শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:৩৪ পি.এম
অবসর নেওয়া ক্রিকেটার উইল পুকোভস্কি, যিনি খেলতে গিয়ে ১৩ বার মাথায় আঘাত পেয়েছেন, ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) এবং রাজ্য দল ভিক্টোরিয়ার সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছেন। পুকোভস্কির ক্ষতিপূরণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।তবে, ক্ষতিপূরণের আর্থিক পরিমাণ প্রকাশ করা হয়নি। ফক্স স্পোর্টস জানায়, পুকোভস্কির ক্যারিয়ার শেষ করে দেওয়া ১৩টি কনকাশনের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ও ক্রিকেট ভিক্টোরিয়ার মধ্যে একটি গোপন আর্থিক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।পুকোভস্কির বয়স ২৮ বছর এবং তিনি এখনো মাথায় আঘাতের কারণে বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন। এর মধ্যে রয়েছে দৃষ্টিশক্তির সমস্যা, মাথাব্যথা, বমিভাব এবং শরীরের বাঁ পাশ দিয়ে কাজ করতে অসুবিধা।এছাড়া, ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি মস্তিষ্কের রোগ ক্রনিক ট্রমাটিক এনসেফালোপ্যাথিতে (সিটিই) আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে তাঁর।ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ও ভিক্টোরিয়ার সঙ্গে সমঝোতার পাশাপাশি, পুকোভস্কি নিজের স্কুল ব্রাইটন গ্রামারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। ২০১৪ সালে স্কুলে অস্ট্রেলিয়ান রুলস ফুটবলের অনুশীলনের সময় তিনি মাথায় গুরুতর আঘাত পান, তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর।পুকোভস্কির অভিযোগ, জ্ঞান ফেরার কয়েক মিনিটের মধ্যে তাকে আবার অনুশীলনে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে, তিনি কয়েক মাস স্কুলে যেতে পারেননি এবং হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হন।পুকোভস্কি ওই ঘটনার বিষয়ে বলেছিলেন, ‘এটা অদ্ভুতভাবে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় দিন। কারণ ওই দিনের পর থেকে আমি আর কখনো আগের মতো অনুভব করিনি।’তিনি আরো বলেন, ‘আমি এমন একজন মানুষ ছিলাম, যে যেকোনো কিছু করতে প্রস্তুত থাকত।কিন্তু এরপর দীর্ঘ সময় আমাকে সোফায় বসে কিছুই না করে কাটাতে হয়েছে।’২০২১ সালে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক ঘটে পুকোভস্কির। তিনি ৩৬টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ৪৫.১৯ গড়ে ব্যাটিং করেছেন এবং ৭টি সেঞ্চুরি করেছেন।তবে একের পর এক মাথায় আঘাত পুকোভস্কির সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ারকে থামিয়ে দেয়। চিকিৎসকদের পরামর্শে ২০২৪ সালে তিনি ক্রিকেট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ট্রাম্পের ‘ঐতিহাসিক’ তেল চুক্তিতে কী পেল ভেনেজুয়েলা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ডেলসি রদ্রিগেজের মধ্যে সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে।
ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দেশের বিপুল তেলসম্পদের নিয়ন্ত্রণ দীর্ঘকাল ধরে একে অপরের সঙ্গে জড়িত। গত তিন দশক ধরে দেশটির ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক শক্তি তেলশিল্পে ‘সম্পদ জাতীয়তাবাদ’ বা রিসোর্স ন্যাশনালিজমের নীতি অনুসরণ করে আসছে। তবে ২০২৬ সালের শুরুতে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল চুক্তি সেই পরিবর্তনকে স্পষ্ট করে তুলেছে। এই চুক্তির মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার প্রায় ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুদের ওপর আগামী ১০০ বছর মার্কিন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তিকে ‘বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় তেল চুক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তবে এই চুক্তিটি শুধুমাত্র জ্বালানি খাতের বাণিজ্যিক সমঝোতা নয়; বরং ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, দেশের সার্বভৌমত্ব এবং লাতিন আমেরিকায় মার্কিন প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রেও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে।
রাজনৈতিকখবর আপডেট
মাদুরোর পতনের পর তেলনীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর একটি সামরিক অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তার ডেপুটি ডেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
মাদুরো সরকারের দীর্ঘকালীন রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত তেলনীতির পরিবর্তে রদ্রিগেজ প্রশাসন তেলশিল্পে বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগের পথ খুলতে শুরু করেছে। গত আট মাসে দেশটির হাইড্রোকার্বন আইন সংস্কার, জ্বালানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষেত্রে উদারীকরণ এবং বিদেশি তেল কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগের অনুমতি দেওয়ার মতো বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তবে এসব ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদনকে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে রাখা হয়েছে। চীন, রাশিয়া, ইরান ও উত্তর কোরিয়ার কোম্পানিগুলোকে ভেনেজুয়েলার তেলশিল্পে অংশগ্রহণ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেলে মার্কিন নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। ভেনেজুয়েলার ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুদের প্রায় ২০ শতাংশ, অর্থাৎ ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেল, যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যবস্থায় চলে যাবে। এই মজুদ দেশের ১৭টি বড় তেলক্ষেত্রে ছড়িয়ে রয়েছে। এসব ক্ষেত্রের কয়েকটি আগে চীনা ও রুশ কোম্পানিকে দেওয়া হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী, এসব তেলক্ষেত্র পরিচালনা করবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নর্থ আমেরিকান ব্লু এনার্জি পার্টনার্স (নাবেপ)। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত থাকবে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের অফিস অব স্ট্র্যাটেজিক ক্যাপিটাল (ওএসসি)। মার্কিন সরকারের এই সংস্থা নাবেপ-এর ৩৫ শতাংশ অংশীদারত্ব বিনামূল্যে পাবে বলে জানা গেছে।
এছাড়া নাবেপ নিয়ন্ত্রিত তেলক্ষেত্রগুলোর বর্তমান ও ভবিষ্যৎ উৎপাদনের ২০ শতাংশ উৎপাদন খরচে কেনার অধিকার পাবে যুক্তরাষ্ট্র। অর্থাৎ ওই তেলের ওপর ভেনেজুয়েলার কর আরোপের সুযোগ থাকবে না বলে মার্কিন সরকারের তথ্য থেকে ধারণা করা হচ্ছে। এতে ভেনেজুয়েলা প্রত্যাশিত রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হতে পারে।
অন্যদিকে বাকি ৮০ শতাংশ তেল কেনার ক্ষেত্রে ওএসসি-এর ‘ফার্স্ট রাইট অব রিফিউজাল’ বা অগ্রাধিকারমূলক ক্রয়াধিকার থাকবে। জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র ওই তেল বিক্রির ওপর ভেটোও দিতে পারবে। এর ফলে ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদে দীর্ঘমেয়াদি মার্কিন প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দেশটির তেল যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত জ্বালানি মজুদ বা স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভের প্রয়োজন মেটাতেও ব্যবহার করা যাবে।
২০০ বিলিয়ন ডলার রাজস্বের দাবি
মার্কিন ও ভেনেজুয়েলার কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, ১৭টি তেলক্ষেত্রের উন্নয়ন ও উৎপাদনে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের বিপরীতে ভেনেজুয়েলা প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলার কর ও রয়্যালটি পেতে পারে। দীর্ঘ অর্থনৈতিক সংকটে থাকা ভেনেজুয়েলার পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে এই অর্থ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ঠিক কীভাবে এই অর্থ নির্ধারণ করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া বিভিন্ন বিশেষ সুবিধা ও বিবেচনাধিকার থাকায় প্রকৃতপক্ষে ভেনেজুয়েলার রাজস্ব কত হবে, তা নির্ভুলভাবে হিসাব করা কঠিন।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো চুক্তির মেয়াদ নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যের পার্থক্য। যুক্তরাষ্ট্র ১০০ বছরের নিয়ন্ত্রণের কথা বললেও ভেনেজুয়েলা জানিয়েছে, নাবেপকে দেওয়া অনুমতির মেয়াদ হবে ২৫ বছর। এমন ধরনের চুক্তি দেশটির হাইড্রোকার্বন আইনে গত প্রায় ৫০ বছর দেখা যায়নি।
বাস্তবায়নে বড় বাধা
বিপুল বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের সম্ভাবনা থাকলেও চুক্তিটি বাস্তবায়নে রাজনৈতিক, আইনি ও অর্থনৈতিক বেশ কিছু বাধা রয়েছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ভেনেজুয়েলার প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা। দেশটিতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় স্থিতিশীল ও বিশ্বাসযোগ্য আইনি কাঠামো নিয়ে বিদেশি কোম্পানিগুলোর মধ্যে আস্থার সংকট রয়েছে।
রাজনৈতিকখবর আপডেট
এখন পর্যন্ত বড় মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর মধ্যে শেভ্রন ছাড়া অন্যদের বড় ধরনের আগ্রহ দেখা যায়নি। এক্সনমবিল ও কোনোকোফিলিপ্স-এর মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘমেয়াদি ও বৃহৎ পরিসরের বিনিয়োগে এগিয়ে না এলে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সীমাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে।
আরেকটি ঝুঁকি হলো ভবিষ্যতের নির্বাচিত সরকার। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে বর্তমান চুক্তিকে অসাংবিধানিক বা অবৈধ দাবি করে তা বাতিল কিংবা পুনর্বিবেচনার চেষ্টা করতে পারে।
একইভাবে, ভেনেজুয়েলার বর্তমান ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক শক্তি ভবিষ্যতে আবার যথেষ্ট রাজনৈতিক শক্তি অর্জন করলে মার্কিন প্রভাবের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে চুক্তির শর্ত প্রত্যাখ্যান করতে পারে।
নাবেপ প্রধানকে ঘিরেও প্রশ্ন
চুক্তি বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত নাবেপ-এর পরিচালনায় আলেহান্দ্রো বেতানকোর্টের ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। অতীতে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ঘুষ, প্রকল্প ব্যয় বাড়ানো এবং প্রভাব খাটানোর অভিযোগে একাধিক মামলা ও অভিযোগ উঠেছিল। এসব অভিযোগের মধ্যে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ-সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিষয়ও রয়েছে। ফলে বেতানকোর্টের নেতৃত্বাধীন প্রতিষ্ঠানের হাতে ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলসম্পদের ব্যবস্থাপনা কতটা স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
দ্রুত তেল উৎপাদন বাড়ানো কতটা সম্ভব?
চুক্তি ঘোষণার পর মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন দ্রুত বাড়ানোর আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বহু বছর ধরে অব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগের ঘাটতি ও অবকাঠামোগত সমস্যায় ভুগতে থাকা দেশটির তেল উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়াতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। এ জন্য প্রয়োজন বিপুল বিনিয়োগ, আধুনিক প্রযুক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। এসবের সবটাই এখনো নিশ্চিত নয়।
শুধু তেল নয়, বৃহত্তর মার্কিন কৌশল
বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে ভেনেজুেলার সঙ্গে তেল চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর ‘হেমিস্ফেরিক’ বা পশ্চিম গোলার্ধকেন্দ্রিক কৌশলের অংশ। ট্রাম্প প্রশাসনের ২০২৫ সালের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল ও পরবর্তী পররাষ্ট্রনীতির নথিগুলোতে পশ্চিম গোলার্ধকে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত প্রভাব বলয়ের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির বিপুল প্রমাণিত তেল মজুদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ভৌগোলিক নৈকট্যও এর গুরুত্ব বাড়িয়েছে।
চীন, রাশিয়া, ইরান ও উত্তর কোরিয়ার মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর কোম্পানিকে ভেনেজুয়েলার তেল খাত থেকে দূরে রাখার সিদ্ধান্তও এই বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক কৌশলেরই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।
অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি কূটনৈতিক প্রভাব ও সামরিক শক্তি ব্যবহার করে পশ্চিম গোলার্ধে নিজেদের প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন—ভেনেজুয়েলার তেলচুক্তি সেই কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
নির্বাচনের আগে তেল, নাকি তেলের পর নির্বাচন?
মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরানোর পর যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় তিন ধাপের একটি পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে—স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং রাজনৈতিক সংস্কার। চূড়ান্ত লক্ষ্য হিসেবে অবাধ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন আয়োজনের কথা বলা হয়েছে।
রাজনৈতিকখবর আপডেট
কিন্তু তেল চুক্তির সাম্প্রতিক অগ্রগতি দেখাচ্ছে, ওয়াশিংটনের অগ্রাধিকারের তালিকায় নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক রূপান্তরের আগে তেলসম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। দেশটির বিরোধী নেতাদের একটি অংশ মনে করেছিল, নির্বাচনের মাধ্যমে বৈধ সরকার প্রতিষ্ঠার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তোলা সম্ভব হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা এগিয়েছে ভিন্ন গতিতে। প্রথমে তেলসম্পদের ওপর প্রবেশাধিকার ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার পর রাজনৈতিক রূপান্তরের দিকে যাওয়ার পথ বেছে নিয়েছে ওয়াশিংটন।
ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করছেন, তেল চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের তিন ধাপের পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে বাস্তবে ভবিষ্যৎ কোনো সরকার চুক্তির শর্ত পরিবর্তন করতে পারবে কি না, তা নিয়ে ইতোমধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে।
ডেলসি রদ্রিগেজকে ঘিরে বিরোধীদের উদ্বেগ
ভেনেজুয়েলার বিরোধী রাজনীতিকদের বড় অংশ মার্কিন অংশগ্রহণকে অস্বীকার করছে না। বরং দেশটির তেলশিল্প পুনরুদ্ধারে মার্কিন বিনিয়োগকে তারা গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে। তবে সমস্যা হচ্ছে—চুক্তিটি স্বাক্ষর করছেন এমন একটি অন্তর্বর্তী সরকার, যার গণতান্ত্রিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। দেশটির জনপ্রিয় বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো ডেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের মাধ্যমে এমন দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
মাচাদো সরাসরি বলেননি যে ভবিষ্যতের নির্বাচিত সরকার চুক্তিটি বাতিল করবে। কিন্তু তার অবস্থান থেকে এমন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—যুক্তরাষ্ট্র কি সত্যিই দ্রুত নির্বাচন চায়, নাকি তেলচুক্তির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে বর্তমান অন্তর্বর্তী নেতৃত্বকে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় রাখতে আগ্রহী? এই প্রশ্ন আরো জোরালো হয়েছে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর। তিনি প্রকাশ্যে বলেছেন, ভেনেজুয়েলা এখনই নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত নয়।
ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ কোন পথে?
ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন চুক্তি দেশটির অর্থনীতি পুনর্গঠনের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে। বিপুল বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হলে দীর্ঘ অর্থনৈতিক সংকটে থাকা দেশটির রাজস্ব বাড়তে পারে এবং অবকাঠামো পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে চুক্তিটি দেশটির সার্বভৌমত্ব, ভবিষ্যৎ সরকারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং রাজনৈতিক আত্মনিয়ন্ত্রণ নিয়ে গভীর প্রশ্ন তৈরি করেছে।
চুক্তিটির সাফল্য শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, ভবিষ্যৎ নির্বাচিত সরকারের অবস্থান, আইনি বৈধতা, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক স্বার্থ—এই সবগুলো বিষয় কীভাবে একে অপরের সঙ্গে সমন্বিত হয় তার ওপর।
অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য তেলসম্পদ কাজে লাগানো ভেনেজুয়েলার জন্য যেমন প্রয়োজন, তেমনি সেই সম্পদের নিয়ন্ত্রণ কে করবে—সেটিই এখন দেশটির সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। চুক্তিটি তাই শুধু একটি তেলবাণিজ্য নয়; বরং ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও পশ্চিম গোলার্ধে মার্কিন প্রভাবের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে.
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) বিশেষ অভিযানে ১২০ লিটার চোলাইমদ ও মাদক তৈরির ২ হাজার ৮৫০ লিটার ওয়াশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ১ জনকে গ্রেফতার করা হলেও ১ জন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
শনিবার (০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল ৭টা ২০ মিনিট থেকে ৮টা পর্যন্ত গোমস্তাপুর থানাধীন আলীনগর ইউনিয়নের নাদেরাবাদ (বেইলি ব্রিজ) এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সূত্রের খবর, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো এই অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে মোঃ রুবেল আলী (৩১) নামের এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত রুবেল রহনপুর ইউনিয়নের সোবাহাননগর কলোনী ডাইংপাড়া এলাকার মোঃ আঃ সালামের ছেলে। অপরদিকে, অভিযানের সময় একই এলাকার মোঃ আজিম আলী সোহাগ (৩৩) নামের অপর এক আসামি পালিয়ে যায়।
অভিযান পরিচালনাকালে তাদের হেফাজত থেকে ১২০ লিটার প্রস্তুতকৃত চোলাইমদ এবং মাদক তৈরির কাজে ব্যবহূত ২,৮৫০ লিটার ওয়াশ উদ্ধার করা হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ডিডি) চৌধুরী ইমরুল হাসান জানান, এ ঘটনায় ডিএনসির উপ-পরিদর্শক মামুনুর রশীদ বাদী হয়ে গ্রেফতারকৃত ১ জন ও পলাতক ১ জনসহ মোট ২ আসামির বিরুদ্ধে গোমস্তাপুর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দক্ষিণাঞ্চলের কোটি মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এবার পূরণের পথে। বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে নির্মাণাধীন ১৭ তলা বিশিষ্ট ‘বিভাগীয় ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগ হাসপাতাল’-এর অবকাঠামোগত কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। হাসপাতালটি চালু হলে ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগের জটিল চিকিৎসার জন্য বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের রোগীদের ঢাকা কিংবা প্রতিবেশী ভারতে যাওয়ার প্রবণতা অনেকটাই কমতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতাল ভবনের মূল নির্মাণকাজ প্রায় শেষ। বর্তমানে বিভিন্ন তলায় শেষ মুহূর্তের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সাজসজ্জা ও আনুষঙ্গিক কাজ চলছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে ২০২৬ সালের শেষ দিকে হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হতে পারে।
প্রায় আড়াই একর জমির ওপর ২৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে ৪৬০ শয্যার এই বিশেষায়িত হাসপাতাল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবনের ২য় থেকে ৭ম তলা পর্যন্ত ক্যান্সার ইউনিটে থাকবে ১৮২টি শয্যা। ৮ম থেকে ১২তম তলা পর্যন্ত ১৫৬ শয্যার নেফ্রোলজি ও কিডনি সেন্টার এবং ১৩তম থেকে ১৭তম তলা পর্যন্ত হৃদরোগ ইউনিটের জন্য ১২টি শয্যা নির্ধারণ করা হয়েছে।
হাসপাতালটিতে আধুনিক লিফট, চলন্ত সিঁড়ি, কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, নিজস্ব সাবস্টেশনসহ বিভিন্ন আধুনিক সুবিধা রাখার কথা রয়েছে।
বরিশাল বিভাগে ক্যান্সার ও কিডনি রোগের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা সুবিধা দীর্ঘদিন ধরেই সীমিত। ফলে জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের অনেক সময় ঢাকায় যেতে হয়। আর উন্নত ও বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রত্যাশায় সামর্থ্যবান অনেক রোগী প্রতিবেশী ভারতসহ বিদেশের বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রের দ্বারস্থ হন।
এতে রোগীদের চিকিৎসা ব্যয়ের পাশাপাশি যাতায়াত, থাকা-খাওয়াসহ নানা অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হয়। বিশেষ করে ক্যান্সার ও কিডনি রোগের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বরিশালেই আন্তর্জাতিক মানের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে চিকিৎসার জন্য ঢাকা ও ভারতমুখী হওয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে।
২০২১ সালের জুলাইয়ে প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় স্থানীয় সচেতন মহলে অসন্তোষ রয়েছে। বরিশাল সমাজ সচেতন নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা এবং গণপূর্ত বিভাগের তদারকির ঘাটতির কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়েছে।
তাদের দাবি, শুরু থেকেই অভিজ্ঞ ও সক্ষম কোনো বড় প্রতিষ্ঠানকে নির্মাণকাজের দায়িত্ব দেওয়া হলে হাসপাতালটি আরও আগেই চালু করা সম্ভব হতো।
অবকাঠামোগত কাজ ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশের বেশি এগিয়ে গেলেও হাসপাতালটি চালুর ক্ষেত্রে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ চিকিৎসা সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করা।
চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্টসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনা ও স্থাপনের বিষয়ে এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় ভবন প্রস্তুত হওয়ার পরও পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা চালু হতে কতটা সময় লাগবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী খালেদ হুসাইনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এরই মধ্যে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কিডনি রোগীদের জন্য ১০টি ডায়ালাইসিস মেশিন চালু হয়েছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় তুলনামূলক কম খরচে ডায়ালাইসিসের সুযোগ পাওয়ায় রোগীদের মধ্যে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে গেলে ১৭ তলা এই বিশেষায়িত হাসপাতাল শুধু একটি নতুন ভবন নয়, বরং দক্ষিণাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবায় বড় ধরনের পরিবর্তনের কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য ঢাকামুখী কিংবা ভারতমুখী রোগীদের চাপ কমিয়ে নিজ বিভাগেই উন্নত চিকিৎসার সুযোগ তৈরির নতুন দ্বার খুলতে পারে বরিশাল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গুরুত্বপূর্ণ মেইল বা ডকুমেন্ট হারালে করণীয় ৭ পদক্ষেপ
গ্রিন কার্ড, কর্মসংস্থার অনুমতিপত্র, সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট ডাকযোগে পাওয়ার কথা থাকলেও, আমেরিকায় নতুন আসার পর তা হাতে না এলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা উচিত নয়। মেইল দেরি, ভুল ঠিকানায় চলে যাওয়া অথবা হারিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনার ক্ষেত্রে দ্রুত কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করলে ডকুমেন্ট উদ্ধারের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার মাধ্যমে নতুন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু করা সম্ভব।
মার্কিন ডাক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে মেইল না পেলে সেটির অবস্থান বা ট্র্যাকিং তথ্য যাচাই করা উচিত। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী হারানো মেইল খোঁজার আবেদন করা, স্থানীয় পোস্ট অফিসে যোগাযোগ করা এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাকে অবহিত করার মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে।
১. ডাক বিভাগের মেইল নোটিফিকেশন চালু করুন
মার্কিন ডাক বিভাগের বিনামূল্যের ‘ইনফর্মড ডেলিভারি’ সেবা চালু করলে, আপনার ঠিকানায় আসতে থাকা চিঠির ডিজিটাল প্রিভিউ এবং প্যাকেজের আপডেট পাওয়া যায়। চিঠির ক্ষেত্রে সাধারণত খামের ঠিকানা অংশের স্ক্যান করা ছবি দেখা যায়।
এভাবে কোনো গুরুত্বপূর্ণ চিঠি আসার কথা জানা থাকলেও সেটি হাতে না এলে দ্রুত বিষয়টি শনাক্ত করা সহজ হয়। তবে অনলাইনে চিঠির প্রিভিউ দেখা মানেই সেটি ইতোমধ্যে মেইলবক্সে পৌঁছে গেছে, এমন নয়। প্রিভিউ দেখানোর পরও কিছু মেইল পৌঁছাতে সময় লাগতে পারে।
২. হারানো মেইল খোঁজার আবেদন করুন
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মেইল না এলে ডাক বিভাগের ‘মিসিং মেইল সার্চ’ সেবার মাধ্যমে খোঁজার আবেদন করা সম্ভব। সাধারণত মেইল পাঠানোর সাত দিন পর এই আবেদন করা যেতে পারে।
আবেদনের সময় প্রেরক ও প্রাপকের ঠিকানা, মেইল পাঠানোর তারিখ, ট্র্যাকিং নম্বর থাকলে সেটি এবং মেইলের ধরন ও ভেতরে থাকা সামগ্রীর বিস্তারিত তথ্য প্রদান করতে হতে পারে। তবে আবেদন করলেই ডাক বিভাগ মেইলটি খুঁজে পাওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না।
৩. স্থানীয় পোস্ট অফিসে যোগাযোগ করুন
মেইল হারিয়ে গেছে বা ভুলভাবে ডেলিভারি হয়েছে বলে মনে হলে স্থানীয় পোস্ট অফিসে সরাসরি যোগাযোগ করা যেতে পারে। পরিচয়পত্রের পাশাপাশি মেইলটির সম্ভাব্য তথ্য সঙ্গে রাখলে কর্মকর্তাদের বিষয়টি খুঁজে দেখতে সুবিধা হতে পারে।
অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় পোস্ট অফিসের মাধ্যমে মেইলের অবস্থান সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তাই শুধু অনলাইনে অভিযোগ করে বসে না থেকে প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট পোস্ট অফিসেও যোগাযোগ করা গুরুত্বপূর্ণ।
৪. গ্রিন কার্ড বা কর্মসংস্থার অনুমতিপত্র না এলে অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে জানান
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ থেকে পাঠানো গ্রিন কার্ড বা কর্মসংস্থার অনুমতিপত্র ঠিকানায় না পৌঁছালে, কার্ড না পাওয়ার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে অনুসন্ধান করা যেতে পারে।
তবে নতুন করে অনুমোদিত আবেদনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা মেনে এই অনুসন্ধান করতে হয়। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে অনুমোদনের নোটিশ পাওয়ার পর অন্তত ৯০ দিন অপেক্ষা করে কার্ড না পাওয়ার বিষয়ে অনুসন্ধান করতে বলা হয়।
কার্ড হারিয়ে গেলে, চুরি হলে বা নষ্ট হয়ে গেলে পরিস্থিতি অনুযায়ী নতুন কার্ডের জন্য আবেদন করার সুযোগও রয়েছে। তাই মেইলের অপেক্ষায় দীর্ঘ সময় না থেকে নিজের আবেদনের অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি।
৫. সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড না এলে সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনে যোগাযোগ করুন
সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড সাধারণত ডাকযোগে পাঠানো হয়। প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই ও আবেদন সম্পন্ন হওয়ার পর সাধারণত প্রায় ১০ কর্মদিবসের মধ্যে কার্ড পৌঁছানোর কথা।
এই সময়ের মধ্যে কার্ড না এলে সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে। কার্ড হারিয়ে গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন কার্ডের জন্য আবেদন করার ব্যবস্থাও রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে অনলাইনে নতুন কার্ডের আবেদন করা যায় এবং এর জন্য কোনো ফি নেওয়া হয় না।
৬. ঠিকানা পরিবর্তনের তথ্য যাচাই করুন
নতুন বাসায় ওঠার পর ডাক বিভাগের কাছে ঠিকানা পরিবর্তনের আবেদন না করলে গুরুত্বপূর্ণ মেইল পুরোনো ঠিকানায় চলে যেতে পারে। তাই বাসা পরিবর্তনের পর মেইল অন্য ঠিকানায় পাঠানোর ব্যবস্থা সক্রিয় আছে কি না, তা যাচাই করা জরুরি।
তবে ডাক বিভাগের ঠিকানা পরিবর্তন করলেই সরকারি সংস্থা, ব্যাংক, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি বা অন্য প্রতিষ্ঠানের নথিতে ঠিকানা পরিবর্তন হয়ে যায় না। এসব প্রতিষ্ঠানকেও আলাদাভাবে নতুন ঠিকানা জানাতে হবে।
৭. গুরুত্বপূর্ণ মেইল পাঠানোর সময় ট্র্যাকিং ও স্বাক্ষরভিত্তিক সেবা ব্যবহার করুন
গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট বা প্যাকেজ পাঠানোর ক্ষেত্রে উপযুক্ত ট্র্যাকিং ও স্বাক্ষরভিত্তিক ডাকসেবা ব্যবহার করা হলে ডেলিভারির তথ্য পাওয়া সহজ হয়। কিছু সেবায় ডেলিভারির সময়, তারিখ এবং স্বাক্ষরের তথ্যও সংরক্ষিত থাকে। নির্দিষ্ট কিছু সেবার মাধ্যমে কেবল অনুমোদিত ব্যক্তির কাছে মেইল পৌঁছানোর ব্যবস্থাও করা যায়।
তবে সরকারি সংস্থার পাঠানো সব ডকুমেন্টে প্রাপক নিজের ইচ্ছামতো স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক করার ব্যবস্থা যোগ করতে পারেন না। কোন ধরনের ডাকসেবা ব্যবহার করা হবে, তা সাধারণত প্রেরকের ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে।
গুরুত্বপূর্ণ মেইল হাতে না এলে প্রথমে সেটির ট্র্যাকিং তথ্য যাচাই করুন। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী হারানো মেইল খোঁজার আবেদন, স্থানীয় পোস্ট অফিসে যোগাযোগ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করুন। বিশেষ করে গ্রিন কার্ড, কর্মসংস্থার অনুমতিপত্র বা সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা না করে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
আর মেইল চুরি হয়েছে বলে সন্দেহ হলে যুক্তরাষ্ট্রের ডাক পরিদর্শন সেবায় অভিযোগ করা যেতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট হারিয়ে গেলে পরিচয় চুরির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তাই এমন ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ