ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শৈশব থেকেই শিশুদের সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলবেন যেভাবে


শৈশব থেকেই শিশুদের সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলবেন যেভাবে

ছোটবেলা থেকেই শিশুদের সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুললে এটি সন্তানের ভবিষ্যৎ জীবনকে বদলে দিতে পারে। শিশুর জীবন শুধুমাত্র ভালো শিক্ষা বা সুন্দর পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং ছোটবেলা থেকে গড়ে ওঠা অভ্যাসও তার উপর প্রভাব ফেলে। এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস হচ্ছে সঞ্চয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, যদি ছোট থেকেই শিশুকে অর্থের মূল্য এবং সঞ্চয়ের গুরুত্ব শেখানো যায়, তাহলে তারা ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল এবং সচেতন মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

সঞ্চয় বলতে আমরা সাধারণত টাকা জমিয়ে রাখা বুঝি। তবে এটি শুধুমাত্র টাকা সংরক্ষণ করা নয়, বরং প্রয়োজন ও ইচ্ছার মধ্যে ফারাক বুঝে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার এক অভ্যাস গড়ে তোলা। শিশু সাধারণত বড়দের দেখেই সবচেয়ে বেশি শেখে। তাই পরিবারে যদি খরচ পরিকল্পনা ও নিয়মিত সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে উঠতে পারে, তাহলে সেটি শিশুর মাঝেও সহজে গড়ে উঠবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাঁচ থেকে ছয় বছর বয়স থেকে শিশুদের সঞ্চয়ের ধারণা দেয়া সম্ভব। প্রথমে ব্যবহার করার জন্য একটি ছোট সঞ্চয়ের বাক্স ব্যবহার করা যেতে পারে। যেমন, জন্মদিনে পাওয়া টাকা, আত্মীয়দের দেয়া উপহার বা হাতখরচের কিছু অংশ সেখানে জমাতে উৎসাহ দেয়া উচিত, এতে ধীরে ধীরে সঞ্চয়ের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হবে। সময় সময়ে জমা টাকার পরিমাণ দেখালে শিশুর উৎসাহ আরো বৃদ্ধি পাবে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশে প্রথমবার শনাক্ত হলো নতুন প্রজাতির ঝিঁঝিঁ পোকা

একই সঙ্গে শিশুদের শেখাতে হবে যে, সব কিছু সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া সম্ভব নয়। যদি শিশু কোনো খেলনা বা বই কিনতে চায়, তাহলে তাকে কিছুদিন টাকা জমিয়ে সেটি কিনতে উৎসাহিত করতে হবে। এতে অপেক্ষা করার মানসিকতার পাশাপাশি নিজের পরিশ্রমের মূল্য বোঝা সম্ভব হবে।

তবে শিশুদের সঞ্চয়ের শিক্ষা দিতে গিয়ে ভয় দেখানো বা চাপ প্রয়োগ করা উচিত নয়। বরং তাদের বোঝাতে হবে যে, আজ সামান্য সঞ্চয় করলে ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে সেটি কাজে লাগবে। এর ফলে অর্থের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হবে।

শুধু টাকা জমানোই নয়, খরচের হিসাব রাখার অভ্যাসও উন্নীত করা জরুরি। একটি ছোট খাতায় শিশু লিখে রাখতে পারে, কত টাকা পেয়েছে, কত খরচ করেছে এবং কত টাকা জমিয়েছে। এর ফলে হিসাব রাখার অভ্যাস ও দায়িত্ববোধ বৃদ্ধির সুযোগ মিলবে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, সঞ্চয়ের পাশাপাশি শিশুদের উদারতার শিক্ষাও দেয়া প্রয়োজন। জমানো টাকার একটি ক্ষুদ্র অংশ অসহায়দের সাহায্যে ব্যয় করতে শিখালে, এটি শিশুর মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

আরও পড়ুন: ড. ইউনূসকে হেনস্তায় রিটায়ার্ড বিসিএস অফিসার্স প্ল্যাটফর্মের ক্ষোভ ও নিন্দা

তবে সঞ্চয় শেখানোর সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন শিশুটি কৃপণ হয়ে না যায়। প্রয়োজনীয় কাজে অর্থ ব্যায় করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ, সে বিষয়ে তাদের বুঝাতে হবে। কারণ অর্থের সঠিক ব্যবহারই প্রকৃত শিক্ষা। শিশুরা যে সঞ্চয় শেখে, সেটিই তাদের ভবিষ্যতে আর্থিক সচেতন, আত্মনির্ভর এবং দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করে। তাই দামী উপহারের পরিবর্তে সন্তানের হাতে দিন সঞ্চয়ের অভ্যাস, যা তার সারা জীবনের সম্পদ হয়ে থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বর্ষায় সুস্থ থাকতে খাদ্যতালিকায় রাখুন এই ৭ সবজি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:১১ এম


বর্ষায় সুস্থ থাকতে খাদ্যতালিকায় রাখুন এই ৭ সবজি

বর্ষায় সুস্থ থাকতে পাতে রাখতে হবে ৭টি সবজি, যা সর্দি-কাশি ও সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করবে। বর্ষা আসলে সর্দি-কাশি, পেটের সমস্যা এবং নানা ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে জীবাণুর ছড়ানোর সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই শুধু পরিচ্ছন্নতা নয়, বর্ষা মৌসুমে প্রতিদিনের খাবারের দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষাকালে কিছু নির্দিষ্ট সবজি নিয়মিত খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বর্ষায় শাকপাতা খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়া দরকার। কিন্তু, কিছু সবজি রয়েছে, যা এই মৌসুমে শরীরকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

লাউ বর্ষার জন্য একটি অন্যতম উপকারী সবজি। এটি সহজেই পেটের সমস্যা সমাধানে সহায়তা করে, শরীরকে ঠান্ডা রাখে এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি প্রদান করে। এছাড়া, ওজন নিয়ন্ত্রণে লাউ কার্যকর। লাউয়ের পাশাপাশি চালকুমড়োও খাদ্যে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।

পটল হলো এক ধরনের শাকসবজি, যা আঁশ, ভিটামিন এ এবং ভিটামিন সি-এ সমৃদ্ধ। এটি হজমে সহায়তা করে এবং রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। পাশাপাশি, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এই সবজিটি কার্যকর।

করলা রক্তকে পরিশুদ্ধ রাখতে সাহায্য করে এবং শরীরের শর্করা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। বর্ষাকালে নিয়মিত করলা খেলে সংক্রমণের ঝুঁকিও কমে যেতে পারে।

ঢ্যাঁড়শ আবারও একটি পুষ্টিসমৃদ্ধ সবজি, যা আঁশ, ফলিক অ্যাসিড এবং ভিটামিন সি-তে সমৃদ্ধ। এটা অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং হজমে সাহায্য করে। কুন্দরি বা তরুলিও এই মৌসুমে উপকারী খাবারের তালিকায় রাখা উচিত।

কুমড়োর মধ্যে রয়েছে প্রচুর বিটা-ক্যারোটিন, যা সর্দি-কাশির ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এটি চোখের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী। বর্ষাকালে কুমড়োর স্যুপ স্বাস্থ্যকর খাবার হতে পারে।

কচু, যা অনেকেই এড়িয়ে চলে, এটি অনেক পুষ্টিগুণে ভরপুর। এতে রয়েছে আঁশ, পটাশিয়াম, ভিটামিন সি এবং ভিটামিন ই, যা হজমে সাহায্য করে এবং হৃদ্‌যন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।

মিষ্টি আলু বর্ষাকালে উপকারী একটি খাবার হিসেবে পরিচিত। এতে রয়েছে জটিল শর্করা, আঁশ এবং ভিটামিন এ, যা শরীরে শক্তি বৃদ্ধি করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছে, বর্ষাকালে শুধু স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়াই যথেষ্ট নয়, সবজি ভালোভাবে ধুয়ে এবং পরিষ্কার করে রান্না করাও জরুরি। এছাড়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং সুষম খাদ্যগ্রহণের মাধ্যমে এই মৌসুমে সর্দি-কাশি, পেটের সমস্যা এবং বিভিন্ন সংক্রমণ থেকে অনেকটাই সুরক্ষিত থাকা সম্ভব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্যাচেলরদের জন্য বাসা খোঁজার সহজ কিছু কৌশল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:২০ এম


ব্যাচেলরদের জন্য বাসা খোঁজার সহজ কিছু কৌশল

ব্যাচেলর হিসেবে ঢাকায় বাসা খোঁজা অনেক ব্যক্তির জন্য একটা বিরাট ভোগান্তি তো বটেই। পছন্দসই লোকেশন এবং ভাড়া মিলে গেলেও শেষের দিকে শুধুমাত্র ‘ব্যাচেলর’ পরিচয়ের কারণে অনেক বাড়িওয়ালা বাসা ভাড়া দিতে রাজি হন না। ফলে শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবী উভয় শ্রেণির ব্যাচেলরদের বাসা খুঁজতে বাড়তি শ্রম ও সময় ব্যয় করতে হয়।

তবে কিছু কৌশল গ্রহণ করলে এই সমস্যার পরিমাণ অনেকটাই কম করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রথমত এমন ভবন বা এলাকায় খোঁজ নেওয়া উচিত যেখানে আগে থেকেই ব্যাচেলর ভাড়াটিয়া আছেন। সহকর্মী, বন্ধু, সিনিয়র বা পরিচিতদের মাধ্যমে এ ধরনের তথ্য পেলে বাসা পাওয়ার সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পায়।

বাসা খোঁজার সময় ভবনের দারোয়ান বা নিরাপত্তাকর্মীরাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে কোন বাসায় ‘টু-লেট’ সাইনবোর্ড না থাকলেও, কোন ফ্ল্যাট খালি হবে বা কোন বাড়িওয়ালা ব্যাচেলরদের জন্য ভাড়া দেন, এসব তথ্য তাদের কাছ থেকেই জানা যায়।

একই এলাকায় একাধিক ‘টু-লেট’ বিজ্ঞাপন দেখলে প্রতিটি নম্বরের ছবি তুলে রাখা উচিত। পরে ফোন করে শুরুতেই জানতে হবে ব্যাচেলর ভাড়া দেওয়া হবে কি না। এতে অপ্রয়োজনীয়ভাবে এক ভবন থেকে আরেক ভবনে ঘোরাঘুরি করার প্রয়োজন কমে যাবে।

মাসের শেষের দিকে বাসা খোঁজার সুযোগ তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। কারণ এই সময়ে অনেক ভাড়াটিয়া বাসা ছাড়েন এবং নতুন ভাড়াটিয়া নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়। তাই প্রয়োজনের কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই বাসা খোঁজার কার্যক্রম শুরু করা উচিত।

পরিচিত কারো মাধ্যমে বাড়িওয়ালার সঙ্গে যোগাযোগ করলে আস্থা তৈরি সহজ হয়। একই সঙ্গে কতজন থাকবেন, কোথায় পড়াশোনা বা চাকরি করেন এবং কতদিন থাকার পরিকল্পনা রয়েছে সে সব তথ্য স্পষ্টভাবে জানানো উচিত। শুধু ‘আমরা ভালো ব্যাচেলার’ বলার চেয়ে নির্দিষ্ট তথ্য এবং প্রয়োজন হলে পরিচয়পত্র বা রেফারেন্স প্রদান করাটা বেশি কার্যকর হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা আরও পরামর্শ দিয়েছেন, বাসা পাওয়ার আশায় নিজের পরিচয় ‘ফ্যামিলি’ হিসেবে উপস্থাপন করা বা তথ্য গোপন করা উচিত নয়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে নতুন সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।

অনলাইনে বাসা খুঁজতে ‘বাসা ভাড়া’ লিখে সার্চ না করে এলাকার নামের সঙ্গে ‘ব্যাচেলর বাসা’, ‘সাবলেট’, ‘রুমমেট চাই’, ‘সিট ভাড়া’ বা ‘শেয়ারড ফ্ল্যাট’ লিখে খোঁজ করলে অধিক ফল পাওয়া যেতে পারে।

পুরো ফ্ল্যাট না পেলে শেয়ারড ফ্ল্যাট বা সাবলেটও একটি ভালো বিকল্প হতে পারে। তবে ওঠার আগে বাড়িওয়ালার অনুমতি, ভাড়া, ইউটিলিটি বিল, রান্নার নিয়ম এবং বাসার নিয়ম-নীতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নেওয়া আবশ্যক।

বাসা দেখতে যাওয়ার সময় অফিস বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা ভালো। তবে প্রয়োজন ছাড়া ব্যক্তিগত নথির কপি কাউকে দেওয়া উচিত নয়।

এছাড়াও বাসা নেওয়ার আগে অতিথি আনার নিয়ম, বাসায় ফেরার নির্ধারিত সময়, ছাদ ব্যবহারের সুযোগ এবং কতজন থাকার অনুমতির বিষয়গুলি নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

সবশেষে, যদি কোন বাড়িওয়ালা স্পষ্টভাবে জানান যে তিনি ব্যাচেলরদের বাসা ভাড়া দেবেন না, তাহলে সময় নষ্ট না করে অন্য বিকল্প খোঁজা সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পনাকৃতভাবে খোঁজ শুরু করলে, পরিচিতদের সহায়তা নেওয়া ও সঠিক মাধ্যমে অনুসন্ধান চালালে ঢাকায় ব্যাচেলরদের জন্য বাসা খোঁজার দীর্ঘ সময়ের ভোগান্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দালালের প্রতারণার শিকার হয়ে হাঙ্গেরিতে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:২৯ এম


দালালের প্রতারণার শিকার হয়ে হাঙ্গেরিতে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু

উন্নত জীবনের প্রত্যাশায় ইতালি যাওয়ার স্বপ্ন ছিল ফেনীর দাগনভূঞার বাসিন্দা ফরিদুর রহমান বুলবুলের (৩২)।

দালালের কথায় বিশ্বাস করে তিনি ১৮ লাখ টাকা দিয়ে বিমানে সরাসরি ইতালি যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।

কিন্তু সেই যাত্রা শেষ হয়ে যায় ইউরোপের পথে, হাঙ্গেরির এক হাসপাতালে।

কিছু দিন আগে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

রোববার (১৯ জুলাই) পুলিশ সদর দপ্তরের মাধ্যমে দাগনভূঞা থানার পুলিশ এই খবরে তার পরিবারকে অবত্যিল করেছে।

ফরিদুর রহমান বুলবুল দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের পূর্ব বারাহীগুনী এলাকার সফি ডাক্তার বাড়ির মৃত মফিজুর রহমানের সেজো ছেলে।

তিনি সাত বছর আগে চাচাতো বোন কহিনুর আক্তার পলিকে বিয়ে করেন।

তাদের সংসারে পাঁচ বছরের একমাত্র কন্যাসন্তান ফারিহা রয়েছে।

বর্তমান কহিনুর ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

স্বামীর মৃত্যুর খবর পেয়ে পরিবার ও পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্বজনদের আহাজারিতে গুমোট হয়ে উঠেছে বাড়ির পরিবেশ।

পারিবারিক সদস্যরা জানান, বুলবুল আগে সৌদি আরবে একটি আবাসিক হোটেলে কাজ করতেন।

প্রায় এক বছর আগে দেশে ফিরে উন্নত জীবনের আশায় তিনি ইতালি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

এই সময় ফেনী শহরের বিরিঞ্চি এলাকার বাসিন্দা মো. দুলালের সঙ্গে পরিচয় ঘটে।

অভিযোগ রয়েছে, দালাল হিসেবে কাজ করেন দুলাল ইউরোপে লোক পাঠানোর।

কিছু আলোচনা শেষে ১৮ লাখ টাকার বিনিময়ে বুলবুলকে ইতালি পাঠানোর জন্য একটি চুক্তি হয়।

বিভিন্ন সময়ে চেক ও নগদে তার কাছ থেকে পুরো টাকা নিতে বিবরণ পাওয়া যায়।

বুলবুলের মেজো ভাই কাজী মোহাম্মদ বাবুল জানান, বুলবুল ১৬ জুন ইতালির উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন।

তাদেরকে সরাসরি বিমানে ইতালি নেওয়ার কথা থাকলেও প্রথমে দুবাই নেয়া হয় সংযুক্ত আরব আমিরাতে।

এরপর পূর্ব ইউরোপের সার্বিয়া ও নর্থ মেসিডোনিয়া হয়ে সড়কপথে হাঙ্গেরিতে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে জঙ্গলের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।

পরবর্তীতে গুরুতর অবস্থায় স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি হন এবং কিছু দিন আগে তার মৃত্যু হয়।

বুলবুলের ছোট ভাই কাজী নজরুল ইসলাম জানান, ২৪ জুন বুলবুলের সঙ্গে তার শেষ কথা হয়।

সেদিন বুলবুল বলেন, দালাল মো. দুলাল তাকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি।

বিমান পথে সরাসরি ইতালি পৌঁছে দেওয়ার কথা হলেও, পরে বাস ও ট্রেনে যাওয়ার কথা বলা হয়।

২৬ জুন আবারও তারা দুই ভাই বুলবুলের ইমো নম্বরে একাধিকবার কল করেন, তবে তিনি অনলাইনে থাকলেও ফোন ধরেননি।

তারপর থেকে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।

সে কারণে, তারা চান যে যেভাবেই হোক, আমার ভাইয়ের মরদেহ যেন দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

এছাড়া এই ঘটনার জন্য দায়ী দালালের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন।

এদিকে, ২৮ জুন ভাইয়ের খোঁজ নিতে ফেনীতে দুলালের বাড়িতে যান নজরুল।

কিন্তু সে দিনেও তাকে সঠিক কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

বরং এক সপ্তাহ পর যেতে বলা হয়।

পরে দুলাল জানান, বুলবুল অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে রয়েছেন।

নজরুল ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করলে দুলাল বলেন, ‘‘এখন কথা বলা যাবে না, কয়েক দিনের মধ্যে বাসায় নেওয়া হলে কথা বলা যাবে।’'

এরপর থেকে দুলালের সঙ্গে পরিবারের আর যোগাযোগ হয়নি।

শেষ পর্যন্ত, রোববার (২১ জুলাই) সকালে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রথমে পরিবারের নম্বরে ফোন করে বুলবুল সম্পর্কে কিছু তথ্য জানতে চাওয়া হয়।

তার বোন ফোন ধরলে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়, তিনি হাসপাতালে আছেন।

কিছু ঘণ্টা পর দাগনভূঞা থানার একটি পুলিশ দল বাড়িতে গিয়ে পরিচয় যাচাইয়ের কাগজপত্র সংগ্রহ করে।

এবং তখনই পরিবার নিশ্চিতভাবে জানতে পারে, বুলবুল আর বেঁচে নেই।

দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহীদুল ইসলাম বলেন, ‘‘আপনার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারলাম। পরিবারকে খোঁজ নেব। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।’’

এ ব্যাপারে দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম বলেন, ‘‘ফরিদুর রহমানের মরদেহ বর্তমানে হাঙ্গেরিতে রয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে তার ঠিকানা যাচাই করতে বলা হয়েছিল।

সেই অনুযায়ী পুলিশ সদস্যরা বাড়িতে গিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করেন এবং পরিবারকে এই বিষয়ে অবহিত করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিজিবির কড়া অবস্থানে পাটগ্রাম সীমান্ত থেকে সরে গেল বিএসএফ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৪৫ এম


বিজিবির কড়া অবস্থানে পাটগ্রাম সীমান্ত থেকে সরে গেল বিএসএফ

লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের পঁয়ষট্টিবাড়ি সীমান্তে বিএসএফ এবং ভারতীয় নাগরিকদের দ্বারা অবৈধভাবে সিমেন্টের খুঁটি স্থাপনের প্রচেষ্টার ফলে বিজিবির বাধার সম্মুখীন হয়ে বিএসএফ পিছু হটে। ২০ জুলাই সোমবার বিকেলে, তিস্তা ব্যাটালিয়ন ৬১ বিজিবির অধীনে পঁয়ষট্টিবাড়ী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় সীমান্ত মেইন পিলার ৮৪৫/১-এস হতে ৮৪৫/২-এস-এর মাঝামাঝি সময়ে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র ও বিজিবির তথ্য মতে, সীমান্ত শূন্য লাইন থেকে প্রায় ১০০ মিটার ভারতের অভ্যন্তরে কুচবিহার জেলার মেকলিগঞ্জ থানার হাড়িকামাত গ্রামে পানিশালা এলাকায় বিএসএফের সদস্য ও স্থানীয় ভারতীয় নাগরিকরা বাঁশের খুঁটি সরানোর কাজ শুরু করে। এর পর তারা সেখানে নতুন করে প্রায় ৩-৪ ফুট উচ্চতার সিমেন্টের খুঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা করে। বিষয়টি বিজিবির নজরে আসামাত্রই, তিস্তা ব্যাটলিয়ন ৬১ বিজিবির আওতাধীন পঁয়ষট্টিবাড়ি বিওপির একটি টহলদল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পরে বিজিবি কড়া বাধার মুখে বিএসএফ সদস্য ও ভারতীয় নাগরিকরা স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। তিস্তা ব্যাটলিয়ন ৬১ বিজিবির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পঁয়ষট্টিবাড়ি বিওপির আওতাধীন সীমান্তে অবৈধ সিমেন্টের খুঁটি স্থাপন করার চেষ্টা করলে বিজিবি তাৎক্ষণিক বাধা প্রদান করে। ফলে বিএসএফ পিছু হটে এবং সীমান্তে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ও সীমানাসংক্রান্ত বেআইনি কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বিজিবি সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%