শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:৪১ পি.এম
গুরুত্বপূর্ণ মেইল বা ডকুমেন্ট হারালে করণীয় ৭ পদক্ষেপ
গ্রিন কার্ড, কর্মসংস্থার অনুমতিপত্র, সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট ডাকযোগে পাওয়ার কথা থাকলেও, আমেরিকায় নতুন আসার পর তা হাতে না এলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা উচিত নয়। মেইল দেরি, ভুল ঠিকানায় চলে যাওয়া অথবা হারিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনার ক্ষেত্রে দ্রুত কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করলে ডকুমেন্ট উদ্ধারের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার মাধ্যমে নতুন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু করা সম্ভব।
মার্কিন ডাক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে মেইল না পেলে সেটির অবস্থান বা ট্র্যাকিং তথ্য যাচাই করা উচিত। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী হারানো মেইল খোঁজার আবেদন করা, স্থানীয় পোস্ট অফিসে যোগাযোগ করা এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাকে অবহিত করার মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে।
১. ডাক বিভাগের মেইল নোটিফিকেশন চালু করুন
মার্কিন ডাক বিভাগের বিনামূল্যের ‘ইনফর্মড ডেলিভারি’ সেবা চালু করলে, আপনার ঠিকানায় আসতে থাকা চিঠির ডিজিটাল প্রিভিউ এবং প্যাকেজের আপডেট পাওয়া যায়। চিঠির ক্ষেত্রে সাধারণত খামের ঠিকানা অংশের স্ক্যান করা ছবি দেখা যায়।
এভাবে কোনো গুরুত্বপূর্ণ চিঠি আসার কথা জানা থাকলেও সেটি হাতে না এলে দ্রুত বিষয়টি শনাক্ত করা সহজ হয়। তবে অনলাইনে চিঠির প্রিভিউ দেখা মানেই সেটি ইতোমধ্যে মেইলবক্সে পৌঁছে গেছে, এমন নয়। প্রিভিউ দেখানোর পরও কিছু মেইল পৌঁছাতে সময় লাগতে পারে।
২. হারানো মেইল খোঁজার আবেদন করুন
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মেইল না এলে ডাক বিভাগের ‘মিসিং মেইল সার্চ’ সেবার মাধ্যমে খোঁজার আবেদন করা সম্ভব। সাধারণত মেইল পাঠানোর সাত দিন পর এই আবেদন করা যেতে পারে।
আবেদনের সময় প্রেরক ও প্রাপকের ঠিকানা, মেইল পাঠানোর তারিখ, ট্র্যাকিং নম্বর থাকলে সেটি এবং মেইলের ধরন ও ভেতরে থাকা সামগ্রীর বিস্তারিত তথ্য প্রদান করতে হতে পারে। তবে আবেদন করলেই ডাক বিভাগ মেইলটি খুঁজে পাওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না।
৩. স্থানীয় পোস্ট অফিসে যোগাযোগ করুন
মেইল হারিয়ে গেছে বা ভুলভাবে ডেলিভারি হয়েছে বলে মনে হলে স্থানীয় পোস্ট অফিসে সরাসরি যোগাযোগ করা যেতে পারে। পরিচয়পত্রের পাশাপাশি মেইলটির সম্ভাব্য তথ্য সঙ্গে রাখলে কর্মকর্তাদের বিষয়টি খুঁজে দেখতে সুবিধা হতে পারে।
অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় পোস্ট অফিসের মাধ্যমে মেইলের অবস্থান সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তাই শুধু অনলাইনে অভিযোগ করে বসে না থেকে প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট পোস্ট অফিসেও যোগাযোগ করা গুরুত্বপূর্ণ।
৪. গ্রিন কার্ড বা কর্মসংস্থার অনুমতিপত্র না এলে অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে জানান
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ থেকে পাঠানো গ্রিন কার্ড বা কর্মসংস্থার অনুমতিপত্র ঠিকানায় না পৌঁছালে, কার্ড না পাওয়ার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে অনুসন্ধান করা যেতে পারে।
তবে নতুন করে অনুমোদিত আবেদনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা মেনে এই অনুসন্ধান করতে হয়। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে অনুমোদনের নোটিশ পাওয়ার পর অন্তত ৯০ দিন অপেক্ষা করে কার্ড না পাওয়ার বিষয়ে অনুসন্ধান করতে বলা হয়।
কার্ড হারিয়ে গেলে, চুরি হলে বা নষ্ট হয়ে গেলে পরিস্থিতি অনুযায়ী নতুন কার্ডের জন্য আবেদন করার সুযোগও রয়েছে। তাই মেইলের অপেক্ষায় দীর্ঘ সময় না থেকে নিজের আবেদনের অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি।
৫. সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড না এলে সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনে যোগাযোগ করুন
সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড সাধারণত ডাকযোগে পাঠানো হয়। প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই ও আবেদন সম্পন্ন হওয়ার পর সাধারণত প্রায় ১০ কর্মদিবসের মধ্যে কার্ড পৌঁছানোর কথা।
এই সময়ের মধ্যে কার্ড না এলে সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে। কার্ড হারিয়ে গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন কার্ডের জন্য আবেদন করার ব্যবস্থাও রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে অনলাইনে নতুন কার্ডের আবেদন করা যায় এবং এর জন্য কোনো ফি নেওয়া হয় না।
৬. ঠিকানা পরিবর্তনের তথ্য যাচাই করুন
নতুন বাসায় ওঠার পর ডাক বিভাগের কাছে ঠিকানা পরিবর্তনের আবেদন না করলে গুরুত্বপূর্ণ মেইল পুরোনো ঠিকানায় চলে যেতে পারে। তাই বাসা পরিবর্তনের পর মেইল অন্য ঠিকানায় পাঠানোর ব্যবস্থা সক্রিয় আছে কি না, তা যাচাই করা জরুরি।
তবে ডাক বিভাগের ঠিকানা পরিবর্তন করলেই সরকারি সংস্থা, ব্যাংক, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি বা অন্য প্রতিষ্ঠানের নথিতে ঠিকানা পরিবর্তন হয়ে যায় না। এসব প্রতিষ্ঠানকেও আলাদাভাবে নতুন ঠিকানা জানাতে হবে।
৭. গুরুত্বপূর্ণ মেইল পাঠানোর সময় ট্র্যাকিং ও স্বাক্ষরভিত্তিক সেবা ব্যবহার করুন
গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট বা প্যাকেজ পাঠানোর ক্ষেত্রে উপযুক্ত ট্র্যাকিং ও স্বাক্ষরভিত্তিক ডাকসেবা ব্যবহার করা হলে ডেলিভারির তথ্য পাওয়া সহজ হয়। কিছু সেবায় ডেলিভারির সময়, তারিখ এবং স্বাক্ষরের তথ্যও সংরক্ষিত থাকে। নির্দিষ্ট কিছু সেবার মাধ্যমে কেবল অনুমোদিত ব্যক্তির কাছে মেইল পৌঁছানোর ব্যবস্থাও করা যায়।
তবে সরকারি সংস্থার পাঠানো সব ডকুমেন্টে প্রাপক নিজের ইচ্ছামতো স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক করার ব্যবস্থা যোগ করতে পারেন না। কোন ধরনের ডাকসেবা ব্যবহার করা হবে, তা সাধারণত প্রেরকের ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে।
গুরুত্বপূর্ণ মেইল হাতে না এলে প্রথমে সেটির ট্র্যাকিং তথ্য যাচাই করুন। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী হারানো মেইল খোঁজার আবেদন, স্থানীয় পোস্ট অফিসে যোগাযোগ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করুন। বিশেষ করে গ্রিন কার্ড, কর্মসংস্থার অনুমতিপত্র বা সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা না করে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
আর মেইল চুরি হয়েছে বলে সন্দেহ হলে যুক্তরাষ্ট্রের ডাক পরিদর্শন সেবায় অভিযোগ করা যেতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট হারিয়ে গেলে পরিচয় চুরির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তাই এমন ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সকে দর্শনার্থীবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানিয়েছেন, জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সকে আরো পরিচ্ছন্ন ও দর্শনার্থীদের জন্য সুবিধাজনক করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরের জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধনকালে জেলা প্রশাসক এই তথ্য জানান।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার প্রতিরূপ নিয়ে এখানে গড়ে উঠেছে ‘মিনি বাংলাদেশ’।
তিনি উল্লেখ করেন, কালুরঘাটের ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সের সঙ্গে মানুষের আবেগ ও আগ্রহ জড়িয়ে রয়েছে। জেলা প্রশাসন সাধারণ মানুষের জন্য এই স্থানটিকে নিরাপদ ও মানসম্মত বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।
চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদউল্লাহ মন্তব্য করেন, শুধু দেশ ও পরিবেশের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করলেই হবে না, মানুষের মনও পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
প্রশাসনের পাশাপাশি নাগরিকদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নাটোরের সিংড়ায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী যুবলীগের নেতা মোস্তফা বিন আরাফাতকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শনিবার সন্ধ্যায় পুলিশের এক বিশেষ অভিযানে শেরকোল-রাণীনগর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
সে উপজেলার রাণীনগর গ্রামের রিয়াদ মোস্তফা রতনের ছেলে ও উপজেলার ৮ নম্বর শেরকোল ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বলে জানা গেছে।
সিংড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তার বিরুদ্ধে বিষ্ফোরক আইনে মামলা রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, রাজশাহীর হারানো ক্রীড়া গৌরব ফিরিয়ে আনতে এবং নতুন প্রজন্মকে মাদক ও মোবাইল আসক্তি থেকে দূরে রাখতে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে বহুমুখী ক্রীড়া উন্নয়ন পরিকল্পনা ও নতুন টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হবে।
শনিবার বিকালে রাজশাহী মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের গ্রান্ড ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। ফাইনাল ম্যাচে টাইব্রেকারে ৩-২ গোলে দুর্গাপুর উপজেলা দলকে পরাজিত করে মোহনপুর উপজেলা দল।
মন্ত্রী বলেন, খেলায় হার-জিত থাকবেই, তবে সবার আগে জয় হবে রাজশাহীর এবং রাজশাহীর ক্রীড়াঙ্গনের। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্রীড়ামোদী এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে চাঙা করতে খেলোয়াড়দের মাঠে নিয়ে আসছেন। দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বদানকারী নতুন প্রজন্ম যেন মাদক, মোবাইল আসক্তি ও অন্যান্য সামাজিক ব্যাধি থেকে দূরে থেকে মেধার বিকাশ ঘটাতে পারে, সেটিই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
ভূমিমন্ত্রী বলেন, রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীন স্টেডিয়ামটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও মাঠ সংস্কারের পাশাপাশি অতি দ্রুত এর ফ্লাডলাইট আগের মতো সচল করার জন্য সব ধরনের রাষ্ট্রীয় প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হবে। এই মাঠে ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ফুটবল দল এবং দেশের বেশ কয়েকটি জাতীয় ক্রিকেট দলের অংশগ্রহণে বড়ো টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা আছে।
তিনি আরও বলেন, রাজশাহী মহানগরীর প্রায় ১৬টি ছোট-বড়ো মাঠ আছে, যা বর্তমানে খেলার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে অত্যন্ত দ্রুত সংস্কার করে সুন্দর ও সবুজ খেলার উপযোগী মাঠ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
ভূমিমন্ত্রী ক্রীড়াঙ্গনকে আরও গতিশীল করতে রাজশাহী শহরের কলেজ-স্কুলে বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের নামে ‘ভলিবল গোল্ডকাপ টুর্নামেন্ট’ এবং ভবিষ্যতে ‘প্রাইম মিনিস্টার গোল্ড কাপ’সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্ট আয়োজনের ঘোষণা দেন।
জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের এমপি মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৫ আসনের অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, সংরক্ষিত নারী আসনের মাহবুবা হাবিবা, বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী, আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবীর, পুলিশ সুপার মামুন অর রশিদ।
উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট শুরু হওয়া জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল এবং পুরস্কার বিতরণ শনিবার অনুষ্ঠিত হয়। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা দুর্গাপুর উপজেলা দলের পলাশ এবং ফাইনাল ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় দুর্গাপুর উপজেলা দলের জুবায়ের। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় মোহনপুর উপজেলা দলের বাদল এবং সেরা গোলকিপার মোহনপুর উপজেলা দলের আবু রায়হান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের জন্য কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডর, যা ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত, সেখানে নতুন চার লেনের মহাসড়ক নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই প্রকল্পের জন্য ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে দুই হাজার ৭৭ কোটি রুপি। নতুন সড়কটি ৩১ দশমিক ০২ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে এবং এটি বাগডোগরা থেকে পশ্চিমবঙ্গের পানিটঙ্কি ও খড়িবাড়ি হয়ে বিহারের গালগালিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।
ন্যাশনাল হাইওয়ে-৩২৭ নামের এই নতুন মহাসড়ক বিদ্যমান ন্যাশনাল হাইওয়ে-২৭-এর সমান্তরালে নির্মিত হবে, যেখানে দুই মহাসড়কের মধ্যে দূরত্ব থাকবে প্রায় ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটার।
শিলিগুড়ি করিডর প্রায় ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ, যা ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর একমাত্র স্থল সংযোগ। এই করিডরের সবচেয়ে সরু অংশের প্রস্থ মাত্র ২০ থেকে ২২ কিলোমিটার। নেপাল ও বাংলাদেশ দ্বারা বেষ্টিত এবং চীন ও ভুটান সীমান্তের নিকটবর্তী অবস্থান থাকার কারণে এই সংকীর্ণ করিডরটি ভারতের নিরাপত্তা ও যোগাযোগের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল।
কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রী নিতিন গড়করি এক ফেসবুক পোস্টে এই প্রকল্পের জন্য দুই হাজার ৭৭ দশমিক ১৮ কোটি রুপি অনুমোদনের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, "কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই করিডরটি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে মজবুত করার পাশাপাশি নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার বড় ধরনের উন্নতি ঘটাবে।"
এই চার লেনের সড়কটি বাগডোগরা, নকশালবাড়ি, খড়িবাড়ি ও পানিট্যাঙ্কির যানজট কমাতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি, এটি বাগডোগরা বিমানবন্দর ও আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে স্থানীয় চা, শাকসবজি ও অন্যান্য কৃষি পণ্য দ্রুত বড় বাজারে পৌঁছাতে সহায়ক হবে।
প্রকল্পের আওতায় তিনটি বড় সেতু, একটি ওভারব্রিজ, পাঁচটি হাতির আন্ডারপাস এবং মহাসড়কের উভয় পাশে সার্ভিস রোড নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে পাঁচটি হাতির আন্ডারপাস নির্মাণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ কুরসিওং বন বিভাগের আওতাধীন জাতীয় সড়ক ৩২৭-এর কিছু অংশ হাতি পারাপার এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ধান কাটার মৌসুমে এই অঞ্চলে হাতির চলাচল বেশি থাকে, যা দ্রুতগামী যানবাহনের ধাক্কায় বন্য হাতি মারা যাওয়ার বা আহত হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দেবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, বিশেষ করে ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে ভারত সরকার শিলিগুড়ি করিডরে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে এবং আঞ্চলিক সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে বিশেষ জোর দিচ্ছে। সম্প্রতি কেন্দ্র বারাণসী থেকে নিউ জলপাইগুড়ি পর্যন্ত হাই-স্পিড রেল করিডোর, শিলিগুড়ির কাছে ৩৫ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ রেললাইন এবং মালদা থেকে এনজেপি পর্যন্ত চতুর্থ রেললাইন স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে। এছাড়া, বাগডোগরা বিমানবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আলিপুরদুয়ার জেলার হাসিমারা বিমানঘাঁটি থেকে বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনাও চলছে।
একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার মতে, জাতীয় সড়ক ২৭ হলো শিলিগুড়ি ও উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে দেশের বাকি অংশের মূল যোগাযোগ পথ। তাই কেন্দ্রীয় সরকার এখন কৌশলগত কারণে চিকেনস নেক দিয়ে বিহারের গালগালিয়া থেকে একটি বিকল্প ও সমান্তরাল মহাসড়ক নির্মাণের ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে।
দার্জিলিংয়ের সংসদ সদস্য রাজু বিস্তা এই মহাসড়ক প্রকল্পকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন যে শিলিগুড়ি করিডরের কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনা করলে এই প্রকল্পটির তাৎপর্য কেবল আঞ্চলিক যোগাযোগের চেয়েও অনেক বেশি। এটি উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক কাঠামোকে শক্তিশালী করবে এবং দেশের পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে জরুরি পণ্য, সেবা ও মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থাকে আরও সহজ করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ