০৪:২০ এম
ব্যাচেলর হিসেবে ঢাকায় বাসা খোঁজা অনেক ব্যক্তির জন্য একটা বিরাট ভোগান্তি তো বটেই। পছন্দসই লোকেশন এবং ভাড়া মিলে গেলেও শেষের দিকে শুধুমাত্র ‘ব্যাচেলর’ পরিচয়ের কারণে অনেক বাড়িওয়ালা বাসা ভাড়া দিতে রাজি হন না। ফলে শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবী উভয় শ্রেণির ব্যাচেলরদের বাসা খুঁজতে বাড়তি শ্রম ও সময় ব্যয় করতে হয়।
তবে কিছু কৌশল গ্রহণ করলে এই সমস্যার পরিমাণ অনেকটাই কম করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রথমত এমন ভবন বা এলাকায় খোঁজ নেওয়া উচিত যেখানে আগে থেকেই ব্যাচেলর ভাড়াটিয়া আছেন। সহকর্মী, বন্ধু, সিনিয়র বা পরিচিতদের মাধ্যমে এ ধরনের তথ্য পেলে বাসা পাওয়ার সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পায়।
বাসা খোঁজার সময় ভবনের দারোয়ান বা নিরাপত্তাকর্মীরাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে কোন বাসায় ‘টু-লেট’ সাইনবোর্ড না থাকলেও, কোন ফ্ল্যাট খালি হবে বা কোন বাড়িওয়ালা ব্যাচেলরদের জন্য ভাড়া দেন, এসব তথ্য তাদের কাছ থেকেই জানা যায়।
আরও পড়ুন: দুই সন্তানকে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যা, ওড়না পেঁচিয়ে
একই এলাকায় একাধিক ‘টু-লেট’ বিজ্ঞাপন দেখলে প্রতিটি নম্বরের ছবি তুলে রাখা উচিত। পরে ফোন করে শুরুতেই জানতে হবে ব্যাচেলর ভাড়া দেওয়া হবে কি না। এতে অপ্রয়োজনীয়ভাবে এক ভবন থেকে আরেক ভবনে ঘোরাঘুরি করার প্রয়োজন কমে যাবে।
মাসের শেষের দিকে বাসা খোঁজার সুযোগ তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। কারণ এই সময়ে অনেক ভাড়াটিয়া বাসা ছাড়েন এবং নতুন ভাড়াটিয়া নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়। তাই প্রয়োজনের কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই বাসা খোঁজার কার্যক্রম শুরু করা উচিত।
পরিচিত কারো মাধ্যমে বাড়িওয়ালার সঙ্গে যোগাযোগ করলে আস্থা তৈরি সহজ হয়। একই সঙ্গে কতজন থাকবেন, কোথায় পড়াশোনা বা চাকরি করেন এবং কতদিন থাকার পরিকল্পনা রয়েছে সে সব তথ্য স্পষ্টভাবে জানানো উচিত। শুধু ‘আমরা ভালো ব্যাচেলার’ বলার চেয়ে নির্দিষ্ট তথ্য এবং প্রয়োজন হলে পরিচয়পত্র বা রেফারেন্স প্রদান করাটা বেশি কার্যকর হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও পরামর্শ দিয়েছেন, বাসা পাওয়ার আশায় নিজের পরিচয় ‘ফ্যামিলি’ হিসেবে উপস্থাপন করা বা তথ্য গোপন করা উচিত নয়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে নতুন সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।
আরও পড়ুন: ককরোচদের মোকাবিলায় এবার ‘লাল হিট’
অনলাইনে বাসা খুঁজতে ‘বাসা ভাড়া’ লিখে সার্চ না করে এলাকার নামের সঙ্গে ‘ব্যাচেলর বাসা’, ‘সাবলেট’, ‘রুমমেট চাই’, ‘সিট ভাড়া’ বা ‘শেয়ারড ফ্ল্যাট’ লিখে খোঁজ করলে অধিক ফল পাওয়া যেতে পারে।
পুরো ফ্ল্যাট না পেলে শেয়ারড ফ্ল্যাট বা সাবলেটও একটি ভালো বিকল্প হতে পারে। তবে ওঠার আগে বাড়িওয়ালার অনুমতি, ভাড়া, ইউটিলিটি বিল, রান্নার নিয়ম এবং বাসার নিয়ম-নীতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নেওয়া আবশ্যক।
বাসা দেখতে যাওয়ার সময় অফিস বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা ভালো। তবে প্রয়োজন ছাড়া ব্যক্তিগত নথির কপি কাউকে দেওয়া উচিত নয়।
এছাড়াও বাসা নেওয়ার আগে অতিথি আনার নিয়ম, বাসায় ফেরার নির্ধারিত সময়, ছাদ ব্যবহারের সুযোগ এবং কতজন থাকার অনুমতির বিষয়গুলি নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: জাতি-ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান এলজিআরডি মন্ত্রীর
সবশেষে, যদি কোন বাড়িওয়ালা স্পষ্টভাবে জানান যে তিনি ব্যাচেলরদের বাসা ভাড়া দেবেন না, তাহলে সময় নষ্ট না করে অন্য বিকল্প খোঁজা সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পনাকৃতভাবে খোঁজ শুরু করলে, পরিচিতদের সহায়তা নেওয়া ও সঠিক মাধ্যমে অনুসন্ধান চালালে ঢাকায় ব্যাচেলরদের জন্য বাসা খোঁজার দীর্ঘ সময়ের ভোগান্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন