বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৬:২৬ এম
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ ব্যবধানে পরাজিত হয়ে বিদায় নিয়েছে ফ্রান্স। ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ফরাসিদের হারিয়ে স্প্যানিশরা ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে।
তবে, এই হৃদয়ভাঙা পরাজয়ের পরও ফরাসি দলটির ব্যাপারে আশার কথা জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।
ম্যাচশেষে সামাজিক মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া একটি পোস্টে ম্যাক্রোঁ ফাইনালে ওঠায় স্পেনকে অভিনন্দন জানান।
একই সঙ্গে, তিনি কিলিয়ান এমবাপ্পের দলের প্রশংসা করে লেখেন, ‘যোগ্য দল হিসেবে ফাইনালে ওঠায় স্পেনকে সাধুবাদ। দেশের জার্সির মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার আপ্রাণ চেষ্টার জন্য ‘লে ব্লুজ’দের ধন্যবাদ। আজকের এই পরাজয় মেনে নেওয়া কঠিন, তবে এ দলটি এখনো তরুণ এবং এদের সামনে দারুণ ভবিষ্যৎ রয়েছে।’
পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ফিনিশিংয়ের যে ঘাটতি ছিল, সেমিফাইনালের মঞ্চে এসে তা কাটিয়ে উঠেছে স্পেন। নিখুঁত রক্ষণ এবং দুর্দান্ত আক্রমণের মিশেলে, ম্যাচের শুরু থেকেই ফ্রান্সকে চেপে ধরে তারা। পুরো ম্যাচে কখনোই মনে হয়নি, খেলা দে লা ফুয়েন্তের দলের নিয়ন্ত্রণের বাইরে আছে।
ম্যাচের প্রথমার্ধে স্পেনের অন্যতম আবিষ্কার লামিন ইয়ামালকে ফরাসি ডিফেন্ডার লুকাস ডিনিয়ে ডি-বক্সের ভেতর ফাউল করলে পেনাল্টি পায় স্পেন। স্পট কিক থেকে গোলরক্ষক মাইক মাইগনানকে পরাস্ত করে স্পেনকে প্রথম লিড এনে দেন ফরোয়ার্ড মিকেল ওয়ারজাবাল।
এরপর মিডফিল্ডার দানি ওলমোর একটি দুর্দান্ত থ্রু-বল ধরে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফুলব্যাক পেদ্রো পোরো। ম্যাচজুড়ে অসাধারণ পারফর্ম করে পোরো ম্যাচসেরার (প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ) পুরস্কারও জিতে নেন।
২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার গোলে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এটি স্পেনের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল। আগামী রোববার নিউইয়র্কের নিউজার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় সেমিফাইনালের (ইংল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনা) জয়ী দলের বিপক্ষে বিশ্বসেরার লড়াইয়ে স্পেনের অংশগ্রহণ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে সম্প্রতি দুটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কারণে, এবং নতুন করে আটজন কোভিড-১৯ পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। এই অবস্থার ফলে রাজ্যজুড়ে স্বাস্থ্য বিভাগ নজরদারি জোরদার করেছে। একই সময়ে, প্রতিবেশি রাজ্য ওড়িশায় মৃত্যুর ঘটনায় সরকার সীমান্ত এলাকায় কড়া সতর্কতা জারি করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
অন্ধ্রপ্রদেশের ওয়াইএসআর কাদাপ্পা জেলায়, জ্বর ও কাশির মতো উপসর্গ নিয়ে ৫২ বছর বয়সি এক ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেন। পরবর্তীতে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪৩ বছর বয়সি আরেক ব্যক্তিও মারা যান। উক্ত ঘটনার পর, স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে আক্রান্ত এলাকার জন্য বিশেষ ‘র্যাপিড রেসপন্স টিম’ পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, মুম্বাইতে প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী কুমার শানুর ছেলে জান কুমার শানু করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে গত রোববার (১২ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন।
ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের পরিস্থিতির কারণে, ওড়িশা সরকার সীমান্তবর্তী দক্ষিণ জেলাগুলোতে (মালকানগিরি, কোরাপুট, রায়গড়া, গজপতি, গঞ্জাম এবং নবরঙ্গপুর) লক্ষ্যভিত্তিক স্ক্রিনিংয়ের নির্দেশ দিয়েছে। যদিও ওড়িশায় বর্তমানে কোনো পজিটিভ কেস নেই, তবে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে সীমান্তে কড়া নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।
আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই কেন? এর উত্তর দিতে গিয়ে ভারতের হায়দরাবাদের যশোদা হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ফিজিশিয়ান ড. দিলীপ গুড়ে মন্তব্য করেন, ‘কাদাপ্পা এলাকায় যে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে, তারা দুজনেই ডায়াবেটিস, লিভার বা কিডনিজনিত জটিল শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত ছিলেন। সাধারণ ফ্লু ভাইরাসের কারণে এই ধরনের রোগীদের আইসিইউ বা ভেন্টিলেটর সাপোর্টের প্রয়োজন হতে পারে। তাই এটি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশিরভাগ ভারতীয় নাগরিকের শরীরে পূর্ববর্তী সংক্রমণ এবং ব্যাপক টিকাদানের ফলে শক্তিশালী ‘হাইব্রিড ইমিউনিটি’ বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে, দেশজুড়ে বড় ধরনের মহামারি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি অত্যন্ত কম বলে মনে করা হচ্ছে।
অস্টার হোয়াইটফিল্ড হাসপাতালের পালমোনোলজি বিভাগের প্রধান ড. শিবরাজ এ এল জানান, ‘কোভিড এখন এন্ডেমিক (স্থানীয় রোগ) পর্যায়ে চলে গেছে। ফলে মাঝে মধ্যে ছোটখাটো প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। আমাদের কাছে নজরদারি ও জিনোমিক পরীক্ষার মতো সব অস্ত্র প্রস্তুত রয়েছে। তাই বিধিনিষেধের ভয় না পেয়ে আমাদের কেবল সতর্ক থাকতে হবে।’
সূত্র: এনডিটিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দাবদাহ বা হিটওয়েভ দীর্ঘস্থায়ী এবং আরও তীব্র হয়ে উঠছে।
তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, তীব্র গরমের এই প্রকোপ পুরুষ ও নারীর ওপর সমানভাবে প্রভাব ফেলে না। জৈবিক, হরমোনজনিত এবং সামাজিক বিভিন্ন কারণে তীব্র গরমে পুরুষদের তুলনায় নারীরা অনেক বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে অতিরিক্ত তাপমাত্রার সংস্পর্শে থাকা নারীদের শরীরে মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করে। এর ফলে মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, উদ্বেগ, হাত-পা ফুলে যাওয়া, অনিদ্রা, মনোযোগের অভাব এবং হিটস্ট্রোকের মতো গুরুতর তাপজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের নারী স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. নিঘাত আরিফ তীব্র দাবদাহকে হৃদযন্ত্র ও রক্তনালী ব্যবস্থার (কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেম) জন্য একটি ‘স্ট্রেস টেস্ট’ বা কঠিন পরীক্ষা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কারণ এই চরম আবহাওয়ায় শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে হৃদযন্ত্রকে সাধারণ সময়ের চেয়ে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়।
নারীরা কেন গরমে বেশি আক্রান্ত হন? বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষদের তুলনায় নারীদের শরীর থেকে সাধারণত কম ঘাম নির্গত হয় এবং অপেক্ষাকৃত বেশি তাপমাত্রায় পৌঁছানোর পর তাদের শরীর ঘামানো শুরু করে। এর ফলে নারীদের শরীর প্রাকৃতিকভাবে নিজেকে দ্রুত ঠান্ডা করতে পারে না।
তাছাড়া, নারীদের শরীরে চর্বির (বডি ফ্যাট) হার তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে এবং শরীরের অভ্যন্তরীণ গড় তাপমাত্রা সামান্য বেশি থাকে। অতিরিক্ত চর্বি শরীরের তাপকে দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখতে কুশন বা অন্তারক (ইনসুলেশন) হিসেবে কাজ করে।
হরমোনের ওঠানামাও শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তোলে। ঋতুস্রাব (পিরিয়ড), গর্ভাবস্থা, স্তন্যদান এবং মেনোপজের (স্থায়ীভাবে পিরিয়ড বন্ধ হওয়া) সময় শরীরে ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন হরমোনের পরিবর্তন নারীদের শরীরকে ঠান্ডা রাখার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে।
চিকিৎসকরা বলছেন, ঋতুচক্রের বিভিন্ন ধাপ তীব্র গরমে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। পিরিয়ড শুরুর আগে প্রজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধির কারণে শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বেড়ে যায়। আবার পিরিয়ড চলাকালীন ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমে যাওয়ায় শরীর তাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সমস্যায় পড়ে।
পাশাপাশি পিরিয়ডের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে শরীর থেকে আয়রন কমে যায়। এটি গরমের দিনে অতিরিক্ত ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, ঘুমের ব্যাঘাত এবং মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
গর্ভাবস্থা ও মেনোপজে দ্বিগুণ ঝুঁকি। পেরিমেনোপজ বা মেনোপজের মধ্য দিয়ে যাওয়া নারীদের ক্ষেত্রে দাবদাহের সময় ‘হট ফ্ল্যাশ’ (হঠাৎ শরীর ও বুক গরম হয়ে ওঠা) এবং রাতে অতিরিক্ত ঘাম হওয়ার সমস্যা তীব্র হয়। গর্ভাবস্থাও হিট স্ট্রোক বা তাপজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি অনেক বাড়িয়ে দেয়।
খ্যাতনামা চিকিৎসা সাময়িকী ‘দ্য ল্যানসেট’-এ প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, গর্ভাবস্থায় নারীর শরীরের মেটাবলিজম, রক্তের পরিমাণ এবং তরলের চাহিদা বৃদ্ধি পায়, যা হৃদযন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। অতিরিক্ত গরমে দীর্ঘ সময় থাকলে গর্ভবতী মা ও শিশু উভয়ের ক্ষেত্রেই জটিলতা তৈরি হতে পারে।
সামাজিক ও জীবনযাত্রার প্রভাব। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল হেলথ-এর ড. কেট পেনহাউ গোমেস জানান, নারীরা সাধারণত পরিবার ও সংসারের সেবামূলক কাজে বেশি জড়িয়ে থাকেন। ফলে দাবদাহের সময় নিজের স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে।
তাছাড়া, পুরুষদের তুলনায় নারীদের গড় আয়ু বেশি হওয়ায় বয়স্ক নারীদের একাংশ তীব্র গরমে বড় ঝুঁকিতে পড়েন। বার্ধক্য, ডিমেনশিয়া বা কিছু নির্দিষ্ট ওষুধের ব্যবহারের কারণে তৃষ্ণা পাওয়ার অনুভূতি কমে যায়, যা দ্রুত শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি করে।
তাপজনিত অসুস্থতার সতর্ক সংকেত। অতিরিক্ত গরমে শরীর কাহিল হয়ে পড়লে (হিট এক্সহস্টিং) যে লক্ষণগুলো দেখা যায়:
মাথা ঘোরা বা হালকা লাগা
তীব্র শারীরিক দুর্বলতা
বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া
পেশিতে টান লাগা (মাসল ক্র্যাম্প)
ত্বক ঠান্ডা ও স্যাঁতসেঁতে হয়ে যাওয়া
অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
হিটস্ট্রোক একটি জরুরি চিকিৎসা পরিস্থিতি। এর লক্ষণগুলো হলো:
শরীরের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের (১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট) ওপরে চলে যাওয়া
শরীর অত্যন্ত গরম ও শুষ্ক হয়ে যাওয়া (কোনো ঘাম না হওয়া)
মানসিক বিভ্রান্তি বা অসংলগ্ন আচরণ
জ্ঞান হারানো বা খিঁচুনি হওয়া
সুরক্ষায় চিকিৎসকদের পরামর্শ। তীব্র গরমে নারীদের সুস্থ থাকতে সাধারণ কিছু নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা:
১. সারাদিনে প্রচুর পরিমাণে পানি বা তরল খাবার পান করুন।
২. দুপুরের তীব্র রোদে ঘরের বাইরে কাজ করা থেকে বিরত থাকুন।
৩. শারীরিক ব্যায়াম বা হাঁটাচলার কাজটি খুব ভোরে অথবা সূর্যাস্তের পর করুন।
৪. হালকা রঙের ও ঢিলেঢালা পোশাক পরুন এবং বাইরে বের হলে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।
৫. পিরিয়ড, গর্ভাবস্থা বা মেনোপজের সময় শরীরে তরলের ভারসাম্য ঠিক রাখতে বাড়তি যত্ন নিন।
বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেছেন, তীব্র দাবদাহের মোকাবিলায় কর্মক্ষেত্র ও সরকারি নীতিমালায় নারীদের বিশেষ স্বাস্থ্য চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। কারণ নারীদের সুরক্ষিত রাখা মানে প্রকারান্তরে পুরো পরিবার ও সমাজকেই সুরক্ষিত রাখা।
সূত্র: সামা টিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গ্রিস থেকে জার্মানিগামী রায়ানএয়ারের একটি উড়োজাহাজে মাঝ আকাশে জানালা ভেঙে যাওয়ার পর এক যাত্রী আংশিকভাবে বাইরে ছিটকে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যে তাকে ধরে ফেলেন পাশের সিটে বসে থাকা স্ত্রী। তৎক্ষণাৎ স্ত্রীর এমন চেষ্টায় স্বামী প্রাণে বেঁচে যান। ওই নারী বলেছেন, স্বামীর পা শক্ত করে ধরে রাখার সময় তার মনে একটাই কথা এসেছিল—‘যদি মরতে হয়, তাহলে একসঙ্গেই মরব’।
সার্বিয়ার সংবাদমাধ্যম নোভাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সভেতলানা গ্রকোভিচ জানান, তার স্বামী লিউবিশা কারোভিচ ইঞ্জিন বিকলের পর জানালার অ্যাক্রিলিক অংশ ভেঙে গেলে মাথার দিক থেকে বাইরে ছিটকে পড়েন। তখন তার শরীরের অর্ধেক অংশ বিমানের বাইরে ঝুলছিল। তিনি বলেন, ‘আমি সঙ্গে সঙ্গে তার দুই পা ধরে ফেলি। প্রায় দুই মিনিট তার বুক পর্যন্ত অংশ বিমানের বাইরে ছিল।’ পরে আরো দুই যাত্রীর সহায়তায় অচেতন হয়ে পড়া স্বামীকে টেনে বিমানের ভেতরে আনতে সক্ষম হন তিনি।
এ ঘটনাটি ঘটে গত শুক্রবার গ্রিসের থেসালোনিকি থেকে জার্মানির মেমিংগেনগামী মাল্টা এয়ারের পরিচালিত রায়ানএয়ারের একটি ফ্লাইটে। উড্ডয়নের প্রায় ১০ মিনিট পর বিমানটি হঠাৎ প্রায় ৯ হাজার ফুট নিচে নেমে আসে। কেবিনের চাপ কমে গেলে অক্সিজেন মাস্ক স্বয়ংক্রিয়ভাবে নেমে আসে এবং আতঙ্কিত হয়ে অনেক যাত্রী নিজেদের আসন ছেড়ে বিমানের অন্য অংশে চলে যান।
সহযাত্রীরা জানান, ৬১ বছর বয়সি কারোভিচ সিটবেল্ট বাঁধা থাকায় সম্পূর্ণ বাইরে ছিটকে পড়েননি। তবে তিনি কয়েকবার জ্ঞান হারান। সভেতলানা বলেন, ‘তার স্বামী এখনো গ্রিসের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার হাত গুরুতরভাবে আহত হয়েছে, শরীরে দগ্ধের চিহ্ন রয়েছে এবং তিনি এখনো পুরো ঘটনার কিছুই মনে করতে পারছেন না।’
তিনি আরও জানান, এক নারী ও এক পুরুষ যাত্রী তাকে সাহায্য করেছিলেন। বিশেষ করে একজন আলবেনীয় বংশোদ্ভূত যাত্রী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি তাকে ব্যক্তিগতভাবে ধন্যবাদ জানানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
ঘটনার পর রায়ানএয়ার জানায়, উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর একটি যাত্রীর পাশের জানালার অংশ খুলে গেলে বিমানটি নিরাপদে থেসালোনিকি বিমানবন্দরে ফিরে আসে। পরে যাত্রীদের জন্য বিকল্প উড়োজাহাজের ব্যবস্থা করা হয় এবং তারা একই দিন জার্মানির উদ্দেশে যাত্রা সম্পন্ন করেন।
এ ঘটনাটির কারণ খতিয়ে দেখছে গ্রিসের হেলেনিক এয়ার অ্যান্ড রেল সেফটি ইনভেস্টিগেশন অথরিটি।
সূত্র: গার্ডিয়ান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শ্রবণশক্তি মানুষের শরীরের অন্যতম মূল্যবান একটি ইন্দ্রিয়। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, দৈনন্দিন জীবনের এমন অনেক সাধারণ অভ্যাস রয়েছে, যা কোনো লক্ষণ প্রকাশের আগেই মানুষের শ্রবণশক্তির স্থায়ী ক্ষতি করে চলেছে।
অডিওলজিস্টদের মতে, কানের ভেতরের ক্ষুদ্র সংবেদনশীল চুলসদৃশ কোষগুলো (হেয়ার সেল) একবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর তা সাধারণত পুনরুৎপাদিত হয় না। ফলে শ্রবণশক্তি হারিয়ে যাওয়ার এ প্রক্রিয়াটি মূলত অপরিবর্তনশীল।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের অডিওলজিস্ট ড. ভ্যালেরি পাভলোভিচ রাফ জানান, অল্প বয়স থেকেই শ্রবণশক্তি রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। এর কারণ কানের ভেতরের ‘কক্লিয়া’ অংশে থাকা এ নাজুক কোষগুলো যদি দীর্ঘ সময় ধরে তীব্র শব্দের সংস্পর্শে আসে, তাহলে তারা স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শ্রবণশক্তির সমস্যা এখন শুধু বয়স্কদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আশঙ্কাজনকভাবে কিশোর-কিশোরী, তরুণ এবং এমনকি ১০ বছরের কম বয়সী শিশুর মধ্যেও শ্রবণশক্তির দুর্বলতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।
কক্লিয়ার ভেতরে হাজার হাজার অণুবীক্ষণিক হেয়ার সেল থাকে, যা শব্দের কম্পনকে বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তর করে মস্তিষ্ককে পাঠায় এবং মস্তিষ্ক তা শব্দ হিসেবে অনুধাবন করে। অতিরিক্ত বা দীর্ঘস্থায়ী শব্দ এ কোষগুলোকে চিরতরে ধ্বংস করে দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার প্রভাব কেবল শোনার ক্ষমতায় সীমাবদ্ধ থাকে না। তার সঙ্গে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, যোগাযোগের অসুবিধা, জীবনযাত্রার মান হ্রাস এবং যেকোনো বয়সে জ্ঞানীয় ক্ষমতা কমে যাওয়ার (কগনিটিভ ডিক্লাইন) গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
যদিও গবেষণায় এখনো নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি যে শ্রবণশক্তি হ্রাস সরাসরি ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশ রোগের কারণ, তবুও এ দুইয়ের মধ্যে একটি শক্তিশালী যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মিউজিক কনসার্ট এবং খেলাধুলার ইভেন্টগুলোতে শব্দদূষণের মাত্রা নিরাপদ সীমার চেয়ে অনেক বেশি থাকে। এমনকি মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিটের তীব্র শব্দ কানের ভেতরের স্থায়ী ক্ষতি শুরু করার জন্য যথেষ্ট।
সাধারণ ফোমের ইয়ারপ্লাগের পরিবর্তে বিশেষজ্ঞরা ‘হাই-ফিডেলিটি ইয়ারপ্লাগ’ ব্যবহারের পরামর্শ দেন, যা শব্দের গুণগত মান ঠিক রেখেই এর তীব্রতা কমিয়ে আনে। একই সঙ্গে হেডফোনের অপব্যবহারও একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হেডফোনের ভলিউম এমন স্তরে রাখা উচিত যাতে আশেপাশের মানুষের স্বাভাবিক কথাও শোনা যায়। যদি কারো কথা শোনার জন্য আপনাকে চিৎকার করতে হয়, তবে বুঝতে হবে ভলিউম প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি।
গবেষকদের অনুমান, ব্যক্তিগত অডিও ডিভাইস বা হেডফোনের অনিরাপদ ব্যবহারের কারণে বিশ্বব্যাপী ৩৫ বছরের কম বয়সী প্রায় ১৩৫ কোটি তরুণ অকালেই শ্রবণশক্তি হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে।
লনমাওয়ার (ঘাস কাটার যন্ত্র), লিফ ব্লোয়ার, পাওয়ার ড্রিল বা বৈদ্যুতিক করাতের মতো গৃহস্থালি যন্ত্রপাতির শব্দও শ্রবণশক্তির ক্ষতি করতে পারে, যদি এগুলো নিয়মিত কোনো সুরক্ষা ছাড়া ব্যবহার করা হয়। তীব্র শব্দের এই কাজগুলো করার সময় ইয়ারপ্লাগ বা শব্দ-প্রতিরোধক ইয়ারমাফ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
এমনকি দ্রুত গতিতে গাড়ি চালানোর সময় জানালা খোলা রাখলেও কানের ওপর তীব্র বাতাসের চাপ পড়ে, যা শ্রবণশক্তির জন্য ক্ষতিকর। অনেক চালক এই বাতাসের শব্দের সঙ্গে টেক্কা দিতে গাড়ির স্টেরিওর ভলিউম বাড়িয়ে দেন, যা কানের ওপর দ্বিগুণ চাপ সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে মোটরসাইকেল চালকদেরও দীর্ঘ যাত্রায় উপযুক্ত কান সুরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শব্দদূষণের পরিবেশে কান রক্ষা করা জরুরি হলেও বিশেষজ্ঞরা সবসময় ইয়ারপ্লাগ পরে থাকার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন। কারণ কান প্রাকৃতিকভাবেই নিজেকে পরিষ্কার রাখে। সবসময় ইয়ারপ্লাগ বা কটন বাড ব্যবহার করলে কানের ময়লা (ইয়ারওয়াক্স) আরও ভেতরে চলে যায়। এতে কান বন্ধ হয়ে যাওয়া, চুলকানি, সাময়িক শ্রবণশক্তি হ্রাস এবং ইনফেকশনের ঝুঁকি বেড়ে যায়। চিকিৎসকরা ঘরে বসে কানের ময়লা পরিষ্কারের চেষ্টা না করে পেশাদার চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেন।
কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে কথা বুঝতে সমস্যা হলে অথবা তীব্র শব্দের সংস্পর্শে আসার পর যদি কানে অবিরাম ভোঁ-ভোঁ শব্দ (টিনিটাস) হয়, তবে অবিলম্বে শ্রবণশক্তি পরীক্ষা করানো উচিত। বিশেষজ্ঞদের মূল বার্তা হলো—শ্রবণশক্তি হ্রাস যেকোনো বয়সে হতে পারে। তাই এটি প্রতিরোধে সচেতনতা এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় করা অত্যন্ত জরুরি। হেডফোনের ভলিউম নিয়ন্ত্রণে রাখা, কোলাহলপূর্ণ স্থানে কান সুরক্ষার ব্যবস্থা করা এবং সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া হতে পারে এর অন্যতম সমাধান।
সূত্র: সামা টিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ