ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ডেপুটি স্পিকারের সহযোগিতায় শিশুর সফল হৃদরোগের অস্ত্রোপচার


ডেপুটি স্পিকারের সহযোগিতায় শিশুর সফল হৃদরোগের অস্ত্রোপচার

জেলার দুর্গাপুরে দুই বছর বয়সী এক শিশুর চিকিৎসার সার্বিক দায়িত্ব নিয়ে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তাকে সুস্থ করে তুলেছেন। শিশুটির হৃদরোগ ছিল জন্মগত কারণে।

ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের বিশেষ উদ্যোগ ও সহযোগিতায় শিশুটির হৃদযন্ত্রে সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে শিশুটি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে পরিবারের সঙ্গে নিজ বাড়িতে ফিরে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের আগে ও পরে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল নিয়মিত অসুস্থ মানুষের খবরাখবর নিচ্ছেন এবং তাদের সমস্যা সমাধান করছেন স্বেচ্ছাসেবক প্রতিনিধি দলের মাধ্যমে।

আরও পড়ুন: ইনানীতে ৪২ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে আগুন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি

সম্প্রতি উপজেলার বিরিশিরি ইউনিয়নের সাগরদিঘী গ্রামের বাসিন্দা থিওফিল সাংমা এবং মারিয়া নেংমীঞ্জ দম্পতির শিশু সন্তান সেংনাম শিমনের অসুস্থতার খবর পান তিনি। শিশুটি জন্ম থেকেই হৃদযন্ত্রে ছিদ্রজনিত জটিলতায় ভুগছিল, যা অর্থাভাবে পরিবারটির পক্ষে সামলানো অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।

খবর পেয়ে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও তার টিম শিশুটির উন্নত চিকিৎসার সার্বিক দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৮ জুলাই শিশুটিকে ঢাকার ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে ভর্তি করা হয়। সেখানে অভিজ্ঞ হৃদরোগ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে সফলভাবে তার জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।

বাড়িতে ফিরে আসার পর শিশুটির পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা ডেপুটি স্পিকারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। ব্যারিস্টার কায়সার কামালের এমন মহতী উদ্যোগের জন্য সাধারণ মানুষের প্রশংসা অব্যাহত রয়েছে।

চিকিৎসা শেষে শিশুটি সুস্থ হওয়ায় ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি শুকরিয়া আদায় করেন। তিনি চিকিৎসক ও তার স্বেচ্ছাসেবক প্রতিনিধি দলের প্রতি ধন্যবাদও জানিয়েছেন। এ সময় তিনি বলেন যে, এলাকার সাধারণ ও অসহায় মানুষের সেবায় এ ধরনের সহায়তামূলক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ৯ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা প্রত্যাহার, নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন স্পিকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:২১ পি.এম


নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন স্পিকার

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার কারণে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে স্পিকারের কাছে মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র পাঠানোর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।

সংবিধানের ৫০ (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে অথবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

সংবিধানের ১২৩ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। সংবিধানের ৪৮ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

সংসদে ক্ষমতাসীন বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ফলে দলটির মনোনীত ব্যক্তিরই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। মো. সাহাবুদ্দিনের উত্তরসূরি হিসেবে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তা নিয়ে বিএনপির শীর্ষপর্যায়ে কয়েক দিন ধরে আলোচনা চলছে।

আজ দুপুরে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক থেকে ঢাকায় ফেরেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। চিকিৎসার জন্য গত ১৯ জুলাই তিনি ব্যাংককে গিয়েছিলেন। সফরসূচি অনুযায়ী আগামী রোববার তার ফেরার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগে তিনি দেশে ফেরেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতিসংঘের নেতৃত্বের দৌড়ে রয়েছেন ৬ প্রার্থী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:২১ পি.এম


জাতিসংঘের নেতৃত্বের দৌড়ে রয়েছেন ৬ প্রার্থী

জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ছয় প্রার্থী বৃহস্পতিবার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বিতর্কে সংকটে থাকা সংস্থাটির বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধারের উপর জোর প্রদান করেছেন। আনুষ্ঠানিক নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরুর এক সপ্তাহ আগে এ বিতর্কটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জাতিসংঘ সদর দপ্তর থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, এখন পর্যন্ত কোনো প্রার্থী স্পষ্টভাবে এগিয়ে যেতে না পারায় নির্বাচনী প্রচারণায় অদূরদর্শিতা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বিশাল কক্ষে প্রায় দুই ঘণ্টার বিতর্কে প্রার্থীরা কূটনীতিক, জাতিসংঘের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করেছে ব্লুমবার্গ।

মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উত্তরসূরি হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন চিলির মিশেল ব্যাচেলেট, ইকুয়েডরের মারিয়া ফার্নান্দা এস্পিনোসা, আর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রোসি, কোস্টারিকার রেবেকা গ্রিনস্প্যান, গায়ানার ক্যারোলিন রড্রিগেজ-বিরকেট এবং সেনেগালের ম্যাকি সাল। গুতেরেসের দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হবে আগামী ৩১ ডিসেম্বর।

বৈঠকের সময়ে প্রত্যেক প্রার্থীই তাদের মহাসচিব হওয়ার পেছনে নিজেদের যোগ্যতা তুলে ধরেছেন। বৈশ্বিক সংঘাতের সংকটময় এই সময়ে সংকট মোকাবিলার জন্য নিজেদের সক্ষমতা, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অভিজ্ঞতা এবং সব পক্ষের সঙ্গে আন্তঃসংলাপ চালানোর সক্ষমতার কথা উল্লেখ করেছেন।

জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক সম্মেলনের (আঙ্কটাড) মহাসচিব রেবেকা গ্রিনস্প্যান বলেছেন, ‘পাঁচ বছর পর আমি চাই না কেউ আমাকে আবার জিজ্ঞেস করুক, ‘জাতিসংঘ কোথায়?’ সেটিই হবে আমার সাফল্যের মানদণ্ড। আমি এমন একটি জাতিসংঘ দেখতে চাই, যা আবার সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে আলোচনার টেবিলে ফিরবে এবং মাঠপর্যায়ে ফল নিশ্চিত করবে।’

সেনেগালের সাবেক প্রেসিডেন্ট ম্যাকি সালও একই ধরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে তিনি আস্থা পুনরুদ্ধারে কাজ করবেন এবং জাতিসংঘকে আরও দ্রুত, কার্যকর ও মানুষের কথা বেশি শোনার একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার নির্দেশনা দেবেন। ‘জাতিসংঘ শুনবে, পদক্ষেপ নেবে এবং মানুষকে একত্র করবে।’

গায়ানার রাষ্ট্রদূত ক্যারোলিন রড্রিগেজ-বিরকেটও বলেছেন, তিনি জাতিসংঘের সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন। তার ভাষায়, ‘আমি এমন মহাসচিব হতে চাই, যিনি ইরান, হাইতি, সুদান কিংবা কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র- যেখানেই সংকট হোক না কেন, উদ্যোগ নেব।’

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি সংঘাতের সময় জাতিসংঘের আরও সক্রিয় ভূমিকার পক্ষে মত দেন। তিনি বলেন, কোনো সদস্য রাষ্ট্র যদি যুদ্ধ শুরু করে বা আগ্রাসন চালায়, তাহলে ‘এটি এতটাই গুরুতর বিষয় যে মহাসচিবের অবশ্যই এগিয়ে আসা উচিত।’

গ্রোসি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রথম কাজ হবে বৈধ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে জাতিসংঘের বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধার করা। এরপর হাতে থাকা সব উপায় কাজে লাগাতে হবে।’

বর্তমানে জাতিসংঘ গভীর অর্থনৈতিক ও আস্থার সংকটের সম্মুখীন হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সংস্থাটির বিরুদ্ধে বেপরোয়া ব্যয়, অতিরিক্ত সম্প্রসারণ এবং প্রত্যাশিত ফল দিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ তুলেছে।

যুক্তরাষ্ট্র চায়, জাতিসংঘ শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার মৌলিক দায়িত্বে আরও বেশি গুরুত্ব দিক। তবে অন্য অনেক দেশ মনে করে, সংস্থাটির অপর দুই ভিত্তি- মানবাধিকার ও উন্নয়ন সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বেশির ভাগ প্রার্থীই জাতিসংঘকে আরও কার্যকর করতে চলমান সংস্কার অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় মহাসচিবের আরও সক্রিয় ভূমিকার উপর জোর দিলেন।

আগামী ৩০ জুলাই নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্য জাতিসংঘের মহাসচিব পদের প্রার্থীদের প্রথম দফার গোপন ও নামবিহীন ভোট দেবেন। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী আরও কয়েক দফা একই ধরনের ভোট হবে। কোনো প্রার্থীকে নির্বাচিত হতে অন্তত নয়টি ভোট পেতে হবে। পাশাপাশি নিরাপত্তা পরিষদের যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ফ্রান্স ও রাশিয়া এই পাঁচ স্থায়ী সদস্য দেশের ভেটো প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

নির্বাচিত প্রার্থীর নাম পরে আনুষ্ঠানিক নিয়োগের জন্য সাধারণ পরিষদে পাঠানো হবে। নতুন মহাসচিব ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

এএফপির সঙ্গে কথা বলার সময় কয়েকজন কূটনীতিক ফলাফল নিয়ে সতর্ক মন্তব্য করেছেন। তারা জানিয়েছেন, অনেক দেশের রাজধানী এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক রিচার্ড গোয়ান এএফপি’কে বলেছেন, ‘এখনও সবচেয়ে আলোচিত শীর্ষ প্রার্থী গ্রোসি। তবে তিনি নিশ্চিতভাবে এগিয়ে যেতে সক্ষম হননি। গ্রিনস্প্যান ও রড্রিগেজ-বিরকেটেরও উল্লেখযোগ্য সমর্থক রয়েছে।’

জাতিসংঘের বিভিন্ন মহল ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আরও কয়েকটি নামও আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। নিউইয়র্ক পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাকে জাতিসংঘের নেতৃত্বে দেখতে চান।

সব সময় অনুসরণ না হলেও ভৌগোলিক রোটেশনের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী এবার লাতিন আমেরিকা এ পদটির দাবি তুলেছে। ম্যাকি সাল ছাড়া বাকি সব প্রার্থীই এ অঞ্চল থেকে এসেছেন।

এছাড়া অনেক দেশ প্রথমবারের মতো একজন নারীকে জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে দেখতে চায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাবিতে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সুবিধা, ইউজিসির ১৩ কোটি টাকার প্রকল্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:২৩ পি.এম


রাবিতে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সুবিধা, ইউজিসির ১৩ কোটি টাকার প্রকল্প

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) হল ও অ্যাকাডেমিক ভবনগুলোর জন্য দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে 'HEAT' প্রজেক্টের আওতায় ১৩ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মন্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাকসুর এজিএস এস এম সালমান সাব্বির।

জানা গেছে, ইন্টারনেট সমস্যা সমাধানে রাকসুর উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেন্টারের সঙ্গে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরবর্তীতে BDRen-এর মাধ্যমে একটি সার্ভে পরিচালনা করা হয়, যেখানে তারা প্রায় ১৩ কোটি টাকার বাজেটের একটি প্রাক্কলন (Estimation) দেয়। সেই বাজেটের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেন্টার HEAT প্রকল্পের আওতায় একটি প্রকল্পের জন্য আবেদন করেন।

আবেদনকৃত প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে ইউজিসির চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিল। অবশেষে, প্রায় ১৩ কোটি ২০ লাখ ৭৮ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনেট সংযোগ এবং নেটওয়ার্ক অবকাঠামোর মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেন্টার সূত্রে জানা গেছে, আগামী আগস্টের মধ্যে HEAT-এর কর্মকর্তারা রাবি আইসিটি সেন্টারের সঙ্গে কো-অর্ডিনেশনের মাধ্যমে পূর্বে প্রদত্ত চাহিদাগুলো অনুসরণ করে প্রকল্পের একটি বিস্তারিত কারিগরি স্পেসিফিকেশন তৈরি করবেন। সে স্পেসিফিকেশন অনুমোদন (রুটিন জব) শেষে ই-জিপি পোর্টালে (অনলাইন টেন্ডার পোর্টাল) ডাকযোগে দরপত্র আহ্বান করা হবে। এরপর প্রকিউরমেন্টের বিভিন্ন ধাপ অনুসরণ করে কোম্পানি বা ভেন্ডর নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে, যা তিন মাস সময় নিবে।

যদি সকল প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, তাহলে চলতি বছরের শেষ অথবা আগামী বছরের শুরুর দিকে ক্যাম্পাসে মাঠ পর্যায়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে। পুরো কাজের উপর নজরদারি এবং পরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব থাকবে বিডিআরইএন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেন্টারের ওপর।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাকসুর সহ-সাধারণ সম্পাদক এসএম সালমান সাব্বির বলেন, 'HEAT প্রজেক্টের আওতায় আমাদের ইন্টারনেটের এই প্রকল্পটি ইউজিসির চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিল, অবশেষে কোনো ধরনের আর্থিক পরিবর্তন ছাড়াই অনুমোদন পেয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ। এখন টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন প্রস্তুত, ই-জিপিতে টেন্ডার আহ্বান, ভেন্ডর নির্বাচনসহ বেশ কিছু নিয়মিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।'

তিনি আরও বলেন, 'সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে এবং রি-টেন্ডারের প্রয়োজন না হলে, এ বছরের শেষ কিংবা আগামী বছরের শুরুতে প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, ইনশাআল্লাহ। ততদিন পর্যন্ত আবাসিক হল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য ভবনের ইন্টারনেট স্পিড যতটা সম্ভব অপ্টিমাইজড রাখা যায়, সে লক্ষ্যে আইসিটি সেন্টারে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি আমরা। দীর্ঘদিনের এই প্রত্যাশিত প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনেট অবকাঠামোয় একটি বড় পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছি।'

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেন্টারের পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনেট অবকাঠামোর স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রতিটি হলে রাউটারের বদলে মানসম্মত এক্সেস পয়েন্ট বসানো জরুরি।'

তিনি উল্লেখ করেন, 'আমরা গত ফেব্রুয়ারি মাসেই প্রয়োজনীয় জরিপ ও রিপোর্ট সম্পন্ন করে উপাচার্যের অনুমোদনে ইউজিসিতে জমা দিয়েছিলাম। 'হিট' প্রজেক্টের আওতায় বিডিরেন-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই কাজ বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্রে যা লিখলেন সাহাবুদ্দিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:২৭ পি.এম


রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্রে যা লিখলেন সাহাবুদ্দিন

অবশেষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকালে তিনি স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন।

এদিকে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে জানাতে বিকেল ৫টায় জাতীয় সংসদ ভবনে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখা-১ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সংসদ সচিবালয়ের সহকারী পরিচালক মো. রাশেদ মিজান স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ পরবর্তী এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন শুক্রবার বিকেল ৫টায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের শপথকক্ষে (পূর্ব ব্লক, লেভেল-১) অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্রে কী লেখা হয়েছে তা নিয়ে অনেকের মধ্যে কৌতুহল তৈরি হয়েছে।

আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই) মো. সাহাবুদ্দিন স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাওয়া গেছে। তাতে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিজের ভূমিকা ও সর্বশেষ পদত্যাগের কারণ উল্লেখ করা হয়েছে।

তিনি লিখেছেন, আমি মো. সাহাবুদ্দিন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ২০২৩ খ্রি. সনের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করি এবং অদ্যাবধি নিষ্ঠা, সততা ও সংবিধানের প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের সঙ্গে দায়িত্ব অপেক্ষা পালন করছি। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ৫ই আগস্ট ২০২৪ সনে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন সরকারের পতনের পর দেশে শাসনতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক সংকটের সৃষ্টি হয়।

সাংবিধানিক সংকট থেকে উত্তরণের অভিপ্রায়ে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে আমি রাষ্ট্রপতি হিসেবে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত কামনা করি। অতঃপর বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের পরামর্শক্রমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাজনৈতিক দলসমূহের সাথে পরামর্শক্রমে জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করে।

নিজের সুদৃঢ় ভূমিকার কারণে সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি উল্লেখ করে তিনি লিখেন, নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে বর্তমান সরকার গঠিত হয়ে সরকার পরিচালনা করছে। বর্তমানে সরকারি দল ও বিরোধী দল গণতান্ত্রিক চর্চার মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছে।

আমার সুদৃঢ় ও ইতিবাচক ভূমিকার কারণে দেশে কোন সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি।

শারিরীক ও মানসিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করার কথা জানিয়ে মো. সাহাবুদ্দিন লিখেন, আমি গুরুতর অসুস্থ। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছি। আমার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। ইদানিং স্বাস্থ্য পরিক্ষায় Autonomic Neuropathy নামক রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের কারণে আমি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যাই। রোগ সমূহের প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমার দীর্ঘ মেয়াদে চিকিৎসা প্রয়োজন। এমতাবস্থায়, সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ করছি।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন। এর পর থেকে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ দাবি করে আসছিলেন জামায়াত-এনসিপি নেতাকর্মীরা। গণ-অভ্যুত্থানের পর এ দাবিতে একাধিক আন্দোলনও হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%