০৩:৫৩ এম
ওজন কমাতে অনেকেই ভাত, মিষ্টি বা তেলযুক্ত খাবার কমিয়ে দেন। কিন্তু শুধুমাত্র কী খাচ্ছেন, সেটিই নয়—কীভাবে খাচ্ছেন, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ধীরে ধীরে এবং মনোযোগ দিয়ে খাওয়ার অভ্যাস ওজন নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, খাদ্য খাওয়ার পর পাকস্থলী থেকে মস্তিষ্কে পেট ভরে যাওয়ার সংকেত পৌঁছাতে প্রায় ২০ মিনিটের মতো সময় প্রয়োজন। এর ফলে যদি খুব দ্রুত খাওয়া হয়, তাহলে মস্তিষ্ক বুঝে ওঠার আগেই অনেক বেশি খাবার খেয়ে ফেলা হয়। যার ফলে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি জমা হতে শুরু করে এবং ওজন বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
খাদ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্তত ২০ মিনিট অথবা তার বেশি সময় নিয়ে খেলে খাবার ভালোভাবে হজম হয়। এটি দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সহায়তা করে এবং অকারণে খাবার খাওয়ার প্রবণতাও কমে যায়।
আরও পড়ুন: গোপালগঞ্জে শিশু তালহা হত্যা মামলায় দুইজনের মৃত্যুদণ্ড, একজনের যাবজ্জীবন
বিশেষজ্ঞরা দেখেছেন, দ্রুত খাওয়ার সময় বেশিরভাগ মানুষ খাবার ভালোভাবে চিবান না। এর ফলে বড় বড় খাবারের অংশ পাকস্থলীতে পৌঁছে হজমের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। পাশাপাশি বাতাস গিলে ফেলার কারণে গ্যাস, পেট ফাঁপা, অম্লভাব এবং বুক জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বিভিন্ন গবেষণায় আরও দেখা গেছে, দ্রুত খাওয়ার অভ্যাস স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে অতিরিক্ত শর্করা, পেটের চর্বি এবং অস্বাভাবিক কোলেস্টেরলের ঝুঁকি বাড়ায়। এসব কারণে হৃদরোগ, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং দ্বিতীয় ধরনের ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে।
গবেষণায় আরও বিশ্লেষণ করা হয়েছে যে, যারা ধীরে ধীরে খান, তাদের শরীরে এমন হরমোন বেশি নিঃসৃত হতে দেখা যায়, যা দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকার অনুভূতি তৈরি করে। তাই অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে আসে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হচ্ছে, প্রতিটি লোকমা ভালোভাবে চিবিয়ে খাওয়া উচিত। খাবার মুখে নেওয়ার পর চামচ বা হাত কিছুক্ষণ নামিয়ে রাখা, ছোট ছোট লোকমা খাওয়া এবং অন্তত আধা ঘণ্টা সময় নিয়ে খাবার শেষ করার চেষ্টা করলে ধীরে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে ওঠে।
আরও পড়ুন: যৌবন ধরে রাখতে রেড লাইট থেরাপি নিচ্ছেন সানিয়া মির্জা
এছাড়া খাবার খাওয়ার সময় মোবাইল, টেলিভিশন বা অন্যদিকে মনোযোগ না দিয়ে শুধুমাত্র খাবারের স্বাদ, গন্ধ এবং গঠনের দিকে মনোযোগ দেওয়ার ওপর বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেছেন। এর ফলে খাবার উপভোগ করার পাশাপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওজন কমাতে শুধু খাবারের ধরন পরিবর্তন নয়, ধীরে এবং সচেতনভাবে খাওয়ার অভ্যাসও হতে পারে সুস্থ থাকার একটি সহজ এবং কার্যকর উপায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন