প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গ্রিস থেকে জার্মানিগামী রায়ানএয়ারের একটি উড়োজাহাজে মাঝ আকাশে জানালা ভেঙে যাওয়ার পর এক যাত্রী আংশিকভাবে বাইরে ছিটকে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যে তাকে ধরে ফেলেন পাশের সিটে বসে থাকা স্ত্রী। তৎক্ষণাৎ স্ত্রীর এমন চেষ্টায় স্বামী প্রাণে বেঁচে যান। ওই নারী বলেছেন, স্বামীর পা শক্ত করে ধরে রাখার সময় তার মনে একটাই কথা এসেছিল—‘যদি মরতে হয়, তাহলে একসঙ্গেই মরব’।
সার্বিয়ার সংবাদমাধ্যম নোভাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সভেতলানা গ্রকোভিচ জানান, তার স্বামী লিউবিশা কারোভিচ ইঞ্জিন বিকলের পর জানালার অ্যাক্রিলিক অংশ ভেঙে গেলে মাথার দিক থেকে বাইরে ছিটকে পড়েন। তখন তার শরীরের অর্ধেক অংশ বিমানের বাইরে ঝুলছিল। তিনি বলেন, ‘আমি সঙ্গে সঙ্গে তার দুই পা ধরে ফেলি। প্রায় দুই মিনিট তার বুক পর্যন্ত অংশ বিমানের বাইরে ছিল।’ পরে আরো দুই যাত্রীর সহায়তায় অচেতন হয়ে পড়া স্বামীকে টেনে বিমানের ভেতরে আনতে সক্ষম হন তিনি।
এ ঘটনাটি ঘটে গত শুক্রবার গ্রিসের থেসালোনিকি থেকে জার্মানির মেমিংগেনগামী মাল্টা এয়ারের পরিচালিত রায়ানএয়ারের একটি ফ্লাইটে। উড্ডয়নের প্রায় ১০ মিনিট পর বিমানটি হঠাৎ প্রায় ৯ হাজার ফুট নিচে নেমে আসে। কেবিনের চাপ কমে গেলে অক্সিজেন মাস্ক স্বয়ংক্রিয়ভাবে নেমে আসে এবং আতঙ্কিত হয়ে অনেক যাত্রী নিজেদের আসন ছেড়ে বিমানের অন্য অংশে চলে যান।
সহযাত্রীরা জানান, ৬১ বছর বয়সি কারোভিচ সিটবেল্ট বাঁধা থাকায় সম্পূর্ণ বাইরে ছিটকে পড়েননি। তবে তিনি কয়েকবার জ্ঞান হারান। সভেতলানা বলেন, ‘তার স্বামী এখনো গ্রিসের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার হাত গুরুতরভাবে আহত হয়েছে, শরীরে দগ্ধের চিহ্ন রয়েছে এবং তিনি এখনো পুরো ঘটনার কিছুই মনে করতে পারছেন না।’
তিনি আরও জানান, এক নারী ও এক পুরুষ যাত্রী তাকে সাহায্য করেছিলেন। বিশেষ করে একজন আলবেনীয় বংশোদ্ভূত যাত্রী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি তাকে ব্যক্তিগতভাবে ধন্যবাদ জানানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
ঘটনার পর রায়ানএয়ার জানায়, উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর একটি যাত্রীর পাশের জানালার অংশ খুলে গেলে বিমানটি নিরাপদে থেসালোনিকি বিমানবন্দরে ফিরে আসে। পরে যাত্রীদের জন্য বিকল্প উড়োজাহাজের ব্যবস্থা করা হয় এবং তারা একই দিন জার্মানির উদ্দেশে যাত্রা সম্পন্ন করেন।
এ ঘটনাটির কারণ খতিয়ে দেখছে গ্রিসের হেলেনিক এয়ার অ্যান্ড রেল সেফটি ইনভেস্টিগেশন অথরিটি।
সূত্র: গার্ডিয়ান
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন