প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দক্ষিণাঞ্চলের কোটি মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এবার পূরণের পথে। বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে নির্মাণাধীন ১৭ তলা বিশিষ্ট ‘বিভাগীয় ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগ হাসপাতাল’-এর অবকাঠামোগত কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। হাসপাতালটি চালু হলে ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগের জটিল চিকিৎসার জন্য বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের রোগীদের ঢাকা কিংবা প্রতিবেশী ভারতে যাওয়ার প্রবণতা অনেকটাই কমতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতাল ভবনের মূল নির্মাণকাজ প্রায় শেষ। বর্তমানে বিভিন্ন তলায় শেষ মুহূর্তের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সাজসজ্জা ও আনুষঙ্গিক কাজ চলছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে ২০২৬ সালের শেষ দিকে হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হতে পারে।
প্রায় আড়াই একর জমির ওপর ২৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে ৪৬০ শয্যার এই বিশেষায়িত হাসপাতাল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবনের ২য় থেকে ৭ম তলা পর্যন্ত ক্যান্সার ইউনিটে থাকবে ১৮২টি শয্যা। ৮ম থেকে ১২তম তলা পর্যন্ত ১৫৬ শয্যার নেফ্রোলজি ও কিডনি সেন্টার এবং ১৩তম থেকে ১৭তম তলা পর্যন্ত হৃদরোগ ইউনিটের জন্য ১২টি শয্যা নির্ধারণ করা হয়েছে।
হাসপাতালটিতে আধুনিক লিফট, চলন্ত সিঁড়ি, কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, নিজস্ব সাবস্টেশনসহ বিভিন্ন আধুনিক সুবিধা রাখার কথা রয়েছে।
বরিশাল বিভাগে ক্যান্সার ও কিডনি রোগের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা সুবিধা দীর্ঘদিন ধরেই সীমিত। ফলে জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের অনেক সময় ঢাকায় যেতে হয়। আর উন্নত ও বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রত্যাশায় সামর্থ্যবান অনেক রোগী প্রতিবেশী ভারতসহ বিদেশের বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রের দ্বারস্থ হন।
এতে রোগীদের চিকিৎসা ব্যয়ের পাশাপাশি যাতায়াত, থাকা-খাওয়াসহ নানা অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হয়। বিশেষ করে ক্যান্সার ও কিডনি রোগের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বরিশালেই আন্তর্জাতিক মানের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে চিকিৎসার জন্য ঢাকা ও ভারতমুখী হওয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে।
২০২১ সালের জুলাইয়ে প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় স্থানীয় সচেতন মহলে অসন্তোষ রয়েছে। বরিশাল সমাজ সচেতন নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা এবং গণপূর্ত বিভাগের তদারকির ঘাটতির কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়েছে।
তাদের দাবি, শুরু থেকেই অভিজ্ঞ ও সক্ষম কোনো বড় প্রতিষ্ঠানকে নির্মাণকাজের দায়িত্ব দেওয়া হলে হাসপাতালটি আরও আগেই চালু করা সম্ভব হতো।
অবকাঠামোগত কাজ ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশের বেশি এগিয়ে গেলেও হাসপাতালটি চালুর ক্ষেত্রে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ চিকিৎসা সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করা।
চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্টসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনা ও স্থাপনের বিষয়ে এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় ভবন প্রস্তুত হওয়ার পরও পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা চালু হতে কতটা সময় লাগবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী খালেদ হুসাইনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এরই মধ্যে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কিডনি রোগীদের জন্য ১০টি ডায়ালাইসিস মেশিন চালু হয়েছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় তুলনামূলক কম খরচে ডায়ালাইসিসের সুযোগ পাওয়ায় রোগীদের মধ্যে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে গেলে ১৭ তলা এই বিশেষায়িত হাসপাতাল শুধু একটি নতুন ভবন নয়, বরং দক্ষিণাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবায় বড় ধরনের পরিবর্তনের কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য ঢাকামুখী কিংবা ভারতমুখী রোগীদের চাপ কমিয়ে নিজ বিভাগেই উন্নত চিকিৎসার সুযোগ তৈরির নতুন দ্বার খুলতে পারে বরিশাল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন