প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের জন্য শিক্ষার্থীরা ষষ্ঠ দিনের মতো আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) তারা ‘৫৬?’ প্রতীকী প্রশ্নযাত্রা, ‘৫৬ কর্নার’ ও পথনাট্য কর্মসূচি পালন করেন। একই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কর্মবিরতি পালন করছেন।
সকাল ১০টা থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মবিরতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
দুপুর ২টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে ‘৫৬?’ প্রতীকী প্রশ্নযাত্রা শুরু হয়। চুয়েটের নয়টি আবাসিক হল থেকে শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেন। অনেক শিক্ষার্থীর হাতে ছিল লাল কাগজে বড় করে লেখা ‘৫৬?’। প্রশ্নযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে স্বাধীনতা চত্বর প্রদক্ষিণ করে পুনরায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।
কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা ‘দাবি মোদের একটাই, সায়েম স্যারকে ভিসি চাই’, ‘একটি নাম, একটি সুর—সায়েম স্যার, সায়েম স্যার’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা ‘৫৬?’ প্রতীকী প্রশ্নের মাধ্যমে মূলত মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় অধ্যাপক সায়েমকে উপাচার্যের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।
প্রশ্নযাত্রা শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ‘৫৬ কর্নার’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মোস্তফা খালিদ বিন শামস অধ্যাপক সায়েমের ৫৬ দিনের দায়িত্বকালে চুয়েটের আধুনিকায়নে নেওয়া ১২টি উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।
এরপর দুপুর ৩টার দিকে পথনাট্য শুরু হয়। এতে অধ্যাপক সায়েমকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া, নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের অনলাইনে যোগদান এবং গত কয়েক দিনের আন্দোলনের বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ ব্যঙ্গাত্মকভাবে তুলে ধরেন শিক্ষার্থীরা। উল্লেখ্য, ২৪ সেপ্টেম্বর আন্দোলনের মধ্যেই নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম অনলাইনে যোগদান করেন।
এদিকে, অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের কাজের প্রশংসা করে এবং তাঁর প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিশ্বের ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বিবৃতি দিয়েছেন বলে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ওই বিবৃতিতে অধ্যাপক সায়েমের নেতৃত্ব ও কর্মকাণ্ডের প্রতি সমর্থন জানানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের মতে, চুয়েটে অধ্যাপক সায়েমের স্বল্প সময়ের দায়িত্বকালেও বিভিন্ন উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এসব উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক একাডেমিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে তাঁকে পুনর্বহালের দাবি জানাচ্ছেন তারা। অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মবিরতি চলছে। ফলে টানা কয়েক দিনের আন্দোলনে চুয়েটের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা অব্যাহত রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন