০৫:৪৬ পি.এম
গত এক শতাব্দী ধরে অনুষ্ঠিত ২২টি টুর্নামেন্টের হাজারো ফুটবলারের মধ্য থেকে সেরা ১০ জন কিংবদন্তি বেছে নেওয়া যেকোনো ফুটবল বিশ্লেষকের জন্য এক কঠিন পরীক্ষা। জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা, ব্রাজিলের গারিঞ্চা, ইতালির রবার্তো বাজ্জো বা এক টুর্নামেন্টে ১৩ গোল করা ফ্রান্সের জা ফন্টেইন; এমন আরও অনেক নামই হয়তো এই সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা পায়নি। তবে ফুটবল ইতিহাসের পাতা উল্টে বিশ্বকাপ মঞ্চে নিজেদের অমর করে রাখা এমন ১০ জন মহাতারকাকে নিয়েই সাজানো হয়েছে এই প্রতিবেদন, যাঁরা ফুটবল মহোৎসবে সবচেয়ে বেশি দ্যুতি ছড়িয়েছেন।
তালিকার শুরুতেই ইংল্যান্ডের স্যার জিওফ হার্স্টের কথা বলতে হয়। ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে চোট পাওয়া তারকা স্ট্রাইকার জিমি গ্রিভসের জায়গায় খেলতে নেমে ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে অবিশ্বাস্য একটি হ্যাটট্রিক করেন। তার সেই কীর্তিতে ভর করে ইংল্যান্ড একমাত্র বিশ্বকাপটি জিতেছিল। এরপর ব্রাজিলের কাফুর কথা আসে, যিনি ফুটবল ইতিহাসের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে টানা তিনটি বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলার অনন্য নজির সৃষ্টি করেছেন। ১৯৯৪ ও ২০০২ সালের বিশ্বজয়ী এই রাইট-ব্যাক সেলেসাওদের রক্ষণ ও আক্রমণের মূল চালিকাশক্তি ছিলেন।
১৯৮২ সালের ইতালিকে বিশ্বকাপ জেতাতে পাওলো রসি যা করেছিলেন, তা সত্যিই ফুটবল ইতিহাসে একটি রূপকথার মতো। ম্যাচ ফিক্সিংয়ের নিষেধাজ্ঞা থেকে ফিরে সেবার আরো অন্যান্য দলের বিপক্ষে গোল করে তিনি টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতে নেন, এই পেনাল্টি বক্সের রাজা। ফরাসি ফুটবলের জাদুকর জিনেদিন জিদানও আছেন এই মহাতারকাদের কাতারে। ১৯৯৮ সালে ঘরের মাঠে ব্রাজিলকে ফাইনালে দুটি গোল দিয়ে ট্রফি এনে দেওয়া এবং ফরাসি বহুত্ববাদী সংস্কৃতির প্রতীক হয়ে ওঠা জিদান ২০০৬ সালের ফাইনালে লাল কার্ডের ট্র্যাজেডি সত্ত্বেও অনেক প্রতিধ্বনি সৃষ্টি করেছেন।
আরও পড়ুন: জামায়াত নেতাদের ভারতীয় গোয়েন্দাদের সঙ্গে বৈঠকের দাবি, রাশেদকে চ্যালেঞ্জ
অন্যদিকে, মাত্র ২৭ বছর বয়সেই নিজের নাম এই কিংবদন্তিদের তালিকায় গ্রহণ করেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ২০১৮ সালে কিশোর বয়সে পেলের পর ফাইনালে গোল করার কৃতিত্ব এবং ২০২২ সালের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন, বিশ্বকাপের মঞ্চেই তাঁর সেরা রূপটি দেখা যায়। ফুটবলের সম্রাটদের ভিড়ে জার্মানির 'কাইজার' ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার নামও উল্লেখযোগ্য। ১৯৭৪ সালে অধিনায়ক হিসেবে ক্রুইফের টোটাল ফুটবলকে রুখে দিয়ে বিশ্বকাপ জেতার পর, ১৯৯০ সালে কোচ হিসেবেও জার্মানিকে বিশ্বসেরা করেছেন এই ডেকোরাম ও রক্ষণভাগের মহাতারকা।
বর্তমান প্রজন্মের অন্যতম সেরা এবং অনেকের মতে সর্বকালের সেরা লিওনেল মেসি নিজের পঞ্চম বিশ্বকাপে এসে বৃত্ত সম্পূর্ণ করেছেন। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে হারের ধাক্কা সামলাতে পেরে, নকআউট পর্বের প্রতিটি ম্যাচে গোল করে এবং ফাইনালে জোড়া গোল করে আর্জেন্টিনাকে ৩৬ বছর পর সোনালি ট্রফি এনে দেন। আর ব্রাজিলের রোনালদো নাজারিও হলেন এক চরম নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের গল্প বলার মতো। ১৯৯৮ সালের ফাইনালে রহস্যময় অসুস্থতার কারণে ট্রফি হাতছাড়া হওয়া সত্ত্বেও, ২০০২ সালে চোট কাটিয়ে ফিরে ৮ গোল করে ব্রাজিলকে পঞ্চম বিশ্বকাপ জিতিয়ে দেন এই ফেনোমেনন।
আর ফুটবল বিশ্বকাপের রোমাঞ্চ ও উন্মাদনা যার নামের সাথে সবচেয়ে বেশি জড়িত, তিনি দিয়াগো আরমান্দো ম্যারাডোনা। ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর বিখ্যাত 'হ্যান্ড অব গড' এবং মাঝমাঠ থেকে একক নৈপুণ্যে করা 'শতাব্দীর সেরা গোল' ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত অধ্যায়। সেই বিশ্বকাপে তিনি ৫ গোল ও ৫ অ্যাসিস্ট করে একাই আর্জেন্টিনাকে চ্যাম্পিয়ন করেন, এমন একজন ফুটবল রাজপুত্র।
এবং সবার শীর্ষে যার নাম অবধারিতভাবেই চলে আসে, তিনি ফুটবলের রাজা পেলে। ফুটবল ইতিহাসের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে তিনটি ভিন্ন দশকে তিনটি বিশ্বকাপ জয়ের অনন্য কীর্তি তাঁর। ১৯৫৮ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে বিশ্বমঞ্চে আবির্ভূত হয়ে হ্যাটট্রিক এবং ফাইনালের জোড়া গোলে ব্রাজিলকে প্রথম ট্রফি এনে দেন। এরপর ১৯৭০ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে পেলের সেই শৈল্পিক ও নান্দনিক ফুটবল ব্রাজিলকে সর্বকালের অন্যতম সেরা দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। ফুটবল বিশ্বকাপ যতদিন থাকবে, পেলের এই শ্রেষ্ঠত্বও ততদিন অম্লান থাকবে।
আরও পড়ুন: গাজীপুরে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে গার্মেন্টস শ্রমিক কার্তিক নিহত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন