প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
উন্নত জীবনের প্রত্যাশায় ইতালি যাওয়ার স্বপ্ন ছিল ফেনীর দাগনভূঞার বাসিন্দা ফরিদুর রহমান বুলবুলের (৩২)।
দালালের কথায় বিশ্বাস করে তিনি ১৮ লাখ টাকা দিয়ে বিমানে সরাসরি ইতালি যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।
কিন্তু সেই যাত্রা শেষ হয়ে যায় ইউরোপের পথে, হাঙ্গেরির এক হাসপাতালে।
কিছু দিন আগে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
রোববার (১৯ জুলাই) পুলিশ সদর দপ্তরের মাধ্যমে দাগনভূঞা থানার পুলিশ এই খবরে তার পরিবারকে অবত্যিল করেছে।
ফরিদুর রহমান বুলবুল দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের পূর্ব বারাহীগুনী এলাকার সফি ডাক্তার বাড়ির মৃত মফিজুর রহমানের সেজো ছেলে।
তিনি সাত বছর আগে চাচাতো বোন কহিনুর আক্তার পলিকে বিয়ে করেন।
তাদের সংসারে পাঁচ বছরের একমাত্র কন্যাসন্তান ফারিহা রয়েছে।
বর্তমান কহিনুর ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
স্বামীর মৃত্যুর খবর পেয়ে পরিবার ও পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্বজনদের আহাজারিতে গুমোট হয়ে উঠেছে বাড়ির পরিবেশ।
পারিবারিক সদস্যরা জানান, বুলবুল আগে সৌদি আরবে একটি আবাসিক হোটেলে কাজ করতেন।
প্রায় এক বছর আগে দেশে ফিরে উন্নত জীবনের আশায় তিনি ইতালি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
এই সময় ফেনী শহরের বিরিঞ্চি এলাকার বাসিন্দা মো. দুলালের সঙ্গে পরিচয় ঘটে।
অভিযোগ রয়েছে, দালাল হিসেবে কাজ করেন দুলাল ইউরোপে লোক পাঠানোর।
কিছু আলোচনা শেষে ১৮ লাখ টাকার বিনিময়ে বুলবুলকে ইতালি পাঠানোর জন্য একটি চুক্তি হয়।
বিভিন্ন সময়ে চেক ও নগদে তার কাছ থেকে পুরো টাকা নিতে বিবরণ পাওয়া যায়।
বুলবুলের মেজো ভাই কাজী মোহাম্মদ বাবুল জানান, বুলবুল ১৬ জুন ইতালির উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন।
তাদেরকে সরাসরি বিমানে ইতালি নেওয়ার কথা থাকলেও প্রথমে দুবাই নেয়া হয় সংযুক্ত আরব আমিরাতে।
এরপর পূর্ব ইউরোপের সার্বিয়া ও নর্থ মেসিডোনিয়া হয়ে সড়কপথে হাঙ্গেরিতে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে জঙ্গলের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।
পরবর্তীতে গুরুতর অবস্থায় স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি হন এবং কিছু দিন আগে তার মৃত্যু হয়।
বুলবুলের ছোট ভাই কাজী নজরুল ইসলাম জানান, ২৪ জুন বুলবুলের সঙ্গে তার শেষ কথা হয়।
সেদিন বুলবুল বলেন, দালাল মো. দুলাল তাকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি।
বিমান পথে সরাসরি ইতালি পৌঁছে দেওয়ার কথা হলেও, পরে বাস ও ট্রেনে যাওয়ার কথা বলা হয়।
২৬ জুন আবারও তারা দুই ভাই বুলবুলের ইমো নম্বরে একাধিকবার কল করেন, তবে তিনি অনলাইনে থাকলেও ফোন ধরেননি।
তারপর থেকে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।
সে কারণে, তারা চান যে যেভাবেই হোক, আমার ভাইয়ের মরদেহ যেন দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
এছাড়া এই ঘটনার জন্য দায়ী দালালের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন।
এদিকে, ২৮ জুন ভাইয়ের খোঁজ নিতে ফেনীতে দুলালের বাড়িতে যান নজরুল।
কিন্তু সে দিনেও তাকে সঠিক কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
বরং এক সপ্তাহ পর যেতে বলা হয়।
পরে দুলাল জানান, বুলবুল অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে রয়েছেন।
নজরুল ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করলে দুলাল বলেন, ‘‘এখন কথা বলা যাবে না, কয়েক দিনের মধ্যে বাসায় নেওয়া হলে কথা বলা যাবে।’'
এরপর থেকে দুলালের সঙ্গে পরিবারের আর যোগাযোগ হয়নি।
শেষ পর্যন্ত, রোববার (২১ জুলাই) সকালে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রথমে পরিবারের নম্বরে ফোন করে বুলবুল সম্পর্কে কিছু তথ্য জানতে চাওয়া হয়।
তার বোন ফোন ধরলে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়, তিনি হাসপাতালে আছেন।
কিছু ঘণ্টা পর দাগনভূঞা থানার একটি পুলিশ দল বাড়িতে গিয়ে পরিচয় যাচাইয়ের কাগজপত্র সংগ্রহ করে।
এবং তখনই পরিবার নিশ্চিতভাবে জানতে পারে, বুলবুল আর বেঁচে নেই।
দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহীদুল ইসলাম বলেন, ‘‘আপনার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারলাম। পরিবারকে খোঁজ নেব। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।’’
এ ব্যাপারে দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম বলেন, ‘‘ফরিদুর রহমানের মরদেহ বর্তমানে হাঙ্গেরিতে রয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে তার ঠিকানা যাচাই করতে বলা হয়েছিল।
সেই অনুযায়ী পুলিশ সদস্যরা বাড়িতে গিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করেন এবং পরিবারকে এই বিষয়ে অবহিত করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন