ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জামায়াতের মহিলা বিভাগের প্রতিবাদ: নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তার গ্রেপ্তার


জামায়াতের মহিলা বিভাগের প্রতিবাদ: নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তার গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহের ভালুকায় নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তারকে গ্রেপ্তার ও কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় সরকারের সমালোচনা করার কারণে এই ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা এমপি প্রতিবাদটি জানান। তিনি বলেন, সাথী আক্তার (৩০) ফেসবুক লাইভে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সমালোচনা করার পর বিএনপির নেতাকর্মীদের উত্তেজনার মুখে আটক হন এবং পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠায়।

গত ২৬ অক্টোবর দুপুরে পুলিশ তাকে ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার করে ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠায়। এরপর বেলা ৩টার দিকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সাজেদুল ইসলাম তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ আদালতের পরিদর্শক মোস্তাছিনুর রহমান।

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

নূরুন্নিসা সিদ্দীকা বলেন, “আমরা জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগের পক্ষ থেকে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মত প্রকাশ করা একজন নাগরিকের মৌলিক অধিকার। নাগরিক তার জনপ্রতিনিধিকে নির্বাচিত করে এবং প্রত্যাশা অনুযায়ী ভূমিকা রাখতে না পারলে সমালোচনা করার অধিকারও রাখে। আটক সাথী আক্তারের মতপ্রকাশের অধিকার রয়েছে, কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের দ্বারা মব সৃষ্টি করে তাকে গ্রেপ্তার করানো একটি নিন্দনীয় ঘটনা।

বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, “আমরা মনে করি এ ঘটনার মাধ্যমে সরকার তার অসহিষ্ণু আচরণের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। যেখানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে, সেখানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বিশেষ কোনো ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। বরং ভিন্নমত প্রকাশের কারণে একজন নারী রাষ্ট্রের রোষানলের শিকার হচ্ছেন, যা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও হতাশাজনক। আমরা মনে করি, এর মাধ্যমে সরকার বিরোধী মত দমাতে চাইছে, যা চব্বিশ-পরবর্তী বাংলাদেশে একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত।”

জামায়াতের এই নেত্রী বলেন, “আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে সাথী আক্তারকে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা রুখে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিচ্ছি।”

আরও পড়ুন: আজ ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ, ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কক্সবাজারে নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট জব্দ, মূল্য ২৭ লাখ টাকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২৬ এম


কক্সবাজারে নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট জব্দ, মূল্য ২৭ লাখ টাকা

ঢাকা, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ : কক্সবাজারের চকরিয়া, কক্সবাজার সদর এবং হ্ণিলায় তিনটি পৃথক অভিযানে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, কক্সবাজার নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত ৪ লাখ ৬১ হাজার শলাকা সিগারেট জব্দ করেছে।

জব্দকৃত সিগারেটের বাজারমূল্য ২৭ লাখ ৬৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট রাজস্বের পরিমাণ ২২ লাখ ৯৫ হাজার ৭৮০ টাকা।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

গতকাল এনবিআর চেয়ারম্যানের নির্দেশনা ও সদস্য (মূসক বাস্তবায়ন ও আইটি)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে কমিশনারেটের তিনটি দল একযোগে এই নিবারক অভিযান পরিচালনা করে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আটক সিগারেটের ব্র্যান্ড মার্বেল। এগুলোর উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হেরিটেজ টোবাকো।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন, ফাঁকিকৃত রাজস্ব আদায় এবং সরকারি রাজস্ব সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কসোভোতে মুসলিম দেশ হিসেবে অন্য এক দৃষ্টান্ত: ক্যাথলিক নারী নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২৬ এম


কসোভোতে মুসলিম দেশ হিসেবে অন্য এক দৃষ্টান্ত: ক্যাথলিক নারী নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট

দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের একটি ক্ষুদ্র মুসলিম দেশের খবর সম্প্রতি ব্যাপকভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। দেশটির নাম কসোভো। গত ৭ অক্টোবর, প্রায় ৯৬ শতাংশ মুসলিম অধ্যুষিত এই দেশের পার্লামেন্ট একজন ক্যাথলিক খ্রিষ্টান নারীকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত করেছে। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মধ্যেও, দেশটির মুসলিম সদস্যরা একজন খ্রিষ্টানকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করে দেখিয়েছেন, কীভাবে বিভিন্ন ধর্ম ও জাতির মানুষ একসঙ্গে মিলেমিশে বসবাস করতে পারে। নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টের নাম জাস্টিনা শিরোকা পুলা। তিনি দেশের তৃতীয় নারী প্রেসিডেন্ট হলেও, খ্রিষ্টান হিসেবে প্রথম। এটি ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহনশীলতার একটি অনন্য উদাহরণ।

এটি উল্লেখযোগ্য যে, কসোভোতে খ্রিষ্টানদের মোট সংখ্যা ৫ থেকে ৬ শতাংশ। ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের সংখ্যা ২ থেকে ৩ শতাংশ। এমন একটি পরিসংখ্যানে, যেখানে তারা সংখ্যালঘু, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ঘটনা অত্যন্ত বিরল। যদিও অনেক বছর আগে আরেকটি মুসলিম রাষ্ট্র সেনেগালে এমন একটি দৃষ্টান্ত দেখা গিয়েছিল। দেশটি ১৯৬০ সালে স্বাধীন হওয়ার পর, কসোভোর মতো ৯৬ শতাংশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে একজন ক্যাথলিক খ্রিষ্টানকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করেছিল। তার নাম ছিল লিউপোলড সেদার সিংঘর। তিনি ২০ বছর ধরে সফলভাবে দেশ পরিচালনা করেছিলেন।

বর্তমানে, যখন সারা বিশ্বে ধর্মীয় উগ্রবাদীরা সংঘর্ষে লিপ্ত, বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশ ভারতের হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকারের ইসলামসহ অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের ওপর নিষ্ঠুর নিপীড়ন চালানোর প্রেক্ষাপটে, কসোভোর এই ঘটনা একটি অনন্য উদাহরণ হিসেবে সবাইকে শিক্ষা দিয়েছে।

দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের এই ক্ষুদ্র দেশের আয়তন মাত্র ১০ হাজার ৮৭৮ বর্গকিলোমিটার। এটি ইউরোপের দশম ক্ষুদ্রতম রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত। জনসংখ্যা প্রায় ১৬ লাখ, যার মধ্যে ৯৬ শতাংশ মুসলমান এবং ৪ শতাংশ খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী। ১৯৯৮-৯৯ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর, ন্যাটো ও জাতিসংঘের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সার্বিয়ার সৈন্যদের প্রত্যাহার করতে বাধ্য করা হয়। এরপর ৯ বছর জাতিসংঘের প্রশাসনের অধীনে থাকার পর, দেশটি চূড়ান্তভাবে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। যদিও জাতিসংঘের সব সদস্য দেশ এই সদ্য স্বাধীন রাষ্ট্রকে এখনো স্বীকৃতি দেয়নি, তবে ১৯৩টি সদস্য দেশের মধ্যে ১১৫টি দেশ কসোভোকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। সার্বিয়া ও রাশিয়া বরাবরই কসোভোর স্বাধীনতার বিরোধিতা করে আসছে।

এদিকে, দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের এই ছোট্ট দেশটি সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই হয়তো তেমন কোনো ধারণা নেই। তাই সংক্ষেপে হলেও এর একটি বিবরণ থাকা দরকার। কারণ, ৯৬ শতাংশ মুসলমান অধ্যুষিত দেশে একজন ক্যাথলিক খ্রিষ্টানকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ঘটনা ব্যাখ্যা করার জন্য কিছুটা বিস্তারিত আলোচনা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, দেশটির মানুষ ধর্মের চেয়ে জাতীয়তাবাদকে বেশি গুরুত্ব দেয়। দেশটির জনগণ জাতিগতভাবে প্রধানত আলবেনীয়। তারা মনে করে, আলবেনীয় পরিচয়ের সঙ্গে আলবেনীয় জাতীয়তাবাদ জড়িত। সেই কারণেই কসোভো যুদ্ধের সময় মুসলমান ও খ্রিষ্টানরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছেন।

মূলত কসোভো একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। তবে এটি কামাল আতাতুর্কের ধর্মনিরপেক্ষ তুরস্কের মতো নয়। এখানে সব ধর্মের মানুষকে সমভাবে ধর্মীয় স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। বলা যায়, কসোভোর ধর্মনিরপেক্ষতা হলো ধর্ম ও রাষ্ট্রের পারস্পরিক সহাবস্থান এবং নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত। অর্থাৎ ধর্ম ও রাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ আলাদা রাখা এবং নাগরিকদের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। পক্ষান্তরে, কামাল আতাতুর্কের ধর্মনিরপেক্ষতার মডেলে ধর্মের ওপর রাষ্ট্রের কঠোর কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।

অন্যদিকে, সেখানকার আলেমসমাজ কীভাবে ভূমিকা পালন করে, সেটিও জানার বিষয়। জানা গেছে, কসোভোর আলেমসমাজ ঐতিহাসিকভাবে বলকান অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী উদারপন্থি হানাফি সুন্নি মতাদর্শ অনুসরণ করে থাকে। তারা ইসলামকে চরমপন্থা ও উগ্রবাদ থেকে মুক্ত রেখে সহনশীল এবং আধুনিক জীবনমুখী ধর্ম হিসেবে প্রচার করে থাকে।

এছাড়া কসোভোতে সুফিবাদেরও প্রাচীন ইতিহাস রয়েছে। বলকান অঞ্চলে ইসলামের বিস্তার ঘটেছে মূলত সুফি-সাধকদের মাধ্যমে, যেমনটি ঘটেছে ভারতীয় উপমহাদেশেও। তাই এ উপমহাদেশে যেমন অসংখ্য মানুষ সুফিবাদ অনুসরণ করেন, তেমনি কসোভোয়ও বিপুলসংখ্যক মানুষ সক্রিয়ভাবে বিভিন্ন সুফি তরিকার সঙ্গে যুক্ত আছেন। আমাদের অঞ্চলের মতো সেখানেও মূলধারার সুন্নি আলেমসমাজ ও সুফি দরবেশদের মধ্যে ধর্ম পালনের বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। তবে তা কখনো সংঘাতে রূপ নেয় না।

আমাদের অঞ্চলের মতো কসোভোয়ও সুফিবাদের অনুসারীরা বিভিন্ন তরিকার অনুসারী। সেখানে প্রধানত রিফাই, খালওয়াতি, কাদেরি ও বেকতাশি তরিকার ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। সেখানেও খানকা রয়েছে, যাকে দেশটির ভাষায় বলা হয় তেকে। এই তেকে সামাজিক মিলনকেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। এখানে অভাবী মানুষদের খাবার দেওয়া হয়। আমাদের উপমহাদেশের খানকাগুলোয়ও যেমন অভাবীসহ সব ধরনের মানুষ আহার করেন, সেখানেও তেমন ব্যবস্থা রয়েছে।

এছাড়া কসোভোর সুফিরা, বিশেষ করে রিফাই তরিকার দরবেশরা, প্রতিবছর বসন্তের শুরুতে (২২ মার্চ) হজরত আলী (রা.)-এর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ‘সুলতান নওরোজ’ উৎসব পালন করে থাকেন। এই উৎসবে জিকিরের সময় দরবেশরা একধরনের আধ্যাত্মিক ঘোরের মধ্যে চলে যান এবং নিজেদের গালে ও শরীরে লোহার শিক বা সুচ বিদ্ধ করেন, যা বলকান অঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন ঐতিহ্য।

এ থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে যায়, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মূলত সুফি সাধকরাই ইসলাম ধর্ম প্রচার করেছেন। তারা এই শিক্ষা পেয়েছেন সাহাবায়ে কেরাম ও তাবে-তাবেঈনদের কাছ থেকে। এখানে উল্লেখ করতে হয়, সাহাবায়ে কেরাম রাসুল (সা.)-এর বিদায় হজের ভাষণে দেওয়া নির্দেশ অনুসরণ করে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছিলেন। তাদের অনুসরণ করেছিলেন তাবে-তাবেঈনরা এবং পরবর্তীকালে সুফি সাধকরা। বিদায় হজের ভাষণে রাসুল (সা.) সাহাবিদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘সাবধান! যারা এখানে উপস্থিত আছো, তারা এই বাণীটি অনুপস্থিতদের কাছে পৌঁছে দেবে। সম্ভবত অনুপস্থিত ব্যক্তি উপস্থিত শ্রোতাদের চেয়ে বেশি ভালোভাবে কথাটি অনুধাবন করতে পারবে।’

মহানবী (সা.)-এর ওই নির্দেশের পর সাহাবায়ে কেরাম পৃথিবীর নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েন। এখানে উল্লেখ করতে হয়, বিদায় হজের এই সমাবেশে ১ লাখ ১৪ হাজার, মতান্তরে ১ লাখ ২৪ হাজার সাহাবি উপস্থিত ছিলেন। কথিত আছে, এই সাহাবিদের মধ্যে মাত্র ১০ থেকে ১২ হাজার সাহাবির কবর মক্কা ও মদিনায় রয়েছে। বাকি সাহাবিদের কবর পৃথিবীর নানা দেশে রয়েছে। এভাবে সাহাবিদের অনুসরণ করে তাবে-তাবেঈনরাও সারা দুনিয়ায় ইসলাম প্রচারে ছড়িয়ে পড়েছিলেন। একইভাবে সুফি সাধকরা পৃথিবীর নানা দেশে ইসলাম প্রচার করে গেছেন। আমাদের উপমহাদেশেও এমনটি ঘটেছে। এখানে কোনো শাসক তরবারি উঁচিয়ে ইসলাম প্রচার করেননি; বরং সুফি ও দরবেশরা শান্তির বাণী নিয়ে ইসলাম প্রচার করেছেন।

এই পটভূমিতে বলা যায়, ইসলাম শান্তির ধর্ম হিসেবে পরিচিত। চরমপন্থা, উগ্রতা বা ফ্যাসাদ সৃষ্টি করা ইসলামের শিক্ষা নয়। বরং ইসলাম ফ্যাসাদ সৃষ্টিকারীদের কঠোরভাবে দমন করার কথা বলেছে।

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান শাকিলের জানাজায় এমপির বিরুদ্ধে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২৭ এম


‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান শাকিলের জানাজায় এমপির বিরুদ্ধে

নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিল ইসলামের জানাজার পূর্বে সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে মুসল্লিরা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। এই ঘটনার ফলে জানাজার মাঠে উত্তেজনা দেখা দেয়।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিলচলন শহীদ সামসুজ্জোহা সরকারি কলেজ মাঠে এই ঘটনা ঘটে।

জানাজার আগে বক্তব্য দেওয়ার সময় আব্দুল আজিজ বলেন, ‘প্রিয় ভাইয়েরা আমার, আমার একটা কথা শুনতে হবে দাদারা।’ এই কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত নেতাকর্মী ও মুসল্লিরা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি বক্তব্য বন্ধ করে দেন।

পরে জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বক্তব্য রাখেন। এরপর শাকিলের পরিবারকে নিজের পক্ষ থেকে ২০ লাখ টাকা দেওয়ার ঘোষণা দেন এমপি আব্দুল আজিজ। এই ঘোষণায় ফের উত্তেজনা সৃষ্টি হলে হুইপ দুলু মাইক হাতে নিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।

জানাজা শেষে বিএনপির নেতাকর্মী ও স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। পরে চাঁচকৈড় বাজারের সুপারিহাট রোডে আমেরিকাপ্রবাসী রাসেলের রাশ আরবানী মেগা শপিংমলে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

এর আগে শাকিল হত্যা মামলায় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের ছেলে মিন্টুকে তিন দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত।

এমই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২৭ এম


ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ৪৭ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। রয়টার্সের কাছে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই ব্যয় পেন্টাগনের গত জুলাই মাসের প্রাক্কলনের তুলনায় ২৫ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধে ব্যবহৃত গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত পুনরায় পূরণে ২৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করা হয়েছে। এছাড়া, যুদ্ধে হারানো বিমান ও ড্রোনসহ সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনে ব্যয় ধরা হয়েছে ছয় বিলিয়ন ডলারের বেশি।

এই ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের গত জুলাই মাসে দেওয়া ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের প্রাক্কলনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো মেরামতের ব্যয় সর্বশেষ হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চেয়ে রয়টার্স পেন্টাগনের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

সূত্র: আলজাজিরা

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%