০৯:৪৪ এম
কাছাকাছি মুদ্রানীতির সংকোচনমূলক অবস্থানের কারণে, সুদের হার বেড়ে যাওয়ায় বেসরকারি বিনিয়োগ কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, এটি নতুন বাজেটে বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অর্থনীতিবিদদের বক্তব্য, চাহিদা অনুযায়ী পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত না করে শুধুমাত্র সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অনুসরণ করলে, মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে। এ অবস্থায় ঋণপ্রাপ্তি সহজ করার জন্য এবং বাজারে তারল্য প্রবাহ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতি।
সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জানুয়ারি থেকে জুন সময়ের জন্য বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ ৮ শতাংশ বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু সর্বশেষ মে মাসের হিসাব অনুযায়ী, এই প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪ দশমিক ৯৮ শতাংশে। এর পূর্ববর্তী মাস এপ্রিলে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়িয়েছিল ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশে, যা ছিল গত ২২ মাসের মধ্যে সবচেয়ে নীচু।
এই বাস্তবতায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিছুটা নমনীয় অবস্থান নিয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন নীতিগত সহায়তা ও প্রণোদনার কথাও মাথায় রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন: জাতিসংঘে মানবাধিকারভিত্তিক অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের আহ্বান বাংলাদেশ
তবে উদ্যোক্তারা মনে করছেন, নীতিসুদহার ১০ শতাংশ অপরিবর্তিত থাকায় কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের বাধা তৈরি হচ্ছে। বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের কথা অনুযায়ী, বর্তমানে ১৫ থেকে ১৬ শতাংশ পর্যন্ত সুদে ঋণ নিতে হচ্ছে। ব্যাংকগুলো তাদের সব ধরনের চার্জ ও সুবিধা আদায় করছে। এর ফলস্বরূপ, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরাই।
উদ্যোক্তাদের মতে, অর্থনীতির এই কঠিন সময়ে ঋণপ্রাপ্তি সহজ করার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আরও বেশি সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। পাশাপাশি তারল্য সহায়তা দেয়ার ক্ষেত্রে কোন ব্যাংক কতটা সক্ষম, তা যাচাই করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আশরাফ আহমেদ বলেছেন, কোন ব্যাংককে সহায়তা প্রদান করা হবে এবং কোন ব্যাংকে ছোট পরিসরে আনা হবে, সে বিষয়ে মুদ্রানীতিতে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা নেই। এটি খুব বড় একটি চ্যালেঞ্জ। কারণ, প্রশ্ন হলো; দুর্বল ব্যাংকগুলোকে টিকিয়ে রাখতে কি অর্থ দেয়া হবে, নাকি শক্তিশালী ব্যাংকগুলোকে সহায়তা করা হবে যাতে তারা বাজারের ঘাটতি পূরণ করতে পারে।
নতুন অর্থবছরের ঘাটতি বাজেট বাস্তবায়নের জন্য সরকার অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়ার পরিকল্পনা করেছে। এতে বেসরকারি খাতের জন্য ঋণপ্রাপ্তির সুযোগ আরও সংকুচিত হতে পারে। অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, এর ফলে উৎপাদন কমে গেলে মূল্যস্ফীতিও নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হবে। এজন্য বেসরকারি খাতে বিদেশি ঋণের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
আরও পড়ুন: জামায়াত নেতাদের ভারতীয় গোয়েন্দাদের সঙ্গে বৈঠকের দাবি, রাশেদকে চ্যালেঞ্জ
সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম জানিয়েছেন, বড় আকারের এডিপি বাস্তবায়নে সরকারের যে ঋণের প্রয়োজন, মুদ্রানীতির মাধ্যমে সেটিকে সহায়তা করার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। কিন্তু সরকার যদি ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে উচ্চমাত্রায় ঋণ নেয়, তাহলে বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ঋণ সংগ্রহ করে বেসরকারি খাতে ঋণ সরবরাহ বাড়ানোর জন্য ব্যবস্থা করা।
বাংলাদেশ ব্যাংক আগামী ছয় মাসে অভ্যন্তরীণ ঋণ প্রবাহ সাড়ে ১০ শতাংশে উন্নীত করতে চায়, তবে সর্বশেষ মে মাসে এ প্রবৃদ্ধি ছিল ৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন