ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

প্রিন্স মামুন কারাগারে


প্রিন্স মামুন কারাগারে

এক কোটি টাকা যৌতুক দাবি এবং দ্বিতীয় স্ত্রী মোহনাকে মারধরের অভিযোগে করা মামলায় সোশ্যাল মিডিয়ার কনটেন্ট ক্রিয়েটর আব্দুল্লাহ আল মামুন, যিনি প্রিন্স মামুন নামে পরিচিত, তাকে আদালত কারাগারে পাঠিয়েছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুল ইসলাম, মামলার শুনানি শেষে, প্রিন্স মামুনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এই আদেশ প্রদান করেন।

এর আগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ভাটারা থানার উপপরিদর্শক মো. ইয়াউর রহমান আসামিকে আদালতে হাজির করেন এবং তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান। অন্যদিকে, প্রিন্স মামুনের আইনজীবী জামিন চেয়ে শুনানি করেন। তবে শুনানি চলাকালীন বাদীপক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।

আরও পড়ুন: নেসেটে ১৯ আসন পেয়েও সংশয়: নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারবে তো আরব দলগুলো?

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে সাড়ে আটটার দিকে মামুনের স্ত্রী আতিকিয়া ফাইজাহ মোহনা বাদী হয়ে রাজধানীর ভাটারা থানায় মামলাটি করেন। মামলার পর পরই ভাটারা থানা-পুলিশ মামুনকে গ্রেপ্তার করে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদী মোহনা পেশায় একজন ফ্যাশন মডেল। তারা প্রায় পাঁচ মাস আগে প্রিন্স মামুনের সঙ্গে বিয়ে করেছেন। বিয়ের পর থেকেই নানাবিধ বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য শুরু হয়।

বাদীর অভিযোগ, মামুন বিভিন্ন নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় লিপ্ত এবং নেশাগ্রস্ত। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে মোহনাকে মারধর করা হচ্ছে। আরেকটি অভিযোগ হলো, ব্যবসার উদ্দেশ্যে বিয়ের পর থেকে বাদীর কাছে এক কোটি টাকা যৌতুক দাবি করে আসছেন মামুন।.

এক কোটি টাকা যৌতুকের দাবি না মানলে তার ওপর শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন চালানো হয়ে থাকে। এজাহারে আরও বলা হয়, নির্যাতনের ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার রাতে সাড়ে ১২টার দিকে মোহনার বাসায় নেশাগ্রস্ত অবস্থায় যান প্রিন্স মামুন।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী চার দিনের জাপান সফর শেষে আজ দেশে ফিরছেন

সেখানে এসে তিনি বাবা-মায়ের কাছ থেকে এক কোটি টাকা যৌতুক নিয়ে আসার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। মোহনা অস্বীকৃতি জানানোর পর তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে মামুন উত্তেজিত হয়ে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে শুরু করেন এবং মোহনাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে থাকেন। এমনকি গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এই হামলায় মোহনার বাম চোখের নিচে রক্তাক্ত জখমসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম দেখা গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দিল্লিতে সরকারের সঙ্গে বৈঠকে বসছে সিজেপি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:১৩ পি.এম


দিল্লিতে সরকারের সঙ্গে বৈঠকে বসছে সিজেপি

অনশন এবং রাজপথের উত্তাল প্রতিবাদের মুখে থাকার পর অবশেষে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার আন্দোলনকারী তরুণদের দাবি মেনে নিরপেক্ষ স্থানে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) অনুরোধের পর শুক্রবার (২৪ জুলাই) কনস্টিটিউশন ক্লাব অব ইন্ডিয়াতে দুপক্ষের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি, তবুও আন্দোলনকারীদের মূল দাবিগুলো পূরণে সরকারের আশ্বাসের পর বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) গভীর রাতে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক তার ২৬ দিনের অনশন ভঙ্গ করেন।

স্থানীয় সময় শুক্রবার দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে নিরপেক্ষ পরিবেশে এই বৈঠক শুরু হয়। সরকারের নমনীয় মনোভাব এবং নিরপেক্ষ স্থানে আলোচনার প্রস্তাব মেনে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে সিজেপি।

সংগঠনটির জাতীয় মুখপাত্র সৌরভ দাস সাংবাদিকদের জানান, ‘একটি আলোচনার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে সরকার এক নিরপেক্ষ স্থানে বৈঠক করার অনুরোধে শেষ পর্যন্ত রাজি হয়েছে এবং আলোচনা করার জন্য কনস্টিটিউশন ক্লাব অব ইন্ডিয়াকে বেছে নেওয়া হয়েছে। আশা করি সরকার খোলা মনে আলোচনা করবে এবং আন্দোলনরত তরুণদের কথা শোনার সুযোগ পাবে।’

এর আগে সরকারের মন্ত্রী ভবন বা তাদের দাপ্তরিক কার্যালয়ে বৈঠকের সব ধরনের আমন্ত্রণ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছিল সিজেপি। সরকার সম্পর্কিত যেকোনো পরবর্তী আলোচনা নিরপেক্ষ স্থানে করতে হবে, এই বিষয়ে তারা অনড় ছিলেন।

গত ২০ জুলাই দুই পক্ষের মধ্যে একটি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওইদিন সিজেপির দুই শীর্ষ প্রতিনিধি সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডার বাসভবনে সাক্ষাৎ করার জন্য যান। পরে অভিযোগ ওঠে যে, মন্ত্রী ভবন চত্বরে বৈঠক চলাকালীন তাদের প্রায় বন্দি করে রাখা হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার পর থেকেই আন্দোলনকারীরা সরকারের যেকোনো দাপ্তরিক ভবনের পরিবর্তে নিরপেক্ষ স্থানকেই প্রধান শর্ত হিসেবে সামনে আনেন।

এদিকে সিজেপি আরও জানিয়েছে, দেশের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত দিল্লির যন্তর মন্তরে তাদের গণপ্রতিবাদ কর্মসূচি থামবে না।

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পাশাপাশি তাদের অন্যান্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলোতে অনিয়মের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, গোটা শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার করা, নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ফলে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ১ কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং আন্দোলনের কারণে শিক্ষার্থীদের ওপর দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার করা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডেপুটি স্পিকারের সহযোগিতায় শিশুর সফল হৃদরোগের অস্ত্রোপচার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:১৮ পি.এম


ডেপুটি স্পিকারের সহযোগিতায় শিশুর সফল হৃদরোগের অস্ত্রোপচার

জেলার দুর্গাপুরে দুই বছর বয়সী এক শিশুর চিকিৎসার সার্বিক দায়িত্ব নিয়ে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তাকে সুস্থ করে তুলেছেন। শিশুটির হৃদরোগ ছিল জন্মগত কারণে।

ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের বিশেষ উদ্যোগ ও সহযোগিতায় শিশুটির হৃদযন্ত্রে সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে শিশুটি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে পরিবারের সঙ্গে নিজ বাড়িতে ফিরে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের আগে ও পরে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল নিয়মিত অসুস্থ মানুষের খবরাখবর নিচ্ছেন এবং তাদের সমস্যা সমাধান করছেন স্বেচ্ছাসেবক প্রতিনিধি দলের মাধ্যমে।

সম্প্রতি উপজেলার বিরিশিরি ইউনিয়নের সাগরদিঘী গ্রামের বাসিন্দা থিওফিল সাংমা এবং মারিয়া নেংমীঞ্জ দম্পতির শিশু সন্তান সেংনাম শিমনের অসুস্থতার খবর পান তিনি। শিশুটি জন্ম থেকেই হৃদযন্ত্রে ছিদ্রজনিত জটিলতায় ভুগছিল, যা অর্থাভাবে পরিবারটির পক্ষে সামলানো অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।

খবর পেয়ে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও তার টিম শিশুটির উন্নত চিকিৎসার সার্বিক দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৮ জুলাই শিশুটিকে ঢাকার ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে ভর্তি করা হয়। সেখানে অভিজ্ঞ হৃদরোগ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে সফলভাবে তার জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।

বাড়িতে ফিরে আসার পর শিশুটির পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা ডেপুটি স্পিকারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। ব্যারিস্টার কায়সার কামালের এমন মহতী উদ্যোগের জন্য সাধারণ মানুষের প্রশংসা অব্যাহত রয়েছে।

চিকিৎসা শেষে শিশুটি সুস্থ হওয়ায় ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি শুকরিয়া আদায় করেন। তিনি চিকিৎসক ও তার স্বেচ্ছাসেবক প্রতিনিধি দলের প্রতি ধন্যবাদও জানিয়েছেন। এ সময় তিনি বলেন যে, এলাকার সাধারণ ও অসহায় মানুষের সেবায় এ ধরনের সহায়তামূলক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন স্পিকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:২১ পি.এম


নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন স্পিকার

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার কারণে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে স্পিকারের কাছে মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র পাঠানোর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।

সংবিধানের ৫০ (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে অথবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

সংবিধানের ১২৩ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। সংবিধানের ৪৮ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

সংসদে ক্ষমতাসীন বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ফলে দলটির মনোনীত ব্যক্তিরই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। মো. সাহাবুদ্দিনের উত্তরসূরি হিসেবে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তা নিয়ে বিএনপির শীর্ষপর্যায়ে কয়েক দিন ধরে আলোচনা চলছে।

আজ দুপুরে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক থেকে ঢাকায় ফেরেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। চিকিৎসার জন্য গত ১৯ জুলাই তিনি ব্যাংককে গিয়েছিলেন। সফরসূচি অনুযায়ী আগামী রোববার তার ফেরার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগে তিনি দেশে ফেরেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতিসংঘের নেতৃত্বের দৌড়ে রয়েছেন ৬ প্রার্থী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:২১ পি.এম


জাতিসংঘের নেতৃত্বের দৌড়ে রয়েছেন ৬ প্রার্থী

জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ছয় প্রার্থী বৃহস্পতিবার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বিতর্কে সংকটে থাকা সংস্থাটির বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধারের উপর জোর প্রদান করেছেন। আনুষ্ঠানিক নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরুর এক সপ্তাহ আগে এ বিতর্কটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জাতিসংঘ সদর দপ্তর থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, এখন পর্যন্ত কোনো প্রার্থী স্পষ্টভাবে এগিয়ে যেতে না পারায় নির্বাচনী প্রচারণায় অদূরদর্শিতা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বিশাল কক্ষে প্রায় দুই ঘণ্টার বিতর্কে প্রার্থীরা কূটনীতিক, জাতিসংঘের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করেছে ব্লুমবার্গ।

মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উত্তরসূরি হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন চিলির মিশেল ব্যাচেলেট, ইকুয়েডরের মারিয়া ফার্নান্দা এস্পিনোসা, আর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রোসি, কোস্টারিকার রেবেকা গ্রিনস্প্যান, গায়ানার ক্যারোলিন রড্রিগেজ-বিরকেট এবং সেনেগালের ম্যাকি সাল। গুতেরেসের দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হবে আগামী ৩১ ডিসেম্বর।

বৈঠকের সময়ে প্রত্যেক প্রার্থীই তাদের মহাসচিব হওয়ার পেছনে নিজেদের যোগ্যতা তুলে ধরেছেন। বৈশ্বিক সংঘাতের সংকটময় এই সময়ে সংকট মোকাবিলার জন্য নিজেদের সক্ষমতা, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অভিজ্ঞতা এবং সব পক্ষের সঙ্গে আন্তঃসংলাপ চালানোর সক্ষমতার কথা উল্লেখ করেছেন।

জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক সম্মেলনের (আঙ্কটাড) মহাসচিব রেবেকা গ্রিনস্প্যান বলেছেন, ‘পাঁচ বছর পর আমি চাই না কেউ আমাকে আবার জিজ্ঞেস করুক, ‘জাতিসংঘ কোথায়?’ সেটিই হবে আমার সাফল্যের মানদণ্ড। আমি এমন একটি জাতিসংঘ দেখতে চাই, যা আবার সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে আলোচনার টেবিলে ফিরবে এবং মাঠপর্যায়ে ফল নিশ্চিত করবে।’

সেনেগালের সাবেক প্রেসিডেন্ট ম্যাকি সালও একই ধরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে তিনি আস্থা পুনরুদ্ধারে কাজ করবেন এবং জাতিসংঘকে আরও দ্রুত, কার্যকর ও মানুষের কথা বেশি শোনার একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার নির্দেশনা দেবেন। ‘জাতিসংঘ শুনবে, পদক্ষেপ নেবে এবং মানুষকে একত্র করবে।’

গায়ানার রাষ্ট্রদূত ক্যারোলিন রড্রিগেজ-বিরকেটও বলেছেন, তিনি জাতিসংঘের সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন। তার ভাষায়, ‘আমি এমন মহাসচিব হতে চাই, যিনি ইরান, হাইতি, সুদান কিংবা কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র- যেখানেই সংকট হোক না কেন, উদ্যোগ নেব।’

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি সংঘাতের সময় জাতিসংঘের আরও সক্রিয় ভূমিকার পক্ষে মত দেন। তিনি বলেন, কোনো সদস্য রাষ্ট্র যদি যুদ্ধ শুরু করে বা আগ্রাসন চালায়, তাহলে ‘এটি এতটাই গুরুতর বিষয় যে মহাসচিবের অবশ্যই এগিয়ে আসা উচিত।’

গ্রোসি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রথম কাজ হবে বৈধ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে জাতিসংঘের বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধার করা। এরপর হাতে থাকা সব উপায় কাজে লাগাতে হবে।’

বর্তমানে জাতিসংঘ গভীর অর্থনৈতিক ও আস্থার সংকটের সম্মুখীন হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সংস্থাটির বিরুদ্ধে বেপরোয়া ব্যয়, অতিরিক্ত সম্প্রসারণ এবং প্রত্যাশিত ফল দিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ তুলেছে।

যুক্তরাষ্ট্র চায়, জাতিসংঘ শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার মৌলিক দায়িত্বে আরও বেশি গুরুত্ব দিক। তবে অন্য অনেক দেশ মনে করে, সংস্থাটির অপর দুই ভিত্তি- মানবাধিকার ও উন্নয়ন সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বেশির ভাগ প্রার্থীই জাতিসংঘকে আরও কার্যকর করতে চলমান সংস্কার অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় মহাসচিবের আরও সক্রিয় ভূমিকার উপর জোর দিলেন।

আগামী ৩০ জুলাই নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্য জাতিসংঘের মহাসচিব পদের প্রার্থীদের প্রথম দফার গোপন ও নামবিহীন ভোট দেবেন। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী আরও কয়েক দফা একই ধরনের ভোট হবে। কোনো প্রার্থীকে নির্বাচিত হতে অন্তত নয়টি ভোট পেতে হবে। পাশাপাশি নিরাপত্তা পরিষদের যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ফ্রান্স ও রাশিয়া এই পাঁচ স্থায়ী সদস্য দেশের ভেটো প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

নির্বাচিত প্রার্থীর নাম পরে আনুষ্ঠানিক নিয়োগের জন্য সাধারণ পরিষদে পাঠানো হবে। নতুন মহাসচিব ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

এএফপির সঙ্গে কথা বলার সময় কয়েকজন কূটনীতিক ফলাফল নিয়ে সতর্ক মন্তব্য করেছেন। তারা জানিয়েছেন, অনেক দেশের রাজধানী এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক রিচার্ড গোয়ান এএফপি’কে বলেছেন, ‘এখনও সবচেয়ে আলোচিত শীর্ষ প্রার্থী গ্রোসি। তবে তিনি নিশ্চিতভাবে এগিয়ে যেতে সক্ষম হননি। গ্রিনস্প্যান ও রড্রিগেজ-বিরকেটেরও উল্লেখযোগ্য সমর্থক রয়েছে।’

জাতিসংঘের বিভিন্ন মহল ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আরও কয়েকটি নামও আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। নিউইয়র্ক পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাকে জাতিসংঘের নেতৃত্বে দেখতে চান।

সব সময় অনুসরণ না হলেও ভৌগোলিক রোটেশনের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী এবার লাতিন আমেরিকা এ পদটির দাবি তুলেছে। ম্যাকি সাল ছাড়া বাকি সব প্রার্থীই এ অঞ্চল থেকে এসেছেন।

এছাড়া অনেক দেশ প্রথমবারের মতো একজন নারীকে জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে দেখতে চায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%