০৫:২১ পি.এম
জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ছয় প্রার্থী বৃহস্পতিবার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বিতর্কে সংকটে থাকা সংস্থাটির বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধারের উপর জোর প্রদান করেছেন। আনুষ্ঠানিক নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরুর এক সপ্তাহ আগে এ বিতর্কটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জাতিসংঘ সদর দপ্তর থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, এখন পর্যন্ত কোনো প্রার্থী স্পষ্টভাবে এগিয়ে যেতে না পারায় নির্বাচনী প্রচারণায় অদূরদর্শিতা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বিশাল কক্ষে প্রায় দুই ঘণ্টার বিতর্কে প্রার্থীরা কূটনীতিক, জাতিসংঘের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করেছে ব্লুমবার্গ।
মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উত্তরসূরি হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন চিলির মিশেল ব্যাচেলেট, ইকুয়েডরের মারিয়া ফার্নান্দা এস্পিনোসা, আর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রোসি, কোস্টারিকার রেবেকা গ্রিনস্প্যান, গায়ানার ক্যারোলিন রড্রিগেজ-বিরকেট এবং সেনেগালের ম্যাকি সাল। গুতেরেসের দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হবে আগামী ৩১ ডিসেম্বর।
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
বৈঠকের সময়ে প্রত্যেক প্রার্থীই তাদের মহাসচিব হওয়ার পেছনে নিজেদের যোগ্যতা তুলে ধরেছেন। বৈশ্বিক সংঘাতের সংকটময় এই সময়ে সংকট মোকাবিলার জন্য নিজেদের সক্ষমতা, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অভিজ্ঞতা এবং সব পক্ষের সঙ্গে আন্তঃসংলাপ চালানোর সক্ষমতার কথা উল্লেখ করেছেন।
জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক সম্মেলনের (আঙ্কটাড) মহাসচিব রেবেকা গ্রিনস্প্যান বলেছেন, ‘পাঁচ বছর পর আমি চাই না কেউ আমাকে আবার জিজ্ঞেস করুক, ‘জাতিসংঘ কোথায়?’ সেটিই হবে আমার সাফল্যের মানদণ্ড। আমি এমন একটি জাতিসংঘ দেখতে চাই, যা আবার সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে আলোচনার টেবিলে ফিরবে এবং মাঠপর্যায়ে ফল নিশ্চিত করবে।’
সেনেগালের সাবেক প্রেসিডেন্ট ম্যাকি সালও একই ধরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে তিনি আস্থা পুনরুদ্ধারে কাজ করবেন এবং জাতিসংঘকে আরও দ্রুত, কার্যকর ও মানুষের কথা বেশি শোনার একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার নির্দেশনা দেবেন। ‘জাতিসংঘ শুনবে, পদক্ষেপ নেবে এবং মানুষকে একত্র করবে।’
গায়ানার রাষ্ট্রদূত ক্যারোলিন রড্রিগেজ-বিরকেটও বলেছেন, তিনি জাতিসংঘের সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন। তার ভাষায়, ‘আমি এমন মহাসচিব হতে চাই, যিনি ইরান, হাইতি, সুদান কিংবা কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র- যেখানেই সংকট হোক না কেন, উদ্যোগ নেব।’
আরও পড়ুন: আজ ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ, ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি সংঘাতের সময় জাতিসংঘের আরও সক্রিয় ভূমিকার পক্ষে মত দেন। তিনি বলেন, কোনো সদস্য রাষ্ট্র যদি যুদ্ধ শুরু করে বা আগ্রাসন চালায়, তাহলে ‘এটি এতটাই গুরুতর বিষয় যে মহাসচিবের অবশ্যই এগিয়ে আসা উচিত।’
গ্রোসি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রথম কাজ হবে বৈধ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে জাতিসংঘের বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধার করা। এরপর হাতে থাকা সব উপায় কাজে লাগাতে হবে।’
বর্তমানে জাতিসংঘ গভীর অর্থনৈতিক ও আস্থার সংকটের সম্মুখীন হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সংস্থাটির বিরুদ্ধে বেপরোয়া ব্যয়, অতিরিক্ত সম্প্রসারণ এবং প্রত্যাশিত ফল দিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্র চায়, জাতিসংঘ শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার মৌলিক দায়িত্বে আরও বেশি গুরুত্ব দিক। তবে অন্য অনেক দেশ মনে করে, সংস্থাটির অপর দুই ভিত্তি- মানবাধিকার ও উন্নয়ন সমান গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুর জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই, তবু ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা
বেশির ভাগ প্রার্থীই জাতিসংঘকে আরও কার্যকর করতে চলমান সংস্কার অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় মহাসচিবের আরও সক্রিয় ভূমিকার উপর জোর দিলেন।
আগামী ৩০ জুলাই নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্য জাতিসংঘের মহাসচিব পদের প্রার্থীদের প্রথম দফার গোপন ও নামবিহীন ভোট দেবেন। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী আরও কয়েক দফা একই ধরনের ভোট হবে। কোনো প্রার্থীকে নির্বাচিত হতে অন্তত নয়টি ভোট পেতে হবে। পাশাপাশি নিরাপত্তা পরিষদের যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ফ্রান্স ও রাশিয়া এই পাঁচ স্থায়ী সদস্য দেশের ভেটো প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।
নির্বাচিত প্রার্থীর নাম পরে আনুষ্ঠানিক নিয়োগের জন্য সাধারণ পরিষদে পাঠানো হবে। নতুন মহাসচিব ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
এএফপির সঙ্গে কথা বলার সময় কয়েকজন কূটনীতিক ফলাফল নিয়ে সতর্ক মন্তব্য করেছেন। তারা জানিয়েছেন, অনেক দেশের রাজধানী এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে কারাগারে ফিরলেন সাবেক মন্ত্রী আনিসুল হক, পলক ও মামুন
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক রিচার্ড গোয়ান এএফপি’কে বলেছেন, ‘এখনও সবচেয়ে আলোচিত শীর্ষ প্রার্থী গ্রোসি। তবে তিনি নিশ্চিতভাবে এগিয়ে যেতে সক্ষম হননি। গ্রিনস্প্যান ও রড্রিগেজ-বিরকেটেরও উল্লেখযোগ্য সমর্থক রয়েছে।’
জাতিসংঘের বিভিন্ন মহল ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আরও কয়েকটি নামও আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। নিউইয়র্ক পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাকে জাতিসংঘের নেতৃত্বে দেখতে চান।
সব সময় অনুসরণ না হলেও ভৌগোলিক রোটেশনের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী এবার লাতিন আমেরিকা এ পদটির দাবি তুলেছে। ম্যাকি সাল ছাড়া বাকি সব প্রার্থীই এ অঞ্চল থেকে এসেছেন।
এছাড়া অনেক দেশ প্রথমবারের মতো একজন নারীকে জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে দেখতে চায়।
আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুর দাপট কমে, ইসরাইলে ক্ষমতার চাবি ফিলিস্তিনিদের হাতে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন