প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফলন ভালো, কিন্তু দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে পাটচাষিরা। নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের শুলধিয়া গ্রামের মনু মোল্যা তার বাড়ির পাশের সড়কে পাট শুকাচ্ছেন। শনিবার তোলা। এবছর তিনি ৬০ শতক জমিতে পাটের আবাদ করেন এবং খরচ হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। মৌসুমের শুরুতে পাটের বাজার দর ছিল চার হাজার ৫০০ টাকা, যা পরে কমে তিন হাজারে দাঁড়িয়েছে। দাম কমার কারণে হতাশ মনু মোল্যা।
শনিবার (৮ আগস্ট) তাঁর সঙ্গে কথা হলে মনু মোল্যা জানান, "পাট চাষ করে যে টাকা খরচ হয়েছে, সেই তুলনায় দর দাম নাই।" তিনি আরও বলেন, "বাজার দর যদি না বাড়ে তাহলে আগামী বছর হয়তো পাট চাষ করা হবে না।"
মনু মোল্যার মতো জেলার অধিকাংশ কৃষকও পাটের দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তাঁরা মন্তব্য করেন, প্রতিবছর উৎপাদন খরচ বাড়লেও পাটের দাম একই রকম থেকে গেছে। এই কারণে পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন তারা।
নড়াইলের গ্রামীণ জনপদে পাট কাটা, পচানো এবং ধোঁয়ায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন পাট চাষিরা। অনেকে পাটের পাশাপাশি পাটকাটি প্রক্রিয়াজাত করে ঘরে তুলছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর পাটের ভালো ফলন হয়েছে।
নড়াইল সদর উপজেলার মুলিয়া ইউনিয়নের কোড়গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে চিত্রা নদী। ওই নদীতে পাট জাগ দিচ্ছেন কৃষক দীপক রায়। তিনি বলেছেন, "পাটের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার আর কোনো আশা নেই।" প্রথম দিকে পাটের দাম ছিল মণপ্রতি চার হাজার থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা, কিন্তু বর্তমানে তা নেমে দাঁড়িয়েছে তিন হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা। তাঁর ভাষ্য, "আমরা এখন কেবল জাগ দিচ্ছি। এই পাট বাছাই করে ধুয়ে রোদে দিয়ে হাটে নেওয়ার জন্য এখনও অনেক সময় বাকি। সেই সময়ের মধ্যে দাম হয়তো দুই হাজার থেকে আড়াই হাজারটাকায় নামবে।"
দীপক রায় আরো বলেন, "একজন শ্রমিকের দাম ৫০০ টাকা। সকাল ৯টায় কাজে আসে, দুপুর ১টায় চলে যায়। কয় ঘণ্টা কাজ করে?" তিনি বলেন, "চাষার বাঁচার কোনো পথ নেই। এক আটি পাট ঘরে তুলতে ২০ টাকা খরচ হয়ে যায়। ফলন ভালো আছে, কিন্তু বাজার যদি ঠিক না থাকে তাহলে আমাদের বাঁচার আর কোনো পথ নেই।"
মোবারক নামের এক চাষি বলেন, "মাঠ থেকে এক আটি পাট আনতে ১০ টাকা দিতে হচ্ছে। জমি প্রস্তুত করা, পাট কাটা, পচানো, বাছাই, শুকানো সব মিলে পাটে যে খরচ, তাতে আমরা লাভবান হতে পারছি না। হাট থেকে পাট বিক্রি করে সেটি আবার শ্রমিকদের দিয়ে দিতে হচ্ছে। সরকারের কাছে আবেদন, পাটের দাম সরকারিভাবে নির্ধারণ করা হোক।"
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে নড়াইলে ২৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। বর্তমানে ২৩ হাজার ৫১৭ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৭ হেক্টর বেশি। উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাটের আবাদ হয়েছে লোহাগড়ায় ১২ হাজার ১৬৫ হেক্টর জমিতে। এছাড়া সদর উপজেলায় ছয় হাজার ৯৪২ হেক্টর এবং কালিয়া উপজেলায় চার হাজার ৪১০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন