ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইথিওপিয়া রাশিয়া থেকে ১২টি এসইউ-৩৫ যুদ্ধবিমান পেল


ইথিওপিয়া রাশিয়া থেকে ১২টি এসইউ-৩৫ যুদ্ধবিমান পেল

রাশিয়ার কাছ থেকে ১২টি এসইউ-৩৫ যুদ্ধবিমান অর্জন করেছে আফ্রিকার রাষ্ট্র ইথিওপিয়া। এ ছাড়া, রাশিয়ার তৈরি চারটি এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ। বুধবার (২৮ অক্টোবর) মস্কোয় অনুষ্ঠিত রাশিয়া-আফ্রিকা সম্মেলনে অংশগ্রহণের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি এই তথ্য জানান।

প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ উল্লেখ করেন, চুক্তির আওতায় নির্ধারিত সময়ের এক বছর আগেই যুদ্ধবিমানগুলো তার দেশের কাছে পৌঁছেছে। যুদ্ধবিমানগুলোর দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, নতুন সামরিক সরঞ্জাম ইথিওপিয়ার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে এবং সম্ভাব্য আগ্রাসন প্রতিরোধে সহায়তা করবে। অন্য একটি পোস্টে তিনি জানান, যুদ্ধবিমানগুলো ইতোমধ্যে মোতায়েন করা হয়েছে এবং দেশের আকাশসীমা রক্ষায় কাজ করবে।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনায় আন্তর্জাতিক বাজারে কমেছে তেলের দাম

তবে, এস-৪০০ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাটি কবে নাগাদ ইথিওপিয়ায় পৌঁছাবে, সে বিষয়ে তিনি কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করেননি। এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব।

ইথিওপিয়ার কাছে যুদ্ধবিমান সরবরাহ রাশিয়ার সঙ্গে দেশটির ক্রমবর্ধমান সামরিক সহযোগিতার সর্বশেষ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২১ সালের জুলাইয়ে দুই দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির লক্ষ্য ছিল ইথিওপিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রতিরক্ষা বিষয়ক সাময়িকী জেনসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইথিওপিয়ার বিমানবাহিনীর ৯০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাশিয়ার তৈরি ইয়াক-১৩০ প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান প্রদর্শন করা হয়।

স্টকহোম আন্তর্জাতিক শান্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত আফ্রিকার দেশগুলোর প্রধান অস্ত্র আমদানির ১৫ শতাংশ সরবরাহ করেছে রাশিয়া। এই ক্ষেত্রে মহাদেশটিতে দেশটি তৃতীয় বৃহত্তম সরবরাহকারী হিসেবে পরিচিত।

আরও পড়ুন: খিঁচুনির অভিনয় করে সিনেমা কায়দায় পালিয়ে ১৭ বন্দি গ্রেপ্তার

ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা মস্কো আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের চেষ্টা করছে। বুধবার শুরু হওয়া রাশিয়া-আফ্রিকা সম্মেলনে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করছেন অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর নেতারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রোজেক্ট ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে জীবন পরিবর্তনের মডেল তৈরি করছে গ্রামীণ ডানোন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:০১ পি.এম


প্রোজেক্ট ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে জীবন পরিবর্তনের মডেল তৈরি করছে গ্রামীণ ডানোন

যখন একটি কমিউনিটি একটি ডেভেলপমেন্ট প্রোজেক্ট শুরু করে, তখন এর পেছনে থাকে একটি সহজ লক্ষ্য, যা হলো মানুষের জীবনকে উন্নত করা। তবে এই ধারণাকে বাস্তব ও দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তনে পরিণত করতে কেবল অঙ্গীকারই যথেষ্ট নয়। এর জন্য প্রয়োজন ভালো পরিকল্পনা, কাজের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া, একসঙ্গে কাজ করা, নিয়মিত কাজের খোঁজ রাখা এবং প্রয়োজন হলে পরিবর্তন করা। এসব কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে ভালো প্রোজেক্ট ম্যানেজমেন্ট অপরিহার্য।

ভালো প্রোজেক্ট ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে সঠিক সময়ে সঠিক মানুষের কাছে কাজের সুবিধা পৌঁছানো সম্ভব এবং সময়, অর্থ ও অন্যান্য রিসোর্সের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়। এর মাধ্যমে কাজের প্রোগ্রেস ট্র্যাক করা যায়, শুরুতেই সমস্যা চিহ্নিত করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কাজের উন্নতি করা যায়। এভাবে কাজ করলে প্রোজেক্ট থেকে আরও বেশি মানুষ উপকৃত হয় এবং ভবিষ্যতে অন্য কমিউনিটিতেও একই ধরনের কাজ করা সহজ হয়।

পিএমআই বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের আয়োজনে বাংলাদেশ প্রোজেক্ট ম্যানেজমেন্ট সিম্পোসিয়াম অ্যান্ড অ্যাওয়ার্ডস প্রোজেক্ট ও প্রোজেক্ট ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে যুক্ত পেশাজীবীদের কাজের স্বীকৃতি দেয়। পাশাপাশি যারা প্রোজেক্ট ম্যানেজমেন্ট, নতুন আইডিয়া, প্রোজেক্ট বাস্তবায়ন এবং মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে ভূমিকা রাখছেন, তাদের কাজ অন্যদের জন্য উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে।

এ বছর জনপ্রিয় শক্তি+ ব্র্যান্ডের প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ডানোন ফুডস লিমিটেড বাংলাদেশ প্রোজেক্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যাওয়ার্ডস-এ দুটি চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছে। আইডিই বাংলাদেশের সঙ্গে পার্টনারশিপে সিলেটে পরিচালিত ‘ট্রান্সফর্মিং লাইভস থ্রু নিউট্রিশন’ (টিএলটিএন) প্রোজেক্টটি ‘চ্যাম্পিয়ন প্রোজেক্ট অব দ্য ইয়ার’ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে। একইসঙ্গে সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট ক্যাটাগরিতে ‘চ্যাম্পিয়ন প্রোজেক্ট ম্যানেজার অব দ্য ইয়ার’ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন পূর্বা চৌধুরী জয়া।

গ্রামীণ ডানোন ফুডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুরাইয়া সিদ্দিকা বলেছেন, “আমাদের কাছে সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট এর অর্থ হলো কমিউনিটির প্রয়োজন বোঝা এবং তাদের দৈনন্দিন জীবনে কার্যকর হতে পারে এমন সমাধান তৈরি করা। ভালো প্রোজেক্ট ম্যানেজমেন্ট এই বোঝাপড়াকে বাস্তবে রূপ দিতে সাহায্য করে এবং এর মাধ্যমে মানুষ, সম্পদ ও কার্যক্রমকে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোন কাজ কার্যকর হচ্ছে তা বোঝা এবং সেই অভিজ্ঞতা থেকে এমন মডেল তৈরি করা, যা আরও বেশি কমিউনিটিতে প্রয়োগ করা যায়।”

আইডিই বাংলাদেশ বাস্তবায়িত টিএলটিএন প্রোজেক্টের মূল লক্ষ্য ছিল পুষ্টি সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা বাড়ানো, ফর্টিফায়েড খাবার সহজে পাওয়ার সুযোগ তৈরি করা এবং কমিউনিটি পর্যায়ে আরও ভালো ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম গড়ে তোলা। এই প্রজেক্টের বিশেষ দিক হলো, এখানে শুধু একটি কাজের ওপর গুরুত্ব না দিয়ে শিক্ষা, কমিউনিটির অংশগ্রহণ এবং স্থানীয় মানুষের দক্ষতা বাড়ানোর বিষয়গুলোকে একসঙ্গে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রোজেক্টটির মাধ্যমে স্কুল ক্যাম্পেইনের পাশাপাশি কমিউনিটি আলোচনায় মায়েদেরও যুক্ত করা হয়েছে। শিক্ষামূলক ভিডিও, ইন্টার‌্যাকটিভ সেশন ও কুইজের মাধ্যমে শিশুদের পুষ্টি সম্পর্কে শেখানো হয়েছে। এতে শিশুরা পুষ্টির বিষয়গুলো আরও সহজে বুঝতে পেরেছে এবং শুধু শুনে শেখার বদলে বিভিন্ন অ্যাক্টিভিটিতে সরাসরি অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে।

মা ও কমিউনিটির অন্য সদস্যদের যুক্ত করতে ৫৮টি উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। এসব বৈঠকে পুষ্টি নিয়ে আলোচনা, প্রশ্ন করা এবং একসঙ্গে শেখার সুযোগ পেয়েছেন অংশগ্রহণকারীরা। পাশাপাশি সাতটি স্কুল ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে শিশু ও তাদের পরিবারের নিজ নিজ কমিউনিটিতে পুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর কাজ করা হয়েছে।

প্রোজেক্টির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল ৬৪ জন নিউট্রিশন উদ্যোক্তাকে ট্রেনিং দেওয়া। এই ট্রেনিংয়ে তাদের পুষ্টি, প্রোডাক্ট সম্পর্কে ধারণা, হাইজিন, কমিউনিকেশন, সেশন পরিচালনা ও সেলস সম্পর্কে শেখানো হয়েছে। স্থানীয় মানুষদের ট্রেনিং দিয়ে দক্ষ করে তোলার মাধ্যমে প্রোজেক্টিটি কমিউনিটির মানুষের কাছে পুষ্টি বিষয়ক প্রোডাক্ট ও তথ্য আরও সহজে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা তৈরি করেছে।

এসব অ্যাক্টিভিটির মাধ্যমে প্রোজেক্টটি সরাসরি ১ হাজার ৭৫০ জনের বেশি শিক্ষার্থী এবং ১ হাজার ২৫০ জন মায়ের কাছে পৌঁছেছে। এছাড়া পরোক্ষভাবে ৫ হাজারের বেশি কমিউনিটি সদস্য এই কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। এই সংখ্যাগুলো গুরুত্বপূর্ণ, কারণ শুধু একবার খাবার বা তথ্য দিয়ে অপুষ্টির সমস্যা দূর করা সম্ভব নয়। এজন্য পুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো, পরিবারের জন্য ভালো খাবার পাওয়ার সুযোগ তৈরি করা এবং কমিউনিটিতে এমন কিছু বিশ্বাসযোগ্য মানুষ গড়ে তোলা দরকার, যারা নিয়মিত পুষ্টি বিষয়ক তথ্য ও জ্ঞান অন্যদের কাছে পৌঁছে দিতে পারবেন।

বিশ্বের অনেক জায়গায় এখনও অপুষ্টি একটি বড় সমস্যা। তাই টিএলটিএন প্রোজেক্টটি শুধু একটি সফল স্থানীয় উদ্যোগ নয়, বরং অন্যান্য পিছিয়ে থাকা কমিউনিটিতে পুষ্টি নিয়ে কাজ করার জন্যও একটি ভালো মডেল হতে পারে। তবে একটি ভালো উদ্যোগকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যেতে কেবল ভালো আইডিয়া থাকলেই হয় না, ভালো প্রোজেক্ট ম্যানেজমেন্টও প্রয়োজন। এজন্য প্রয়োজন স্পষ্ট লক্ষ্য, বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা, কাজের দায়িত্ব সঠিকভাবে ভাগ করে দেওয়া, ভালো পার্টনারশিপ, নিয়মিত মনিটরিং এবং কমিউনিটির অংশগ্রহণ। এসব বিষয় ঠিকভাবে মেনে চললে একটি প্রোজেক্ট শুধু একবারের কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং এমন একটি মডেল হয়ে ওঠে, যা ভবিষ্যতে অন্য জায়গাতেও ব্যবহার করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আরও উন্নত করা যায়।

প্রোজেক্ট ম্যানেজমেন্ট এর গুরুত্ব তুলে ধরে পূর্বা চৌধুরী জয়া বলেছেন, “ভালো প্রোজেক্ট ম্যানেজমেন্ট শুধু সময়মতো কার্যক্রম শেষ করার বিষয় নয়। এর সঙ্গে একটি পরিষ্কার লক্ষ্য থাকা, যাদের জন্য কাজ করা হচ্ছে তাদের প্রয়োজন বোঝা এবং সঠিক পার্টনারদের একসঙ্গে নিয়ে আসাও গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয় ঠিকভাবে করা গেলে একটি প্রোজেক্ট আরও গোছানো ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব তৈরির সম্ভাবনাও বাড়ে।”

সুতরাং, টিএলটিএন প্রজেক্টের ‘প্রোজেক্ট অব দ্য ইয়ার’ অ্যাওয়ার্ড দেখিয়েছে, একটি প্রোজেক্ট সফল করতে শুধু ভালো মডেল থাকলেই হয় না, সেটি বাস্তবে কাজে লাগানোর জন্য দক্ষ মানুষও দরকার। পাশাপাশি প্রোজেক্টটি দেখিয়েছে, কীভাবে কমিউনিটির মানুষকে সঙ্গে নিয়ে পুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং স্থানীয় মানুষের দক্ষতা তৈরি করা যায়। এই অভিজ্ঞতা অন্য কমিউনিটির প্রয়োজন অনুযায়ী কাজে লাগানো গেলে, একটি সফল প্রোজেক্টের সুফল শুধু একটি এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে আরও অনেক মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইয়েমেনে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:০২ পি.এম


হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইয়েমেনে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

২০২৬ সালের অক্টোবরে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিক সীমান্ত এবং প্রধান প্রবেশদ্বার এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে হুথি বিদ্রোহীদের দ্বারা। এই হামলাগুলি বিমান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে এবং দেশের বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এডেন বিমানবন্দর, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের অন্তর্বর্তীকালীন রাজধানী হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, সাধারণ নাগরিক ও মানবিক সহায়তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই ধরনের হামলার ধারাবাহিকতায় বেসামরিক নাগরিকরা আহত হচ্ছেন এবং অবকাঠামোগত ক্ষতি হচ্ছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা এডেন বিমানবন্দর খালি করার নির্দেশ দেওয়ার পরপরই সেখানে দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এ বিষয়ে এডেন পুলিশের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এএফপিকে জানান, ‘এডেন বিমানবন্দরের সীমানার ভেতরে সউদী সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা লক্ষ্য করে একটি হুথি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।’

সউদী সমর্থিত ইয়েমেন সরকার জানিয়েছে, ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসেই একাধিকবার এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে হুথিরা।

ইয়েমেনি সামরিক মুখপাত্র ও পরিবহন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) সংঘটিত সর্বশেষ হামলায় বিমানবন্দর চত্বরে দুটি ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এসে পড়ে। এতে কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক আহত হন এবং অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি ঘটে।

এ পর্যন্ত যা ঘটেছে

২৮ অক্টোবরের হামলা: রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, হুথিদের খালি করার সতর্কবার্তার পরই ২৮ অক্টোবর এডেন বিমানবন্দরে হামলা চালানো হয়। ইয়েমেন সরকারের সামরিক সূত্র বেসামরিক নাগরিকদের হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির খবর নিশ্চিত করেছে। ঘটনার পর বিমানবন্দরটিতে উড্ডয়ন ও অবতরণসহ সব ধরনের বিমান চলাচল স্থগিত করা হয়।

রানওয়ে সংলগ্ন এলাকায় আঘাত (৭ অক্টোবর): এর আগে ৭ অক্টোবরের এক হামলায় অন্তত দুটি ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও বেশ কয়েকটি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছিল। ইয়েমেনের পরিবহন মন্ত্রণালয় জানায়, কায়রো থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বিমান অবতরণের ঠিক আগ মুহূর্তে একটি ক্ষেপণাস্ত্র রানওয়ের খুব কাছে এসে পড়ে। ফলে নিরাপত্তার স্বার্থে বিমানটির গতিপথ পরিবর্তন করে সউদী আরবের জেদ্দায় নিয়ে যাওয়া হয়।

উড্ডয়ন ও বিমান নিরাপত্তা নিয়ে ঝুঁকি: অ্যারাব নিউজের বরাতে জানা যায়, ইয়েমেনের পরিবহন মন্ত্রণালয় এসব উপর্যুপরি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে যে, এই আক্রমণগুলো সরাসরি বেসামরিক মানুষের জীবন এবং দেশের আকাশপথের নিরাপত্তাকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলছে।

এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি দক্ষিণ ইয়েমেনের প্রধান সংযোগস্থল এবং আন্তর্জাতিক ত্রাণকর্মী, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জরুরি মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর অন্যতম প্রধান পথ। কিন্তু হুথি বিদ্রোহীদের বারবার ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের কারণে বেসামরিক বিমান চলাচলব্যবস্থা এখন এক অনিশ্চিত সংকটের মুখোমুখি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় ৪৯০ কোটি ডলারের প্রতারণায় গ্রেপ্তার নারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:০২ পি.এম


মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় ৪৯০ কোটি ডলারের প্রতারণায় গ্রেপ্তার নারী

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ৪ কোটি ৯০ লাখ ডলারের প্রতারণার মামলায় এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মিকিয়া অ্যান্টোনিস নোবল (৩৭) নামের ওই নারীর বিরুদ্ধে মানসিক স্বাস্থ্যসংকটে থাকা ব্যক্তিদের সেবা দেওয়ার নামে ভুয়া বিল জমা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দেশটির বিচার বিভাগ এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ অক্টোবর ভার্জিনিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় ফেডারেল আদালতের একটি গ্র্যান্ড জুরি নোবলের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। নর্থ চেস্টারফিল্ডের বাসিন্দা নোবলকে আজ গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, নোবল ভার্জিনিয়ার রিচমন্ড এলাকায় মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডভান্সিং কমিউনিটিজ এভরিহোয়ার এলএলসির সহমালিক ও প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি নিজেও প্রতিষ্ঠানটির মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবী হিসেবে কাজ করার দাবি করতেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি বিল জমা দেওয়ার সময় যে ধরনের সেবা দেওয়ার কথা উল্লেখ করত, বাস্তবে সেই সেবা দেওয়া হতো না।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, নোবল তার ব্যবসায়িক অংশীদারের সঙ্গে মিলে ভার্জিনিয়ার সরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি মেডিকেইডের কাছে ভুয়া বিল জমা দেওয়ার ষড়যন্ত্র করেন। একাধিক প্রশিক্ষিত ও লাইসেন্সধারী পেশাজীবীর মাধ্যমে সেবা দেওয়ার কথা বলে বিল করা হলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম যোগ্যতাসম্পন্ন একজন কর্মী দিয়ে সেবা দেওয়া হতো।

এছাড়া মেডিকেইডের সুবিধাভোগীদের হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করতে ২০ লাখ ডলারের বেশি ব্যয় করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এর উদ্দেশ্য ছিল, তাদের দিয়ে এমন সেবা গ্রহণের সুযোগ তৈরি করা, যার প্রয়োজন তাদের ছিল না, অথচ সেই সেবার নামে সরকারি কর্মসূচির কাছে বিল জমা দেওয়া হতো।

অভিযোগ অনুযায়ী, যেসব লাইসেন্সধারী পেশাজীবী বাস্তবে সেবা দেননি, তাদের স্বাক্ষর চিকিৎসা নথিতে যুক্ত করা হয়। নোবল নিজেও সেবা দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে নথিতে স্বাক্ষর করেন, যদিও ওই সময়ে তিনি দেশের বাইরে ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের সেবার হিসাব যাচাই করতে আসা মেডিকেইডের পরিচালিত স্বাস্থ্যবিমা সংস্থাগুলোর কাছেও মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত নোবল ৪ কোটি ৯০ লাখ ডলারের বেশি ভুয়া ও প্রতারণামূলক বিল জমা দেওয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

নোবলের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যসেবা খাতে প্রতারণার ষড়যন্ত্র এবং প্রতারণার তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে প্রতিটি অভিযোগে তার সর্বোচ্চ ১০ বছর করে কারাদণ্ড হতে পারে।

মামলাটি তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরোর রিচমন্ড কার্যালয় এবং ভার্জিনিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের মেডিকেইড প্রতারণা নিয়ন্ত্রণ ইউনিট। বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারি সুবিধা কর্মসূচিতে প্রতারণা, অপচয় ও অনিয়ম বন্ধে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

তবে অভিযোগপত্রে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা মানেই তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, এমন নয়। আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত নোবল নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।

সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লস অ্যাঞ্জেলেস ফ্যাশন উইক ২০২৬-এ বাংলাদেশের রাকিব হাসানের উপস্থিতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:০৪ পি.এম


লস অ্যাঞ্জেলেস ফ্যাশন উইক ২০২৬-এ বাংলাদেশের রাকিব হাসানের উপস্থিতি

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস ফ্যাশন উইক ২০২৬-এর রানওয়েতে হেঁটে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন ফ্যাশন ডিজাইনার ও মডেল রাকিব হাসান। এবারের আয়োজনে একমাত্র বাংলাদেশি মডেল হিসেবে অংশগ্রহণ করে তিনি দেশের ফ্যাশন অঙ্গনের জন্য বিশেষ গৌরব বয়ে এনেছেন।

২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান রাকিব হাসান। নতুন পরিবেশে নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে শুরু হয় তাঁর নতুন পথচলা। ফ্যাশন জগতে কাজের অভিজ্ঞতা ও মডেলিংয়ের প্রতি গভীর আগ্রহকে সঙ্গী করে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে থাকেন তিনি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক মিডিয়া ও ফ্যাশন অঙ্গনে নিজের অবস্থান তৈরি করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন এই তরুণ মডেল।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ অক্টোবর লস অ্যাঞ্জেলেসের হলিউড হাইল্যান্ড এলাকার ডলবি থিয়েটারে আয়োজিত লস অ্যাঞ্জেলেস ফ্যাশন উইক ২০২৬-এর রানওয়েতে অংশ নেন রাকিব হাসান। আন্তর্জাতিক ফ্যাশন অঙ্গনের এই মঞ্চে একজন বাংলাদেশি মডেল হিসেবে তাঁর উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য অর্জন।

রাকিব হাসানের এই অংশগ্রহণ শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং আন্তর্জাতিক ফ্যাশন অঙ্গনে বাংলাদেশের তরুণ প্রতিভাদের এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাকেও তুলে ধরে। ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতা এবং মডেলিংয়ের প্রতি ভালোবাসা তাঁকে নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ ও পেশাগত দক্ষতা বিকাশে অনুপ্রাণিত করছে।

নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে রাকিব হাসানের এই পথচলা ভবিষ্যতে আরও সাফল্যমণ্ডিত হবে বলে প্রত্যাশা তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীদের। আন্তর্জাতিক ফ্যাশন মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে আগামী দিনে আরও বড় অর্জনের মাধ্যমে দেশের পরিচিতি তুলে ধরবেন তিনি- এমনটাই আশা সংশ্লিষ্টদের।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%