০৪:৩৭ পি.এম
বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষণা করেছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম নতুন মুদ্রানীতি। ৩০ জুন, ২০২৬ তারিখে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর মুদ্রানীতির অবস্থান ধরে রেখে এই মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়েছে। নীতি সুদহার (পলিসি রেপো রেট) ১০ শতাংশই রাখা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার ৩০ জুন বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান এই নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানসহ অন্যান্য ডেপুটি গভর্নর ও শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নীতির সুদহার অপরিবর্তিত রাখার পাশাপাশি বেসরকারি খাতে ঋণের স্থবিরতা কাটানোর জন্য উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে গতি আনতে শিল্প, কৃষি এবং কুটির, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তা খাতের জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ঢাকায় জরুরি অবতরণে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের দরজা খুলে গেল, রোগীর মৃত্যু
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ ১৯৭২ (২০০৩ সালে সংশোধিত) অনুযায়ী মূল্যস্ফীতি কম এবং স্থিতিশীল রাখা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান লক্ষ্য। টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার মাধ্যমে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রকৃত বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহজ করাই এই নীতির উদ্দেশ্য।
এদিকে, মুদ্রানীতিতে বলা হয়েছে, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় অর্থনীতি নানা চাপের মধ্যে ছিল। ব্যাংক খাতের দুর্বলতা, আর্থিক ব্যবস্থায় আস্থাহীনতা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে নিম্ন ও প্রান্তিক আয়ের মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছিল। সরকার মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি রপ্তানিমুখী ও বেসরকারি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধির কৌশল অনুসরণ করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে দেশে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি ১১ দশমিক ৭ শতাংশে উঠেছিল। কঠোর মুদ্রানীতির কারণে তা কমে ২০২৬ সালের মে মাসে ৯ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। যদিও মূল্যস্ফীতি এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে না আসায় সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির অবস্থান বজায় রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং ৭ দশমিক ৫ শতাংশ মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ধারণা মতে, দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যমূল্যের অস্থিরতা, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, সরকারের উচ্চ ঋণগ্রহণ, সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
আরও পড়ুন: গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের আদেশ স্থগিত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন