০৪:০৪ এম
ছোটবেলা থেকেই শিশুদের সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুললে এটি সন্তানের ভবিষ্যৎ জীবনকে বদলে দিতে পারে। শিশুর জীবন শুধুমাত্র ভালো শিক্ষা বা সুন্দর পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং ছোটবেলা থেকে গড়ে ওঠা অভ্যাসও তার উপর প্রভাব ফেলে। এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস হচ্ছে সঞ্চয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, যদি ছোট থেকেই শিশুকে অর্থের মূল্য এবং সঞ্চয়ের গুরুত্ব শেখানো যায়, তাহলে তারা ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল এবং সচেতন মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
সঞ্চয় বলতে আমরা সাধারণত টাকা জমিয়ে রাখা বুঝি। তবে এটি শুধুমাত্র টাকা সংরক্ষণ করা নয়, বরং প্রয়োজন ও ইচ্ছার মধ্যে ফারাক বুঝে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার এক অভ্যাস গড়ে তোলা। শিশু সাধারণত বড়দের দেখেই সবচেয়ে বেশি শেখে। তাই পরিবারে যদি খরচ পরিকল্পনা ও নিয়মিত সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে উঠতে পারে, তাহলে সেটি শিশুর মাঝেও সহজে গড়ে উঠবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাঁচ থেকে ছয় বছর বয়স থেকে শিশুদের সঞ্চয়ের ধারণা দেয়া সম্ভব। প্রথমে ব্যবহার করার জন্য একটি ছোট সঞ্চয়ের বাক্স ব্যবহার করা যেতে পারে। যেমন, জন্মদিনে পাওয়া টাকা, আত্মীয়দের দেয়া উপহার বা হাতখরচের কিছু অংশ সেখানে জমাতে উৎসাহ দেয়া উচিত, এতে ধীরে ধীরে সঞ্চয়ের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হবে। সময় সময়ে জমা টাকার পরিমাণ দেখালে শিশুর উৎসাহ আরো বৃদ্ধি পাবে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশে প্রথমবার শনাক্ত হলো নতুন প্রজাতির ঝিঁঝিঁ পোকা
একই সঙ্গে শিশুদের শেখাতে হবে যে, সব কিছু সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া সম্ভব নয়। যদি শিশু কোনো খেলনা বা বই কিনতে চায়, তাহলে তাকে কিছুদিন টাকা জমিয়ে সেটি কিনতে উৎসাহিত করতে হবে। এতে অপেক্ষা করার মানসিকতার পাশাপাশি নিজের পরিশ্রমের মূল্য বোঝা সম্ভব হবে।
তবে শিশুদের সঞ্চয়ের শিক্ষা দিতে গিয়ে ভয় দেখানো বা চাপ প্রয়োগ করা উচিত নয়। বরং তাদের বোঝাতে হবে যে, আজ সামান্য সঞ্চয় করলে ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে সেটি কাজে লাগবে। এর ফলে অর্থের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হবে।
শুধু টাকা জমানোই নয়, খরচের হিসাব রাখার অভ্যাসও উন্নীত করা জরুরি। একটি ছোট খাতায় শিশু লিখে রাখতে পারে, কত টাকা পেয়েছে, কত খরচ করেছে এবং কত টাকা জমিয়েছে। এর ফলে হিসাব রাখার অভ্যাস ও দায়িত্ববোধ বৃদ্ধির সুযোগ মিলবে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, সঞ্চয়ের পাশাপাশি শিশুদের উদারতার শিক্ষাও দেয়া প্রয়োজন। জমানো টাকার একটি ক্ষুদ্র অংশ অসহায়দের সাহায্যে ব্যয় করতে শিখালে, এটি শিশুর মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
আরও পড়ুন: ড. ইউনূসকে হেনস্তায় রিটায়ার্ড বিসিএস অফিসার্স প্ল্যাটফর্মের ক্ষোভ ও নিন্দা
তবে সঞ্চয় শেখানোর সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন শিশুটি কৃপণ হয়ে না যায়। প্রয়োজনীয় কাজে অর্থ ব্যায় করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ, সে বিষয়ে তাদের বুঝাতে হবে। কারণ অর্থের সঠিক ব্যবহারই প্রকৃত শিক্ষা। শিশুরা যে সঞ্চয় শেখে, সেটিই তাদের ভবিষ্যতে আর্থিক সচেতন, আত্মনির্ভর এবং দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করে। তাই দামী উপহারের পরিবর্তে সন্তানের হাতে দিন সঞ্চয়ের অভ্যাস, যা তার সারা জীবনের সম্পদ হয়ে থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন