ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ফলন ভালো হলেও দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় পাটচাষিরা


ফলন ভালো হলেও দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় পাটচাষিরা

ফলন ভালো, কিন্তু দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে পাটচাষিরা। নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের শুলধিয়া গ্রামের মনু মোল্যা তার বাড়ির পাশের সড়কে পাট শুকাচ্ছেন। শনিবার তোলা। এবছর তিনি ৬০ শতক জমিতে পাটের আবাদ করেন এবং খরচ হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। মৌসুমের শুরুতে পাটের বাজার দর ছিল চার হাজার ৫০০ টাকা, যা পরে কমে তিন হাজারে দাঁড়িয়েছে। দাম কমার কারণে হতাশ মনু মোল্যা।

শনিবার (৮ আগস্ট) তাঁর সঙ্গে কথা হলে মনু মোল্যা জানান, "পাট চাষ করে যে টাকা খরচ হয়েছে, সেই তুলনায় দর দাম নাই।" তিনি আরও বলেন, "বাজার দর যদি না বাড়ে তাহলে আগামী বছর হয়তো পাট চাষ করা হবে না।"

মনু মোল্যার মতো জেলার অধিকাংশ কৃষকও পাটের দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তাঁরা মন্তব্য করেন, প্রতিবছর উৎপাদন খরচ বাড়লেও পাটের দাম একই রকম থেকে গেছে। এই কারণে পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন তারা।

আরও পড়ুন: রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কায় তিনজন নিহত

নড়াইলের গ্রামীণ জনপদে পাট কাটা, পচানো এবং ধোঁয়ায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন পাট চাষিরা। অনেকে পাটের পাশাপাশি পাটকাটি প্রক্রিয়াজাত করে ঘরে তুলছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর পাটের ভালো ফলন হয়েছে।

নড়াইল সদর উপজেলার মুলিয়া ইউনিয়নের কোড়গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে চিত্রা নদী। ওই নদীতে পাট জাগ দিচ্ছেন কৃষক দীপক রায়। তিনি বলেছেন, "পাটের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার আর কোনো আশা নেই।" প্রথম দিকে পাটের দাম ছিল মণপ্রতি চার হাজার থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা, কিন্তু বর্তমানে তা নেমে দাঁড়িয়েছে তিন হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা। তাঁর ভাষ্য, "আমরা এখন কেবল জাগ দিচ্ছি। এই পাট বাছাই করে ধুয়ে রোদে দিয়ে হাটে নেওয়ার জন্য এখনও অনেক সময় বাকি। সেই সময়ের মধ্যে দাম হয়তো দুই হাজার থেকে আড়াই হাজারটাকায় নামবে।"

দীপক রায় আরো বলেন, "একজন শ্রমিকের দাম ৫০০ টাকা। সকাল ৯টায় কাজে আসে, দুপুর ১টায় চলে যায়। কয় ঘণ্টা কাজ করে?" তিনি বলেন, "চাষার বাঁচার কোনো পথ নেই। এক আটি পাট ঘরে তুলতে ২০ টাকা খরচ হয়ে যায়। ফলন ভালো আছে, কিন্তু বাজার যদি ঠিক না থাকে তাহলে আমাদের বাঁচার আর কোনো পথ নেই।"

মোবারক নামের এক চাষি বলেন, "মাঠ থেকে এক আটি পাট আনতে ১০ টাকা দিতে হচ্ছে। জমি প্রস্তুত করা, পাট কাটা, পচানো, বাছাই, শুকানো সব মিলে পাটে যে খরচ, তাতে আমরা লাভবান হতে পারছি না। হাট থেকে পাট বিক্রি করে সেটি আবার শ্রমিকদের দিয়ে দিতে হচ্ছে। সরকারের কাছে আবেদন, পাটের দাম সরকারিভাবে নির্ধারণ করা হোক।"

আরও পড়ুন: রংপুরে ডাম্পট্রাকের পেছনে বাসের ধাক্কায় ৩ জন নিহত, ১৮ আহত

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে নড়াইলে ২৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। বর্তমানে ২৩ হাজার ৫১৭ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৭ হেক্টর বেশি। উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাটের আবাদ হয়েছে লোহাগড়ায় ১২ হাজার ১৬৫ হেক্টর জমিতে। এছাড়া সদর উপজেলায় ছয় হাজার ৯৪২ হেক্টর এবং কালিয়া উপজেলায় চার হাজার ৪১০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দণ্ডিতদের তথ্য নিয়ে উন্মুক্ত ডেটাবেইস নয় কেন, হাইকোর্টের রুল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৫৭ পি.এম


দণ্ডিতদের তথ্য নিয়ে উন্মুক্ত ডেটাবেইস নয় কেন, হাইকোর্টের রুল

ফৌজদারি মামলায় দণ্ডিতদের তথ্যযুক্ত একটি ‘সর্বজনীন প্রবেশযোগ্য অনলাইন ডেটাবেইস’ কেন তৈরি করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রিটের প্রাথমিক শুনানির পর রবিবার (৯ আগস্ট) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল প্রদান করেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করার জন্য উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার ফাহমিদা আখতার। তিনি নিজেই এই রিট আবেদন করেছিলেন। সাংবাদিকদের তিনি জানান, ‘দেশে অপরাধ দিনে দিনে বেড়ে চলেছে। তাই দণ্ডিত আসামিদের রেকর্ডগুলো ব্যবহার করে একটি অনলাইন ডেটাবেইস তৈরি করা গেলে সেই রেকর্ডগুলো পাবলিকলি অ্যাভেইলেবল থাকবে। ফলে সামাজিক ক্রিটিসিজম (সমালোচনা) এবং অস্ট্রাসিজমের (সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার) ভয়ের কারণে যেকোনো ব্যক্তি অপরাধ করার মতো সাহস করে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এতে অপরাধের সংখ্যা ও মাত্রা কমে আসবে। তাছাড়া কাউকে চাকরিতে বা কাজে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে কিংবা কারোর সঙ্গে পারিবারিক-সামাজিক সম্পর্ক তৈরি করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অতীত ও বর্তমান যাচাই করা যাবে। এতে নাগরিক অধিকার অক্ষুন্ন থাকবে।’

এই আইনজীবী জানান, রুলের জবাব দিতে চার সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্রসচিব, আইনসচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দাউদকান্দিতে আওয়ামী লীগ নেতাসহ ৫ জন গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৫৮ পি.এম


দাউদকান্দিতে আওয়ামী লীগ নেতাসহ ৫ জন গ্রেপ্তার

 

কুমিল্লায় পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে দাউদকান্দি মডেল থানা। রবিবার (৯ আগস্ট) ভোর রাতে পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের সূত্র থেকে জানা যায়, রবিবার রাত আড়াইটার দিকে সুন্দলপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগের সুন্দলপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ওয়ালীউল্লাহ প্রধানকে (৬০) গ্রেপ্তার করা হয়। একই রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো অন্য একটি অভিযানে বিটেশ্বর এলাকা থেকে শিশু ধর্ষণ (বলাৎকার) মামলার আসামি এবং পশ্চিম পাড়া জামে মসজিদের ইমাম মো. আব্দুর রহমানকে (৬৫) গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ছাড়া আরো পৃথক অভিযানে সবজিকান্দি এলাকা থেকে ডাকাতি মামলার আসামি মো. ইমরান হোসেন এবং মালীগাঁও এলাকা থেকে সিআর/জিআর পরোয়ানাভুক্ত দুই আসামি মো. হযরত আলী (৫৩) ও মো. নাঈম মিয়াকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পর বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন

অপপ্রচারের বিরুদ্ধে নিন্দা জানাল পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:০২ পি.এম


অপপ্রচারের বিরুদ্ধে নিন্দা জানাল পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন

বাংলাদেশ পুলিশের সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন অপপ্রচারের বিরুদ্ধে নিন্দা জানিয়েছে। তারা অভিযোগ করেছে যে, পুলিশ বাহিনীকে দুর্বল এবং বিতর্কিত করতে ‘পরিকল্পিত অপতৎপরতা’ চলছে। সংগঠনটির দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর পুলিশ বাহিনীর ভঙ্গুর মনোবল আবার ফিরতে শুরু করেছে এবং সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করতে নতুন উদ্যমে কাজ করছে। অথচ এমন সময় একটি স্বার্থান্বেষী মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে। রবিবার সংগঠনটির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এই অভিযোগ করা হয়। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পুলিশ বাহিনীর বাইরে ও এর অভ্যন্তরে থাকা একটি স্বার্থান্বেষী মহল মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দেশ-বিদেশে অবস্থানরত বিভিন্ন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট এবং নামধারী সাংবাদিকদের কাছে সরবরাহ করছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এসব তথ্যের সত্যতা ও প্রেক্ষাপট যাচাই না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরঞ্জিত ও মনগড়া গল্প ছড়ানো হচ্ছে এবং এই প্রচারণাগুলো পুলিশের মনোবল ও পেশাগত সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত করার অপচেষ্টা। পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে যে, পলাতক ও জনবিচ্ছিন্ন ‘ফ্যাসিস্ট শক্তি’ এবং কিছু স্বার্থান্বেষী মহল এই অপতৎপরতার সাথে জড়িত। তাদের সরবরাহ করা তথ্য যাচাই না করে কথিত সাংবাদিক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এই তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছেন। সংগঠনটি বলেছে, এসব প্রচারণা শুরুতে ব্যক্তিবিশেষকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে চালানো হলেও তা ধীরে ধীরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এবং এমনকি বাহিনীর প্রধানের বিরুদ্ধেও কুৎসা ও অপপ্রচারে রূপ নিচ্ছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের মনোবল ও পেশাগত সক্ষমতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অপতথ্য, গুজব ও কুৎসামূলক প্রচারণা শুরু হলে এর প্রভাব পুলিশের ওপরই সীমাবদ্ধ থাকবে না, রাষ্ট্র, জনগণ, এবং একটি স্বাভাবিক, স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের প্রত্যাশাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করেছে যে, ব্যক্তিস্বার্থ, গোষ্ঠীগত স্বার্থ কিংবা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য একটি সংগঠিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে দায়িত্বহীন এবং অনৈতিক প্রচারণা কোনোভাবেই সাংবাদিকতার দায়িত্ব বা মত প্রকাশের স্বাধীনতার অংশ হতে পারে না। সংগঠনটি যোগ করেছে যে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড পেশাগত নৈতিকতা, রাষ্ট্রীয় স্বার্থ এবং একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার বিপরীতে। পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ করেছে। একই সাথে, রাষ্ট্র, জনগণ এবং পুলিশ বাহিনীর স্বার্থে এ ধরনের অপতৎপরতায় জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় ও কর্মকাণ্ড শনাক্ত করে আইন, বিধি ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলার আওতায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড থেকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিরত থাকতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অভাবকে জয় করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন ঠাকুরগাঁওয়ের আদিবাসীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:০৫ পি.এম


অভাবকে জয় করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন ঠাকুরগাঁওয়ের আদিবাসীরা

অভাবকে জয় করে তাদের নিজেদের পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়ানোর নিরন্তর চেষ্টা করে চলেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের আদিবাসী জনগোষ্ঠী। তবে সঠিক সুযোগ ও পুঁজি না থাকায় তাদের জীবনযাত্রায় বারবার ছন্দপতন ঘটে গেছে। জেলার দুর্ভোগে থাকা বেশ কিছু আদিবাসী পল্লির চিত্র ঠিক এমনই। একসময় প্রতিদিন কাজের সন্ধানে ছুটতে হতো পথে-প্রান্তরে, নতুবা চুলোয় হাঁড়ি উঠতো না। বর্তমানে কিন্তু তাদের জীবনে পরিবর্তনের আভাস দেখা যাচ্ছে, বাড়িতে শুরু হয়েছে পশু পালন, হাঁস-মুরগি লালন-পালনের পাশাপাশি সবজি ও ধান চাষও করা হচ্ছে।

রোববার (৯ আগস্ট) বিশ্ব আদিবাসী দিবসে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নারগুন ইউনিয়নের কহরপাড়া গ্রামের আরতি মার্ডির জীবন বদলের গল্পটা যেন প্রমাণ করে দেয় যে, সুযোগ, প্রশিক্ষণ, পুঁজি ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে প্রান্তিক আদিবাসী মানুষ নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনে সক্ষম।

পঞ্চাশের কোঠায় পৌঁছানো আরতি মার্ডির রয়েছে পাঁচ সদস্যের একটি পরিবার। একসময় তার নিজস্ব কোনো ভিটেমাটি না থাকায় খাসজমিতে ছাপড়া তুলে বসবাস করতে হতো। তিনি দিনমজুর স্বামী ও সন্তানের সংসার চালাতে গিয়ে যথেষ্ট কষ্টে ছিলেন। জীবনের সেই কঠিন সময়ে ২০১৯ সালের অক্টোবরে উন্নয়ন সংস্থা ইএসডিও-র 'পাথওয়েজ টু প্রসপারিটি ফর এক্সট্রিমলি পুওর পিপল (পিপিইপিপি)' প্রকল্পের মাধ্যমে যুক্ত হন 'প্রসপারিটি বনফুল ইকো গ্রাম কমিটি'-তে। করোনাকালে প্রকল্পের সাহায্যে পাওয়া ৯ হাজার টাকার বিনিময়ে একটি ছাগল কেনার মাধ্যমে তার ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পের সূচনা হয়।

এরপর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তিনি সরকারি ঘর ও প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে একটি গাভী পান। সংস্থাটির থেকে পাওয়া সহজ শর্তের ঋণ ও সহায়তায় তিনি ৫৫ শতাংশ জমিতে মিষ্টি কুমড়া এবং ৫০ শতাংশ জমিতে ধান-সবজি চাষ শুরু করেন। বর্তমানে তার ৩টি গাভী, ৫টি ছাগল, ৫টি হাঁস এবং ১৫টি মুরগি রয়েছে। এখন তিনি সবজি চাষ, হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশু থেকে মাসিক আয় পাচ্ছেন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। মোট ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে সেটিকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে তিনি প্রায় ১২ লাখ টাকার সম্পদ গড়তে সক্ষম হয়েছেন। তার কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি পেয়েছেন ‘শ্রেষ্ঠ নারী উদ্যোক্তা’ পুরস্কার।

নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করে আরতি মার্ডি বলেন, 'একসময় প্রতিদিনের খাবারের চিন্তায় ঘুম হতো না। ইএসডিও-র পরামর্শ ও সহায়তায় ধীরে ধীরে সবজি চাষ ও পশু পালন শুরু করি। এখন নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখতে পারছি।'

একই ইউনিয়নের নালাডাঙ্গী এলাকার শান্তি মার্ডির গল্পটিও অনুপ্রেরণা যোগায়। দিনমজুর স্বামীর সামান্য আয়ে চলতে থাকা সংসারে তিনি ইএসডিও-র সহায়তায় ভার্মি কম্পোস্ট (কেঁচো সার) উৎপাদন শুরু করেন। সংস্থার তরফে ৫০ হাজার টাকা অনুদান পেয়ে ৬টি সেটে কেঁচো সার তৈরি করছেন তিনি। প্রতি কেজি ১৫ টাকা দরে সার বিক্রি করে মাসে বর্তমানে তার আয় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা।

আদিবাসী পল্লির আরতি ও শান্তির মতো অন্যান্যদের জীবনেও এসেছে ইতিবাচক পরিবর্তন, যেমন মিনতি সরেন, চিন্তামনি মুর্মু, জসপিনা মুর্মু, সখিনা সরেন এবং সুমি হাসদার জীবনেও। তবে জীবনের মান আরও উন্নয়ন করার জন্য স্থানীয়রা সরকারি উদ্যোগ নেওয়ার জোর দাবী জানান। আদিবাসী নারীরা বলছেন, 'আমাদের জীবন অনেকটাই বদলেছে। তবে সরকার যদি সমতল আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন, চাকুরির কোটা পুনর্বহাল, দখলকৃত ভূমি উদ্ধার এবং শিল্প-সংস্কৃতি রক্ষার স্থায়ী উদ্যোগ গ্রহণ করে, তাহলে আমাদের পূর্ণাঙ্গ বিকাশ সম্ভব।'

এ বিষয়ে ইএসডিও-র টেকনিক্যাল অফিসার মো. জান্নাতুল ফেরদৌস এবং টিম লিডার মোছা. মোসলেমা খাতুন জানান, কেবল আর্থিক সহায়তাই শেষ কথা নয়। প্রান্তিক আদিবাসী জনগোষ্ঠীর দক্ষতা বৃদ্ধি, কৃষি ও পশুপালনে যুক্ত করা, শিক্ষা-স্বাস্থ্য ও সরকারি সেবায় তাদের সম্পৃক্ত করা মূল লক্ষ্য। আরতি ও শান্তির মতো নারীদের সফলতা এখন পুরো পল্লির অন্যান্য পরিবারের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%