ঢাকা রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

আজ ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ, ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮


আজ ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ, ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮

রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হবে।

ভোটগ্রহণ সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় ১১৩টি, নবগঠিত রুহিয়া উপজেলায় ৩৩টি এবং ভুল্লী উপজেলায় ৩৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হবে।

মোট ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন ভোটার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রের ৯৮৯টি ভোটকক্ষে তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

আরও পড়ুন: কোর্ট মার্শালে দোষী সাব্যস্ত, বরখাস্ত লে. কর্নেল ফারুখ হোসেন

নির্বাচনী সরঞ্জাম কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভোট সুষ্ঠু করার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বুধবার সকালে সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় চত্বর থেকে প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের হাতে নির্বাচনী সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়।

রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ভোট সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে ১৯০ এসআরবি সদস্য, প্রায় আড়াই হাজার আনসার এবং পুলিশ সদস্যরা কাজ করবেন।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম আশাব্যক্তি করেছেন যে, উপনির্বাচন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার রাজধানীর বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুলে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসের অনুষ্ঠানে তিনি জানান, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে ইসিকে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে। প্রতিমন্ত্রী মন্তব্য করেন, বিএনপি সরকার জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে চায় না।

অন্যদিকে, ১১ দলীয় ঐক্য ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন সুষ্ঠু না হলে আন্দোলন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়বে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। জোটের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ সিইসির নেতৃত্বাধীন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে এই হুঁশিয়ারি দেন।

আরও পড়ুন: ঢাকায় ৩ নভেম্বর শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬

বুধবার নির্বাচন কমিশনে ভোটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিসহ বিভিন্ন অভিযোগ জানাতে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা যান। বৈঠক শেষে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের উপনির্বাচন মাগুরার মত হলে সরকারের পরিণতি ভালো হবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:০৩ এম


ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

আজ বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩, ১৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮।

ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ নির্ধারণ করা হয়েছে—

জোহরের নামাজের সময় শুরু হবে দুপুর ১১টা ৪৫ মিনিটে।

আসরের নামাজের সময় শুরু হবে ৩টা ৪৫ মিনিটে।

মাগরিবের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে ৫টা ২৫ মিনিটে।

এশার নামাজের সময় শুরু হবে ৬টা ৩৯ মিনিটে।

আগামীকাল ফজর শুরু ৪টা ৫০ মিনিটে

আজ ঢাকায় সূর্যাস্তের সময় ৫টা ২৫ মিনিট এবং আগামীকাল সূর্যোদয়ের সময় ৬টা ৩ মিনিটে হবে।

সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:০৪ এম


ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী) আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) নির্বাচনকে ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এদিকে, দুই প্রার্থী প্রতিপক্ষের লোকজনের ওপর হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ নানা বিষয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন।

বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় মাঠ থেকে জেলা নির্বাচন অফিস নির্বাচনী সরঞ্জাম বিতরণ শুরু করে। আসনটির ১৮৫টি কেন্দ্রে ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্সসহ প্রয়োজনীয় নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে।

এই আসনে পাঁচ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। অন্যদিকে, ১১ দলীয় জোটের জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা। এছাড়া, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আব্দুল আলিম নিজামী বটগাছ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. খাদেমুল ইসলাম হাতপাখা এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হোসাইন মোহাম্মদ ওমর ফারুক ডাক প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন জানিয়েছেন, নির্বাচন বর্জনের কোনো পরিকল্পনা নেই। বুধবার শহরের একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, তাঁরা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে থাকতে চান। প্রশাসনের প্রস্তুতির ওপর তাঁদের আস্থা রয়েছে। তবে, ১৯৯৪ সালের মাগুরা নির্বাচনের মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা, নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্বাচনী কাজে ব্যবহারের অভিযোগ করেন।

অন্যদিকে, বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন দাবি করেছেন যে, উপনির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত করতে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ করা হচ্ছে। বুধবার রাতে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে সংবাদ সম্মেলন করে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে। তবে, তিনি আশাবাদী যে, সব শ্রেণি-পেশার ভোটার স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে কেন্দ্রে যাবেন।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। তাদের ভোটগ্রহণের জন্য ১৮৫টি কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ৫ হাজার ৩০০ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন, সেই জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হবিগঞ্জে চা বাগানের শ্রমিকদের মজুরি দাবিতে কর্মবিরতি, সচিবালয় ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৪৭ এম


হবিগঞ্জে চা বাগানের শ্রমিকদের মজুরি দাবিতে কর্মবিরতি, সচিবালয় ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি

হবিগঞ্জের চারটি চা বাগানের শ্রমিকরা মজুরি আদায়ের লক্ষ্যে বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজন করেছেন। তাঁরা টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কর্মবিরতি পালন করছেন। শ্রমিক নেতারা জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হলে সচিবালয় ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে চুনারুঘাটের লালচাঁদ চা বাগানের মন্দিরের সামনে এই বিক্ষোভ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় লাল সাঁওতালের সভাপতিত্বে লালচাঁদ, দেউন্দি, গিলানী ও নোয়াপাড়া চা বাগানের শ্রমিকরা অংশগ্রহণ করেন।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন দেউন্দি চা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি আপন সাঁওতাল, নোয়াপাড়া চা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি কমেট নায়েক, ইউপি সদস্য দুলাল ঘোষ, কার্তিক বাকতি, লক্ষ্মীকান্ত রায় এবং দেউন্দি চা বাগানের শ্রমিক নেতা উজ্জ্বল কুমার দাস।

শ্রমিক নেতারা জানান, মজুরির দাবির সমাধান না হওয়ায় তাঁরা এই কর্মবিরতি পালন করছেন। তাঁদের একটি প্রধান দাবি হলো, বর্তমান মালিকপক্ষকে তাঁরা আর চান না। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন তাঁরা।

শ্রমিক নেতারা আরও জানান, আগামী রোববার হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হবে। এরপর নিজেদের দাবিদাওয়া তুলে ধরে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে।

তারা সতর্ক করে জানিয়েছেন, যদি দ্রুত সমস্যার সমাধান না হয়, তবে আন্দোলন আরও কঠোর করা হবে। প্রয়োজনে সচিবালয় ঘেরাওয়ের কর্মসূচিও পালন করবেন তাঁরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্রান্সসহ ইউরোপে বিক্ষোভের জন্য মুসলিম তরুণদের দায়ী করা হচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৪৮ এম


ফ্রান্সসহ ইউরোপে বিক্ষোভের জন্য মুসলিম তরুণদের দায়ী করা হচ্ছে

ফ্রান্সে চলমান বিক্ষোভের সহিংস রূপ নেওয়ার পর ১৭ অক্টোবর দেশটির কট্টর ডানপন্থিরা মুসলিম তরুণদের এই সহিংসতার জন্য দায়ী করতে শুরু করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও ফ্রান্সের সহিংসতার জন্য মুসলিম অভিবাসীদের দায়ী করেছেন। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর নাম উল্লেখ না করে, বলেছেন, "ফ্রান্সের সহিংসতার জন্য যারা মুসলমানদের ওপর দায় চাপাচ্ছেন, তারা স্টুপিডের (নির্বোধ) মতো কথা বলছেন।"

ফ্রান্সের সহিংস বিক্ষোভের কয়েক সপ্তাহ আগে স্পেনের সিউটা ছিটমহলে মরক্কো থেকে হাজার হাজার অভিবাসী প্রবেশের চেষ্টা করলে, স্পেনের কট্টর ডানপন্থিরা এটিকে মরক্কোর মুসলমানদের একটি সুসংগঠিত ‘আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, স্পেনে প্রবেশের চেষ্টার মূল কারণ হলো ‘ইসলাম সবকিছু দখল করে নিতে চায়’। পশ্চিমা বিশ্বে যেকোনো সংকটে ইসলামভীতি উসকে দেওয়ার ক্ষেত্রে কট্টর ডানপন্থিদের এই প্রবণতা নতুন কিছু নয়।

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের চলমান বিক্ষোভের তীব্রতার মধ্যে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ইসলাম ও মুসলিমবিরোধী একটি প্রস্তাব পাস করে। এই প্রস্তাবের বিষয় ছিল ‘ইসলামপন্থি অনুপ্রবেশ এবং মুসলিম ব্রাদারহুড নেটওয়ার্কের প্রভাব মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি কৌশল প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা।’ মধ্য-ডানপন্থি ‘ইউরোপিয়ান পিপলস পার্টি’ (ইপিপি) এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছিল, যা ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বৃহত্তম রাজনৈতিক গোষ্ঠী। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডের লিয়েনও এ দলের সদস্য।

প্রস্তাবটির পক্ষে ৩৮১টি এবং বিপক্ষে ১৬৭ ভোট পড়ে। ১৫ জন ভোটদান থেকে বিরত ছিলেন। ইপিপির এই প্রস্তাবকে প্রায় সর্বসম্মতভাবে সমর্থন জানায় চারটি দল, কট্টর ডানপন্থি ‘প্যাট্রিয়টস ফর ইউরোপ’ ও ‘ইউরোপ অব সভরেন নেশনস’, উদারপন্থি ‘রিনিউ ইউরোপ’ এবং ‘ইউরোপিয়ান কনজারভেটিভস অ্যান্ড রিফার্মিস্টস’। অন্যদিকে, সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট, বামপন্থি এবং গ্রিনসের (সবুজ দল) সদস্যরা এর বিপক্ষে ভোট দিলেও তারা প্রস্তাবটি পাস হওয়া ঠেকাতে পারেননি। ফ্রান্স সরকারের ‘রাজনৈতিক ইসলামবাদ’ বিষয়ক বিতর্কিত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই প্রস্তাবে বেশ কিছু ত্রুটিপূর্ণ দাবি করা হয়েছে, যা মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে।

এই প্রস্তাবে ইউরোপে ‘ইসলামপন্থি অনুপ্রবেশবাদ’র সংজ্ঞায় তাদের কার্যক্রমের কয়েকটি ধাপের কথা বলা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে ‘প্রভাব বিস্তার, পর্যায়ক্রমিক কাঠামো গঠন, প্রাতিষ্ঠানিক অনুপ্রবেশ এবং আদর্শগত বৈধতা অর্জনের একটি রাজনৈতিক কৌশল।’ প্রস্তাবে দাবি করা হয়েছে, ‘ইসলামপন্থি প্রভাব বিভিন্ন সংগঠন, ফাউন্ডেশন এবং সাংস্কৃতিক, শিক্ষামূলক, ধর্মীয়, দাতব্য, বিশ্ববিদ্যালয়, যুব, বৈষম্যবিরোধী বা সামাজিক কর্মকাণ্ডের মতো বিস্তৃত ও খণ্ডিত কাঠামোর মাধ্যমে কাজ করে।’ সোজা কথায়, মুসলিম ব্রাদারহুডের মতো নেটওয়ার্কগুলো ‘ইসলামভীতিবিরোধী’ উদ্যোগের মাধ্যমে ইউরোপীয় সমাজে ‘অনুপ্রবেশ’ করে।

তবে, এই প্রস্তাবটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জন্য কার্যকর করা বাধ্যতামূলক নয়। মুসলিম ব্রাদারহুড এবং এর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি বা সত্তাগুলোকে সন্ত্রাসী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার যে আহ্বান এই প্রস্তাবে জানানো হয়েছে, তা পুরো ইউরোপে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ ব্রাদারহুড রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে সহিংসতাকে বর্জন করেছে। তবে, প্রস্তাবটি এমন একটি আদর্শিক কাঠামোকে বৈধতা দেয়, যা মুসলিমদের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। এটি রাষ্ট্র থেকে স্বাধীনভাবে পরিচালিত মুসলিম প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনগুলোকে সন্দেহের চোখে দেখে এবং জনজীবনে মুসলিম সুশীল সমাজের অংশগ্রহণকে এক ধরনের ‘অনুপ্রবেশ’ হিসেবে চিত্রিত করে।

এই প্রস্তাবে ব্রাসেলসভিত্তিক ‘ইউরোপীয় নেটওয়ার্ক অ্যাগেইনস্ট রেসিজম’সহ কয়েকটি সংগঠনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যেগুলো ‘ইসলামপন্থি’ আচরণ করছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ কারণে এগুলোর জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের তহবিলপ্রাপ্তির পথ বন্ধ করার এবং ইইউর অর্থায়নে পরিচালিত কোনো সংস্থাকে তাদের সঙ্গে কাজ করা থেকে বিরত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এই প্রস্তাবটি ইউরোপের বাইরের পক্ষগুলোও সহজেই একটি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারে এবং ইতোমধ্যে তা করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ সংযুক্ত আরব আমিরাতের কথা বলা যায়। আরব আমিরাত ইউরোপ ও অন্যান্য অঞ্চলে এমন একটি ব্যাপক প্রচারণায় অর্থায়ন করেছে, যার লক্ষ্য ছিল বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থাকে ‘মুসলিম ব্রাদারহুড’র সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের ইমেজ ক্ষুণ্ণ করা। এই প্রস্তাবটি উত্থাপনের কয়েক মাস আগে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে আয়োজিত ‘মুসলিম ব্রাদারহুড : ইউরোপের জন্য একটি প্রকৃত হুমকি’ শীর্ষক এক সম্মেলনে আমিরাতের একজন রাষ্ট্রদূত অংশগ্রহণ করেছিলেন। এ থেকে স্পষ্ট, ইইউ পার্লামেন্টে মুসলিমবিরোধী প্রস্তাব পাসে আমিরাত প্রভাব খাটিয়েছে। এই প্রস্তাবে কাতার বা তুরস্ক থেকে আসা তথাকথিত ‘ইসলামপন্থি অনুপ্রবেশ’র পেছনে ‘বিদেশি অর্থায়ন’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, যা পর্দার আড়ালের ভূরাজনীতিরই আরেকটি ইঙ্গিত।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রস্তাবটি বর্ণবাদের বিরুদ্ধে মুসলমানদের সুরক্ষা লাভের প্রচেষ্টাকে একটি ‘ইসলামপন্থি অনুপ্রবেশের ষড়যন্ত্র’ হিসেবে চিত্রিত করেছে। এটি ইউরোপীয় সমাজে ইসলামোফোবিয়া বা ইসলামবিদ্বেষ মোকাবিলার লক্ষ্যে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগে সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। প্রস্তাবটি ইউরোপের কট্টর ডানপন্থি ও মুসলিমবিদ্বেষী শক্তিগুলোর জন্য একটি বড় বিজয়। ইউরোপে ইসলামোফোবিয়া বা ইসলামভীতির ধরন কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে, তা এই প্রস্তাব থেকে স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

মধ্য-ডানপন্থি রাজনৈতিক শিবিরের জন্য এই ইসলামবিদ্বেষী কাঠামোটি নানা রাজনৈতিক সুবিধা বয়ে আনে। এটি শুধু মুসলিমবিরোধী ভীতি ছড়ানোর মাধ্যমে নির্বাচনি ফায়দা হাসিল করতেই সাহায্য করে না, বরং বামপন্থি সেই অংশটিকেও আঘাত করার সুযোগ করে দেয়, যারা বর্ণবাদকে প্রত্যাখ্যান করে মুসলিম সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়ায়।

ফ্রান্সের রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘ইসলামো-লেফটিজম’ (ফরাসি ভাষায় ‘ইসলামো-গোশিস্ম’) বা ‘ইসলামি-বামপন্থা’ ধারণাটির প্রচার মোটেও আশ্চর্যজনক নয়। বামপন্থি দল ‘লা ফ্রান্স আনসুমিজ’র নেতা জঁ-লুক মেলঁশোঁ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং তিনি আগামী বছরের প্রথমার্ধে হতে যাওয়া প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে একজন শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হচ্ছে যে, তিনি ফ্রান্সে চলমান আন্দোলনে তথাকথিত ‘দাঙ্গাবাজদের’ উসকে দিচ্ছেন। আর এই ‘দাঙ্গাবাজ’ বলতে মূলত মুসলিমদেরই ইঙ্গিত করা হচ্ছে। বামপন্থি ও মুসলিমদের ওপর এই দ্বিমুখী আক্রমণ অনেকটা সেই পুরোনো ‘ইহুদি-বলশেভিক’ ষড়যন্ত্র তত্ত্বের কথা মনে করিয়ে দেয়, যেখানে দাবি করা হতো যে, পশ্চিমা সভ্যতা ধ্বংস করার লক্ষ্যে ইহুদিরাই কমিউনিজম ছড়িয়ে দিচ্ছে।

আজকের দিনে ‘ইসলামো-লেফটিজম’ বা ‘ইসলামি-বামপন্থা’ ধারণাটি রক্ষণশীল, উদারপন্থি এবং কট্টর ডানপন্থিদের কাছে নিজেদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে। ১৯৬০-এর দশক থেকে বর্ণবাদ ও অসমতা দূর করার ক্ষেত্রে পশ্চিমা বিশ্বে যেটুকু অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে, সেটাকে নস্যাৎ করে একটি প্রতি-বিপ্লব বা কাউন্টার রেভলিউশন সম্পন্ন করার চেষ্টায় তারা এই ধারণাটিকে ব্যবহার করছে। তাদের এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য যেন এমন এক ‘ইউরোপীয় দুর্গ’ গড়ে তোলা, যেখানে মুসলিমদের কোনো স্থান নেই।

‘ইসলামপন্থি অনুপ্রবেশ’-সংক্রান্ত প্রস্তাবটির ভিত্তি এই মুহূর্তে যতই দুর্বল হোক না কেন, ইউরোপের বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্রে কট্টর ডানপন্থি জোটগুলো হয়তো ভবিষ্যতে আরো এমন সব পদক্ষেপ নেবে, যার উদ্দেশ্য হবে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের বাইরে মুসলমানদের সক্রিয় হয়ে ওঠাকে বাধাগ্রস্ত করা। বিশেষ করে, যখন সেই সক্রিয়তা মুসলিমদের নাগরিক স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলে। একই সঙ্গে, যারা ভীতি ছড়ায়, তারা সামাজিক নানা সমস্যার জন্য ইসলামকেই দায়ী করতে থাকবে, এমনকি কৃচ্ছ্র নীতির বিরুদ্ধে যে ন্যায়সংগত প্রতিবাদ গড়ে ওঠে, তার জন্যও তারা ইসলামকেই দোষারোপ করবে।

ইউরোপের রাজনীতিবিদরা নিজেদের দলীয় সরকারের শাসনকার্যের ব্যর্থতা থেকে সৃষ্ট জনরোষকে মুসলমানদের দিকে ধাবিত করার চেষ্টা করে যাবেন। এর মাধ্যমেই তারা জনগণের দৃষ্টি বা মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে নিতে ইসলাম ও মুসলমানদের সামনে নিয়ে আসবেন। এই পরিস্থিতিতে প্রয়োজন সবার জন্য নাগরিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া এবং উগ্র ডানপন্থিদের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ প্রতিবাদ গড়ে তোলা।

আলজাজিরা অবলম্বনে মোতালেব জামালী

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%