ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

তীব্র দাবদাহে পুরুষদের তুলনায় কেন বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে নারীরা?


তীব্র দাবদাহে পুরুষদের তুলনায় কেন বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে নারীরা?

বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দাবদাহ বা হিটওয়েভ দীর্ঘস্থায়ী এবং আরও তীব্র হয়ে উঠছে।

তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, তীব্র গরমের এই প্রকোপ পুরুষ ও নারীর ওপর সমানভাবে প্রভাব ফেলে না। জৈবিক, হরমোনজনিত এবং সামাজিক বিভিন্ন কারণে তীব্র গরমে পুরুষদের তুলনায় নারীরা অনেক বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে অতিরিক্ত তাপমাত্রার সংস্পর্শে থাকা নারীদের শরীরে মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করে। এর ফলে মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, উদ্বেগ, হাত-পা ফুলে যাওয়া, অনিদ্রা, মনোযোগের অভাব এবং হিটস্ট্রোকের মতো গুরুতর তাপজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

আরও পড়ুন: মেঘমুক্ত আকাশে পঞ্চগড় থেকে দৃশ্যমান কাঞ্চনজঙ্ঘা, উচ্ছ্বসিত প্রকৃতিপ্রেমীরা

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের নারী স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. নিঘাত আরিফ তীব্র দাবদাহকে হৃদযন্ত্র ও রক্তনালী ব্যবস্থার (কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেম) জন্য একটি ‘স্ট্রেস টেস্ট’ বা কঠিন পরীক্ষা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কারণ এই চরম আবহাওয়ায় শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে হৃদযন্ত্রকে সাধারণ সময়ের চেয়ে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়।

নারীরা কেন গরমে বেশি আক্রান্ত হন? বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষদের তুলনায় নারীদের শরীর থেকে সাধারণত কম ঘাম নির্গত হয় এবং অপেক্ষাকৃত বেশি তাপমাত্রায় পৌঁছানোর পর তাদের শরীর ঘামানো শুরু করে। এর ফলে নারীদের শরীর প্রাকৃতিকভাবে নিজেকে দ্রুত ঠান্ডা করতে পারে না।

তাছাড়া, নারীদের শরীরে চর্বির (বডি ফ্যাট) হার তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে এবং শরীরের অভ্যন্তরীণ গড় তাপমাত্রা সামান্য বেশি থাকে। অতিরিক্ত চর্বি শরীরের তাপকে দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখতে কুশন বা অন্তারক (ইনসুলেশন) হিসেবে কাজ করে।

হরমোনের ওঠানামাও শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তোলে। ঋতুস্রাব (পিরিয়ড), গর্ভাবস্থা, স্তন্যদান এবং মেনোপজের (স্থায়ীভাবে পিরিয়ড বন্ধ হওয়া) সময় শরীরে ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন হরমোনের পরিবর্তন নারীদের শরীরকে ঠান্ডা রাখার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে।

আরও পড়ুন: বুধবার ১২ রাশির অর্থভাগ্যে সতর্কতা, জেনে নিন রাশিফল

চিকিৎসকরা বলছেন, ঋতুচক্রের বিভিন্ন ধাপ তীব্র গরমে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। পিরিয়ড শুরুর আগে প্রজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধির কারণে শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বেড়ে যায়। আবার পিরিয়ড চলাকালীন ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমে যাওয়ায় শরীর তাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সমস্যায় পড়ে।

পাশাপাশি পিরিয়ডের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে শরীর থেকে আয়রন কমে যায়। এটি গরমের দিনে অতিরিক্ত ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, ঘুমের ব্যাঘাত এবং মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

গর্ভাবস্থা ও মেনোপজে দ্বিগুণ ঝুঁকি। পেরিমেনোপজ বা মেনোপজের মধ্য দিয়ে যাওয়া নারীদের ক্ষেত্রে দাবদাহের সময় ‘হট ফ্ল্যাশ’ (হঠাৎ শরীর ও বুক গরম হয়ে ওঠা) এবং রাতে অতিরিক্ত ঘাম হওয়ার সমস্যা তীব্র হয়। গর্ভাবস্থাও হিট স্ট্রোক বা তাপজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি অনেক বাড়িয়ে দেয়।

খ্যাতনামা চিকিৎসা সাময়িকী ‘দ্য ল্যানসেট’-এ প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, গর্ভাবস্থায় নারীর শরীরের মেটাবলিজম, রক্তের পরিমাণ এবং তরলের চাহিদা বৃদ্ধি পায়, যা হৃদযন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। অতিরিক্ত গরমে দীর্ঘ সময় থাকলে গর্ভবতী মা ও শিশু উভয়ের ক্ষেত্রেই জটিলতা তৈরি হতে পারে।

আরও পড়ুন: ৫৩ বছরেও ফিট থাকার জন্য শচীন ছেড়ে দিলেন দুই বদঅভ্যাস

সামাজিক ও জীবনযাত্রার প্রভাব। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল হেলথ-এর ড. কেট পেনহাউ গোমেস জানান, নারীরা সাধারণত পরিবার ও সংসারের সেবামূলক কাজে বেশি জড়িয়ে থাকেন। ফলে দাবদাহের সময় নিজের স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে।

তাছাড়া, পুরুষদের তুলনায় নারীদের গড় আয়ু বেশি হওয়ায় বয়স্ক নারীদের একাংশ তীব্র গরমে বড় ঝুঁকিতে পড়েন। বার্ধক্য, ডিমেনশিয়া বা কিছু নির্দিষ্ট ওষুধের ব্যবহারের কারণে তৃষ্ণা পাওয়ার অনুভূতি কমে যায়, যা দ্রুত শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি করে।

তাপজনিত অসুস্থতার সতর্ক সংকেত। অতিরিক্ত গরমে শরীর কাহিল হয়ে পড়লে (হিট এক্সহস্টিং) যে লক্ষণগুলো দেখা যায়:

মাথা ঘোরা বা হালকা লাগা

আরও পড়ুন: ২৮ অক্টোবর: ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা

তীব্র শারীরিক দুর্বলতা

বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া

পেশিতে টান লাগা (মাসল ক্র্যাম্প)

ত্বক ঠান্ডা ও স্যাঁতসেঁতে হয়ে যাওয়া

আরও পড়ুন: ‘পর্যটন মেলা, ২০২৬’ বৃহস্পতিবার শুরু, প্রযুক্তি ও টেকসই পর্যটন নিয়ে আলোচনা

অজ্ঞান হয়ে যাওয়া

হিটস্ট্রোক একটি জরুরি চিকিৎসা পরিস্থিতি। এর লক্ষণগুলো হলো:

শরীরের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের (১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট) ওপরে চলে যাওয়া

শরীর অত্যন্ত গরম ও শুষ্ক হয়ে যাওয়া (কোনো ঘাম না হওয়া)

আরও পড়ুন: ডিকশনারি ডটকমের বর্ষসেরা শব্দ ‘ম্যাক্সিং’, জনপ্রিয় হলো কিভাবে

মানসিক বিভ্রান্তি বা অসংলগ্ন আচরণ

জ্ঞান হারানো বা খিঁচুনি হওয়া

সুরক্ষায় চিকিৎসকদের পরামর্শ। তীব্র গরমে নারীদের সুস্থ থাকতে সাধারণ কিছু নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা:

১. সারাদিনে প্রচুর পরিমাণে পানি বা তরল খাবার পান করুন।

২. দুপুরের তীব্র রোদে ঘরের বাইরে কাজ করা থেকে বিরত থাকুন।

৩. শারীরিক ব্যায়াম বা হাঁটাচলার কাজটি খুব ভোরে অথবা সূর্যাস্তের পর করুন।

৪. হালকা রঙের ও ঢিলেঢালা পোশাক পরুন এবং বাইরে বের হলে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।

৫. পিরিয়ড, গর্ভাবস্থা বা মেনোপজের সময় শরীরে তরলের ভারসাম্য ঠিক রাখতে বাড়তি যত্ন নিন।

বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেছেন, তীব্র দাবদাহের মোকাবিলায় কর্মক্ষেত্র ও সরকারি নীতিমালায় নারীদের বিশেষ স্বাস্থ্য চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। কারণ নারীদের সুরক্ষিত রাখা মানে প্রকারান্তরে পুরো পরিবার ও সমাজকেই সুরক্ষিত রাখা।

সূত্র: সামা টিভি 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিমানের জানালা ভেঙে বাইরে ঝুলেপড়া স্বামীকে বাঁচালেন স্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৩৩ এম


বিমানের জানালা ভেঙে বাইরে ঝুলেপড়া স্বামীকে বাঁচালেন স্ত্রী

গ্রিস থেকে জার্মানিগামী রায়ানএয়ারের একটি উড়োজাহাজে মাঝ আকাশে জানালা ভেঙে যাওয়ার পর এক যাত্রী আংশিকভাবে বাইরে ছিটকে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যে তাকে ধরে ফেলেন পাশের সিটে বসে থাকা স্ত্রী। তৎক্ষণাৎ স্ত্রীর এমন চেষ্টায় স্বামী প্রাণে বেঁচে যান। ওই নারী বলেছেন, স্বামীর পা শক্ত করে ধরে রাখার সময় তার মনে একটাই কথা এসেছিল—‘যদি মরতে হয়, তাহলে একসঙ্গেই মরব’।

সার্বিয়ার সংবাদমাধ্যম নোভাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সভেতলানা গ্রকোভিচ জানান, তার স্বামী লিউবিশা কারোভিচ ইঞ্জিন বিকলের পর জানালার অ্যাক্রিলিক অংশ ভেঙে গেলে মাথার দিক থেকে বাইরে ছিটকে পড়েন। তখন তার শরীরের অর্ধেক অংশ বিমানের বাইরে ঝুলছিল। তিনি বলেন, ‘আমি সঙ্গে সঙ্গে তার দুই পা ধরে ফেলি। প্রায় দুই মিনিট তার বুক পর্যন্ত অংশ বিমানের বাইরে ছিল।’ পরে আরো দুই যাত্রীর সহায়তায় অচেতন হয়ে পড়া স্বামীকে টেনে বিমানের ভেতরে আনতে সক্ষম হন তিনি।

এ ঘটনাটি ঘটে গত শুক্রবার গ্রিসের থেসালোনিকি থেকে জার্মানির মেমিংগেনগামী মাল্টা এয়ারের পরিচালিত রায়ানএয়ারের একটি ফ্লাইটে। উড্ডয়নের প্রায় ১০ মিনিট পর বিমানটি হঠাৎ প্রায় ৯ হাজার ফুট নিচে নেমে আসে। কেবিনের চাপ কমে গেলে অক্সিজেন মাস্ক স্বয়ংক্রিয়ভাবে নেমে আসে এবং আতঙ্কিত হয়ে অনেক যাত্রী নিজেদের আসন ছেড়ে বিমানের অন্য অংশে চলে যান।

সহযাত্রীরা জানান, ৬১ বছর বয়সি কারোভিচ সিটবেল্ট বাঁধা থাকায় সম্পূর্ণ বাইরে ছিটকে পড়েননি। তবে তিনি কয়েকবার জ্ঞান হারান। সভেতলানা বলেন, ‘তার স্বামী এখনো গ্রিসের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার হাত গুরুতরভাবে আহত হয়েছে, শরীরে দগ্ধের চিহ্ন রয়েছে এবং তিনি এখনো পুরো ঘটনার কিছুই মনে করতে পারছেন না।’

তিনি আরও জানান, এক নারী ও এক পুরুষ যাত্রী তাকে সাহায্য করেছিলেন। বিশেষ করে একজন আলবেনীয় বংশোদ্ভূত যাত্রী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি তাকে ব্যক্তিগতভাবে ধন্যবাদ জানানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

ঘটনার পর রায়ানএয়ার জানায়, উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর একটি যাত্রীর পাশের জানালার অংশ খুলে গেলে বিমানটি নিরাপদে থেসালোনিকি বিমানবন্দরে ফিরে আসে। পরে যাত্রীদের জন্য বিকল্প উড়োজাহাজের ব্যবস্থা করা হয় এবং তারা একই দিন জার্মানির উদ্দেশে যাত্রা সম্পন্ন করেন।

এ ঘটনাটির কারণ খতিয়ে দেখছে গ্রিসের হেলেনিক এয়ার অ্যান্ড রেল সেফটি ইনভেস্টিগেশন অথরিটি।

সূত্র: গার্ডিয়ান

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দৈনন্দিন যেসব অভ্যাস কেড়ে নিচ্ছে তরুণ প্রজন্মের শ্রবণশক্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৩৮ এম


দৈনন্দিন যেসব অভ্যাস কেড়ে নিচ্ছে তরুণ প্রজন্মের শ্রবণশক্তি

শ্রবণশক্তি মানুষের শরীরের অন্যতম মূল্যবান একটি ইন্দ্রিয়। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, দৈনন্দিন জীবনের এমন অনেক সাধারণ অভ্যাস রয়েছে, যা কোনো লক্ষণ প্রকাশের আগেই মানুষের শ্রবণশক্তির স্থায়ী ক্ষতি করে চলেছে।

অডিওলজিস্টদের মতে, কানের ভেতরের ক্ষুদ্র সংবেদনশীল চুলসদৃশ কোষগুলো (হেয়ার সেল) একবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর তা সাধারণত পুনরুৎপাদিত হয় না। ফলে শ্রবণশক্তি হারিয়ে যাওয়ার এ প্রক্রিয়াটি মূলত অপরিবর্তনশীল।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের অডিওলজিস্ট ড. ভ্যালেরি পাভলোভিচ রাফ জানান, অল্প বয়স থেকেই শ্রবণশক্তি রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। এর কারণ কানের ভেতরের ‘কক্লিয়া’ অংশে থাকা এ নাজুক কোষগুলো যদি দীর্ঘ সময় ধরে তীব্র শব্দের সংস্পর্শে আসে, তাহলে তারা স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শ্রবণশক্তির সমস্যা এখন শুধু বয়স্কদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আশঙ্কাজনকভাবে কিশোর-কিশোরী, তরুণ এবং এমনকি ১০ বছরের কম বয়সী শিশুর মধ্যেও শ্রবণশক্তির দুর্বলতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।

কক্লিয়ার ভেতরে হাজার হাজার অণুবীক্ষণিক হেয়ার সেল থাকে, যা শব্দের কম্পনকে বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তর করে মস্তিষ্ককে পাঠায় এবং মস্তিষ্ক তা শব্দ হিসেবে অনুধাবন করে। অতিরিক্ত বা দীর্ঘস্থায়ী শব্দ এ কোষগুলোকে চিরতরে ধ্বংস করে দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার প্রভাব কেবল শোনার ক্ষমতায় সীমাবদ্ধ থাকে না। তার সঙ্গে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, যোগাযোগের অসুবিধা, জীবনযাত্রার মান হ্রাস এবং যেকোনো বয়সে জ্ঞানীয় ক্ষমতা কমে যাওয়ার (কগনিটিভ ডিক্লাইন) গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

যদিও গবেষণায় এখনো নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি যে শ্রবণশক্তি হ্রাস সরাসরি ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশ রোগের কারণ, তবুও এ দুইয়ের মধ্যে একটি শক্তিশালী যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মিউজিক কনসার্ট এবং খেলাধুলার ইভেন্টগুলোতে শব্দদূষণের মাত্রা নিরাপদ সীমার চেয়ে অনেক বেশি থাকে। এমনকি মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিটের তীব্র শব্দ কানের ভেতরের স্থায়ী ক্ষতি শুরু করার জন্য যথেষ্ট।

সাধারণ ফোমের ইয়ারপ্লাগের পরিবর্তে বিশেষজ্ঞরা ‘হাই-ফিডেলিটি ইয়ারপ্লাগ’ ব্যবহারের পরামর্শ দেন, যা শব্দের গুণগত মান ঠিক রেখেই এর তীব্রতা কমিয়ে আনে। একই সঙ্গে হেডফোনের অপব্যবহারও একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হেডফোনের ভলিউম এমন স্তরে রাখা উচিত যাতে আশেপাশের মানুষের স্বাভাবিক কথাও শোনা যায়। যদি কারো কথা শোনার জন্য আপনাকে চিৎকার করতে হয়, তবে বুঝতে হবে ভলিউম প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি।

গবেষকদের অনুমান, ব্যক্তিগত অডিও ডিভাইস বা হেডফোনের অনিরাপদ ব্যবহারের কারণে বিশ্বব্যাপী ৩৫ বছরের কম বয়সী প্রায় ১৩৫ কোটি তরুণ অকালেই শ্রবণশক্তি হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে।

লনমাওয়ার (ঘাস কাটার যন্ত্র), লিফ ব্লোয়ার, পাওয়ার ড্রিল বা বৈদ্যুতিক করাতের মতো গৃহস্থালি যন্ত্রপাতির শব্দও শ্রবণশক্তির ক্ষতি করতে পারে, যদি এগুলো নিয়মিত কোনো সুরক্ষা ছাড়া ব্যবহার করা হয়। তীব্র শব্দের এই কাজগুলো করার সময় ইয়ারপ্লাগ বা শব্দ-প্রতিরোধক ইয়ারমাফ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

এমনকি দ্রুত গতিতে গাড়ি চালানোর সময় জানালা খোলা রাখলেও কানের ওপর তীব্র বাতাসের চাপ পড়ে, যা শ্রবণশক্তির জন্য ক্ষতিকর। অনেক চালক এই বাতাসের শব্দের সঙ্গে টেক্কা দিতে গাড়ির স্টেরিওর ভলিউম বাড়িয়ে দেন, যা কানের ওপর দ্বিগুণ চাপ সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে মোটরসাইকেল চালকদেরও দীর্ঘ যাত্রায় উপযুক্ত কান সুরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

শব্দদূষণের পরিবেশে কান রক্ষা করা জরুরি হলেও বিশেষজ্ঞরা সবসময় ইয়ারপ্লাগ পরে থাকার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন। কারণ কান প্রাকৃতিকভাবেই নিজেকে পরিষ্কার রাখে। সবসময় ইয়ারপ্লাগ বা কটন বাড ব্যবহার করলে কানের ময়লা (ইয়ারওয়াক্স) আরও ভেতরে চলে যায়। এতে কান বন্ধ হয়ে যাওয়া, চুলকানি, সাময়িক শ্রবণশক্তি হ্রাস এবং ইনফেকশনের ঝুঁকি বেড়ে যায়। চিকিৎসকরা ঘরে বসে কানের ময়লা পরিষ্কারের চেষ্টা না করে পেশাদার চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেন।

কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে কথা বুঝতে সমস্যা হলে অথবা তীব্র শব্দের সংস্পর্শে আসার পর যদি কানে অবিরাম ভোঁ-ভোঁ শব্দ (টিনিটাস) হয়, তবে অবিলম্বে শ্রবণশক্তি পরীক্ষা করানো উচিত। বিশেষজ্ঞদের মূল বার্তা হলো—শ্রবণশক্তি হ্রাস যেকোনো বয়সে হতে পারে। তাই এটি প্রতিরোধে সচেতনতা এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় করা অত্যন্ত জরুরি। হেডফোনের ভলিউম নিয়ন্ত্রণে রাখা, কোলাহলপূর্ণ স্থানে কান সুরক্ষার ব্যবস্থা করা এবং সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া হতে পারে এর অন্যতম সমাধান।

সূত্র: সামা টিভি 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১৮ কোটি রুপি খরচে প্রতারক স্ত্রীকে খুঁজে বের করলেন চীনা নাগরিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৪০ এম


১৮ কোটি রুপি খরচে প্রতারক স্ত্রীকে খুঁজে বের করলেন চীনা নাগরিক

প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে, ভুয়া সন্তান জন্ম দেয়ার পাশাপাশি স্বামীকে গাড়ি দুর্ঘটনায় হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে চীনা বিনিয়োগকারী ৫২ বছর বয়সি লি পিং-এর স্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যান। এটি রোমাঞ্চকর সিনেমার গল্প মনে হলেও, এটি বাস্তব জীবনের এক অবিশ্বাস্য ঘটনা।

দীর্ঘ ৯ বছরের সময়কাল ধরে প্রায় ১৮ কোটি রুপি (১৩ মিলিয়ন ইউয়ান বা ১.৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) খরচ করে, অবশেষে তিনি নিজের প্রতারক সাবেক স্ত্রীকে আইনের সামনে দাঁড় করাতে সক্ষম হয়েছেন। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে লি পিং-এর একটি ১৫ মিনিটের ভিডিও শেয়ার করা হয়েছে, যা বর্তমানে চীনজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৬ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে লি পিং প্রায় ৭ কোটি ইউয়ান (১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) আয় করেন। ২০১৪ সালে একটি ব্যবসায়িক ফোরামে ঝাং শুদান নামের এক ব্যাংক কর্মকর্তার সঙ্গে তার পরিচয় হয়।

ঝাং নিজেকে অত্যন্ত দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা একজন লড়াকু নারী হিসেবে লির কাছে তুলে ধরেন। লির দাবি হলো, ঝাং মূলত তার আর্থিক অবস্থান দেখে পরিকল্পিতভাবে তার জীবনে প্রবেশ করেছিলেন। ঝাংয়ের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে, লি তার ব্যাংকে ২ কোটি ইউয়ান জমা রাখেন এবং ঝাংয়ের পালক বাবা-মায়ের চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন সময় মোটা অঙ্কের অর্থ সাহায্য করতে শুরু করেন। ২০১৫ সালের শুরুতে ঝাং বিয়ে করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং মার্চ মাসে জানান যে তিনি গর্ভবতী। সেই খুশির আবহে, লি তার জন্য শেনঝেনে ৭৫ লাখ ইউয়ানের একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট কিনে দেন। এরপর ২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

কিন্তু বিয়ের পরের দিনই ঘটে প্রথম রহস্যজনক ঘটনাটি। লি সড়কপথে শেনঝেন ফেরার সময় তার গাড়ির ব্রেক হঠাৎ বিকল হয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটায়। তবে সৌভাগ্যক্রমে, লি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান।

এর কয়েক দিন পর, ব্যাংকের পারফরম্যান্সের উন্নতির অজুহাত দেখিয়ে ঝাং স্বামীর কাছ থেকে প্রায় ২৭ লাখ ইউয়ান হাতিয়ে নেন। এর পরপরই তিনি তার সমস্ত নথিপত্র এবং লির কেনা ৪টি সম্পত্তির মালিকানা দলিল নিয়ে উধাও হয়ে যান। পরে পুলিশ তদন্তে জানতে পারে যে, ঝাং হংকং হয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসে পালিয়ে গেছেন।

তদন্তের পর আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। পুলিশ জানতে পারে, লির গাড়ির ব্রেক বিকল হওয়ার পেছনে ঝাং এবং তার এক সহযোগী জড়িয়ে ছিল। লি জানান, ‘সে যদি শুধু টাকা চুরি করত, তাহলে হয়তো এতটা পেছনে না লাগতাম। কিন্তু সে আমার প্রাণনাশের ষড়যন্ত্র করে যাতে আমার সমস্ত সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হতে পারে।’ তার প্রতারক স্ত্রীর খোঁজে ১০ লাখ মার্কিন ডলার পুরস্কারের ঘোষণা করেন লি। চীন ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় দেশে তিনি ব্যক্তিগত গোয়েন্দা ও আইনজীবী নিয়োগ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের গির্জা, চীনা কমিউনিটি সেন্টার এবং প্রসূতি কেন্দ্রগুলোতেও তল্লাশি চালানো হয়। দীর্ঘ ৯ বছরের অনুসন্ধান এবং প্রায় ১৮ কোটি রুপি ব্যয়ের পর লস অ্যাঞ্জেলেসে তিনি ঝাং ও তার সন্তানের সন্ধান পান। ডিএনএ টেস্টে প্রমাণিত হয় যে, ওই সন্তান লির নয়।

অবশ্য আইনি লড়াইয়ের শুরুতে বিষয়টি খুব সহজ ছিল না। ঝাং তখন এখনও লির আইনি স্ত্রী থাকায় প্রথম দিকে প্রতারণার মামলাটি থমকে যায়। তবে ২০২০ সালে শেনঝেনের একটি আদালত তাদের বিয়ে বাতিল ঘোষণা করে এবং ৪টি সম্পত্তি লি-এর নামে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন। অবশেষে ২০২৪ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালত ঝাং শুদানকে জালিয়াতি, অবৈধ অনুপ্রবেশ, ভিসা জালিয়াতি, শিশু অপহরণ ও মানবপাচারের মতো ২৩টি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে ৬৫ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করে। ঝাংকে দেশ থেকে পালাতে সাহায্য করায় তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে চীনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান লি পিং।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘আগামী সপ্তাহে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে’-ইরানকে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৪৪ এম


‘আগামী সপ্তাহে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে’-ইরানকে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার বিষয়ে চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। 

মার্কিন ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেছেন, যদি তেহরান অবিলম্বে আলোচনার টেবিলে ফিরে না আসে, তবে আগামী সপ্তাহে ইরানের প্রধান বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলোকে লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলা চালানো হবে।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আগামী সপ্তাহে পরিস্থিতি তাদের (ইরান) জন্য সত্যিই খুব ভয়াবহ হতে যাচ্ছে। কারণ আগামী সপ্তাহে আমাদের লক্ষ্যবস্তু হবে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সেতুগুলো। তারা যদি আলোচনায় না বসে এবং সমঝোতায় না আসে, তবে আমরা তাদের সমস্ত বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু গুঁড়িয়ে দেব।’

মার্কিন বাহিনীর এই অনড় অবস্থান এমন সময়ে সামনে এলো যখন মার্কিন সেনারা টানা চতুর্থ দিনের মতো ইরানি ভূখণ্ডে বিমান হামলা চালিয়েছে এবং দেশটির বন্দরগুলোতে কঠোর নৌ-অবরোধ পুনর্বহাল করেছে।

এর ফলে গত ১৭ জুন দুই পক্ষের মধ্যে হওয়া অত্যন্ত ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। বর্তমানে এই যুদ্ধের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল পরিবহন পথ ‘হরমুজ প্রণালি’। ওয়াশিংটন ও তেহরান—উভয় পক্ষই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কবজায় নিতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে।

কতদিন চলবে এই হামলা? যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক অভিযান কতদিন স্থায়ী হবে—গণমাধ্যমের এমন প্রশ্নের জবাবে, নিজের চিরচেনা আগ্রাসী ভঙ্গিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমি যতক্ষণ না পর্যন্ত বলব যে ‘যথেষ্ট হয়েছে’, ততক্ষণ এই হামলা অব্যাহত থাকবে।’

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই সরাসরি হুমকির পর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হচ্ছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে আরও বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

সূত্র: আলআরাবিয়া

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%