বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৬:৩৩ এম
গ্রিস থেকে জার্মানিগামী রায়ানএয়ারের একটি উড়োজাহাজে মাঝ আকাশে জানালা ভেঙে যাওয়ার পর এক যাত্রী আংশিকভাবে বাইরে ছিটকে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যে তাকে ধরে ফেলেন পাশের সিটে বসে থাকা স্ত্রী। তৎক্ষণাৎ স্ত্রীর এমন চেষ্টায় স্বামী প্রাণে বেঁচে যান। ওই নারী বলেছেন, স্বামীর পা শক্ত করে ধরে রাখার সময় তার মনে একটাই কথা এসেছিল—‘যদি মরতে হয়, তাহলে একসঙ্গেই মরব’।
সার্বিয়ার সংবাদমাধ্যম নোভাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সভেতলানা গ্রকোভিচ জানান, তার স্বামী লিউবিশা কারোভিচ ইঞ্জিন বিকলের পর জানালার অ্যাক্রিলিক অংশ ভেঙে গেলে মাথার দিক থেকে বাইরে ছিটকে পড়েন। তখন তার শরীরের অর্ধেক অংশ বিমানের বাইরে ঝুলছিল। তিনি বলেন, ‘আমি সঙ্গে সঙ্গে তার দুই পা ধরে ফেলি। প্রায় দুই মিনিট তার বুক পর্যন্ত অংশ বিমানের বাইরে ছিল।’ পরে আরো দুই যাত্রীর সহায়তায় অচেতন হয়ে পড়া স্বামীকে টেনে বিমানের ভেতরে আনতে সক্ষম হন তিনি।
এ ঘটনাটি ঘটে গত শুক্রবার গ্রিসের থেসালোনিকি থেকে জার্মানির মেমিংগেনগামী মাল্টা এয়ারের পরিচালিত রায়ানএয়ারের একটি ফ্লাইটে। উড্ডয়নের প্রায় ১০ মিনিট পর বিমানটি হঠাৎ প্রায় ৯ হাজার ফুট নিচে নেমে আসে। কেবিনের চাপ কমে গেলে অক্সিজেন মাস্ক স্বয়ংক্রিয়ভাবে নেমে আসে এবং আতঙ্কিত হয়ে অনেক যাত্রী নিজেদের আসন ছেড়ে বিমানের অন্য অংশে চলে যান।
সহযাত্রীরা জানান, ৬১ বছর বয়সি কারোভিচ সিটবেল্ট বাঁধা থাকায় সম্পূর্ণ বাইরে ছিটকে পড়েননি। তবে তিনি কয়েকবার জ্ঞান হারান। সভেতলানা বলেন, ‘তার স্বামী এখনো গ্রিসের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার হাত গুরুতরভাবে আহত হয়েছে, শরীরে দগ্ধের চিহ্ন রয়েছে এবং তিনি এখনো পুরো ঘটনার কিছুই মনে করতে পারছেন না।’
তিনি আরও জানান, এক নারী ও এক পুরুষ যাত্রী তাকে সাহায্য করেছিলেন। বিশেষ করে একজন আলবেনীয় বংশোদ্ভূত যাত্রী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি তাকে ব্যক্তিগতভাবে ধন্যবাদ জানানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
ঘটনার পর রায়ানএয়ার জানায়, উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর একটি যাত্রীর পাশের জানালার অংশ খুলে গেলে বিমানটি নিরাপদে থেসালোনিকি বিমানবন্দরে ফিরে আসে। পরে যাত্রীদের জন্য বিকল্প উড়োজাহাজের ব্যবস্থা করা হয় এবং তারা একই দিন জার্মানির উদ্দেশে যাত্রা সম্পন্ন করেন।
এ ঘটনাটির কারণ খতিয়ে দেখছে গ্রিসের হেলেনিক এয়ার অ্যান্ড রেল সেফটি ইনভেস্টিগেশন অথরিটি।
সূত্র: গার্ডিয়ান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শ্রবণশক্তি মানুষের শরীরের অন্যতম মূল্যবান একটি ইন্দ্রিয়। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, দৈনন্দিন জীবনের এমন অনেক সাধারণ অভ্যাস রয়েছে, যা কোনো লক্ষণ প্রকাশের আগেই মানুষের শ্রবণশক্তির স্থায়ী ক্ষতি করে চলেছে।
অডিওলজিস্টদের মতে, কানের ভেতরের ক্ষুদ্র সংবেদনশীল চুলসদৃশ কোষগুলো (হেয়ার সেল) একবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর তা সাধারণত পুনরুৎপাদিত হয় না। ফলে শ্রবণশক্তি হারিয়ে যাওয়ার এ প্রক্রিয়াটি মূলত অপরিবর্তনশীল।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের অডিওলজিস্ট ড. ভ্যালেরি পাভলোভিচ রাফ জানান, অল্প বয়স থেকেই শ্রবণশক্তি রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। এর কারণ কানের ভেতরের ‘কক্লিয়া’ অংশে থাকা এ নাজুক কোষগুলো যদি দীর্ঘ সময় ধরে তীব্র শব্দের সংস্পর্শে আসে, তাহলে তারা স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শ্রবণশক্তির সমস্যা এখন শুধু বয়স্কদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আশঙ্কাজনকভাবে কিশোর-কিশোরী, তরুণ এবং এমনকি ১০ বছরের কম বয়সী শিশুর মধ্যেও শ্রবণশক্তির দুর্বলতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।
কক্লিয়ার ভেতরে হাজার হাজার অণুবীক্ষণিক হেয়ার সেল থাকে, যা শব্দের কম্পনকে বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তর করে মস্তিষ্ককে পাঠায় এবং মস্তিষ্ক তা শব্দ হিসেবে অনুধাবন করে। অতিরিক্ত বা দীর্ঘস্থায়ী শব্দ এ কোষগুলোকে চিরতরে ধ্বংস করে দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার প্রভাব কেবল শোনার ক্ষমতায় সীমাবদ্ধ থাকে না। তার সঙ্গে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, যোগাযোগের অসুবিধা, জীবনযাত্রার মান হ্রাস এবং যেকোনো বয়সে জ্ঞানীয় ক্ষমতা কমে যাওয়ার (কগনিটিভ ডিক্লাইন) গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
যদিও গবেষণায় এখনো নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি যে শ্রবণশক্তি হ্রাস সরাসরি ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশ রোগের কারণ, তবুও এ দুইয়ের মধ্যে একটি শক্তিশালী যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মিউজিক কনসার্ট এবং খেলাধুলার ইভেন্টগুলোতে শব্দদূষণের মাত্রা নিরাপদ সীমার চেয়ে অনেক বেশি থাকে। এমনকি মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিটের তীব্র শব্দ কানের ভেতরের স্থায়ী ক্ষতি শুরু করার জন্য যথেষ্ট।
সাধারণ ফোমের ইয়ারপ্লাগের পরিবর্তে বিশেষজ্ঞরা ‘হাই-ফিডেলিটি ইয়ারপ্লাগ’ ব্যবহারের পরামর্শ দেন, যা শব্দের গুণগত মান ঠিক রেখেই এর তীব্রতা কমিয়ে আনে। একই সঙ্গে হেডফোনের অপব্যবহারও একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হেডফোনের ভলিউম এমন স্তরে রাখা উচিত যাতে আশেপাশের মানুষের স্বাভাবিক কথাও শোনা যায়। যদি কারো কথা শোনার জন্য আপনাকে চিৎকার করতে হয়, তবে বুঝতে হবে ভলিউম প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি।
গবেষকদের অনুমান, ব্যক্তিগত অডিও ডিভাইস বা হেডফোনের অনিরাপদ ব্যবহারের কারণে বিশ্বব্যাপী ৩৫ বছরের কম বয়সী প্রায় ১৩৫ কোটি তরুণ অকালেই শ্রবণশক্তি হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে।
লনমাওয়ার (ঘাস কাটার যন্ত্র), লিফ ব্লোয়ার, পাওয়ার ড্রিল বা বৈদ্যুতিক করাতের মতো গৃহস্থালি যন্ত্রপাতির শব্দও শ্রবণশক্তির ক্ষতি করতে পারে, যদি এগুলো নিয়মিত কোনো সুরক্ষা ছাড়া ব্যবহার করা হয়। তীব্র শব্দের এই কাজগুলো করার সময় ইয়ারপ্লাগ বা শব্দ-প্রতিরোধক ইয়ারমাফ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
এমনকি দ্রুত গতিতে গাড়ি চালানোর সময় জানালা খোলা রাখলেও কানের ওপর তীব্র বাতাসের চাপ পড়ে, যা শ্রবণশক্তির জন্য ক্ষতিকর। অনেক চালক এই বাতাসের শব্দের সঙ্গে টেক্কা দিতে গাড়ির স্টেরিওর ভলিউম বাড়িয়ে দেন, যা কানের ওপর দ্বিগুণ চাপ সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে মোটরসাইকেল চালকদেরও দীর্ঘ যাত্রায় উপযুক্ত কান সুরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শব্দদূষণের পরিবেশে কান রক্ষা করা জরুরি হলেও বিশেষজ্ঞরা সবসময় ইয়ারপ্লাগ পরে থাকার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন। কারণ কান প্রাকৃতিকভাবেই নিজেকে পরিষ্কার রাখে। সবসময় ইয়ারপ্লাগ বা কটন বাড ব্যবহার করলে কানের ময়লা (ইয়ারওয়াক্স) আরও ভেতরে চলে যায়। এতে কান বন্ধ হয়ে যাওয়া, চুলকানি, সাময়িক শ্রবণশক্তি হ্রাস এবং ইনফেকশনের ঝুঁকি বেড়ে যায়। চিকিৎসকরা ঘরে বসে কানের ময়লা পরিষ্কারের চেষ্টা না করে পেশাদার চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেন।
কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে কথা বুঝতে সমস্যা হলে অথবা তীব্র শব্দের সংস্পর্শে আসার পর যদি কানে অবিরাম ভোঁ-ভোঁ শব্দ (টিনিটাস) হয়, তবে অবিলম্বে শ্রবণশক্তি পরীক্ষা করানো উচিত। বিশেষজ্ঞদের মূল বার্তা হলো—শ্রবণশক্তি হ্রাস যেকোনো বয়সে হতে পারে। তাই এটি প্রতিরোধে সচেতনতা এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় করা অত্যন্ত জরুরি। হেডফোনের ভলিউম নিয়ন্ত্রণে রাখা, কোলাহলপূর্ণ স্থানে কান সুরক্ষার ব্যবস্থা করা এবং সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া হতে পারে এর অন্যতম সমাধান।
সূত্র: সামা টিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে, ভুয়া সন্তান জন্ম দেয়ার পাশাপাশি স্বামীকে গাড়ি দুর্ঘটনায় হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে চীনা বিনিয়োগকারী ৫২ বছর বয়সি লি পিং-এর স্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যান। এটি রোমাঞ্চকর সিনেমার গল্প মনে হলেও, এটি বাস্তব জীবনের এক অবিশ্বাস্য ঘটনা।
দীর্ঘ ৯ বছরের সময়কাল ধরে প্রায় ১৮ কোটি রুপি (১৩ মিলিয়ন ইউয়ান বা ১.৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) খরচ করে, অবশেষে তিনি নিজের প্রতারক সাবেক স্ত্রীকে আইনের সামনে দাঁড় করাতে সক্ষম হয়েছেন। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে লি পিং-এর একটি ১৫ মিনিটের ভিডিও শেয়ার করা হয়েছে, যা বর্তমানে চীনজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৬ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে লি পিং প্রায় ৭ কোটি ইউয়ান (১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) আয় করেন। ২০১৪ সালে একটি ব্যবসায়িক ফোরামে ঝাং শুদান নামের এক ব্যাংক কর্মকর্তার সঙ্গে তার পরিচয় হয়।
ঝাং নিজেকে অত্যন্ত দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা একজন লড়াকু নারী হিসেবে লির কাছে তুলে ধরেন। লির দাবি হলো, ঝাং মূলত তার আর্থিক অবস্থান দেখে পরিকল্পিতভাবে তার জীবনে প্রবেশ করেছিলেন। ঝাংয়ের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে, লি তার ব্যাংকে ২ কোটি ইউয়ান জমা রাখেন এবং ঝাংয়ের পালক বাবা-মায়ের চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন সময় মোটা অঙ্কের অর্থ সাহায্য করতে শুরু করেন। ২০১৫ সালের শুরুতে ঝাং বিয়ে করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং মার্চ মাসে জানান যে তিনি গর্ভবতী। সেই খুশির আবহে, লি তার জন্য শেনঝেনে ৭৫ লাখ ইউয়ানের একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট কিনে দেন। এরপর ২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
কিন্তু বিয়ের পরের দিনই ঘটে প্রথম রহস্যজনক ঘটনাটি। লি সড়কপথে শেনঝেন ফেরার সময় তার গাড়ির ব্রেক হঠাৎ বিকল হয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটায়। তবে সৌভাগ্যক্রমে, লি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান।
এর কয়েক দিন পর, ব্যাংকের পারফরম্যান্সের উন্নতির অজুহাত দেখিয়ে ঝাং স্বামীর কাছ থেকে প্রায় ২৭ লাখ ইউয়ান হাতিয়ে নেন। এর পরপরই তিনি তার সমস্ত নথিপত্র এবং লির কেনা ৪টি সম্পত্তির মালিকানা দলিল নিয়ে উধাও হয়ে যান। পরে পুলিশ তদন্তে জানতে পারে যে, ঝাং হংকং হয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসে পালিয়ে গেছেন।
তদন্তের পর আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। পুলিশ জানতে পারে, লির গাড়ির ব্রেক বিকল হওয়ার পেছনে ঝাং এবং তার এক সহযোগী জড়িয়ে ছিল। লি জানান, ‘সে যদি শুধু টাকা চুরি করত, তাহলে হয়তো এতটা পেছনে না লাগতাম। কিন্তু সে আমার প্রাণনাশের ষড়যন্ত্র করে যাতে আমার সমস্ত সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হতে পারে।’ তার প্রতারক স্ত্রীর খোঁজে ১০ লাখ মার্কিন ডলার পুরস্কারের ঘোষণা করেন লি। চীন ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় দেশে তিনি ব্যক্তিগত গোয়েন্দা ও আইনজীবী নিয়োগ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের গির্জা, চীনা কমিউনিটি সেন্টার এবং প্রসূতি কেন্দ্রগুলোতেও তল্লাশি চালানো হয়। দীর্ঘ ৯ বছরের অনুসন্ধান এবং প্রায় ১৮ কোটি রুপি ব্যয়ের পর লস অ্যাঞ্জেলেসে তিনি ঝাং ও তার সন্তানের সন্ধান পান। ডিএনএ টেস্টে প্রমাণিত হয় যে, ওই সন্তান লির নয়।
অবশ্য আইনি লড়াইয়ের শুরুতে বিষয়টি খুব সহজ ছিল না। ঝাং তখন এখনও লির আইনি স্ত্রী থাকায় প্রথম দিকে প্রতারণার মামলাটি থমকে যায়। তবে ২০২০ সালে শেনঝেনের একটি আদালত তাদের বিয়ে বাতিল ঘোষণা করে এবং ৪টি সম্পত্তি লি-এর নামে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন। অবশেষে ২০২৪ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালত ঝাং শুদানকে জালিয়াতি, অবৈধ অনুপ্রবেশ, ভিসা জালিয়াতি, শিশু অপহরণ ও মানবপাচারের মতো ২৩টি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে ৬৫ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করে। ঝাংকে দেশ থেকে পালাতে সাহায্য করায় তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে চীনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান লি পিং।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার বিষয়ে চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
মার্কিন ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেছেন, যদি তেহরান অবিলম্বে আলোচনার টেবিলে ফিরে না আসে, তবে আগামী সপ্তাহে ইরানের প্রধান বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলোকে লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলা চালানো হবে।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আগামী সপ্তাহে পরিস্থিতি তাদের (ইরান) জন্য সত্যিই খুব ভয়াবহ হতে যাচ্ছে। কারণ আগামী সপ্তাহে আমাদের লক্ষ্যবস্তু হবে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সেতুগুলো। তারা যদি আলোচনায় না বসে এবং সমঝোতায় না আসে, তবে আমরা তাদের সমস্ত বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু গুঁড়িয়ে দেব।’
মার্কিন বাহিনীর এই অনড় অবস্থান এমন সময়ে সামনে এলো যখন মার্কিন সেনারা টানা চতুর্থ দিনের মতো ইরানি ভূখণ্ডে বিমান হামলা চালিয়েছে এবং দেশটির বন্দরগুলোতে কঠোর নৌ-অবরোধ পুনর্বহাল করেছে।
এর ফলে গত ১৭ জুন দুই পক্ষের মধ্যে হওয়া অত্যন্ত ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। বর্তমানে এই যুদ্ধের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল পরিবহন পথ ‘হরমুজ প্রণালি’। ওয়াশিংটন ও তেহরান—উভয় পক্ষই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কবজায় নিতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে।
কতদিন চলবে এই হামলা? যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক অভিযান কতদিন স্থায়ী হবে—গণমাধ্যমের এমন প্রশ্নের জবাবে, নিজের চিরচেনা আগ্রাসী ভঙ্গিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমি যতক্ষণ না পর্যন্ত বলব যে ‘যথেষ্ট হয়েছে’, ততক্ষণ এই হামলা অব্যাহত থাকবে।’
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই সরাসরি হুমকির পর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হচ্ছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে আরও বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
সূত্র: আলআরাবিয়া
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কলম্বিয়ান পপসম্রাজ্ঞী শাকিরা ভেনেজুয়েলার শিক্ষা খাত পুনর্গঠনে বিশ্বনেতাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। গত ২৪ জুনের প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পে শিক্ষাব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়ায় সংকটময় মুহূর্তে সহায়তা দেওয়ার এ আহ্বান করেন তিনি। সম্প্রতি তিনি সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে একটি ভিডিওবার্তা প্রকাশ করেছেন। সেই ভিডিওবার্তায় ‘ফিফা গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশন ফান্ড’ ক্যাম্পেইনের পক্ষে এ বৈশ্বিক সংহতির ডাক দেন তিনি।
পপসম্রাজ্ঞী শাকিরার সঙ্গে প্রভাবশালী আরও অনেক ব্যক্তিত্ব এ প্রচারে যুক্ত হয়েছেন। মার্কিন সংগীতশিল্পী চার্লি পুত, শেফ মার্কাস স্যামুয়েলসন, ভেনেজুয়েলান গায়ক ড্যানি ওশান, জাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হাকাইন্ডে হিচিলেমা, জাতিসংঘের ডেপুটি সেক্রেটারি-জেনারেল আমিনা মোহাম্মদ এবং নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী কৈলাশ সত্যার্থীও ভিডিওবার্তার মাধ্যমে বিশ্ববাসীকে এই মহৎ উদ্যোগে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সামাজিক মাধ্যমে শাকিরা বলেন, ইতোমধ্যে পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টিনিগ্রো ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ফিফা গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশন ফান্ডে অনুদান দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। তবে আমাদের আরও অনেক দেশকে পাশে দরকার। এবার ফুটবলবিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দুই পরাশক্তি ফ্রান্স ও জার্মানির পালা। আপনারাও এগিয়ে আসুন— যাতে ভেনেজুয়েলাসহ বিশ্বজুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুরা তাদের নিজেদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের লিগ্যাসি বা উত্তরাধিকার ধরে রাখার অংশ হিসেবে বিশ্বব্যাপী শিক্ষা সহায়তায় ১০০ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্যে ক্যাম্পেইনটি পরিচালিত হচ্ছে। সেখানেই ভিডিওবার্তায় শাকিরা জানান, শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পের আঘাতে ভেনেজুয়েলার ৪৩০টিরও বেশি স্কুল সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে, যার ফলে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে স্কুল খোলার পর হাজার হাজার শিশুর ক্লাশরুমে ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এই সংকট মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে স্কুল পুনর্গঠন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বই, খাতা ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ কেনার জন্য দ্রুত তহবিল প্রয়োজন। প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে এ তহবিল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ৫ লাখ ডলার ভেনেজুয়েলার স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক শিক্ষা সংস্থাগুলোকে অনুদান হিসেবে দেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ