ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ছেলের কাণ্ডে বাহবা নিতে গিয়ে সমালোচনায় দিয়া মির্জা


ছেলের কাণ্ডে বাহবা নিতে গিয়ে সমালোচনায় দিয়া মির্জা

পরিবেশ সচেতনতার বার্তা দিতে গিয়ে উল্টো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন বলিউড অভিনেত্রী দিয়া মির্জা। সম্প্রতি সোহা আলি খানের পডকাস্টে দিয়া নিজের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে আভিয়ানের একটি অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছিলেন। সেই ভিডিও ভাইরাল হতেই ইন্টারনেটে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। নেটিজেনরা দিয়া মির্জা ও তার ছেলের আচরণকে ‘অহংকারী’ ও ‘শ্রেণিবিদ্বেষী’ হিসেবে অভিহিত করছেন।

পডকাস্টে দিয়া জানান, সম্প্রতি তাদের বাড়িতে ডাব বা নারিকেলের পানি ডেলিভারি দিতে এসেছিলেন এক বিক্রেতা। ডেলিভারি করা নারিকেলের পানি প্লাস্টিকের ব্যাগে এবং সঙ্গে প্লাস্টিকের স্ট্র দেখে ভীষণ বিরক্ত হন অভিনেত্রী। সেই ঘটনার বর্ণনা দিয়ে দিয়া বলেন, তার ছেলে আভিয়ান দরজা খুলে বিক্রেতার সামনে কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে তাকে শাসন করতে শুরু করে। আভিয়ান বিক্রেতাকে বলে, তারা বাড়িতে প্লাস্টিক ব্যবহার করে না, তাই এখনই যেন সেই ব্যাগ ও স্ট্র নিয়ে চলে যায়। সোহার পডকাস্টে আভিয়ানের এই আচরণকে বাহবা দেওয়া হলেও সাধারণ মানুষ বিষয়টিকে ভালোভাবে নেননি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনা ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই দিয়া মির্জাকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। নেটিজেনদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, পরিবেশের প্রতি এতই যদি দায়বদ্ধতা থাকে, তবে কেন ডেলিভারি কর্মীকে বাড়িতে ডেকে হেনস্তা করা হলো? বরং নিজেই স্টিলের পাত্র নিয়ে গিয়ে দোকান থেকে নারিকেলের পানি কিনে আনতে পারতেন। কেউ কেউ লিখেছেন, ডেলিভারি কর্মীরা দিন আনে দিন খায়, তাদের সঙ্গে এমন রূঢ় আচরণ করা অত্যন্ত অপমানজনক।

আরও পড়ুন: শহীদ ওসমান হাদিকে নিয়ে ছাত্রদল নেত্রীর বিতর্কিত পোস্ট

আরেকজন মন্তব্য করেছেন, এটি ভারতের দুটি ভিন্ন বাস্তবতাকে তুলে ধরেছে— একদিকে একজন অতি-উদারপন্থী শিশু, যে বাস্তবের কঠিন জীবন সম্পর্কে কিছুই জানে না; অন্যদিকে একজন ডেলিভারি কর্মী, যার কাছে জীবন মানেই বেঁচে থাকার লড়াই। অনেক ব্যবহারকারীই এটিকে দিয়া মির্জার ‘এলিট অহংকার’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তারা মনে করছেন, পরিবেশ রক্ষার নাম করে একজন সাধারণ মানুষকে ছোট করার অধিকার কারও নেই।

ক্যারিয়ারের দীর্ঘ সময় ধরে পরিবেশ নিয়ে কাজ করে আসা দিয়া মির্জা এই ঘটনার পর এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাননি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নোয়াখালীতে থাই জুয়ার আসর থেকে গ্রেপ্তার ৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নোয়াখালী প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৪০ পি.এম


নোয়াখালীতে থাই জুয়ার আসর থেকে গ্রেপ্তার ৬

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় থাইল্যান্ডি জুয়া চক্রের মূল হোতাসহ মোট ছয় জুয়াড়ি এবং পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক পলাতক আসামি, ধর্ষণচেষ্টা মামলার এক আসামি মিলিয়ে মোট ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতদের নোয়াখালী চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়। এর আগে, সোমবার দিবাগত রাতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অপরাধ দমনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় পরকোট ইউনিয়নের দশঘরিয়া বাজার এলাকায় একটি চায়ের দোকানে অভিযান চালিয়ে থাইল্যান্ডি জুয়ার আসর থেকে হাতেনাতে ছয়জনকে আটক করে। এ সময় জুয়া পরিচালনায় ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামও জব্দ করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া থাইল্যান্ডি জুয়া চক্রের সদস্যরা হলেন আব্দুস ছাত্তার (৩৬), মো.সোহেল (৩৫), নুর নবী (৩৪), কবির হোসেন (৪১), মো.ইকবাল (৪৫) এবং টিপু সুলতান (২৯)।

এছাড়া পৃথক অভিযানে ঢাকার বিমানবন্দর এলাকা থেকে পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আরমান হোসেন রাজুকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সময়ে জিআর পরোয়ানাভুক্ত আসামি ইব্রাহিম খলিল (ইমন) এবং ধর্ষণচেষ্টা মামলার আসামি আনোয়ার হোসেনকেও গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযান চলাকালে খিলপাড়া ইউনিয়নের মল্লিকাদীঘির পাড়া এলাকা থেকে ইয়াছিন আরাফাত সৌরভ নামে এক যুবককে গাঁজাসহ আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মোন্নাফ জানান, জুয়া, মাদক, সন্ত্রাস, পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার এবং সব ধরনের অপরাধ দমনে পুলিশের বিশেষ অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কলমাকান্দা বাজারে ডেপুটি স্পিকারের উদ্যোগে স্থাপন ৩২টি সিসি ক্যামেরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৪২ পি.এম


কলমাকান্দা বাজারে ডেপুটি স্পিকারের উদ্যোগে স্থাপন ৩২টি সিসি ক্যামেরা

নেত্রকোনার কলমাকান্দা বাজারের নিরাপত্তা জোরদার, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের লক্ষ্যে বাজারের গুরুত্বপূর্ণ ১২টি স্থানে ৩২টি ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে কলমাকান্দা থানা প্রাঙ্গণ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামালের উদ্যোগ ও সহযোগিতায় এবং কলমাকান্দা বাজার ব্যবসায়ী মালিক সমিতির বাস্তবায়নে এ প্রকল্পটি সম্পন্ন হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় কলমাকান্দা সরকারি কলেজ এলাকা, উপজেলা মোড়, এতিমখানা বাজার, ঘোষপাড়া খাল, ট্রলারঘাট, রেন্ট্রিতলা, থানা মোড়সহ বাজারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম ১২টি স্থানে মোট ৩২টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

এসব ক্যামেরার মাধ্যমে বাজার এলাকার সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ, অপরাধ প্রতিরোধ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে কার্যকর সহায়তা মিলবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. মিকাইল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সিসি ক্যামেরা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, কলমাকান্দা থানার ওসি (তদন্ত) সজল সরকার, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম. এ. খায়ের, সহ-সভাপতি আনিুর রহমান পাঠান বাবুল, কলমাকান্দা বাজার ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি এম. আলমগীর তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম রেজা, যুগ্ম আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান এরশাদ, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ. আর. নাজিম, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. জহিরুল ইসলাম জহির, সদস্য সচিব সোলাইমান হক, উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইশতিয়াক হাসান সৌরভ, কলমাকান্দা প্রেস ক্লাবের সভাপতি শেখ শামীম, ব্যবসায়ী নূরে আলম, জাফর আহমেদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বাজার এলাকায় সিসি ক্যামেরা স্থাপনের ফলে চুরি, ছিনতাই, যানজটসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে দ্রুত অপরাধী শনাক্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ সহজ হবে। ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঠাকুরগাঁওয়ে ১১৫ কেজি ওজনের কষ্টি পাথরের বিষ্ণুমূর্তি উদ্ধার, গ্রেফতার ২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ আকতারুল ইসলাম আক্তার নিজস্ব প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৪৩ পি.এম


ঠাকুরগাঁওয়ে ১১৫ কেজি ওজনের কষ্টি পাথরের বিষ্ণুমূর্তি উদ্ধার, গ্রেফতার ২

হরিপুর উপজেলার কিসমত ভৈষা গ্রামে অভিযান চালিয়ে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-১৩ প্রায় ১১৫ কেজি ওজনের একটি মূল্যবান কষ্টি পাথরের বিষ্ণুমূর্তি উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায়, মূর্তিটি চোরাচালানের অভিযোগে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সোমবার (২৯ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে, র‌্যাব-১৩-এর সিপিসি-২, নীলফামারী ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার ৩ নম্বর বকুয়া ইউনিয়নের কিসমত ভৈষা গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে।

র‌্যাব জানায়, অভিযানে তারা কিসমত ভৈষা গ্রামের মো. হাসান আহাম্মদের বসতবাড়ির গোয়ালঘর থেকে একটি কষ্টি পাথরের বিষ্ণুমূর্তি উদ্ধার করেন। উদ্ধার হওয়া মূর্তিটির ওজন প্রায় ১১৫ কেজি, যার মাথার অংশে দৈর্ঘ্য ৩২ ইঞ্চি ও প্রস্থ ২২ ইঞ্চি এবং নিচের অংশের দৈর্ঘ্য ১৬ ইঞ্চি ও প্রস্থ ২২ ইঞ্চি। মূর্তিটির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।

এ ঘটনায় কিসমত ভৈষা গ্রামের মো. হাসান আহাম্মদ (২৬) এবং নন্দগাঁও (মুন্সিপাড়া) এলাকার মো. নাজমুল (৬৪)-কে গ্রেফতার করা হয়েছে।

র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে, গ্রেফতারকৃতরা পরস্পরের যোগসাজশে মূল্যবান কষ্টি পাথরের বিষ্ণুমূর্তিটি সংরক্ষণ করে পার্শ্ববর্তী দেশে পাচারের পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানানো হয়েছে।

এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে র‌্যাব-১৩ জানিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কেরালায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণে আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৪৬ পি.এম


কেরালায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণে আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে

 

ভারতের মাটিতে এক নীরব, অলৌকিক বিপ্লব ঘটে চলেছে। রাষ্ট্রীয় নানা প্রতিকূলতা, পদ্ধতিগত দমনপীড়ন আর হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর তীব্র তাণ্ডব ও রাষ্ট্রীয় দ্বিচারিতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে।

সত্যের আলো নেভানোর যত চেষ্টাই হচ্ছে, মানুষের হৃদয়ে সেই আলোর গতি যেন তত বেশি প্রস্ফুটিত হচ্ছে।

সব ভয়ভীতি আর সামাজিক প্রতিবন্ধকতাকে পায়ে ঠেলে, কেবল আত্মিক শান্তি আর পরম সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন বহু মানুষ আশ্রয় নিচ্ছেন ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে।

এটি যেন এক অবিনশ্বর সত্যের জয়গান—যেখানে শত জুলুম আর অপপ্রচারের অন্ধকারকে চিরে ইসলামের শাশ্বত সৌন্দর্য মানুষের অন্তরকে জয় করে চলেছে। এবং সমস্ত বাধা, উপেক্ষা করে কেরালাসহ পুরো ভারতে ইসলামের সুবাস ছড়িয়ে পড়ছে স্বমহিমায়।

কেরালার সাম্প্রতিক সরকারি পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে রাজ্যের ধর্মীয় রূপান্তরের ক্ষেত্রে এক চমকপ্রদ ও ভিন্নমুখী চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

সরকারি নথির তথ্য অনুযায়ী, কেরালায় অন্যান্য ধর্মের তুলনায় ইসলাম ত্যাগের চেয়ে ইসলাম গ্রহণের হার জ্যামিতিক হারে বাড়ছে, একই সাথে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে অন্য ধর্মে চলে যাওয়ার প্রবণতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

বিগত কয়েক বছরের সরকারি গেজেট ডেটা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করলে এই জনতাত্ত্বিক পরিবর্তনের স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়।

কেরালা সরকারের অফিসিয়াল গেজেটের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে ইসলাম ধর্ম ত্যাগকারীদের সংখ্যার চেয়ে নতুন করে এই বিশ্বাসের ছায়াতলে আসা মানুষের সংখ্যা বহুগুণ বেশি।

সময়ের সাথে সাথে এই ব্যবধান আরও প্রকট ও শক্তিশালী রূপ ধারণ করেছে। ২০২০ সালের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সে বছর কেরালায় মাত্র ৪০ জন ব্যক্তি ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করেছিলেন।

কিন্তু এর বিপরীতে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধর্মীয় আদর্শ থেকে ১৪৪ জন নতুন বিশ্বাসী ইসলামে প্রবেশ করেন—যা ত্যাগের তুলনায় গ্রহণের হার প্রায় সাড়ে তিন গুণেরও (৩.৬ গুণ) বেশি ছিল।

এই নবাগতদের সিংহভাগই (৭৭%) এসেছিলেন হিন্দু সম্প্রদায় থেকে, যার মধ্যে একটি বড় অংশ (৬৩%) ছিলেন নারী।

বিশেষভাবে ইঝাভা, থিয়্যা এবং নায়ারের মতো প্রতিষ্ঠিত হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষেরাই বেশি সংখ্যায় ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।

চার বছরের ব্যবধানে, ২০২৪ সালের সাম্প্রতিক গেজেট ডেটাতে এই প্রবণতা আরও নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেতে দেখা যায়।

২০২৪ সালে কেরালায় মোট ৫৭ জন ব্যক্তি ইসলাম ত্যাগ করলেও (৩৬ জন হিন্দু ধর্মে এবং ২১ জন খ্রিষ্ট ধর্মে), তার বিপরীতে সম্পূর্ণ ভিন্ন আদর্শ থেকে রেকর্ড সংখ্যক ৩৪৩ জন মানুষ (২৭৬ জন হিন্দু এবং ৬৭ জন খ্রিষ্টান) নতুন করে ইসলাম গ্রহণ করেছেন।

এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই বছর কেরালায় ইসলাম ত্যাগের তুলনায় ইসলাম গ্রহণের অনুপাতিক হার প্রায় ৬ গুণ (৬.০১ গুণ) বেশি।

নিট পরিবর্তনের এই বিশাল ব্যবধান প্রমাণ করে যে, কেরালায় ধর্মীয় রূপান্তরের ক্ষেত্রে ইসলামই সবচেয়ে বড় ইতিবাচক ও স্থিতিশীল অবস্থান ধরে রেখেছে।

ইসলামের এই রকেটের গতিতে বৃদ্ধির বিপরীতে হিন্দু ধর্মের ক্ষেত্রে পরিসংখ্যানটি বেশ উদ্বেগজনক।

ডেটা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কেরালায় হিন্দু ধর্ম গ্রহণের চেয়ে হিন্দু ধর্ম ত্যাগের (অন্য ধর্মে চলে যাওয়ার) হার ও সংখ্যা দিন দিন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

২০২০ সালের তথ্যে দেখা যায়, কেরালায় ২৪১ জন ব্যক্তি অন্য ধর্ম থেকে হিন্দু ধর্মে দীক্ষিত হয়েছিলেন।

তবে এই ধর্মান্তরের ভেতরের চিত্রটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। সরকারি পরিসংখ্যান মতে, হিন্দু ধর্মে আসা এই ব্যক্তিদের মধ্যে ৭২% মানুষই ছিলেন মূলত দলিত খ্রিষ্টান (যেমন—খ্রিষ্টান চেরামার, খ্রিষ্টান সাম্বাভা এবং খ্রিষ্টান পুলায়া)।

তারা মূলত খ্রিষ্টান ধর্মে স্থানান্তরিত হওয়ার কারণে দলিতদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি কোটা বা রিজার্ভেশন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন।

ফলে কেবল সেই আইনি ও অর্থনৈতিক সুবিধা ফিরে পেতেই তারা কাগজে-কলমে পুনরায় হিন্দু ধর্মে ফিরে আসতে বাধ্য হন।

অর্থাৎ, এটি কোনো আত্মিক আকর্ষণে নয়, বরং রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার একটি কৌশলগত বাধ্যবাধকতা ছিল মাত্র।

অন্যদিকে, সে বছর ইসলাম থেকে হিন্দু ধর্মে এসেছিলেন মাত্র ৩২ জন।

কিন্তু ২০২৪ সালের কেরালা স্টেট গেজেটের ডেটায় হিন্দু ধর্ম ত্যাগের এক অভাবনীয় ও ব্যাপক চিত্র সামনে এসেছে, যেখানে হিন্দু ধর্মে আসার চেয়ে তা ছেড়ে যাওয়ার হার অনেক বেশি।

২০২৪ সালে অন্য ধর্ম (ইসলাম ও খ্রিষ্টান) থেকে হিন্দু ধর্মে এসেছেন সর্বমোট ৩৬৫ জন (যার মধ্যে খ্রিষ্টান থেকে ৩২৯ জন এবং ইসলাম থেকে মাত্র ৩৬ জন)।

এর বিপরীতে, ২০২৪ সালে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে অন্য ধর্মে চলে গেছেন রেকর্ড সংখ্যক ৫১০ জন মানুষ!

তার মধ্যে সরাসরি ইসলাম গ্রহণ করেছেন ২৭৬ জন এবং খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেছেন ২৩৪ জন।

অর্থাৎ, চার বছরের ব্যবধানে ইসলাম ত্যাগ করে হিন্দু ধর্ম গ্রহণের সংখ্যা প্রায় স্থিতিশীল (২০২০ সালে ৩২ জন এবং ২০২৪ সালে ৩৬ জন) থাকলেও, হিন্দু ধর্ম থেকে সরাসরি ইসলাম গ্রহণের হার দ্বিগুণেরও বেশি (২০২০ সালে ১১১ জন থেকে ২০২৪ সালে ২৭৬ জন) বৃদ্ধি পেয়েছে।

সামগ্রিক সরকারি গেজেট ও পরিসংখ্যানের এই তুলনামূলক চিত্রটি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় প্রমাণ করে যে, কেরালায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার প্রবণতা শুধু বজায়-ই নেই, বরং তা নাটকীয় গতিতে বৃদ্ধির দিকে যাচ্ছে।

অন্যদিকে, হিন্দু ধর্মে ফেরার বিষয়টি অনেকাংশে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও কোটা ব্যবস্থার আইনি মারপ্যাঁচের সাথে যুক্ত হলেও, স্বতঃস্ফূর্তভাবে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ও অন্যান্য ধর্মে চলে যাওয়ার হার সমাজ ও জনমিতির জন্য একটি শক্তিশালী ও বাস্তব পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সূত্র: নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস/নিউজলন্ড্রি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%