বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:৫৪ এম
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্টদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে যৌক্তিকতা বজায় রেখে নেয়া হবে।
তিনি বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানী ঢাকার ইস্কাটনে ভোক্তা পর্যায়ে বেসরকারি ও সরকারি এলপিজির মূল্যহার পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে এ মন্তব্য করেন।
গণশুনানিতে সরকারের কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৭৬ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে। অন্যদিকে, ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে প্রস্তাব করা হয়েছে ২ হাজার ২৩২ টাকা।
বিইআরসি প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্টদের স্বার্থ ও যৌক্তিকতা বিবেচনায় নিয়ে দাম সমন্বয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খাইবার পাখতুনখাওয়া (কেপি) প্রদেশে গভর্নরের শাসন ও জরুরি অবস্থা জারির মাধ্যমে পাকিস্তান সরকার সংবিধানের অপব্যবহার করেছে এবং অসাংবিধানিক পদক্ষেপের আশ্রয় নিয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন জামিয়াত উলামায়ে ইসলাম-ফজল (জেইউআই-এফ) প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমান।
ফজলুর রহমানের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, কেন্দ্র ও কেপি প্রাদেশিক সরকারের মধ্যে সংঘাত কমাতে, গত ১১ অক্টোবর কেন্দ্র সরকার সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রাদেশিক সরকারের ‘অসহযোগিতার’ অজুহাত দেখিয়ে কেপিতে গভর্নরের শাসন ও জরুরি অবস্থা জারি করে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের পর বিরোধী দলগুলোর পাশাপাশি ফজলুও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
পাকিস্তানের জাতীয় সংসদে (ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি) বুধবার দেওয়া ভাষণে মাওলানা ফজলুর রহমান উল্লেখ করেন, কেন্দ্র সরকার দাবি করছে যে তারা সংবিধান অনুযায়ী এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
সরকারের এই অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, সরকার সংবিধানের অপব্যবহার করেছে। সাধারণ আইনের অপব্যবহারের মতোই, এখানে সংবিধানের অপব্যবহার করা হয়েছে।
প্রবীণ এই রাজনীতিক জোর দিয়ে বলেন, কেপিতে গভর্নরের শাসন জারি করার মাধ্যমে জনগণের রায়ের পরিবর্তে ‘জোরপূর্বক’ ক্ষমতার হস্তান্তর ঘটানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘প্রাদেশিক সরকারের ওপর আমার নিজস্ব দ্বিমত বা ক্ষোভ থাকতে পারে, কিন্তু বিপ্লব ঘটিয়ে সবকিছু উল্টে দিয়ে পরিবর্তন আনার পথ এটি নয়। কোনো পরিবর্তনের জন্য আপনাদের অবশ্যই জনগণের কাছে ফিরে যেতে হবে।’ সংবিধান ও সংসদের পবিত্রতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফকেও দায়ী করেন।
জেইউআই-এফ প্রধানের এই অভিযোগের জবাবে সংসদবিষয়ক মন্ত্রী ড. তারিক ফজল চৌধুরী বলেন, কেপিতে গভর্নরের শাসন মাত্র ছয় মাসের জন্য দেওয়া হয়েছে এবং জরুরি অবস্থা কেবল সন্ত্রাসবাদপ্রবণ কয়েকটি নির্দিষ্ট জেলায় কার্যকর করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ‘আপনাকে যেকোনো একদিকে অবস্থান নিতে হবে-হয় পাকিস্তান রাষ্ট্রের পক্ষে থাকতে হবে, না হয় তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ও আফগানিস্তানের সমর্থক হতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, বালুচিস্তানের পরিস্থিতি কেপির চেয়ে ভিন্ন। কেপির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও পিটিআই নেতা সোহেল আফ্রিদি ইসলামাবাদের অভিমুখে লংমার্চ করতে প্রদেশের সরকারি তহবিল ও সম্পদ ব্যবহার করেছিলেন। চৌধুরীর অভিযোগ, ‘আফ্রিদি এমনকি সন্ত্রাসীদের পক্ষে সাফাইও গেয়েছেন।’
ভাষণে সরকারের তীব্র সমালোচনা করার পাশাপাশি দেশ রক্ষা ও অসাংবিধানিক পদক্ষেপ বন্ধে একটি নতুন 'মেথাক-ই-জমহুরিয়ত' (গণতন্ত্রের সনদ) স্বাক্ষরের আহ্বান জানান ফজলুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘এই সংসদ জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান, কিন্তু সহনশীলতা দিন দিন শেষ হয়ে আসছে এবং পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে।’
কেপিতে একই সাথে গভর্নরের শাসন ও জরুরি অবস্থা জারির বিষয়টি ইতিহাসে প্রথম কোনো ঘটনা বলে মন্তব্য করেন তিনি, যেখানে পুরো প্রদেশের বদলে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় তা কার্যকর করা হয়েছে। ১২টি জেলায় বিশেষ পরিষদের মাধ্যমে পরিচালিত জরুরি অবস্থার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘প্রদেশের অর্ধেক অংশে গভর্নরের শাসন এবং বাকি অর্ধেক অংশে জরুরি অবস্থা চলছে।’
ইসলামাবাদ অভিমুখে পিটিআই-এর লংমার্চ চলাকালীন রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমনে নিজের ভূমিকার কথা স্মরণ করে ফজলু জানান, পিটিআই নেতারা তাঁকে বিষয়টি মধ্যস্থতা করার অনুরোধ করেছিলেন।
তিনি জানান, পিটিআই এবং পিএমএল-এন (পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ)-এর শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে আলোচনার পর তিনি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সাথে বৈঠক করেন। প্রধানমন্ত্রী তখন পিটিআই-কে লংমার্চ প্রত্যাহার করার আহ্বান জানান।
ফজলু স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘পরদিন সকালে (উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী) ইসহাক দার আমাকে ফোন করে বলেন যে মন্ত্রিসভা এই প্রস্তাবে রাজি হচ্ছে না এবং কেপিতে গভর্নরের শাসন জারি করা ছাড়া উপায় নেই।’
১১ অক্টোবরের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি একটি ফোন পান, যেখানে তাঁকে জানানো হয় যে মন্ত্রিসভার বৈঠকে তাঁর মধ্যস্থতার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তবে এর কিছুক্ষণ পরই কেপিতে জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন জারির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জেইউআই-এফ প্রধান বলেন, ‘সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে ইসহাক দার আবারও আমাকে ফোন করে বলেন যে মন্ত্রিসভা এই চুক্তিতে রাজি নয়। তারা যেকোনো মূল্যে সেখানে গভর্নরের শাসন জারি করতে চায়। আমি তখন বলেছিলাম, গতকাল থেকে আমাদের নেওয়া সব প্রচেষ্টা মাটি হয়ে গেল। আমি একটি রাজনৈতিক সমঝোতার আশা করেছিলাম, কিন্তু সরকার তা প্রত্যাখ্যান করল।’
নিজের সব উদ্যোগই ‘রক্তপাত এড়ানোর উদ্দেশ্যে’ ছিল উল্লেখ করে ফজলু আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বিশেষ করে বালুচিস্তানে কমিশনারদের অপহরণের ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন করেন, সেখানকার পরিস্থিতি কি কেপির চেয়েও খারাপ নয়?
তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তারা সফল হয়েছে-মন দাবি কেন্দ্রীয় সরকার কীভাবে করে?’
মাওলানা ফজলুর রহমান বলেন, যাঁরা তাঁর দলের দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তাঁদের জানা উচিত যে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তাঁর দল বিপুল ত্যাগ স্বীকার করেছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তাঁদের দলের শহীদদের এবং অবদানকে এখন নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা হচ্ছে।
কেন্দ্রে জরুরি অবস্থা জারির কয়েক দিন পর ফজলু অভিযোগ করেছিলেন যে সরকার প্রদেশগুলোকে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে এবং সন্ত্রাসবাদ দমনে কেপি সরকারের অসহযোগিতার যে দাবি তোলা হয়েছে, তা নিয়েও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর তোপের মুখে পড়ার পর ফজলু স্পষ্ট করেন, সরকারের নীতির সমালোচনা কোনো প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করার জন্য নয়, বরং নীতি সংশোধনের জন্য করা হয়েছে।
তিনি সংসদে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘আমার দল শহীদদের দল। আপনারা আমাদের শহীদদের দেখতে পান না, আর আমাদের ত্যাগ নিয়ে মশকরা করা হচ্ছে।’
জেইউআই-এফ প্রধান বলেন, পাকিস্তান দেশের প্রতিটি নাগরিকের, বিশেষ কোনো ব্যক্তির একচ্ছত্র সম্পত্তি নয়। খনিজ সম্পদ বণ্টন সম্পর্কিত সরকারের নীতির নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকারের এই ‘সংবিধান লঙ্ঘন ও আগ্রাসন’ প্রতিরোধে তাঁর দল রাজনৈতিক শক্তি সংগঠিত করছে এবং জেইউআই-এফ কখনো কোনো সীমারেখা অতিক্রম করেনি।
সরকারকে শক্তির নীতি পরিহার করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকার যদি সংঘাতের জন্য প্রস্তুত থাকে, তবে আমরাও মুখোমুখি হতে তৈরি। আমরা মরতে রাজি আছি। আপনাদের হাতে মরতে রাজি আছি, কিন্তু ইতিহাসের পাতায় অপরাধী হিসেবে মরতে রাজি নই। আপনারা যদি সংঘাত চান, তবে আমরা এখানেই প্রস্তুত হয়ে বসে আছি।’
তিনি আরও যোগ করেন, রাষ্ট্র হচ্ছে মায়ের মতো, কিন্তু এই মা তার সব সন্তানদের সাথে সমান ও ন্যায্য আচরণ করছেন না।
উল্লেখ্য, গত ১১ অক্টোবর ফেডারেল মন্ত্রিসভার সুপারিশে প্রেসিডেন্টের চূড়ান্ত অনুমোদনের পর সংবিধানের ২৩২ ও ২৩৪ অনুচ্ছেদের অধীনে কেপিতে জরুরি অবস্থা এবং গভর্নরের শাসন জারি করে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার। সরকারের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে বিরোধী দলগুলো। ফজলুর রহমানের পাশাপাশি 'তেহরিক-ই-তাহাফুজ আইন-ই-পাকিস্তান'-এর প্রবীণ নেতা মেহমুদ খান অচাকজাই এবং রাজা নাসির আব্বাসও সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। গভর্নরের শাসন জারির আগে কারাবন্দী প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পিটিআই তাঁদের নেতার মুক্তির দাবিতে ইসলামাবাদ অভিমুখে বিক্ষোভের ডাক দিলে কেন্দ্র ও পিটিআই-পরিচালিত কেপি সরকারের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল।
এদিকে, গত ১৬ অক্টোবর পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি ইঙ্গিতপূর্ণভাবে ফজলুর রহমানকে লক্ষ্য করে বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান কেপিতে নতুন সরকার গঠনে ভূমিকা রাখতে না পেরে এবং গভর্নর পদ না পেয়ে চরম হতাশ হয়ে পড়েছেন।’ লাহোরে সাংবাদিকদের তিনি আরও বলেন, এই রাজনীতিক নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার টিকিয়ে রাখতে কয়েক দশক ধরে ‘এস্টাবলিশমেন্টের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন।’ পরদিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের এসব বক্তব্যকে নিজের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও 'চরিত্রহনন' বলে মন্তব্য করে প্রত্যাখ্যান করেন মাওলানা ফজলুর রহমান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমে গেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এবং মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্যের অপেক্ষার কারণে ঘটেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতির ফলে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম প্রায় ১ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৮ ডলারে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ সময় ১০টা ১০ মিনিটে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৭ দশমিক ৯৮ ডলারে দাঁড়ায়। তবে ডিসেম্বর মাসের সরবরাহের জন্য স্বর্ণের ফিউচার দর প্রায় অপরিবর্তিত থেকে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৯ দশমিক ৮০ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
মুম্বাইভিত্তিক কেডিয়া কমোডিটিজের পরিচালক অজয় কেডিয়া মন্তব্য করেছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অনিশ্চয়তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের আগে বিনিয়োগকারীদের অবস্থান সমন্বয়ের কারণে স্বর্ণের দামে এই পতন ঘটেছে।
এর আগে বুধবার ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার ৩ দশমিক ৭৫ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে অপরিবর্তিত রেখেছে। মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্যের অপেক্ষায় আগামী সপ্তাহের যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর পর্যন্ত সুদের হারে পরিবর্তন পিছিয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি।
সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা বর্তমানে ৭৮ শতাংশ। ফেডের সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগে এই সম্ভাবনা ছিল ৮৪ শতাংশ।
সাধারণত সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের মতো মুনাফাবিহীন সম্পদ ধরে রাখার সুযোগব্যয় বৃদ্ধি পায়। ফলে বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যেতে পারে।
বাজারের দৃষ্টি এখন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিগত ভোগব্যয় মূল্যসূচকের (পিসিই) দিকে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল্যস্ফীতি পরিমাপে এই সূচককে বিশেষ গুরুত্ব দেয়।
এদিকে, বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, কৃষ্ণসাগরে শস্য পরিবহনে বিঘ্ন এবং নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদার কারণে ২০২৬ সালে বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্য ২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করতে দেশটির নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মোহসেন রেজায়িকে চিঠি পাঠিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৩ দশমিক ১৫ ডলার হয়েছে। প্লাটিনামের দাম একই হারে কমে ১ হাজার ৫১৫ দশমিক ৭০ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমে ১ হাজার ৪ দশমিক ২৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির গুলশান ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী ‘জব ফেয়ার ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) এই মেলায় দেশের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সদ্য স্নাতকদের কাছ থেকে আবেদনপত্র গ্রহণ এবং সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে ফিতা কেটে জব ফেয়ারের শুভ উদ্বোধন করেন প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মান্নান চৌধুরী।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের প্রিন্সিপাল অ্যাডভাইজার প্রফেসর ড. মো. আনোয়ারুল কবির, রেজিস্ট্রার মো. সাকির হোসাইন, স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ডিন প্রফেসর ড. মীর মোহাম্মদ আজাদ, স্কুল অব বিজনেস-এর ডিন প্রফেসর আবুল কালাম, স্কুল অব ল-এর ডিন প্রফেসর মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান, প্রক্টর মো. আনিছুর রহমানসহ বিভিন্ন বিভাগের প্রধান, শিক্ষক ও কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
‘এক্সিলেন্স বাংলাদেশ’-এর সহযোগিতায় প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির ‘অফিস অব স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্স’ এই মেলার আয়োজন করে।
এবারের জব ফেয়ারে পুঁজিবাজার, জীবনবিমা, ম্যানুফ্যাকচারিং ও বিনোদনসহ একাধিক খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। এদের মধ্যে ছিল লংকা বাংলা সিকিউরিটিজ, ডেল্টা লাইফ ইনস্যুরেন্স, কালিয়ার রেপ্লিকা লিমিটেড, স্টার সিনেপ্লেক্স, ইউনাইটেড ফিন্যান্সিয়াল ট্রেডিং কোম্পানি, সম্ভব জবস, আবুল খায়ের গ্রুপ এবং ক্যারিয়ার প্রো বিডি।
দিনব্যাপী মেলায় অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা শিক্ষার্থীদের সরাসরি সাক্ষাৎকার নেন এবং জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ করেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী ও সদ্য স্নাতকদের উপস্থিতিতে ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, শিক্ষাজীবন ও কর্মজীবনের সেতুবন্ধন জোরদার করতেই এই জব ফেয়ারের আয়োজন করা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা সরাসরি নিয়োগদাতাদের চাহিদা বুঝে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কর্মজীবনে প্রবেশ করতে পারেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাশিয়ার কাছ থেকে ১২টি এসইউ-৩৫ যুদ্ধবিমান অর্জন করেছে আফ্রিকার রাষ্ট্র ইথিওপিয়া। এ ছাড়া, রাশিয়ার তৈরি চারটি এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ। বুধবার (২৮ অক্টোবর) মস্কোয় অনুষ্ঠিত রাশিয়া-আফ্রিকা সম্মেলনে অংশগ্রহণের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি এই তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ উল্লেখ করেন, চুক্তির আওতায় নির্ধারিত সময়ের এক বছর আগেই যুদ্ধবিমানগুলো তার দেশের কাছে পৌঁছেছে। যুদ্ধবিমানগুলোর দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, নতুন সামরিক সরঞ্জাম ইথিওপিয়ার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে এবং সম্ভাব্য আগ্রাসন প্রতিরোধে সহায়তা করবে। অন্য একটি পোস্টে তিনি জানান, যুদ্ধবিমানগুলো ইতোমধ্যে মোতায়েন করা হয়েছে এবং দেশের আকাশসীমা রক্ষায় কাজ করবে।
তবে, এস-৪০০ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাটি কবে নাগাদ ইথিওপিয়ায় পৌঁছাবে, সে বিষয়ে তিনি কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করেননি। এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব।
ইথিওপিয়ার কাছে যুদ্ধবিমান সরবরাহ রাশিয়ার সঙ্গে দেশটির ক্রমবর্ধমান সামরিক সহযোগিতার সর্বশেষ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২১ সালের জুলাইয়ে দুই দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির লক্ষ্য ছিল ইথিওপিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রতিরক্ষা বিষয়ক সাময়িকী জেনসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইথিওপিয়ার বিমানবাহিনীর ৯০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাশিয়ার তৈরি ইয়াক-১৩০ প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান প্রদর্শন করা হয়।
স্টকহোম আন্তর্জাতিক শান্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত আফ্রিকার দেশগুলোর প্রধান অস্ত্র আমদানির ১৫ শতাংশ সরবরাহ করেছে রাশিয়া। এই ক্ষেত্রে মহাদেশটিতে দেশটি তৃতীয় বৃহত্তম সরবরাহকারী হিসেবে পরিচিত।
ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা মস্কো আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের চেষ্টা করছে। বুধবার শুরু হওয়া রাশিয়া-আফ্রিকা সম্মেলনে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করছেন অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর নেতারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ