প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ পুলিশের সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন অপপ্রচারের বিরুদ্ধে নিন্দা জানিয়েছে। তারা অভিযোগ করেছে যে, পুলিশ বাহিনীকে দুর্বল এবং বিতর্কিত করতে ‘পরিকল্পিত অপতৎপরতা’ চলছে। সংগঠনটির দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর পুলিশ বাহিনীর ভঙ্গুর মনোবল আবার ফিরতে শুরু করেছে এবং সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করতে নতুন উদ্যমে কাজ করছে। অথচ এমন সময় একটি স্বার্থান্বেষী মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে। রবিবার সংগঠনটির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এই অভিযোগ করা হয়। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পুলিশ বাহিনীর বাইরে ও এর অভ্যন্তরে থাকা একটি স্বার্থান্বেষী মহল মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দেশ-বিদেশে অবস্থানরত বিভিন্ন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট এবং নামধারী সাংবাদিকদের কাছে সরবরাহ করছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এসব তথ্যের সত্যতা ও প্রেক্ষাপট যাচাই না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরঞ্জিত ও মনগড়া গল্প ছড়ানো হচ্ছে এবং এই প্রচারণাগুলো পুলিশের মনোবল ও পেশাগত সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত করার অপচেষ্টা। পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে যে, পলাতক ও জনবিচ্ছিন্ন ‘ফ্যাসিস্ট শক্তি’ এবং কিছু স্বার্থান্বেষী মহল এই অপতৎপরতার সাথে জড়িত। তাদের সরবরাহ করা তথ্য যাচাই না করে কথিত সাংবাদিক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এই তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছেন। সংগঠনটি বলেছে, এসব প্রচারণা শুরুতে ব্যক্তিবিশেষকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে চালানো হলেও তা ধীরে ধীরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এবং এমনকি বাহিনীর প্রধানের বিরুদ্ধেও কুৎসা ও অপপ্রচারে রূপ নিচ্ছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের মনোবল ও পেশাগত সক্ষমতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অপতথ্য, গুজব ও কুৎসামূলক প্রচারণা শুরু হলে এর প্রভাব পুলিশের ওপরই সীমাবদ্ধ থাকবে না, রাষ্ট্র, জনগণ, এবং একটি স্বাভাবিক, স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের প্রত্যাশাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করেছে যে, ব্যক্তিস্বার্থ, গোষ্ঠীগত স্বার্থ কিংবা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য একটি সংগঠিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে দায়িত্বহীন এবং অনৈতিক প্রচারণা কোনোভাবেই সাংবাদিকতার দায়িত্ব বা মত প্রকাশের স্বাধীনতার অংশ হতে পারে না। সংগঠনটি যোগ করেছে যে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড পেশাগত নৈতিকতা, রাষ্ট্রীয় স্বার্থ এবং একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার বিপরীতে। পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ করেছে। একই সাথে, রাষ্ট্র, জনগণ এবং পুলিশ বাহিনীর স্বার্থে এ ধরনের অপতৎপরতায় জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় ও কর্মকাণ্ড শনাক্ত করে আইন, বিধি ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলার আওতায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড থেকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিরত থাকতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন