প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে ভূমি মন্ত্রণালয়ের জন্য মোট ২ হাজার ৪৩৯ কোটি ৪৬ লাখ ৮৩ হাজার টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে পরিচালন খাতে ১ হাজার ৬২৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা এবং উন্নয়ন খাতে ৮১০ কোটি ৫০ লাখ ৮৩ হাজার টাকা ব্যয় করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মঞ্জুরি ও বরাদ্দের দাবি সম্পর্কিত সরকারি নথি বিশ্লেষণ করে এই তথ্য জানা গেছে।
বাজেট নথির তথ্য অনুযায়ী, গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই মন্ত্রণালয়ের মোট বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৪০১ কোটি ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার টাকা। সেই তুলনায় নতুন অর্থবছরে ভূমি খাতে মোট বরাদ্দ বাড়ছে ৩৭ কোটি ১২ লাখ টাকা। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আবর্তক খাতে ১ হাজার ৮৬০ কোটি ৭১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা এবং মূলধন খাতে ৫৭৮ কোটি ৭৪ লাখ ৯৬ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
বাজেটে আগামী অর্থবছরে দেশের ভূমি সেবাকে শতভাগ জনবান্ধব করতে এবং আধুনিক ভূমি ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে বেশ কিছু বিশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ‘মৌজা ও প্লটভিত্তিক জাতীয় ডিজিটাল ভূমি জোনিং’ এবং ‘ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন’ প্রকল্প। এ ছাড়া স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ই-মিউটেশন (নামজারি) আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি, অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন করসহ অন্যান্য রাজস্ব দাবি নির্ধারণ ও আদায় কার্যক্রমকে আরো জোরদার করা হবে।
সামাজিক সুরক্ষার অংশ হিসেবে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসনের জন্য ‘গুচ্ছগ্রাম ৩য় পর্যায় প্রকল্প (ক্লাইমেট ভিকটিমস রিহ্যাবিলিটেশন)’ বাস্তবায়ন করা হবে।
এর মাধ্যমে দেশের ভূমিহীন, অতিদরিদ্র এবং নিম্নবিত্ত মানুষের পুনর্বাসন এবং তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে খাসজমি বন্দোবস্ত প্রদান করা হবে। একই সঙ্গে সেবাগ্রহীতাদের সুবিধার্থে সারা দেশে শহর ও ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণ ও মেরামতের কাজ অব্যাহত থাকবে।
আইনি জটিলতা ও ভোগান্তি কমাতে ভূমি সংক্রান্ত প্রচলিত আইন ও বিধি যুগোপযোগী করা, আদালতে ঝুলে থাকা ভূমি সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি এবং অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সীমানা বিরোধ নিরসনে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বরাদ্দের এই অর্থ দিয়ে ভূমিস্বত্ব ও মালিকানার তথ্য সংরক্ষণ, খতিয়ান হালনাগাদকরণ, মৌজা জরিপ ও ম্যাপ সার্ভারে সংরক্ষণ এবং অর্পিত ও পরিত্যক্ত সম্পত্তির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে, যা দেশের সামগ্রিক ভূমি ব্যবস্থাপনায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন