রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:২৯ পি.এম
কনটেন্ট নির্মাতা সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইফতেখার রাফসান, যিনি রাফসান দ্য ছোটভাই নামে পরিচিত। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে সালমানের দীর্ঘ পথচলার কথা উল্লেখ করে এই কঠিন সময়ে তার পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন।
শনিবার রাতে রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগ্রিনি প্রপার্টিজ এলাকায় সালমানের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর সালমান নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন, যেখানে স্টুডিওর বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুরের চিহ্ন দেখা যায়। ভিডিওতে দেখা যায়, চেয়ার, টেবিল, টেলিভিশনসহ বেশ কিছু আসবাব ও সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ সময় কয়েকজন কর্মীকেও কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়।
ঘটনার পর সালমানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে রাফসান তার সঙ্গে দীর্ঘদিনের পরিচয়ের কথাও বলেন। তিনি জানান, সালমানের ক্যারিয়ারের শুরুর সময় থেকেই তাকে অনুসরণ করছেন এবং পরে ব্যক্তিগতভাবে তাকে জানার সুযোগ হয়েছে। রাফসান বলেন, "সালমান শান্ত স্বভাবের একজন মানুষ এবং নিজের পরিশ্রমে অনেক দূর এগিয়েছেন।"
স্টুডিওটি গড়ে তুলতে সালমানের শ্রম, সময় ও ভালোবাসার কথা উল্লেখ করে রাফসান ভাঙচুরের ঘটনায় নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি একই সঙ্গে সালমানকে হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, "এই ঘটনা তার পথচলা থামিয়ে দিতে পারবে না।"
এদিকে, সালমানের স্টুডিওতে হামলার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও কয়েকজন তারকা ও কনটেন্ট নির্মাতা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তারা ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সালমানের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আশিকুর রহমান, যিনি জাপান নামে পরিচিত, তাকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থানকালে অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করা হয়।
আটক হওয়া আশিকুর রহমান ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার বসন্তপুর গ্রামের গোলাম আলীর পুত্র। তিনি ইবি ছাত্রলীগের সর্বশেষ আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে পরিচিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আশিকুর রহমান একটি হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি। ওই মামলার বিষয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তাকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে ঝিনাইদহ জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কর্মকর্তা মুরাদ হোসেন বলেন, ‘একটি হত্যা মামলার আসামি হিসেবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।’
তবে, আশিকুর রহমান কোন হত্যা মামলার আসামি, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেননি এই কর্মকর্তা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মা হওয়ার পর শরীর নিয়ে কটাক্ষের জবাব দিতে ‘মোটি’ (মোটা) লেখা ব্লাউজ পরিধান করেছেন বলিউড অভিনেত্রী স্বরা ভাস্কর। সন্তান জন্মের পর তার শারীরিক পরিবর্তন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন মন্তব্য করা হয়েছিল। এবার সেই কটাক্ষের শব্দগুলোকে নিজের প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে গ্রহণ করেছেন অভিনেত্রী।
সম্প্রতি ‘রাইজ অ্যান্ড ফল’ অনুষ্ঠানে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে স্বরা জানান, মা হওয়ার পর গত তিন বছর ধরে অপরিচিত ব্যক্তিদের কাছ থেকে তার শরীর নিয়ে নানা ধরনের কটাক্ষ শুনতে হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন জায়গায় তাকে নিয়ে করা হয়েছে বিভিন্ন মন্তব্য।
স্বরা বলেন, তাকে ‘মোটা’, ‘মহিষ’, ‘গরু’, ‘হিপ্পো’ ও ‘হাতি’ বলে কটাক্ষ করা হয়েছে। তবে এখন এসব শব্দে কষ্ট পাওয়ার পরিবর্তে তিনি সেগুলোকে নিজের মতো করে গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
অভিনেত্রীর ভাষায়, ‘আমি সবই হয়ে গেছি। এখন আপনাদের এসব শব্দ গ্রহণ করে নিজের করে নিচ্ছি।’
স্বরা আরো জানান, তার মেয়ে বর্তমানে তিন বছরের। মেয়ের জন্মের পর থেকেই অপরিচিত মানুষের কাছ থেকে এমন ট্রলের মুখোমুখি হচ্ছেন তিনি। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই অভিজ্ঞতার কথাই এবার প্রকাশ্যে তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী।
সন্তান জন্মের পর একজন নারীর শরীরে নানা স্বাভাবিক পরিবর্তন আসে। সেই পরিবর্তন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটাক্ষ বা মন্তব্য করা নিয়ে এর আগেও বিভিন্ন তারকা কথা বলেছেন। স্বরার ক্ষেত্রেও শরীর নিয়ে করা মন্তব্যের বিষয়টি বারবার সামনে এসেছে।
এবার ‘মোটি’ শব্দটিকেই নিজের পোশাকে তুলে ধরে ভিন্নভাবে জবাব দিয়েছেন স্বরা। হিন্দি ভাষায় ‘মোটি’ শব্দের অর্থ ‘মোটা’। যে শব্দটি তাকে কটাক্ষ করতে ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটিই নিজের প্রতিবাদের অংশ করেছেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের জন্য শিক্ষার্থীরা ষষ্ঠ দিনের মতো আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) তারা ‘৫৬?’ প্রতীকী প্রশ্নযাত্রা, ‘৫৬ কর্নার’ ও পথনাট্য কর্মসূচি পালন করেন। একই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কর্মবিরতি পালন করছেন।
সকাল ১০টা থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মবিরতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
দুপুর ২টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে ‘৫৬?’ প্রতীকী প্রশ্নযাত্রা শুরু হয়। চুয়েটের নয়টি আবাসিক হল থেকে শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেন। অনেক শিক্ষার্থীর হাতে ছিল লাল কাগজে বড় করে লেখা ‘৫৬?’। প্রশ্নযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে স্বাধীনতা চত্বর প্রদক্ষিণ করে পুনরায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।
কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা ‘দাবি মোদের একটাই, সায়েম স্যারকে ভিসি চাই’, ‘একটি নাম, একটি সুর—সায়েম স্যার, সায়েম স্যার’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা ‘৫৬?’ প্রতীকী প্রশ্নের মাধ্যমে মূলত মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় অধ্যাপক সায়েমকে উপাচার্যের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।
প্রশ্নযাত্রা শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ‘৫৬ কর্নার’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মোস্তফা খালিদ বিন শামস অধ্যাপক সায়েমের ৫৬ দিনের দায়িত্বকালে চুয়েটের আধুনিকায়নে নেওয়া ১২টি উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।
এরপর দুপুর ৩টার দিকে পথনাট্য শুরু হয়। এতে অধ্যাপক সায়েমকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া, নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের অনলাইনে যোগদান এবং গত কয়েক দিনের আন্দোলনের বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ ব্যঙ্গাত্মকভাবে তুলে ধরেন শিক্ষার্থীরা। উল্লেখ্য, ২৪ সেপ্টেম্বর আন্দোলনের মধ্যেই নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম অনলাইনে যোগদান করেন।
এদিকে, অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের কাজের প্রশংসা করে এবং তাঁর প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিশ্বের ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বিবৃতি দিয়েছেন বলে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ওই বিবৃতিতে অধ্যাপক সায়েমের নেতৃত্ব ও কর্মকাণ্ডের প্রতি সমর্থন জানানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের মতে, চুয়েটে অধ্যাপক সায়েমের স্বল্প সময়ের দায়িত্বকালেও বিভিন্ন উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এসব উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক একাডেমিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে তাঁকে পুনর্বহালের দাবি জানাচ্ছেন তারা। অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মবিরতি চলছে। ফলে টানা কয়েক দিনের আন্দোলনে চুয়েটের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গত ১৯ আগস্ট কলকাতার ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের একটি বোর্ডিং হাউসে বিধ্বংসী আগুনের কারণে ৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর নিউ মার্কেট এবং সংলগ্ন বাণিজ্যিক অঞ্চলে এর প্রভাব পড়েছে। অগ্নিকাণ্ডের ফলে এলাকার হোটেল, লজ ও গেস্ট হাউসগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশি পর্যটক ও ক্রেতাদের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। এর ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা চরম বিপাকে পড়েছেন।
রোববার টাইমস অব ইন্ডিয়ার একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আগস্টের প্রথমার্ধের তুলনায় বর্তমানে নিউ মার্কেট ও আশেপাশের প্রায় ৫,০০০ পোশাক, প্রসাধনসামগ্রী, লাগেজ, ড্রাই ফ্রুটস এবং চকোলেটের দোকান সম্মিলিতভাবে দৈনিক প্রায় ১ কোটি রুপি লোকসান গুণছে।
চলতি বছরের জুন মাসের শেষে ভারত সরকার বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পুনরায় পর্যটন ভিসা চালু করার পর এই দোকানগুলোতে বিক্রির পরিমাণ কিছুটা বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ড এবং তার পরপরই হোটেলগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত সেই পুনরুদ্ধারের আশা নষ্ট করে দিয়েছে।
গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে নিউ মার্কেট, হুমায়ুন প্লেস, বার্টরাম স্ট্রিট, লিন্ডসে স্ট্রিট এবং ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের দোকানগুলো প্রধানত বাংলাদেশি ক্রেতাদের ওপর নির্ভর করে টিকে ছিল। মোট ক্রেতার অর্ধেকেরও বেশি এবং বিক্রয়ের প্রায় ৬০ শতাংশই বাংলাদেশ থেকে আসত।
২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সাবেক স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পলায়নের আগে নিউ মার্কেটের 'বি' ব্লকে পোশাক সামগ্রী বিক্রির দোকান 'আম্রপালী'র প্রায় ৬০ শতাংশ গ্রাহক বাংলাদেশি ছিলেন।
'আম্রপালী'র স্বত্বাধিকারী মনোজ আদওয়ানি বলেন, “দীর্ঘ দুই বছর বন্ধ থাকার পর যখন পুনরায় পর্যটন ভিসা দেওয়া শুরু হলো, তখন ক্রেতারা আস্তে আস্তে ফিরতে শুরু করেছিলেন। কয়েক সপ্তাহ আগে আমাদের মোট ক্রেতার প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বাংলাদেশি ছিলেন। কিন্তু বাধ্য হয়ে হোটেলগুলো বন্ধ করে দেওয়ায় বাংলাদেশিরা অন্য এলাকায় চলে গেছেন, অথবা দেশে ফিরে গেছেন। এখন আমাদের দোকানে বাংলাদেশি ক্রেতার সংখ্যা ৫ শতাংশেও নিচে নেমে এসেছে।”
'মানসা শাড়ী'র তরুণ ইসরানি জানান, তার দোকানের মোট ব্যবসার প্রায় ৭০ শতাংশই বাংলাদেশি ক্রেতাদের কাছ থেকে আসত। “আমরা মূলত তাদের পছন্দের ওপর ভিত্তি করেই শাড়ির স্টক রাখতাম। বাংলাদেশে রাজনৈতিক পট পরিবর্তন ও শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর তা নেমে এসেছিল ১৫ শতাংশে। ভিসা চালু হওয়ার পর বিক্রি আবার কিছুটা বেড়ে ২৫ শতাংশে পৌঁছেছিল। কিন্তু অগ্নিকাণ্ড ও হোটেল বন্ধের পর এক সপ্তাহ আগে তা নেমে আসে ১০ শতাংশে, আর এখন তা দ্রুত শূন্যের দিকে যাচ্ছে।”
একইভাবে সালোয়ার স্যুট বিক্রেতা 'ফ্যান্সি বুটিক'-এর মালিক অমিত সাহা জানান, মন্দা শুরুর আগে তার দোকানের প্রায় ৮০ শতাংশ ক্রেতাই বাংলাদেশি ছিলেন। ধাক্কা সামলে ভিসা চালুর পর তা ১৫ শতাংশে উঠলেও এখন তা প্রায় শূন্যে এসে ঠেকেছে।
নিউ মার্কেটের ২,৭০০টি দোকানের মধ্যে প্রায় ১,৫০০টি দোকানে বাংলাদেশি গ্রাহকদের যাতায়াত সবচেয়ে বেশি—বিশেষ করে পোশাক, প্রসাধন সামগ্রী, ভ্রমণের ব্যাগ, চকোলেট, ড্রাই ফ্রুটস এবং মশলার দোকানে। এছাড়া লিন্ডসে স্ট্রিট, হুমায়ুন প্লেস, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট এবং মারকুইস স্ট্রিটের প্রায় ৩,৫০০ থেকে ৪,০০০টি দোকানও মূলত বাংলাদেশি ক্রেতাদের ওপর নির্ভরশীল।
'এস এস হগ মার্কেট ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন'-এর সাধারণ সম্পাদক উদয় কুমার সাহু বলেন, “২০২৪ সালের জুনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার আগে এই অঞ্চলের একটি দোকানে দৈনিক গড় বিক্রি ছিল প্রায় ১৫,০০০ রুপি। এখানকার ৫,০০০ থেকে ৫,৫০০টি দোকানে প্রতিদিন মোট ব্যবসা হতো প্রায় ৮ কোটি রুপি। এর মধ্যে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ ব্যবসাই দিতেন বাংলাদেশিরা, যার পরিমাণ ছিল প্রতিদিন প্রায় ৪.৮ কোটি রুপি।”
বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এখানকার গড় দৈনিক বিক্রি কমে দাঁড়ায় প্রায় ৬,০০০ রুপি। ফলে গোটা এলাকার দৈনিক লেনদেন ৮ কোটি রুপি থেকে কমে মাত্র ৩ কোটি রুপিতে নেমে আসে। জুন মাসের শেষে ভারতীয় ভিসা দেওয়া শুরু হলে দৈনিক গড় বিক্রি বেড়ে ৮,০০০ রুপি দাঁড়ায় এবং প্রতিদিনের ১ কোটি রুপি আয়ের প্রায় ২০ শতাংশই আসছিল বাংলাদেশিদের কাছ থেকে।
ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিক্রি আবার আগের মতো দৈনিক ৬,০০০ রুপি নেমে এসেছে এবং বাংলাদেশি ক্রেতাদের পক্ষ থেকে সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না বললেই চলে।
উদয় কুমার সাহু আরও জানান, “যারা কেনাকাটা করতে এসেছিলেন তারা সবাই দেশে ফিরে গেছেন। আর যারা চিকিৎসার কাজে এসেছিলেন এবং হাসপাতালে যাওয়ার ফাঁকে ফাঁকে কেনাকাটা করতেন, তারা মুকুন্দপুর ও সল্টলেকের দিকে চলে গেছেন। কেনাকাটা করার জন্য অত দূর থেকে কষ্ট করে তারা আর এই অঞ্চলে আসবেন না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ