০৫:৩৮ পি.এম
ঝিনাইদহের চারটি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের জন্য সুদৃশ্য বহুতল ভবন নির্মিত হয়েছে। কক্ষগুলোর মধ্যে দামি চিকিৎসা সরঞ্জাম, শয্যা ও জেনারেটর রয়েছে। এমনকি স্বাস্থ্যকর্মীদের থাকার জন্য প্রস্তুত ডরমেটরিও রয়েছে। তবে, যাদের জন্য এত আয়োজন, সেই ডাক্তারদের পদ বছরের পর বছর খালি রয়েছে।
প্রয়োজনীয় চিকিৎসকের অভাবের কারণে ঝিনাইদহের চারটি ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র আট বছর পেরিয়ে গেলেও পূর্ণাঙ্গ সেবা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। সরকারের কোটি কোটি টাকার অবকাঠামো পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। চিকিৎসা না পেয়ে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসচ্ছল গর্ভবতী নারী ও শিশুরা।
তথ্য অনুযায়ী, গ্রামীণ মানুষের দোরগোড়ায় মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ঝিনাইদহের শৈলকুপার দুধসর ও কাঁচেরকোল গ্রাম, সদর উপজেলার দক্ষিণ কাষ্টসাগরা এবং কালীগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় এসব হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়।
আরও পড়ুন: গোবিন্দগঞ্জে দোকানিকে অপহরণ করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ: দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার দাবি বিদ্যুতের
২০১৮ সালে কেন্দ্রগুলোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হলেও চিকিৎসক না থাকায় সরকারের এই জন কল্যাণ মুখী উদ্যোগ ভেস্তে গেছে। প্রসবকালীন জরুরি সেবা কিংবা সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের জন্য দরিদ্র মানুষকে অতিরিক্ত অর্থ ও সময় ব্যয় করে জেলা বা উপজেলা সদরের দূরবর্তী হাসপাতালে যেতে হচ্ছে।
কালীগঞ্জের ভুক্তভোগী বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে ভবন ও অবকাঠামো তৈরি করা হলেও চিকিৎসক ও জনবলের অভাবে তা তালাবদ্ধ বা নামমাত্র অবস্থায় পড়ে আছে।" গরিব মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত এসব কেন্দ্রে চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ মোজাম্মেল করিম বুধবার বিকালে জানান, কেন্দ্রগুলো নিয়মিত চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সংকট নিরসনে প্রতিটি কেন্দ্রে দুজন করে নতুন চিকিৎসক নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে অবহেলিত জনপদে স্বাস্থ্যসেবার মান বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
আরও পড়ুন: ঈশ্বরদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন