প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফরিদপুরের যুবক শোয়াইব বিশ্বাস (২৩) পরিবারকে সচ্ছলতা ফেরানোর উদ্দেশ্যে মালয়েশিয়ায় পাড়ি দেন। দেশে এসে তিনি মাত্র দুই মাস আগে বিয়ে করে নতুন জীবন শুরু করার স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু ছুটি কাটিয়ে মালয়েশিয়ায় ফেরার ১০ দিনের মাথায় কর্মক্ষেত্রে ঘটে দুর্ঘটনায় তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। এমন দুঃসংবাদের ফলে তাঁর পরিবার শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছে। তারা এখন মরদেহ দেশে আনতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করছেন।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে মালয়েশিয়ার জহুরবারু এলাকায় কাজ করার সময় ক্রেনের চাপা পড়ে নিহত হন শোয়াইব। শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিহতের ভগ্নিপতি তুহিন হাসান। নিহত শোয়াইব ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মুরুটিয়া গ্রামের শওকত বিশ্বাসের বড় ছেলে। তিনি পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে সেজো।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, শোয়াইব ২০২৩ সালে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে যান। সেখানে একটি কোম্পানিতে তিন বছর কাজ করার পর চলতি বছরের এপ্রিলে তিনি ছুটিতে বাড়িতে আসেন এবং দুই মাস আগে বিয়ে করেন। এরপর, ছুটি শেষ করে গত ১ জুলাই তিনি মালয়েশিয়ায় ফিরে যান। সেখানে জহুরবারু এলাকায় একটি নির্মাণকাজের কোম্পানির অধীনে বুম ক্রেনের সাহায্যে নির্মাণাধীন ভবনে ফায়ার ফাইটারের পাইপ লাগানোর কাজ করেছিলেন।
নিহতের ভগ্নিপতি তুহিন হাসান বলেন, দুপুরে ওই কোম্পানির দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশি একটি ব্যক্তির মোবাইল ফোনে কল আসলে তিনি শোয়াইবের মৃত্যুর ঘটনা জানান। তিনি আরো বলেন, 'ওই ব্যক্তি ছবি ও ভিডিও পাঠিয়েছেন, যা নির্মমভাবে মৃত্যুর ঘটনাটি ফুটে উঠেছে। বুম ক্রেনটি শোয়াইব নিজেই নিয়ন্ত্রণ করতেন। কাজ করার সময় তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভবনের ছাদের সাথে চাপা পড়েন এবং সেই মেশিনের চাপে তিনি মর্মান্তিকভাবে মারা যান। তারা লাশ ফেরত পাঠানোর জন্য তিন সপ্তাহের সময় চেয়েছেন। তবে লাশটি দ্রুত দেশে আনার জন্য আমরা সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি।'
ফরিদপুর প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের সহকারী পরিচালক মো. আশিক সিদ্দিকী বলেন, 'যদি নিহত ব্যক্তি কোনো কোম্পানির অধীনে কাজ করে থাকেন, তাহলে তারা দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে মরদেহ পাঠানোর ব্যবস্থা করতে পারে। যদি সেখান থেকে কোনো সহযোগিতা না পান, তাহলে নিহতের পরিবার আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদি তিনি বৈধ কর্মী হয়ে থাকেন, তাহলে আমরা মরদেহ আনার জন্য দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করব। তা ছাড়া, মরদেহ দেশে আসলে বিমানবন্দর থেকে মরদেহ বহন ও দাফনের জন্য নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হবে এবং পরবর্তীতে ক্ষতিপূরণ বাবদ এককালীন তিন লাখ টাকা দেওয়া হবে।'
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন