বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৬:০৫ পি.এম
বাংলা গানের পরিচিত ধারায় নতুনত্ব এনে শ্রোতাদের মন জয় করেছেন সংগীতশিল্পী হাবিব ওয়াহিদ। আধুনিক সংগীতের সঙ্গে লোকগানের সুরের মেলবন্ধন ঘটিয়ে তিনি একটি স্বতন্ত্র ধারা তৈরি করেছেন। কেবল কণ্ঠশিল্পী হিসেবেই নয়, সুরকার, সংগীত পরিচালক ও প্রযোজক হিসেবে বাংলা সংগীতে তাঁর অবদানও গুরুত্বপূর্ণ। আজ ১৫ অক্টোবর, এই শিল্পীর জন্মদিন।
১৯৭৯ সালের এই দিনে জন্ম নেওয়া হাবিব ওয়াহিদ সংগীতের পরিবেশেই বেড়ে উঠেছেন। তাঁর বাবা ফেরদৌস ওয়াহিদ দেশের জনপ্রিয় পপসংগীতশিল্পীদের মধ্যে একজন। সংগীতের প্রতি আগ্রহ থেকে হাবিব ১৯৯৯ সালে লন্ডনের স্কুল অব অডিও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। সেখানে অর্জিত অভিজ্ঞতা পরবর্তী সময়ে তাঁর সংগীতায়োজন ও প্রযোজনায় বিশেষ প্রভাব ফেলে।
২০০৩ সালে প্রকাশিত ‘কৃষ্ণ’ অ্যালবামের মাধ্যমে বাংলা গানে নতুন পরিচিতি পান হাবিব। লোকসংগীতের চিরচেনা সুরের সঙ্গে আধুনিক বাদ্যযন্ত্র ও ইলেকট্রনিক সংগীতের ব্যবহার শ্রোতাদের কাছে নতুন অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে। হাসন রাজা ও শাহ আবদুল করিমের মতো লোকসংগীতের শিল্পীদের গানও তাঁর সংগীতায়োজনে নতুন প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয়তা পায়। তবে লোকগানের প্রচলিত পরিবেশনায় পরিবর্তন আনার কারণে সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে তাঁকে।
হাবিবের অবদান কেবল নিজের গানেই সীমাবদ্ধ নয়। নতুন কণ্ঠশিল্পীদের পরিচিত করে তোলা এবং বিজ্ঞাপনের জিঙ্গলকে আধুনিক সংগীত প্রযোজনার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতেও ভূমিকা রেখেছেন তিনি। সংগীতশিল্পী ফুয়াদ আল মুক্তাদিরের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতাও দুজনের কাজকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। ফুয়াদের ভাষ্য অনুযায়ী, একে অন্যের গান শুনে তাঁরা নিজেদের সংগীতায়োজন ও শব্দের মান উন্নত করার চেষ্টা করতেন।
চলচ্চিত্রের গানেও নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন হাবিব ওয়াহিদ। ২০১১ সালে ‘প্রজাপতি’ চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। পুরোনো লোকগানকে নতুনভাবে উপস্থাপন, আধুনিক সংগীত প্রযোজনার প্রসার এবং নতুন শিল্পীদের সামনে এগিয়ে নেওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলা সংগীতে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেছেন এই শিল্পী। জন্মদিনে তাই তাঁকে ঘিরে শ্রোতাদের আগ্রহের পাশাপাশি স্মরণ করা হচ্ছে বাংলা গানের আধুনিক ধারায় তাঁর অবদানের কথাও।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশভাগের পর দীর্ঘ ৭০ বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে সচল হলো বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক নৌপথ। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের ডিব্রুগড় থেকে নদীপথে সরাসরি বাংলাদেশে পণ্য আসা শুরু হয়েছে। স্বাধীনতার পর এই প্রথম উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যটি থেকে নদীপথে কোনো পণ্যবাহী জাহাজ সরাসরি বাংলাদেশের বন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা দিল। এর ফলে দুই দেশের বাণিজ্য খাতে এক নতুন যুগের সূচনা হলো।
গত ৫ অক্টোবর ব্রহ্মপুত্র নদের বগিবিল টার্মিনাল থেকে ৫৪০ মেট্রিক টন মিথানল নিয়ে একটি কার্গো জাহাজ (বার্জ) বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। আসাম সরকারের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ‘আসাম পেট্রো-কেমিক্যালস লিমিটেড’ (এপিসিএল)-এর নামরুপ কারখানায় এই মিথানল তৈরি করা হয়েছে। ‘ডিএলবি পাটকাই’ নামের এই বড় জাহাজটিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে ‘কুশল কোঁয়র’ নামের একটি শক্তিশালী টাগবোট (টানা-জাহাজ)।
ভারতের বন্দর, নৌপরিবহন ও জলপথ মন্ত্রণালয় এই যাত্রাকে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছে। একই সাথে এই যাত্রার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের একটি বড় পরীক্ষাও হয়ে যাচ্ছে— ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে বিশ্বের অন্যান্য বাজারে পণ্য পাঠানোর জন্য ব্রহ্মপুত্র নদ বাণিজ্যিকভাবে কতটা লাভজনক ও সাশ্রয়ী রুট হতে পারে।
এই প্রথম ডিব্রুগড় থেকে উৎপাদিত কোনো বাণিজ্যিক পণ্য এই নৌ-পথ ব্যবহার করে বাংলাদেশে আসছে। আসল পরীক্ষাটি এখন এখানেই, ‘ভারত-বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ ট্রানজিট ও বাণিজ্য প্রটোকল’-এর আওতায় এই রুটটি ব্যবসায়ীদেরকে নির্দিষ্ট সময়ে পণ্য পৌঁছানোর নিশ্চয়তা এবং সাশ্রয়ী খরচ দিতে পারবে কি না।
পুরোনো নদীপথ আবার চালু
পণ্যবাহী কার্গো জাহাজটি ভারতের ব্রহ্মপুত্র নদীর ২ নম্বর জাতীয় নৌ-পথ ধরে প্রায় ৭৬৮ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে পৌঁছবে। এরপর সেখান থেকে ভারত-বাংলাদেশ প্রোটোকল রুট ধরে জাহাজটি তার যাত্রা অব্যাহত রাখবে। এরপর ভারত-বাংলাদেশ প্রোটোকল রুট ধরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এগিয়ে যাবে। বগিবিল থেকে বাংলাদেশের পানগাঁও পর্যন্ত মোট দূরত্ব প্রায় ১ হাজার ৩শ কিলোমিটার।
উল্লেখ্য, ভারতের অভ্যন্তরীণ নদী-বন্দর কর্তৃপক্ষ (আইডব্লিউএআই) আসামের সাদিয়া থেকে বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদের ৮৯১ কিলোমিটার দীর্ঘ অংশটিকে 'জাতীয় নৌপথ-২' হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
দেশভাগ কীভাবে আসামকে বিচ্ছিন্ন করেছিল।
এই যাত্রার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ডিব্রুগড়ের হারিয়ে যাওয়া নদীবাণিজ্যের ইতিহাসও। একসময় ব্রহ্মপুত্রের ঘাট ঘিরে পণ্য পরিবহণের ব্যস্ততা ছিল। বিশেষ করে চা পরিবহণে নদীপথের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। পরে সেই বাণিজ্য ক্রমে রেলপথের দিকে সরে যায়। শেষ পর্যন্ত ১৯৫৬ সালে ডিব্রুগড়ের পুরনো নদীঘাট বন্ধ হয়ে যায়।
হারানো সংযোগ ফিরে পেল বাংলাদেশ-আসাম নৌপথ।
আসামের জন্য বাংলাদেশ একই সাথে একটি বড় বাজার এবং বিশ্বের অন্যান্য বাণিজ্যিক নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার সহজ ট্রানজিট পথ হতে পারে।
বাংলাদেশের এই নৌপথগুলো ব্রহ্মপুত্র নদকে দক্ষিণের সমুদ্রবন্দরগুলোর সাথে সরাসরি যুক্ত করেছে।
এর ফলে শিলিগুড়ি করিডোর (চিকেনস নেক) দিয়ে সড়ক ও রেলপথে সমস্ত পণ্য পশ্চিমবঙ্গে পাঠানোর ওপর নির্ভরতা কমবে এবং একটি চমৎকার বিকল্প পথ তৈরি হবে। আর ‘ভারত-বাংলাদেশ প্রোটোকল রুট’ দুই দেশের জাহাজগুলোর জন্য এই নির্ধারিত পথ ব্যবহারের একটি আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করে দিয়েছে।
আসামের নতুন দরজা
হিমন্ত বিশ্বশর্মা এই ঘটনাকে অসমের জন্য গর্বের মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রে ছিল নামরূপে উৎপাদিত পণ্য ব্রহ্মপুত্র বেয়ে সরাসরি আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে যাওয়ার বিষয়টি।
উত্তরপূর্ব ভারতকে পূর্বাঞ্চলের দেশগুলির সঙ্গে ভারতের যোগাযোগের প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলার বৃহত্তর সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গেও এই উদ্যোগকে যুক্ত করা হয়েছে।
তবে পরিকল্পনার সাফল্য শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে নিয়মিত বাণিজ্যিক পরিষেবা কতটা কার্যকর হয়, তার উপর।
আগেও নজির
ব্রহ্মপুত্র ও বাংলাদেশের নৌপথ ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের নজির অবশ্য একেবারে নতুন নয়।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের জলপথ হয়ে টাটা স্টিলের পণ্যবাহী বার্জ পান্ডুতে পৌঁছেছিল। ২০২৩ সালে বারাণসী থেকে ডিব্রুগড় যাওয়ার পথে বাংলাদেশ অতিক্রম করেছিল পর্যটকবাহী ‘এমভি গঙ্গা বিলাস’।
তবে ৫ অক্টোবরের যাত্রার বিশেষত্ব হল—অসম থেকে বিদেশি বন্দরের উদ্দেশে সরাসরি বাণিজ্যিক পণ্য পাঠানো।
খরচ কমবে
এই উদ্যোগের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা বিকল্প পরিবহণ পথ তৈরি করা।
নিয়মিত ও নির্ভরযোগ্য নৌপরিষেবা চালু হলে উৎপাদকরা পণ্য পাঠানোর সময়, খরচ এবং পরিমাণ বিবেচনা করে পরিবহণের সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। বাংলাদেশের ক্রেতাদের সঙ্গে অসমের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলির সরাসরি সরবরাহ-সম্পর্কও শক্তিশালী হতে পারে।
ফিরতি পথেও পণ্য পরিবহণের সুযোগ তৈরি হলে নৌপথটি আরও অর্থনৈতিক ভাবে কার্যকর হয়ে উঠতে পারে।
তবে সেই সম্ভাবনা বাস্তবে কতটা কাজে আসে, তা বোঝার জন্য একটি চালান যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন ধারাবাহিক পরিষেবা এবং তার বাস্তব অভিজ্ঞতা।
শুরুটাই আসল
তাহলে সোমবারের যাত্রার ঐতিহাসিক গুরুত্বের পাশাপাশি নজর থাকবে আরও কয়েকটি বিষয়ের দিকে—বিমান নয়, নৌপথে এই পণ্য পৌঁছতে কত সময় লাগে, খালাসের প্রক্রিয়া কতটা মসৃণ হয় এবং পরবর্তী চালান কত দ্রুত শুরু হয়।
একটি কার্গো রওনা দিয়েছে। এখন লক্ষ্য সেই একক যাত্রাকে নিয়মিত বাণিজ্যপথে পরিণত করা।
সেই ধারাবাহিকতা তৈরি হলে ব্রহ্মপুত্র শুধু অসমের নদী হয়ে থাকবে না—রাজ্যের শিল্প এবং বাংলাদেশের বাজারের মধ্যে আরও কার্যকর বাণিজ্যিক সেতু হয়ে উঠতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক চাঁদপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে দালালদের কার্যকলাপ ও সেবার মান যাচাই করার জন্য একটি ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানের সময় তিনি পাসপোর্ট অফিসে দালালির অভিযোগে তিনজনকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে পাসপোর্ট অফিস পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানতে চান, পাসপোর্ট সেবা নিতে গিয়ে কেউ হয়রানি, অনিয়ম বা দুর্নীতির শিকার হচ্ছেন কি না।
এরপর শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক মন্তব্য করেন, "পাসপোর্ট অফিসে এসে যা দেখলাম, আসলেই এখানকার পরিবেশ ভালো না।" তিনি দেশের উন্নয়ন এবং সেবার মান নিশ্চিত করতে সবার সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "আপনারা মাঝেমধ্যে পাসপোর্ট অফিসে এসে খোঁজখবর রাখবেন। আমরা চাঁদপুর পাসপোর্ট অফিসকে দুর্নীতিমুক্ত ও দালালমুক্ত হিসেবে দেখতে চাই।"
তিনি সাধারণ মানুষের জন্য পাসপোর্ট সেবা সহজলভ্য করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ জানান, আটক তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নৌপথে যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করার জন্য ঈদের মতো শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটিতে বাড়তি প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান। তিনি উল্লেখ করেন, ঘাটগুলো সচল রাখার পাশাপাশি যাত্রীদের নিরাপত্তায় ভ্রাম্যমাণ আদালত, পুলিশ, কোস্ট গার্ড ও নৌপুলিশ দায়িত্ব পালন করবে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া লঞ্চ ও ফেরিঘাট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
রাজিব আহসান আরও বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজার পাঁচ দিনের ছুটিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি গ্রামে ফেরা অন্যান্য যাত্রীরাও যাতে কোনো ধরনের ভোগান্তিতে না পড়েন, সে জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঘাটে কোনো সমস্যা দেখা দিলে যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তিনি একই সঙ্গে সড়ক পথ এবং রেল পথের জন্যও বাড়তি প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করেন।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী পাটুরিয়া লঞ্চ ও ফেরি ঘাটগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি সরেজমিনে ঘুরে দেখেন। এসময় ফেরিতে পার হতে আসা যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে ঘাটের বিষয়ে খোঁজ-খবর নেন তিনি।
এছাড়া, পরিদর্শনকালে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান মো. মহিদুল ইসলাম, শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনীষা রানী কর্মকারসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নরসিংদীতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া, এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ১১ জন। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) জেলার রায়পুরা, শিবপুর ও বেলাব উপজেলায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুর ২টার দিকে নরসিংদীর আরশিনগর সিএনজি স্ট্যান্ড থেকে পাঁচ যাত্রী নিয়ে একটি অটোরিকশা রায়পুরার দিকে যাচ্ছিল। পথের মধ্যে হাসনাবাদ অতিক্রম করে মাহমুদনগর ১০ নম্বর সেতুর কাছে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি অটোরিকশার সঙ্গে সেটির মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষের ফলে একটি অটোরিকশা সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায় এবং অন্যটি উল্টে যায়।
পরে স্থানীয়রা আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে উজ্জ্বল শীল (৩৫) নামের এক যাত্রীকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ফরিদা গুলশানারা কবির জানান, দুপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ১২ জনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে একজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। আহতদের মধ্যে একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বাকিরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এদিকে, বৃহস্পতিবার সকালে শিবপুর উপজেলার শিবপুর কলেজ গেট এলাকায় চলন্ত ইটবাহী ট্রলি থেকে ছিটকে পড়ে চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে মো. ছাব্বির মিয়া (১৯) নামের এক শ্রমিক নিহত হন। তিনি উপজেলার মাছিমপুর ইউনিয়নের ধানুয়া গ্রামের মো. মাসুদ মিয়ার ছেলে।
একই দিন সকালে বেলাব উপজেলার পাটুলি নদীপাড় এলাকায় ইটবাহী ট্রলির চাপায় আলিশা আক্তার নোহা (৩) নামের এক শিশু ঘটনাস্থলেই মারা যায়। সে পাটুলি গ্রামের কাশেম মিয়ার মেয়ে।
শিবপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কোহিনূর মিয়া, বেলাব থানার ওসি এস এম আমানউল্লাহ এবং রায়পুরা থানার ওসি মজিবুর রহমান তিনটি দুর্ঘটনায় মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রায়পুরা থানার ওসি মজিবুর রহমান বলেন, দুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। তার মরদেহ বর্তমানে নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ