের প্রক্রিয়া কতটা মসৃণ হয় এবং পরবর্তী চালান কত দ্রুত শুরু হয়।

একটি কার্গো রওনা দিয়েছে। এখন লক্ষ্য সেই একক যাত্রাকে নিয়মিত বাণিজ্যপথে পরিণত করা।

সেই ধারাবাহিকতা তৈরি হলে ব্রহ্মপুত্র শুধু অসমের নদী হয়ে থাকবে না—রাজ্যের শিল্প এবং বাংলাদেশের বাজারের মধ্যে আরও কার্যকর বাণিজ্যিক সেতু হয়ে উঠতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাসপোর্ট অফিসে এমপি মানিকের অভিযান, আটক ৩ দালাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:০৬ পি.এম


পাসপোর্ট অফিসে এমপি মানিকের অভিযান, আটক ৩ দালাল

চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক চাঁদপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে দালালদের কার্যকলাপ ও সেবার মান যাচাই করার জন্য একটি ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানের সময় তিনি পাসপোর্ট অফিসে দালালির অভিযোগে তিনজনকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে পাসপোর্ট অফিস পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানতে চান, পাসপোর্ট সেবা নিতে গিয়ে কেউ হয়রানি, অনিয়ম বা দুর্নীতির শিকার হচ্ছেন কি না।

এরপর শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক মন্তব্য করেন, "পাসপোর্ট অফিসে এসে যা দেখলাম, আসলেই এখানকার পরিবেশ ভালো না।" তিনি দেশের উন্নয়ন এবং সেবার মান নিশ্চিত করতে সবার সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "আপনারা মাঝেমধ্যে পাসপোর্ট অফিসে এসে খোঁজখবর রাখবেন। আমরা চাঁদপুর পাসপোর্ট অফিসকে দুর্নীতিমুক্ত ও দালালমুক্ত হিসেবে দেখতে চাই।"

তিনি সাধারণ মানুষের জন্য পাসপোর্ট সেবা সহজলভ্য করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ জানান, আটক তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%